“সেনাপ্রধান চান না বিএনপি ক্ষমতায় আসুক”— বিস্ফোরক মন্তব্য গোলাম মাওলা রনির

বিএনপির চীন সফর এবং এ ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে গোলাম মাওলা রনি চূড়ান্তভাবে প্রশ্ন তুলেছেন। ছবি : সংগৃহিত।
“সেনাপ্রধান চান না বিএনপি ক্ষমতায় আসুক”—এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় তুলেছেন সাবেক এমপি ও বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। তিনি দাবি করেছেন, রাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্তরে এখন এমন একটি ‘অদৃশ্য কনসেনসাস’ তৈরি হয়েছে, যেখানে বিএনপির ক্ষমতায় ফিরে আসার ধারণাটাই অনেকের কাছে অগ্রহণযোগ্য। ফলে গণতন্ত্র, নির্বাচন ও রাজনীতির নাম করে যা চলছে, তা মূলত একটি কৌশলগত নিষেধাজ্ঞা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বরাবরই খোলামেলা ও বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য পরিচিত গোলাম মাওলা রনি এবার সরাসরি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধানের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যদি সেনাপ্রধান মনে করেন বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে যাবে, অথবা গণতান্ত্রিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তবে তিনি চাইবেন না বিএনপি ক্ষমতায় ফিরুক—এটাই বাস্তবতা।”
এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টকশো, সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধু ব্যক্তিগত মত নয়, বরং বাংলাদেশ রাষ্ট্রযন্ত্রের অপ্রকাশিত অবস্থানের একটা ঝলক।
রনি বলেন, “বর্তমানে রাষ্ট্রের নানা স্তরে এমন একটি অনানুষ্ঠানিক নীতিগত সিদ্ধান্ত কার্যকর রয়েছে, যেখানে ক্ষমতা পরিবর্তনের কথা বলা গেলেও তা বাস্তবে স্বীকৃত নয়। বিশেষ করে বিএনপির মতো বড় একটি দল, যারা অতীতে ক্ষমতায় ছিল, আজ এমন এক জায়গায় ঠেকেছে—যেখানে তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ সেন্সরড। বিএনপিকে ক্ষমতায় ফেরানো নিয়ে রাজনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত আপত্তি রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মহলের।”
তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, “আজকে যদি বিএনপি ক্ষমতায় ফিরে আসে, তাহলে দেশের অনেক ক্ষমতাবান লোকের ঘুম হারাম হয়ে যাবে। তারা সেই পরিবর্তন চায় না। এজন্যই নির্বাচন যতই হোক, ফলাফল একটাই হয়—কেউ চাইলে আর কেউ না চাইলে গণতন্ত্র থেমে যায়।”
সেনাপ্রধান বিএনপি ক্ষমতায় আসা চান না—এই বক্তব্য নতুন করে তুলে দিলো বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার প্রকৃত উৎস কোথায়। গোলাম মাওলা রনির এই বক্তব্য শুধুই বিতর্ক নয়, বরং এটি ইঙ্গিত করে রাষ্ট্রযন্ত্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জটিলতা, যেখানে জনগণের ভোটের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে কার সম্মতি আছে আর কার নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, ভোটের চেয়ে ‘অনুমতি’র রাজনীতি কত দিন চলবে?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর সরাসরি উপস্থিতি না থাকলেও, “সেনাপ্রধান কী চান”—এই প্রশ্ন সবসময়ই একটি অনুল্লিখিত ফ্যাক্টর। গোলাম মাওলা রনির বক্তব্য সেই অজানা সত্যটিকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। এখানে প্রশ্ন শুধু বিএনপি না, বরং পুরো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়েই। যদি সত্যিই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তরে কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রতি ‘অমতের সিদ্ধান্ত’ থেকে থাকে, তবে সেটি ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ সংকেত।
গোলাম মাওলা রনির ইউটিউবের সাক্ষাৎকার
বন্যপ্রাণী সেবার উদ্ধার অভিযান
চা পাতা তুলতে গিয়ে অজগর, শ্রীমঙ্গলের চা বাগানে আতঙ্ক

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার একটি চা বাগানে চা পাতা সংগ্রহের সময় একটি অজগর সাপ দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শ্রমিকরা। নিরাপত্তার স্বার্থে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরে বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটি উদ্ধার করেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন ভুরভুরিয়া চা বাগানের সেক্টর-৯ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রমিকরা নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে চা পাতা সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় ঝোপের মধ্যে একটি বড় আকৃতির অজগর সাপ দেখতে পেয়ে তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা দ্রুত কাজ বন্ধ করে বাগান কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে চা বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমান বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপদে অজগর সাপটি উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকৃত অজগরটি পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা জানান, বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
কৃষিজমি রক্ষায় কঠোর অভিযান
দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযানে ২টি ড্রেজার ধ্বংস, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

কৃষিজমি, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় কুমিল্লার দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে দুটি অবৈধ ড্রেজার মেশিন ও প্রায় ২ হাজার ৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিনের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রথমে উপজেলার তুলাগাঁও গ্রামে অভিযান চালিয়ে একটি অবৈধ ড্রেজার এবং প্রায় এক হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়। পরে রামের দিঘিরপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনার দায়ে মো. আব্দুস ছামাদকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর ব্যবহৃত আরও একটি ড্রেজার এবং প্রায় এক হাজার ৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে কৃষিজমির মাটি কাটার কারণে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়ছিল। নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হলে অবৈধ ড্রেজার ব্যবহার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, কৃষিজমি ধ্বংস, খাল-বিল ও জলাশয়ের ক্ষতি এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এমন কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। জনস্বার্থে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
গোরস্তানে প্রতিবাদে হামলা
দেবীদ্বারে কবর খুঁড়তে গিয়ে হামলার শিকার বৃদ্ধ, কিশোর গ্যাং সদস্যের বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে কবর খুঁড়তে গিয়ে গোরস্তানে এক কিশোরী ও দুই কিশোরকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে প্রতিবাদ করার জেরে এক বৃদ্ধকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ভূষণা গ্রামের মজিব কমিশনার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে কর্মরত শহিদুর রহমান (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। সেই উদ্দেশ্যে স্বজন সফিকুল ইসলাম (৭০) কবর খুঁড়তে গিয়ে কবরস্থানের এক পাশে এক কিশোরী ও দুই কিশোরকে দেখতে পান। তিনি তাদের সেখান থেকে সরে যেতে বললে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় দেবীদ্বারের কথিত ‘রেড ৯৯৯’ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে পরিচিত রামিম (১৭) সফিকুল ইসলামের ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে তাঁর বাম হাতে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে আহত সফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক তাঁর হাতে ছয়টি সেলাই দিয়েছেন।
আহত সফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি কবর খুঁড়তে গিয়ে কয়েকজনকে কবরস্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থায় দেখে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পর এক কিশোর তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে থাকা কিশোরীকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেয়।
দেবীদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তানভির জানান, অভিযুক্ত রামিমকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানেও তাঁর এক সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আহত ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ বা মামলা করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।



















