সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দেবীদ্বারে শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৫, ৬:০০ পিএম
দেবীদ্বারে শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

দেবীদ্বারে শিক্ষার মান উন্নয়ন, প্রতিটি মা সন্তানের প্রথম শিক্ষক—গুণগত শিক্ষা উন্নয়নে সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি, বললেন ইউএনও

দেবীদ্বারে শিক্ষার মান উন্নয়ন ও গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হাবিবুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো অভিভাবক সমাবেশ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
শনিবার (২৬ জুলাই) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খাঁন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “প্রতিটি মা তার সন্তানের প্রথম শিক্ষক। আমাদের দেশে শিক্ষার বিস্তার ঘটেছে, কিন্তু গুণগত শিক্ষায় আমরা এখনও পিছিয়ে আছি। শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সমন্বিত উদ্যোগেই এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। সঞ্চালনায় ছিলেন সহকারী শিক্ষক মো. শাহজালাল ভূঁইয়া ও মো. ওয়ালি উল্লাহ।

দেবীদ্বারে শিক্ষার মান উন্নয়ন
প্রতিটি মা সন্তানের প্রথম শিক্ষক—গুণগত শিক্ষা উন্নয়নে সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি, বললেন ইউএনও। ছবি : আজকের কথা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার মিজানুর রহমান, ধামতী রৌশন আরা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, ব্যবসায়ী মো. মজিবুর রহমান ও মাওলানা মো. বাহাউদ্দিন।

স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রবীণ শিক্ষক আব্দুর রহিম, রিপন চন্দ্র দেবনাথ, আয়ুব আলী সরকার, মুস্তাফিজুর রহমান সরকার, মো. সফিকুল ইসলাম, মাওলানা নুরুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া, এনএসআইয়ের সাবেক পরিচালক গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, ব্যবসায়ী শাহজাহান কবির, অভিভাবক এলমাদ আলম বাবু, অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ সবুজ, মো. মহিউদ্দিন খাজা এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন খাইরুজ অনিকা বিন্দু, সাইমন চৌধুরী, ইরশাদ জাহান ও তন্ময় দেবনাথ।

অনুষ্ঠান শেষে “যেমন খুশি তেমন সাজ” ও এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসএসসিতে এ প্লাস পাওয়া ১৪ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট ও এককালীন বৃত্তি প্রদান করা হয়।

🎯 আপনিও আপনার এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়নে এগিয়ে আসুন। অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের সকলে মিলেই গড়ে উঠতে পারে একটি আলোকিত প্রজন্ম। শিশুদের জন্য গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আজই উদ্যোগ নিন!

প্রিয় নবী মন্তব্যে বিতর্ক

এবার মন্ত্রীকে ‘প্রিয় নবী’ বলেই ভাইরাল বিএনপি নেতা খালেক

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:৪০ পিএম
এবার মন্ত্রীকে ‘প্রিয় নবী’ বলেই ভাইরাল বিএনপি নেতা খালেক

পরিবেশ মন্ত্রীকে খুশি করতে গিয়ে ‘প্রিয় নবী’ বলে সম্বোধন করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া এই বক্তব্যের কারণে ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ এনে সাধারণ মানুষ এবং নেটিজেনরা এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক এম এ খালেকের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির এক অনুষ্ঠানে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে ‘প্রিয় নবী’ বলে উল্লেখ করার পর তার বক্তব্যটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাইরাল হয়।

শনিবার (৩১ মে) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে এম এ খালেক এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু আমার, আপনার, সবার প্রিয় নবী, প্রিয় মানুষ।”

তার এই বক্তব্যের পরপরই উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ফিসফাস ও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পরে বক্তব্যটির ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।

বক্তব্যটি নিয়ে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে আপত্তি জানিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলেছেন। কেউ কেউ এটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দায়িত্বহীন মন্তব্য বলে অভিহিত করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আলেম বলেন, “ইসলামে নবী-রাসুলদের মর্যাদা স্বতন্ত্র ও অনন্য। কোনো সাধারণ মানুষকে নবীর সঙ্গে তুলনা করা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের বক্তব্য পরিহার করা উচিত।”

এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির একাধিক নেতা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত বক্তব্যের দায় দল নেবে না। তারা মনে করেন, জনসম্মুখে দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক এম এ খালেক এর আগেও বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় এসেছেন। গত ১৬ এপ্রিল একটি বিদ্যালয়ের ক্রীড়া অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ভিআইপি প্রটোকল গ্রহণের ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এছাড়া অতীতেও তার কিছু বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

সর্বশেষ ‘প্রিয় নবী’ মন্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এম এ খালেকের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযানে উদ্ধার ইয়াবা ট্যাবলেট

দেবীদ্বারে ইয়াবাসহ আটক মাদক কারবারি, আদালতে প্রেরণ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার : প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ পিএম
দেবীদ্বারে ইয়াবাসহ আটক মাদক কারবারি, আদালতে প্রেরণ

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় ইয়াবা বিক্রির সময় এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৩১ মে) ভোর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবীদ্বার থানার এসআই বাধন দাসের নেতৃত্বে একটি দল উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের বরকামতা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ওই গ্রামের মনোরঞ্জন সিংহের ছেলে দিপক সিংহ (৩৯)কে আটক করা হয়।

অভিযানকালে তার কাছ থেকে ১৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আটক দিপক সিংহ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে রোববার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দিপক সিংহকে ইয়াবা ও মাদক বিক্রির টাকা সহ আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।”

সুযোগ বুঝে হাতিয়ে নিল ৪ লাখ টাকার মালামাল

দেবীদ্বারে ভাড়াটিয়া সেজে চুরির অভিযোগ, আদালতে পাঠানো হলো অভিযুক্তকে

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার : প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৪:৪৩ পিএম
দেবীদ্বারে ভাড়াটিয়া সেজে চুরির অভিযোগ, আদালতে পাঠানো হলো অভিযুক্তকে

ভাড়া নিয়ে বসবাস, সুযোগ বুঝে হাতিয়ে নিল ৪ লাখ টাকার মালামাল

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বেগমাবাদ গ্রামে ভাড়াটিয়া পরিচয়ে বাড়িতে অবস্থান করে মালিকের অনুপস্থিতির সুযোগে কয়েক প্রজন্মের ব্যবহৃত কাঁসা, পিতল ও অ্যালুমিনিয়ামের মূল্যবান তৈজসপত্র চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

আটক ব্যক্তি হলেন উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের ছংছাইল গ্রামের গৌরাঙ্গ সূত্রধরের ছেলে দিলিপ সূত্রধর (৩৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুর্গাপূজা উপলক্ষে দিলিপ সূত্রধরের সঙ্গে বেগমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা রতন সাহার পরিচয় হয়। রতন সাহা মূলত কুমিল্লা শহরে বসবাস করলেও তার গ্রামের বাড়িটি অধিকাংশ সময় তালাবদ্ধ থাকে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া তিনি সেখানে খুব কমই আসেন।

পরিচয়ের সূত্র ধরে দিলিপ সূত্রধর রতন সাহার কাছে নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া চান। তিনি জানান, জাফরগঞ্জ বাজারে কাঠের ব্যবসা পরিচালনার সুবিধার্থে ওই এলাকায় থাকার প্রয়োজন রয়েছে। বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং ভাড়াও পাওয়া যাবে—এমন চিন্তা থেকে রতন সাহা তাকে একটি কক্ষ ভাড়া দেন।

কিন্তু সম্প্রতি ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে এসে রতন সাহা দেখতে পান, তার ঘরে সংরক্ষিত কয়েক প্রজন্মের ব্যবহৃত পিতল, কাঁসা, অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী উধাও। তার দাবি, চুরি যাওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য চার লাখ টাকারও বেশি।

ঘটনার পর রতন সাহা বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় দিলিপ সূত্রধরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ শনিবার (৩০ মে) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে।

রোববার (৩১ মে) দুপুরে তাকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, “ভাড়াটিয়া পরিচয়ে বসবাস করে বাড়ির মালিকের অনুপস্থিতির সুযোগে পুরনো ঐতিহ্যবাহী কাঁসা ও পিতলের তৈজসপত্র চুরির অভিযোগে দিলিপ সূত্রধরকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

×