রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

২৬ লাখ ভারতীয় বাংলাদেশে, সরকার নীরব কেন?

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২ জুন, ২০২৫, ২:৪৮ এএম
২৬ লাখ ভারতীয় বাংলাদেশে, সরকার নীরব কেন?

Oplus_16777216

google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

ভারত প্রতিদিন বাংলাদেশি পুশব্যাক করলেও, কথিত ২৬ লাখ ভারতীয়কে বাংলাদেশ এখনো কেন পুশব্যাক করছে না?

ভারত প্রতিবেশী দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে বৈরী আচরণ দীর্ঘদিনের। সীমান্তে গুলি করে হত্যা, নির্যাতন এবং পুশব্যাক — এসব এখন যেন নিয়মিত খবর। অথচ, বাংলাদেশে কথিত ২৬ লাখ অবৈধ ভারতীয় নাগরিকের বসবাসের অভিযোগ ওঠার পরেও সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি। এই দ্বৈত মানদণ্ড নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও প্রশ্ন।

ভারতীয়দের পুশব্যাক নয়, বরং প্রশ্রয়?

সম্প্রতি আইনজীবী ও আলোচিত সরকারি উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, “বাংলাদেশে প্রায় ২৬ লাখ ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে অবস্থান করছে, যাদের একটি বড় অংশ নানা ধরনের ব্যবসা ও চাকরির সঙ্গে যুক্ত।” তিনি আরও বলেন, “তারা অর্থনীতির পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করছে।”

তবে এই তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বহু বিশ্লেষক। কেউ কেউ একে ‘ষড়যন্ত্রমূলক গুজব’ বলে মন্তব্য করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. মাহবুবা রওশন বলেন, “এমন একটি বড় তথ্য যদি সত্য হতো, তাহলে জাতিসংঘ, আইওএম বা বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো না কোনো পর্যায়ে এটা উল্লেখ করতো। আসলে এটি রাজনৈতিক চাতুরীর অংশ।”

সীমান্তে বাংলাদেশিদের উপর বর্বরতা, কিন্তু ভারতীয়দের জন্য সুরক্ষা?

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তজুড়ে বিএসএফ-এর সহিংস আচরণ নতুন নয়। মানবাধিকার সংস্থা অধিকার-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালেই অন্তত ৪৫ জন বাংলাদেশি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছে এবং শতাধিক আহত হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন সীমান্তবর্তী জেলা যেমন কুড়িগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, যশোর ও মেহেরপুরে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে বাংলাদেশিদের আটক করে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীরা পুশব্যাক করছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর এলাকার স্থানীয় সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান জানান, “গত সপ্তাহেই পাঁচজন বাংলাদেশিকে ভারতের অভ্যন্তর থেকে পুশব্যাক করা হয়েছে। কিন্তু উল্টো দিক থেকে কোনো ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক বা ফেরত পাঠানোর নজির নেই।”

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ছড়ানো হচ্ছে বিভ্রান্তিকর তথ্য?

এই তথাকথিত ‘২৬ লাখ ভারতীয় অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। আওয়ামী লীগ নেতারা একে ‘গুজব’ আখ্যা দিলেও বিএনপি ও সরকারবিরোধী মহল এটিকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি’ হিসেবে তুলে ধরছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সোহেল রানা বলেন, “মূলত এই ধরনের তথ্য প্রচারের মাধ্যমে একটি জনমনে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধেই এটি একটি কৌশলী প্রচারণা হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে সরকারকে অবশ্যই স্বচ্ছতা বজায় রেখে তথ্য যাচাই ও ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে এই ধরনের গুজব দেশবিরোধী শক্তির হাত শক্তিশালী করতে পারে।”

তাহলে কী করণীয়?

  • সরকারকে অবিলম্বে স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দাবি করা ২৬ লাখ ভারতীয় নাগরিকের বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।
  • সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের পুশব্যাকের বিরুদ্ধে জোরালো কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানাতে হবে।
  • বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের তালিকা, ভিসা স্ট্যাটাস ও বৈধতার বিষয়েও গণমাধ্যমে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
  • দেশবাসীর মধ্যে যাতে কোনো বিভ্রান্তি না ছড়ায়, সে জন্য সরকারি পর্যায়ে সচেতনতা প্রচার ও তথ্য যাচাই কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

উপসংহার

সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের পুশব্যাক ও হত্যার ঘটনায় যখন ভারতকে জবাবদিহির মুখে ফেলা উচিত, তখন উল্টো ‘২৬ লাখ ভারতীয়’ ইস্যুতে সরকারের নীরবতা বা গড়িমসি জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। এটি কি সত্যিই কোনো জাতীয় সংকট, না কি রাজনৈতিক অপপ্রচারের অংশ — সে প্রশ্নের জবাব এখন রাষ্ট্রকেই দিতে হবে।

 

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

মুরাদনগরের ওসি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী

‘মাদকমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে’

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ২:৫৩ এএম
‘মাদকমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে’

মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেছেন, তিনি এ থানায় দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত কোনো মাদকসেবী কিংবা মাদক কারবারিকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।

শনিবার বিকেলে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাখরাবাদ এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং, চাঁদাবাজি, অনলাইন জুয়া ও বিভিন্ন অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে ওসি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, মুরাদনগরকে মাদকমুক্ত করতে মাননীয় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, মাদক সমাজের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।

মাদকমুক্ত করতে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে পুলিশের কাছে তথ্য দিতে হবে। জনগণ ও পুলিশ একসঙ্গে কাজ করলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।

বাখরাবাদ বাজারে ৮ নম্বর বিট পুলিশিং ও জাহাপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জাহাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ তৌফিক আহমেদ মীর। সভা পরিচালনা করেন আজিজুর রহমান মমিন।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য মো. বাহার উদ্দিন, বাদল ডাক্তার, খলিল মেম্বার, আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে বক্তারা বলেন, বর্তমান যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে রক্ষা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তরুণদের সচেতন করে আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে হবে।

তারা আরও বলেন, বাখরাবাদ এলাকাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি। এজন্য সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এসআই সুলতান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হাজী মো. দেলোয়ার হোসেন চিশতী, সাবেক মেম্বার আলী নেওয়াজ, মোশারফ হোসেন, মোফাজ্জল হোসেন সরকার, মিলন মেম্বার, দানু মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও যুবসমাজ।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তার ঘোষণা

হাওরে নেমে কৃষকদের পাশে কৃষিমন্ত্রী, ফসল হারানোর কষ্টের কথা বললেন হাজী ইয়াছিন

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১০:২২ পিএম
হাওরে নেমে কৃষকদের পাশে কৃষিমন্ত্রী, ফসল হারানোর কষ্টের কথা বললেন হাজী ইয়াছিন

হাওর পরিদর্শন করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের মেদির হাওরে গিয়ে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষকের কষ্টের ফসল হারানোর বেদনা অনেক বড়। দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার মেদির হাওর পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নান, জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

হাওর পরিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার কৃষকদের মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে এবং কৃষকের উন্নয়নে বহুমাত্রিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকরা যেন তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পান, সেজন্য সরকার কাজ করছে।

কৃষকদের কাছ থেকে ভেজা ধান সংগ্রহের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জেলা পর্যায়ে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পর্যায়ে মাইকিং করে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং কৃষকরা ন্যায্য দাম পাবেন।

হাওর পরিদর্শন চলাকালে তিনি কিশোরগঞ্জের অল ওয়েদার রোড নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, সড়কটির কারণে পানি প্রবাহে কোনো বাধা সৃষ্টি হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে কয়েকদিনের অনুকূল আবহাওয়া ও ভারি বৃষ্টিপাত না থাকায় মেদির হাওরসহ আশপাশের বিভিন্ন হাওরের পানি কিছুটা কমেছে। পানির নিচে তলিয়ে থাকা অনেক ধানি জমি এখন দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মাঝে।

তবে কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘসময় পানির নিচে থাকায় অধিকাংশ ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কাটার পর ধান শুকানোর সুযোগ মিললেও ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি বলে দাবি তাদের। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

হাওর পরিদর্শন শেষে বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের কথা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

চলতি মৌসুমে নাসিরনগর হাওরে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, আকস্মিক ঢলের পানিতে অন্তত ৩০৫ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৩ কোটি টাকা। তবে কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে আরও বেশি।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

মা-ছেলেসহ তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার

কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, গোপালগঞ্জে শোকের মাতম

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৬:১৬ পিএম
কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, গোপালগঞ্জে শোকের মাতম

কাপাসিয়ায় হত্যার ঘটনায় তোলপাড় হচ্ছে সারাদেশ ও নেটদুনিয়া। গাজীপুরে কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার পর গোপালগঞ্জের গ্রামের বাড়িতেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শনিবার ভোরে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে ফোরকান মিয়ার ভাড়া বাসা থেকে মা-ছেলেসহ তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতরা হলেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের পাইকান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামের শাহাদাত মোল্লার মেয়ে শারমিন আক্তার (৩০), তার ছেলে রসুল মোল্লা (১৮), এবং তিন মেয়ে মিম আক্তার (১৪), হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (২)।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি গ্রামের আতিয়ার মোল্লার ছেলে ফোরকান মোল্লার সঙ্গে সামাজিকভাবে শারমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কয়েক বছর শ্বশুরবাড়িতে থাকার পর তারা ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। পরে প্রায় ছয় মাস আগে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় গিয়ে নতুন করে সংসার গড়ে তোলেন। ফোরকান মোল্লা প্রাইভেটকার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

এক বছর আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দিলে শারমিন বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরে ফোরকান মোল্লা শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে বুঝিয়ে আবার স্ত্রীকে নিজের কাছে ফিরিয়ে নেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

নিহত শারমিনের মা ফিরোজা বেগম জানান, শুক্রবার ফোরকান মোল্লা চায়না কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে রসুল মোল্লাকে কাপাসিয়ার বাসায় ডেকে নেন। রসুল তার বড় বোন ফাতেমা বেগমের বাসায় থেকে গাজীপুরের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন।

শনিবার সকালে ফোরকানের ভাই জব্বার মোল্লা ফোন করে জানান, বাসার সবাই মারা গেছে। এরপর রসুলসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও সবগুলো ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে স্বজনরা কাপাসিয়ায় গিয়ে ঘরের ভেতরে পাঁচজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

কাপাসিয়ায় হত্যার ওই ঘটনায় গোপালগঞ্জের পাইকান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামে চলছে শোকের মাতম। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় ভারী পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। কারা এবং কী কারণে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×