৮৯ হাজার ভোটের লড়াই থেকে শীর্ষ নেতৃত্বে—এবার এমপি চান মাজেদা!
“৮৯ হাজার ভোটের লড়াই থেকে রাজপথের সংগ্রাম—দীর্ঘ আন্দোলনের স্বীকৃতি চান নেতাকর্মীরা”
দেবীদ্বারসহ উত্তর কুমিল্লাজুড়ে এখন একটাই আলোচনা—বেগম মাজেদা আহসান মুন্সীকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান বিএনপির তৃণমূল থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থকরা। দলীয় দুর্দিনে মাঠে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া এই নারী নেত্রীকে মূল্যায়নের দাবিতে নেতাকর্মীদের মধ্যে জোরালো চাপ তৈরি হয়েছে।
২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেবীদ্বার আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে প্রায় ৮৯ হাজার ভোট পেয়ে পরাজিত হলেও রাজনীতির মাঠ ছাড়েননি মাজেদা আহসান মুন্সী। বরং সেই পরাজয়ের পর থেকেই দলীয় সংকটকালে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং আহ্বায়ক কমিটির এক নম্বর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার স্বামী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী—দেবীদ্বারের চারবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য—যিনি ১৯৯১ সালে ন্যাপ প্রধান অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদকে পরাজিত করে প্রথম এমপি হন। পরবর্তীতে টানা চারবার নির্বাচিত হয়ে এলাকায় শক্ত রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলেন। যদিও সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েও নানা ষড়যন্ত্রের কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বামী-স্ত্রী দুজনেই দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থেকে বিএনপির কঠিন সময়ে দলকে ধরে রেখেছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে বহুবার নির্যাতন, গ্রেপ্তার ও আত্মগোপনের জীবন পার করতে হয়েছে তাদের।
বিশেষ করে নারী নেতৃত্ব হিসেবে মাজেদা আহসান মুন্সী শুধু রাজপথেই নয়, জেল-জুলুমে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দিয়ে দলীয় কর্মীদের আস্থা অর্জন করেছেন। তার এই মানবিক ভূমিকার কারণেই এখন তাকে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে দেখতে চান কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার)সহ আশপাশের উপজেলাগুলোর জনগণ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তাকে সংসদে পাঠানো হলে অবহেলিত এ জনপদের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন হবে।
এদিকে বিএনপির হাইকমান্ড—বিশেষ করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান—এই ত্যাগী নারী নেত্রীকে মূল্যায়ন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।


















