গুজববাজ ইলিয়াস ওরফে ইল্লুকে নিয়ে গোলাম মাওলা রনির বিস্ফোরক ফেসবুক পোস্ট

জন্ম থেকে বিকারগ্রস্ত জীবন, মিথ্যাচার, অশ্লীলতা ও প্রতারণা—সব তুলে ধরলেন সিনিয়র সাংবাদিক
সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মাওলা রনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে কথিত প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন ওরফে ‘ইল্লু’কে নিয়ে এক দীর্ঘ ও বিস্ফোরক পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি ইলিয়াসের বিকৃত জীবনযাপন, পারিবারিক পটভূমি, যৌনতা-কেন্দ্রিক বিতর্ক এবং দেশের বিরুদ্ধে তাঁর গুজব ছড়ানো কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছেন।

রনি লেখেন, “ইল্লুকে নিয়ে বিস্তারিত বলার আগে বলি—আমার জীবন যুদ্ধ অনেক লম্বা। চাকরি, ব্যবসা, রাজনীতি—সবক্ষেত্রে রাঘববোয়ালদের সঙ্গে লড়াই করে আমি টিকে আছি। শেখ হাসিনার সরকারও আমার দুর্নীতি বা চরিত্র নিয়ে প্রমাণ খুঁজে পায়নি। অথচ এখন এক বিকারগ্রস্ত প্রবাসী আমাকে নিয়ে কুৎসা রটাচ্ছে।”
বিকৃত অতীত: যৌন সহিংসতা ও হোটেলের ঘটনা
রনি আরও লেখেন, ইল্লুর মা একসময় নিয়মিত হোটেলবাড়িতে যাতায়াত করতেন। একবার তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে আনলে রনি নিজে চিকিৎসায় সহায়তা করেন। তখন ছোট ইল্লু কান্নাকাটি করছিল। সেই দিন থেকে ইল্লুর মা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। রনির ভাষায়, “আমি তাদের সাহায্য করেছিলাম নিঃস্বার্থভাবে। অথচ আজ তারা আমাকে নিয়ে ঘৃণ্য গুজব ছড়ায়।”
বিকৃত যৌনতা ও বিকৃত মন
পোস্টে রনি উল্লেখ করেন, ইল্লু বড় হয়ে এক লম্পট বসের অফিসে চাকরি নেয় এবং নিজের স্ত্রীকে বসের শয্যায় পাঠিয়ে মনোরঞ্জন করায়। এসব ঘটনা অফিসের সহকর্মীরাও জানে বলে রনির দাবি। এছাড়াও বিদেশে সমকামী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করে শরণার্থী হওয়ার চেষ্টার কথা তুলে ধরেন তিনি।
রনির ভাষায়, “ইল্লুর জীবন ঘ্রাণহীন, পঁচা, হতাশায় ভরা। আর সেই হতাশা থেকেই সে সামাজিক মাধ্যমে বুনো শুয়োরের মতো চেঁচায়। আমি তার সঙ্গে কখনো লড়াই করিনি, কারণ আমার প্রতিপক্ষ ছিল দেশের ক্ষমতাবানরা। ইল্লু শুধু বিকৃত মনোবৃত্তির পণ্য।”
পারিবারিক দুর্দশা ও জৈবিক সত্য
গোলাম মাওলা রনি আরও উল্লেখ করেন, “আমার কয়টি বউ, কত টাকার মালিক, কে ছিল বাবা—এসব নিয়ে ইল্লুর আগ্রহ। অথচ তার মায়ের যে যৌবন বিক্রির টাকায় সে মানুষ হয়েছে, সেই মাকে এখন অনাহারে থাকতে হয়। তাকে দু’মুঠো ভাত দেয় না সে। ট্যাক্সিচালক এই ছেলে কবে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে শেষ হবে, সেটা কেউ জানে না।”
রনি ইল্লুকে ‘ইবলিশ রূপী শয়তান’ বলেও অভিহিত করেছেন।
উৎস:
ফেসবুক পোস্ট, গোলাম মাওলা রনি – সিনিয়র সাংবাদিক
সাংঘাতিক ইবলিয়াস হোসাইন ওরফে ইল্লুর সঙ্গে আমার সম্পর্ক এবং তার মায়ের সঙ্গে আমার কিভাবে পরিচয় এবং তার স্ত্রীর সঙ্গে তার…
Posted by Golam Maula Rony on Monday, August 18, 2025
বন্যপ্রাণী সেবার উদ্ধার অভিযান
চা পাতা তুলতে গিয়ে অজগর, শ্রীমঙ্গলের চা বাগানে আতঙ্ক

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার একটি চা বাগানে চা পাতা সংগ্রহের সময় একটি অজগর সাপ দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শ্রমিকরা। নিরাপত্তার স্বার্থে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরে বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটি উদ্ধার করেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন ভুরভুরিয়া চা বাগানের সেক্টর-৯ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রমিকরা নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে চা পাতা সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় ঝোপের মধ্যে একটি বড় আকৃতির অজগর সাপ দেখতে পেয়ে তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা দ্রুত কাজ বন্ধ করে বাগান কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে চা বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমান বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপদে অজগর সাপটি উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকৃত অজগরটি পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা জানান, বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
কৃষিজমি রক্ষায় কঠোর অভিযান
দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযানে ২টি ড্রেজার ধ্বংস, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

কৃষিজমি, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় কুমিল্লার দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে দুটি অবৈধ ড্রেজার মেশিন ও প্রায় ২ হাজার ৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিনের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রথমে উপজেলার তুলাগাঁও গ্রামে অভিযান চালিয়ে একটি অবৈধ ড্রেজার এবং প্রায় এক হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়। পরে রামের দিঘিরপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনার দায়ে মো. আব্দুস ছামাদকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর ব্যবহৃত আরও একটি ড্রেজার এবং প্রায় এক হাজার ৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে কৃষিজমির মাটি কাটার কারণে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়ছিল। নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হলে অবৈধ ড্রেজার ব্যবহার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, কৃষিজমি ধ্বংস, খাল-বিল ও জলাশয়ের ক্ষতি এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এমন কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। জনস্বার্থে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
গোরস্তানে প্রতিবাদে হামলা
দেবীদ্বারে কবর খুঁড়তে গিয়ে হামলার শিকার বৃদ্ধ, কিশোর গ্যাং সদস্যের বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে কবর খুঁড়তে গিয়ে গোরস্তানে এক কিশোরী ও দুই কিশোরকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে প্রতিবাদ করার জেরে এক বৃদ্ধকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ভূষণা গ্রামের মজিব কমিশনার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে কর্মরত শহিদুর রহমান (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। সেই উদ্দেশ্যে স্বজন সফিকুল ইসলাম (৭০) কবর খুঁড়তে গিয়ে কবরস্থানের এক পাশে এক কিশোরী ও দুই কিশোরকে দেখতে পান। তিনি তাদের সেখান থেকে সরে যেতে বললে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় দেবীদ্বারের কথিত ‘রেড ৯৯৯’ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে পরিচিত রামিম (১৭) সফিকুল ইসলামের ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে তাঁর বাম হাতে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে আহত সফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক তাঁর হাতে ছয়টি সেলাই দিয়েছেন।
আহত সফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি কবর খুঁড়তে গিয়ে কয়েকজনকে কবরস্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থায় দেখে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পর এক কিশোর তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে থাকা কিশোরীকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেয়।
দেবীদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তানভির জানান, অভিযুক্ত রামিমকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানেও তাঁর এক সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আহত ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ বা মামলা করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।























