নাফনদী সীমান্তে জেলেদের নির্দেশ: মিয়ানমারের আক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে ইউএনও’র সতর্ক

টেকনাফে নাফনদী সীমান্তে জেলেদের নির্দেশ
নাফনদী সীমান্তে জেলেদের নির্দেশ: মিয়ানমার জলসীমা অতিক্রম থেকে বিরত থাকতে বললেন ইউএনও
টেকনাফে নাফনদী সীমান্তে জেলেদের নির্দেশ, সীমান্ত অতিক্রম না করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এহসান উদ্দিন। আগামী দিনগুলোতে যারা মাছ শিকার করতে যাবেন, তারা বাংলাদেশের জলসীমার বাইরে যেতে পারবেন না বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘টেকনাফের জেলেদের সঠিক তালিকা তৈরি করা হবে। প্রকৃত জেলেদের সরকারি সব সহায়তা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ জমায়েত ইসলামি টেকনাফ পৌর শাখার সভাপতি রবিউল আলম, বাংলাদেশ ইসলামি আন্দোলন টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক আহমদ হোসেন, টেকনাফ-২ বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশের প্রতিনিধিরা।
এ নির্দেশের মাধ্যমে ইউএনও নিশ্চিত করতে চেয়েছেন, টেকনাফের জেলেরা নিরাপদে মাছ শিকার করতে পারবেন এবং মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দ্বারা সৃষ্ট ঝুঁকি এড়াতে পারবে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দেবীদ্বারে জন্মসনদ কাণ্ড
মুরাদনগরের দারোরা ইউনিয়নের সচিব নজরুল সাময়িক বরখাস্ত

দেবীদ্বারে তিন রোহিঙ্গাকে জন্মসনদ: জেলা প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৯ নম্বর দারোড়া ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত সচিব মো. নজরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে দেবীদ্বার উপজেলার ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব থাকাকালে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তিন সদস্যের নামে আইনবহির্ভূতভাবে জন্মসনদ সৃজনসহ গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। জেলা প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের অফিস আদেশে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অফিস আদেশটির স্মারক নম্বর ০৫.২০.১৯০০.০০০.০০৯.৪০.০০০৮.২৬-৮৫১। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, ঢাকার ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখের পত্রের প্রেক্ষিতে প্রদত্ত নির্দেশনা মোতাবেক বিষয়টি তদন্ত করা হয়।
জেলা প্রশাসনের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা—বর্তমানে মুরাদনগর উপজেলার দারোড়া ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত—মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই না করে উপযুক্ত প্রমাণক ব্যতীত ফতেহাবাদ ইউনিয়নে জন্মগ্রহণকারী বা স্থায়ীভাবে বসবাসকারী নন এমন তিন ব্যক্তির অনুকূলে আইনবহির্ভূতভাবে জন্মসনদ সৃজনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
তদন্তে যে তিনজনের জন্মসনদের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন—মুবিনা খাতুন, সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ ও হাফিছা। অফিস আদেশে তাঁদের জন্মসনদ নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থার নিজস্ব ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড অন্য ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর, সচেতনতার অভাব এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অবহেলার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে কী বলা হয়েছে
কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১১-এর ৩৪(ক), (খ), (চ) উপবিধিতে বর্ণিত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বিধিমালার ৪০(১) অনুযায়ী মো. নজরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
আদেশের দ্বিতীয় দফায় বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন বিধিমোতাবেক খোরপোষভাতা প্রাপ্য হবেন তিনি। তৃতীয় দফায় এ আদেশ তাঁর চাকরি বহিতে লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরে আদেশ
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কোনো সাধারণ অভিযোগপত্র নয়; কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। চিঠিতে জেলা প্রশাসকের নাম, পদবি, কুমিল্লা এবং সরকারি যোগাযোগের তথ্যও রয়েছে।
অফিস আদেশের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগ; কমিশনার, চট্টগ্রাম বিভাগ; রেজিস্ট্রার জেনারেল (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন); পরিচালক, স্থানীয় সরকার, চট্টগ্রাম বিভাগ; উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মুরাদনগর/দেবীদ্বার; সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ এবং মো. নজরুল ইসলামের কাছেও। অর্থাৎ বর্তমানে তিনি যে দারোড়া ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত, সেখানকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
রোহিঙ্গা জন্মসনদ কাণ্ডে তদন্তের পর প্রশাসনিক ব্যবস্থা
এর আগে অভিযোগ ওঠে, ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে মো. সালাউদ্দিন রুহুলের সময়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তিন সদস্যের নামে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন তৈরি করা হয়। অভিযোগটি নিয়ে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়।
প্রথমে বিষয়টি তিনজনের জন্মনিবন্ধনকে কেন্দ্র করে সামনে এলেও পরবর্তী অনুসন্ধানে ওই ইউনিয়নে আরও বেশ কিছু সন্দেহজনক জন্মনিবন্ধনের তথ্য পাওয়া যাওয়ার দাবি ওঠে। তবে জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক অফিস আদেশে তদন্তে প্রমাণিত হিসেবে যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি ওই তিন ব্যক্তির জন্মসনদ এবং সচিবের ইউজার আইডি-পাসওয়ার্ড অন্যের কাছে হস্তান্তরসহ দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ।
‘পাসওয়ার্ড অন্যকে দিয়েছিলেন’—সচিবের আগের বক্তব্য
এর আগে মো. নজরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, তিনি ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটিতে ছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ওই সময়ে তাঁর পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া রাজীব কাজ করেছিলেন এবং চেয়ারম্যান-মেম্বারের অনুরোধে তাঁকে পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়েছিল।
তবে জেলা প্রশাসনের অফিস আদেশে তাঁর বিরুদ্ধে নিজের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের বিষয়টিও তদন্তে প্রমাণিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ইউপি উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া রাজীব দাবি করেছিলেন, তিনি কখনো জন্মনিবন্ধনের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেননি। ফলে জন্মনিবন্ধনগুলো কার মাধ্যমে, কীভাবে এবং কার নির্দেশনায় তৈরি হয়েছিল—এ প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ফতেহাবাদ ইউনিয়নের বিতর্কিত জন্মনিবন্ধন ইস্যুতে তদন্ত শেষে যে সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তিনি বর্তমানে মুরাদনগরের ১৯ নম্বর দারোড়া ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক এই আদেশের পর দারোড়া ইউনিয়ন পরিষদে তাঁর দায়িত্ব পালন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটিও এখন দেখার বিষয়।
সব ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিতের অঙ্গীকার
জন্মাষ্টমীর আয়োজনে কায়কোবাদ, ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তায় ঐক্যের ডাক

রাজধানীতে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সব সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা নিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।” তিনি দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সবার সমঅধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা তুলে ধরেন।

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।
ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্বকে সামনে আনেন। তাঁর উপস্থিতিতে জন্মাষ্টমীর এ আয়োজন বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। ধর্মীয় উৎসবগুলো যেন নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দুই স্বাস্থ্যকর্মীর হাতে সাড়ে ১০ হাজারের বেশি স্বাভাবিক প্রসব

নিরাপদ মাতৃত্বে আস্থার প্রতীক নাজমা-শিরিনা
কখনো গভীর রাতে, কখনো ভোরের আগে—প্রসববেদনায় কাতর মায়ের পাশে ছুটে যেতে হয়েছে তাঁদের। দীর্ঘদিনের দক্ষতা, আন্তরিকতা ও সেবার মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসবের ক্ষেত্রে তাঁরা হয়ে উঠেছেন আস্থা ও ভরসার নাম। তাঁদের তত্ত্বাবধানে পৃথিবীর আলো দেখেছে সাড়ে ১০ হাজারের বেশি শিশু।
এই দুই স্বাস্থ্যকর্মী হলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা নাজমা আক্তার এবং বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা শিরিনা চৌধুরী।
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নাজমা আক্তার গত ১২ বছরে প্রায় ৩ হাজার এবং শিরিনা চৌধুরী ৩৪ বছরে ৭ হাজার ৫৭৩টি স্বাভাবিক প্রসব করিয়েছেন।
নাজমার সুনাম ছড়িয়েছে আশপাশেও
নাজমা আক্তার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছয়ফুল্লাহকান্দি ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর চাকরিতে যোগ দেন তিনি। ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় মাসের মিডওয়াইফারি প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তাঁর দক্ষতা ও সুনাম আরও বাড়ে।
বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর ছাড়াও পাশের নবীনগর, নরসিংদী এবং কুমিল্লার হোমনা থেকেও প্রসূতিরা তাঁর কাছে আসেন।

স্বাস্থ্যকর্মী শিরিনা চৌধুরী ও নাজমা আক্তার স্বাভাবিক প্রসবে জেলায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁরা অসাধারণ কাজ করে যাচ্ছেন।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় ও দরিয়াদৌলত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত নাজমার তত্ত্বাবধানে ২ হাজার ৪৪১টি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই তিনি ২৮০টি প্রসবে সহায়তা করেছেন।
২০২২ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে টানা শ্রেষ্ঠ পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা হয়েছেন নাজমা। ২০২৪, ২০২৫ ও চলতি বছরেও তিনি জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন।
গত ১৬ জুন দরিয়াদৌলত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নাজমার কক্ষে রোগীর ভিড়। প্রসববেদনা নিয়ে পাশের কক্ষে অপেক্ষা করছিলেন এক প্রসূতি। আগের দিন বিকেল থেকে পরবর্তী ১৭ ঘণ্টায় পাঁচটি স্বাভাবিক প্রসবে সহায়তা করেন তিনি। এক দিনে সর্বোচ্চ ছয়টি প্রসব করানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। তাঁর তত্ত্বাবধানে এ পর্যন্ত ১৫ জোড়া যমজ শিশুর জন্ম হয়েছে।
নাজমা আক্তার বলেন, দীর্ঘ সময় কাজ করে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও সুস্থ নবজাতকের জন্মের পর সেই ক্লান্তি থাকে না। বর্তমানে তিনি প্রতি মাসে গড়ে ৪০ থেকে ৪৫টি স্বাভাবিক প্রসবে সহায়তা করেন। ২০১৯ সালের মিডওয়াইফারি প্রশিক্ষণের পর তাঁর দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি মানুষের আস্থাও বেড়েছে।
দরিয়াদৌলত গ্রামের আনসার আলী জানান, তাঁর এক নাতির জন্মও এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হয়েছে। নাজমার সুনাম এখন শুধু ইউনিয়ন নয়, পুরো উপজেলা ও আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
৩৪ বছরে শিরিনার ৭ হাজার ৫৭৩ প্রসব
বিজয়নগরের পাহাড়পুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে শিরিনা চৌধুরী ১৯৯২ সালের জুনে পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা হিসেবে যোগ দেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মাসে গড়ে ৮ থেকে ৯টি এবং ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ২৫ থেকে ৩০টি স্বাভাবিক প্রসব করিয়েছেন তিনি।
হিসাব অনুযায়ী, ৩৪ বছরে তাঁর তত্ত্বাবধানে ৭ হাজার ৫৭৩টি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এক মাসেই ৪৭টি প্রসব করিয়ে রেকর্ড গড়েন তিনি।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ২০১৯ সাল থেকে অনলাইনে প্রসবের তথ্য সংরক্ষণ করছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বিজয়নগরের ১০টি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে মোট ৫ হাজার ৫৫২টি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। এর মধ্যে শিরিনা একাই করিয়েছেন ২ হাজার ৪৩৯টি।
বর্তমানে উপজেলার চারটি কেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসব কার্যক্রম চালু রয়েছে। বাকি ছয়টি কেন্দ্রে প্রসব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
শিরিনা চৌধুরী বলেন, চাকরির শুরুর দিকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রসব করাতে হতো। পরে মানুষকে সচেতন করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রমুখী করা হয়। সেবার সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রসূতিদের আস্থাও বেড়েছে। দূরদূরান্ত থেকেও এখন অনেকে এখানে আসেন। অসংখ্য নির্ঘুম রাত পার হলেও সুস্থ নবজাতকের জন্মের মুহূর্তে সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
স্বাস্থ্যসেবায় অবদানের জন্য শিরিনা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একাধিকবার পুরস্কৃত হয়েছেন। ২০১০ সাল থেকে তিনি উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা এবং পাহাড়পুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রও শ্রেষ্ঠ হয়ে আসছে। ২০১৫ সালে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা এবং ২০১৮ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা পুরস্কার পান তিনি।
দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দুই স্বাস্থ্যকর্মী
জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্যকর্মী শিরিনা চৌধুরী ও নাজমা আক্তার স্বাভাবিক প্রসবে জেলায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁরা অসাধারণ কাজ করে যাচ্ছেন।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠন অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সাবেক সভাপতি রওশন আরা বেগম তাঁদের প্রশংসা করে বলেন, এই দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে সাধুবাদ ও স্যালুট জানানো উচিত। সারা দেশে স্বাভাবিক প্রসবের যে ধারা রয়েছে, তা অব্যাহত রাখার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
নাজমা আক্তার ও শিরিনা চৌধুরী জানান, কোনো প্রসূতির শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন মনে হলে তাঁরা দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত স্থানান্তরের সুবিধার্থে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখার পরামর্শও দেন তাঁরা।





























