

“সেনাপ্রধান চান না বিএনপি ক্ষমতায় আসুক”—এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় তুলেছেন সাবেক এমপি ও বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। তিনি দাবি করেছেন, রাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্তরে এখন এমন একটি ‘অদৃশ্য কনসেনসাস’ তৈরি হয়েছে, যেখানে বিএনপির ক্ষমতায় ফিরে আসার ধারণাটাই অনেকের কাছে অগ্রহণযোগ্য। ফলে গণতন্ত্র, নির্বাচন ও রাজনীতির নাম করে যা চলছে, তা মূলত একটি কৌশলগত নিষেধাজ্ঞা।
এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টকশো, সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধু ব্যক্তিগত মত নয়, বরং বাংলাদেশ রাষ্ট্রযন্ত্রের অপ্রকাশিত অবস্থানের একটা ঝলক।
রনি বলেন, “বর্তমানে রাষ্ট্রের নানা স্তরে এমন একটি অনানুষ্ঠানিক নীতিগত সিদ্ধান্ত কার্যকর রয়েছে, যেখানে ক্ষমতা পরিবর্তনের কথা বলা গেলেও তা বাস্তবে স্বীকৃত নয়। বিশেষ করে বিএনপির মতো বড় একটি দল, যারা অতীতে ক্ষমতায় ছিল, আজ এমন এক জায়গায় ঠেকেছে—যেখানে তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ সেন্সরড। বিএনপিকে ক্ষমতায় ফেরানো নিয়ে রাজনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত আপত্তি রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মহলের।”
তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, “আজকে যদি বিএনপি ক্ষমতায় ফিরে আসে, তাহলে দেশের অনেক ক্ষমতাবান লোকের ঘুম হারাম হয়ে যাবে। তারা সেই পরিবর্তন চায় না। এজন্যই নির্বাচন যতই হোক, ফলাফল একটাই হয়—কেউ চাইলে আর কেউ না চাইলে গণতন্ত্র থেমে যায়।”
সেনাপ্রধান বিএনপি ক্ষমতায় আসা চান না—এই বক্তব্য নতুন করে তুলে দিলো বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার প্রকৃত উৎস কোথায়। গোলাম মাওলা রনির এই বক্তব্য শুধুই বিতর্ক নয়, বরং এটি ইঙ্গিত করে রাষ্ট্রযন্ত্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জটিলতা, যেখানে জনগণের ভোটের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে কার সম্মতি আছে আর কার নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, ভোটের চেয়ে ‘অনুমতি’র রাজনীতি কত দিন চলবে?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর সরাসরি উপস্থিতি না থাকলেও, “সেনাপ্রধান কী চান”—এই প্রশ্ন সবসময়ই একটি অনুল্লিখিত ফ্যাক্টর। গোলাম মাওলা রনির বক্তব্য সেই অজানা সত্যটিকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। এখানে প্রশ্ন শুধু বিএনপি না, বরং পুরো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়েই। যদি সত্যিই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তরে কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রতি ‘অমতের সিদ্ধান্ত’ থেকে থাকে, তবে সেটি ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ সংকেত।