মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে কুকুরের অ্যান্টি-র‌্যাবিস টীকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন

মো. মুশফিকুর রহমান তুহিন, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৩ পিএম
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে কুকুরের অ্যান্টি-র‌্যাবিস টীকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানরত কুকুরের অ্যান্টি-র‌্যাবিস টীকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
  • সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।
  • উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে কুকুরের কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানরত কুকুরের অ্যান্টি-র‌্যাবিস টীকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।

উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে কুকুরের কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। অনেক সময় তারা চলাচলের সময় ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়তেন। বিষয়টি সমাধানে পূর্বে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হলেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে এনিমেল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সহযোগিতায় এই কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই টীকাদান কার্যক্রম ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাণিকল্যাণ নিশ্চিত করবে। এ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান।

অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অর্থায়নে আয়োজিত এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে Animal Welfare Society। এতে সহযোগিতা করছে Human Paws Initiative এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল।

টীকাদান শেষে কুকুরগুলোকে শনাক্তকরণের জন্য তাদের গলায় হলুদ রঙের বেল্ট পরিয়ে দেওয়া হয়।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
এলাকার খবর

প্রেস ক্লাবের কমিটিও এমপির! লাকসামে সাংবাদিক সংগঠনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩২ পিএম
প্রেস ক্লাবের কমিটিও এমপির! লাকসামে সাংবাদিক সংগঠনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন

‘স্বাধীন সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপ’ নিয়ে ক্ষোভ, এমপি বললেন—‘আমার এলাকা হিসেবে কমিটি দিয়েছি’

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সাংবাদিক মহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আবুল কালামের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করে তালিকা প্রকাশের পর এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার প্রকাশিত ওই কমিটিতে মুজিবুর রহমান দুলালকে সভাপতি, মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক, তমিজ উদ্দিন আহম্মদ চুন্নুকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সেলিম চৌধুরী হীরাকে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং এম. এ জলিলকে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটি গঠনের কারণ হিসেবে প্রকাশিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, লাকসামে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠন থাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ঐক্যের ঘাটতি রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং প্রকৃত গণমাধ্যমকর্মীদের মান-মর্যাদা রক্ষার লক্ষ্যে এমপি আবুল কালামের নির্দেশে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়।
দৈনিক আজকের কথা
দলের উপরমহলের সঙ্গে কথা বলে যদি একজন এমপি প্রেস ক্লাবের কমিটি দেন, তাহলে স্পষ্ট প্রশ্ন হলো—রাজনৈতিক দল বা জনপ্রতিনিধির কি সাংবাদিকদের সংগঠনের কমিটি গঠনে হস্তক্ষেপ করার অধিকার আছে? আর সেই কমিটি যদি এমপির নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে তাঁর বা তাঁর দলের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা কীভাবে স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ করবেন?
— মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী
কন্ট্রিবিউটিং রিপোর্টার, বাংলাদেশ International Federation of Journalists (IFJ)
তবে একজন সংসদ সদস্যের নির্দেশে প্রেস ক্লাবের কমিটি গঠনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক নেতারা। তারা বলছেন, প্রেস ক্লাব কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়; ফলে এর সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে।
কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাসুক আলতাফ চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি মারাত্মক। কুমিল্লার সাবেক এমপি বাহার সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপ করতেন। আজকে দেখলাম লাকসাম প্রেস ক্লাবেও একই চিত্র। কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।’
কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু বলেন, ‘একজন এমপি উপজেলা প্রেস ক্লাবের কমিটি দিয়েছেন—এটা লজ্জাজনক। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের ওপর হস্তক্ষেপ। যদি বিষয়টি সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
নবগঠিত লাকসাম উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান।
এদিকে কমিটি গঠনে নিজের নির্দেশনার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম বলেন, ‘আমি আংশিক কমিটি দিয়েছি। আমি প্রেস ক্লাবের প্যাডে কমিটি দিয়েছি।’
প্রেস ক্লাব কোনো দলীয় সংগঠন নয়—এ অবস্থায় একজন সংসদ সদস্য হিসেবে কমিটি দেওয়ার এখতিয়ার আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার এলাকা হিসেবে আমি কমিটি দিয়েছি। এ বিষয়ে আমি আমার উপরস্থ মহলের কথা বলেছি। আমার দলের সঙ্গে কথা বলে দিয়েছি। আমি তো আইনপ্রণেতা হিসেবে নতুন এসেছি।’
এ ঘটনায় লাকসাম প্রেস ক্লাবের কমিটি গঠন, এর প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

মুরাদনগরে ঘুস-চাঁদা চলবে না, চাইলে থানায় সোপর্দ: ধর্মমন্ত্রী

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৮ এএম
মুরাদনগরে ঘুস-চাঁদা চলবে না, চাইলে থানায় সোপর্দ: ধর্মমন্ত্রী

‘চাঁদাবিহীন, ঘুষবিহীন ও দুর্নীতিমুক্ত’ মুরাদনগর গড়ার ঘোষণা

মুরাদনগরে চাঁদাবাজি, ঘুস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, মুরাদনগরে কাউকে চাঁদা বা ঘুস দিতে হবে না। কেউ চাঁদা বা ঘুস দাবি করলে তাকে থানায় সোপর্দ করতে হবে, অথবা সরাসরি তাকে জানাতে হবে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর-বাঞ্ছারামপুর সড়কের মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর অংশের উন্নয়নকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির উন্নয়নকাজ করা হচ্ছে।

দৈনিক আজকের কথা
মুরাদনগরে কেউ চাঁদা বা ঘুস চাইলে তাকে থানায় সোপর্দ করবেন, না হয় আমাকে জানাবেন।
— কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ
ধর্মমন্ত্রী ও কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সংসদ সদস্য

ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘যে ভাই ঠিকাদারের কাজ পেয়েছেন, তাঁকে অনুরোধ করব, সড়কের কাজটা সঠিকভাবে করবেন। মুরাদনগরের কাউকে চাঁদা দিতে হবে না, কাউকে ঘুস দিতে হবে না। যদি কেউ চাঁদা চায়, ঘুস চায়, তাকে থানায় সোপর্দ করবেন। না হয় আমাকে জানাবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘মুরাদনগর হবে চাঁদাবিহীন, ঘুষবিহীন ও দুর্নীতিমুক্ত।’

সড়কের নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কায়কোবাদ বলেন, ঠিকাদারকে ভালোভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে। সড়কটি মানসম্মতভাবে নির্মাণ করা হলে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন। পাশাপাশি উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে কি না, সেদিকেও সবাইকে নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।

মুরাদনগরের বিভিন্ন সড়ক সংস্কার ও প্রশস্ত করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আমাদের তারেক রহমান সাহেব প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বলেই আজ এ সড়কটির সংস্কারকাজ হচ্ছে।’ গত কয়েক মাসে মুরাদনগরে বেশ কয়েকটি সড়ক সংস্কার ও প্রশস্ত করার সুযোগ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে কায়কোবাদ বলেন, ‘আপনারা আবার আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। আল্লাহ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারা আমাকে মাননীয় মন্ত্রী বলবেন না, আমি আপনাদের কামলা। ছয়বার আমাকে নির্বাচিত করেছেন আপনাদের কাজ করার জন্য। আমি আপনাদের কাজ করে যাচ্ছি, কাজ করে যাব যতদিন পর্যন্ত আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা।

উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য মোল্লা গোলাম মহিউদ্দিন, বিএনপি নেতা শরীফ আহমেদ মীর, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভুঁইয়া, সদস্য সচিব মোল্লা মজিবুল হক, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সৈয়দ হাসান আহমেদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বাদশা, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খায়রুল হাছান প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, সদস্য সোহেল আহমেদ বাবু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি চৌধুরী রকিবুল হক শিপন, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি নায়েব আলী, বিএনপি নেতা মো. মাহমুদ, মারফত আলী, ওমর ফারুক সোহাগ, মো. আলী, ইকবাল হোসেন, ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আমপাল গ্রামের সোনিয়া সরকার নিপা কুমিল্লার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১০ এএম
আমপাল গ্রামের সোনিয়া সরকার নিপা কুমিল্লার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬-এর জেলা পর্যায়ের বাছাইয়ে কুমিল্লার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন মুরাদনগর উপজেলার আমপাল গ্রামের সোনিয়া সরকার নিপা। তিনি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে সোনিয়া সরকার নিপাকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে মনোনীত করা হয়। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর তিনি আদর্শ সদর উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে উপজেলা পর্যায়ে মনোনীত করেন।

সোনিয়া সরকার নিপার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার আমপাল গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের বীর মুক্তিযুদ্ধা মরহুম দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। ২০১৩ সালে আমপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে ২০১৯ সালে স্বামীর ঠিকানার সূত্রে কুমিল্লা নগরের বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি সামাজিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সক্রিয় সোনিয়া সরকার নিপা। তিনি জেলা পর্যায়ে ওয়ারেন্ট গাইডার এবং বিভাগীয় পর্যায়ে হলদে পাখি গার্লস গাইডের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার অনুভূতি জানিয়ে সোনিয়া সরকার নিপা বলেন, “শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হতে পেরে মহান রবের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। যেকোনো কাজের স্বীকৃতি ও সম্মাননা কাজের গতি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমি আরও বেশি পেশাদারির সঙ্গে শিক্ষকতাকে উপভোগ করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হতে পেরে সত্যিই খুব সম্মানিত ও গর্বিত অনুভব করছি। আমার এ প্রতিযোগিতা বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত। এখন আমার লক্ষ্য কুমিল্লা জেলার প্রতিনিধিত্ব করা। জেলার একজন প্রতিযোগী হিসেবে জেলাকে সম্মানসূচক কিছু এনে দিতে পারি—এ জন্য সবার দোয়া চাই।”

নিজের এ অর্জনের পেছনে বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সোনিয়া সরকার নিপার ভাষ্য, তার প্রিয় কর্মস্থল ও শিক্ষার্থীরাই তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত করেছে।

এ অর্জনের জন্য বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সোনিয়া সরকার নিপা।

×
ENG