বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

কুমিল্লার অরক্ষিত ৩৪ বধ্যভূমিতে ইতিহাস বিলীন: ধান শুকায়, মাদকসেবীদের আড্ডা বসে শহীদদের গণকবরে

Mohammad Shariful Alam Chowdhury প্রকাশিত: শনিবার, ৫ জুলাই, ২০২৫, ২:১৮ পিএম
কুমিল্লার অরক্ষিত ৩৪ বধ্যভূমিতে ইতিহাস বিলীন: ধান শুকায়, মাদকসেবীদের আড্ডা বসে শহীদদের গণকবরে

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • কুমিল্লার অরক্ষিত অবস্থায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অন্তত ৩৪টি বধ্যভূমি, যেখানে কোনো স্মারক নেই, নেই সংরক্ষণের উদ্যোগ।
  • কোথাও চলছে ধান শুকানো, কোথাও চরছে গরু-ছাগল, আবার কিছু স্থানে পরিণত হয়েছে মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে।
  • জেলার মুক্তিযোদ্ধা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় বধ্যভূমির সংখ্যা ৫০টি।

কুমিল্লার অরক্ষিত অবস্থায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অন্তত ৩৪টি বধ্যভূমি, যেখানে কোনো স্মারক নেই, নেই সংরক্ষণের উদ্যোগ। কোথাও চলছে ধান শুকানো, কোথাও চরছে গরু-ছাগল, আবার কিছু স্থানে পরিণত হয়েছে মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে। ইতিহাস হারিয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে।

জেলার মুক্তিযোদ্ধা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় বধ্যভূমির সংখ্যা ৫০টি। এর মধ্যে অন্তত ৩৪টি একেবারেই অরক্ষিত। বিভিন্ন উপজেলায় সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক গণকবরের পাশে কোনো সীমানা নেই, দেখভালের কেউ নেই, এমনকি স্থানীয়রাও জানেন না সেখানে কি ঘটেছিল ১৯৭১ সালে।

কুমিল্লায় অরক্ষিত
কুমিল্লায় অরক্ষিত অবস্থায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অন্তত ৩৪টি বধ্যভূমি, যেখানে কোনো স্মারক নেই, নেই সংরক্ষণের উদ্যোগ। ছবি : দৈনিক আজকের কথা।

আবুল কাশেম হৃদয়ের ‘অপারেশন কিল অ্যান্ড বার্ন’ গ্রন্থে আরও দুটি বধ্যভূমির উল্লেখ পাওয়া যায়—সদর দক্ষিণের জগতপুর ও লাকসামের চিতোশি খেয়াঘাট। সেগুলোও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। একইভাবে কোটেশ্বর ও কটকবাজারের সম্মুখযুদ্ধের দুটি স্মৃতিস্তম্ভও অযত্নে ধ্বংসের পথে।

সদরের রসুলপুর বধ্যভূমিতে স্থানীয়দের ধান শুকাতে দেখা গেছে। একটি উপড়ে পড়া গাছ এখনও সরানো হয়নি ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের পর থেকে। একজন বাসিন্দা জানান, সেখানে মাদকসেবীদের রাতে আড্ডা বসে। অথচ এ জায়গাতেই ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানি বাহিনী পাঁচ শতাধিক মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করে গণকবর দেয়।

বেঁচে ফেরা জেলার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা অব. সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল মতিন চৌধুরী বলেন, “গণকবরের এই অবস্থা দেখে চোখে পানি চলে আসে। তখন আমরা গুলি চালিয়ে প্রতিরোধ করেছিলাম, কিন্তু অস্ত্র কম থাকায় শেষ করা যায়নি। নিরীহ মানুষদের সারিবদ্ধভাবে হত্যা করার দৃশ্য আজও ভোলা যায় না।”

অন্যদিকে ধনঞ্জয় গ্রামে একটি বাড়ির ভেতর ৩৫ জনকে হত্যা করে গণকবর দেয়া হয়। সেখানে একটি নামমাত্র স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে, কিন্তু বছরে একবারও কেউ শ্রদ্ধা জানাতে যান না বলে স্থানীয়রা জানান।

জেলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আরও যেসব বধ্যভূমি ও গণকবর রয়েছে, তার মধ্যে আছে—রসুলপুর, রামমালা, জগতপুর, বেতিয়ারা, লাকসামের বেলতলী, কৃষ্ণপুর, ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট, হারং ও কোটেশ্বর। এরমধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ইতিহাস ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট বধ্যভূমিতে—সেখানে একাধিক গণসমাধি থেকে সাত হাজারের বেশি নরকঙ্কাল উদ্ধার হয়েছিল। এ জায়গাতেই ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে হত্যা করে হানাদার বাহিনী।

লাকসাম রেলওয়ে জংশনের পাশে বধ্যভূমিতে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। চৌদ্দগ্রামের বেতিয়ারায় ৯ জন গেরিলাযোদ্ধাকে হত্যা করে কবর দেয়া হয়, যেটি মহাসড়কের সম্প্রসারণের কারণে স্থানান্তরিত হয়েছে।

রামমালা এলাকায় সার্ভে ইনস্টিটিউটের পুকুরপাড়ে একটি বধ্যভূমি রয়েছে যেখানে ২৫ মার্চের ভোরে আশ্রয় নেয়া মানুষদের গুলি করে হত্যা করে হানাদার বাহিনী।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সফিউল আহমেদ বলেন, “কিছু বধ্যভূমি চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে, রামমালা সংরক্ষণের কাজ চলমান। সরকারি সহায়তা পেলে সবগুলোতেই সীমারেখা ও সংরক্ষণ সম্ভব।”

জেলা প্রশাসক মো. আমীরুল কায়ছার বলেন, “গণকবর ও বধ্যভূমি সংরক্ষণে যেসব কাজ প্রয়োজন, তা করা হবে।”

তবে বাস্তবতা হলো, কুমিল্লার অরক্ষিত বধ্যভূমিগুলোর চিত্রে স্পষ্ট যে শহীদদের স্মৃতিরক্ষায় দায়িত্বশীল মহলের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস অজানা রয়ে যাচ্ছে, কারণ তা সংরক্ষণ না করলে ইতিহাসের পাতায় শুধু থাকবে নাম—স্থানে থাকবে মাদকসেবীদের পদচারণা।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
এলাকার খবর

গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০২ পিএম
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব

গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

দৈনিক আজকের কথা
সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
— এ বি এম আতিকুর রহমান বাশার
সভাপতি, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।

সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।

২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা

মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।

কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।

নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।

কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৮ পিএম
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল

কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।

কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”

২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

দৈনিক আজকের কথা
যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
— কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া
যুগ্ম আহবায়ক- মুরাদনগর উপজেলা বিএনপি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।

এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।

তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

×
ENG