সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

“আগামী নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক, কিন্তু এ নির্বাচনে নয়—কাকে বাঁচাতে এই সাজানো রায়?”

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:১৩ পিএম
“আগামী নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক, কিন্তু এ নির্বাচনে নয়—কাকে বাঁচাতে এই সাজানো রায়?”

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল: ইউনূস সরকারের রাজনৈতিক প্রহসন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের ঘোষণা আজ সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছে, তবে তা এই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য নয়—বরং ভবিষ্যতের নির্বাচনে কার্যকর হবে।
  • এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে অবৈধ দখলদার ইউনূসের আজ্ঞাবহ আদালতের আরেকটি প্রহসন, যা মূলত অনির্বাচিত, অসাংবিধানিক ও অবৈধ শাসনগোষ্ঠীর ফরমায়েশি রাবার স্ট্যাম্প ছাড়া আর কিছুই নয়।
  • যদি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাই হয় নিরপেক্ষ নির্বাচনের মূল ভিত্তি, তবে তা বর্তমান নির্বাচনসহ সব নির্বাচনের জন্য প্রযোজ্য হবে না কেন?

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল: ইউনূস সরকারের রাজনৈতিক প্রহসন

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের ঘোষণা আজ সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছে, তবে তা এই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য নয়—বরং ভবিষ্যতের নির্বাচনে কার্যকর হবে। এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে অবৈধ দখলদার ইউনূসের আজ্ঞাবহ আদালতের আরেকটি প্রহসন, যা মূলত অনির্বাচিত, অসাংবিধানিক ও অবৈধ শাসনগোষ্ঠীর ফরমায়েশি রাবার স্ট্যাম্প ছাড়া আর কিছুই নয়। যদি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাই হয় নিরপেক্ষ নির্বাচনের মূল ভিত্তি, তবে তা বর্তমান নির্বাচনসহ সব নির্বাচনের জন্য প্রযোজ্য হবে না কেন?

ইউনূস গোষ্ঠী নিজেরাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো মানদণ্ড পূরণ করে না। ২০২৪ সালের আগস্টের পর তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নানা নাটক করলেও প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ প্রগতিশীল শক্তিকে নিষিদ্ধ করে নিজেরাই একটি সাজানো নির্বাচন আয়োজন করা। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বর্তমান নির্বাচনে প্রয়োগ করলে তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যেত। তাই ভবিষ্যতের নির্বাচনে নামমাত্র পুনর্বহাল দেখিয়ে বর্তমান নির্বাচনে কারচুপি ধরে রাখার পথই বেছে নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে ইউনূস সরকারের নির্দেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর দেশজুড়ে হত্যা, হামলা, নির্যাতন এবং নিঃশব্দ দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। হাজারো নেতা ও একশোর বেশি সংসদ সদস্যকে কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই দেড় বছর ধরে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। গোপালগঞ্জে নিরস্ত্র প্রতিবাদকারীদের সামরিক বাহিনী দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, পুলিশের ওপর বারবার গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন সেই সরকারের হাতে ‘নির্বাচন’ তুলে দিতে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে বর্তমান নির্বাচন থেকে সচেতনভাবে বাদ রাখা হয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে এত প্রহসন, এত হত্যা, এত ষড়যন্ত্র যদি বৈধ হয়—তবে দায় কাদের? গ্রহণযোগ্যতার মানদণ্ড ভেঙেই যদি সবকিছুকে বৈধতা দেওয়া হয়, তবে আওয়ামী লীগ সরকারকেই বা দোষারোপ করা হচ্ছে কেন?

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
এলাকার খবর

জামিনে মুক্তদের বরণে প্রস্তুতি

ফুলের মালা হাতে কারাফটকে ‘শোডাউন’, আ.লীগের ৪ নেতাকর্মী আটক

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩১ এএম
ফুলের মালা হাতে কারাফটকে ‘শোডাউন’, আ.লীগের ৪ নেতাকর্মী আটক

নোয়াখালী জেলা কারাগারের সামনে ফুলের মালা নিয়ে ‘শোডাউন’ করার অভিযোগে আওয়ামী লীগের চার নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার জেলা কারাগারের ফটক থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে এক ব্যাগ ফুলের মালা উদ্ধার করা হয়।

আটকরা হলেন—সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম এওজবালিয়া গ্রামের ছেরাজল হক চৌধুরী (৬৩), মেহেদী হাসান হৃদয় (২০), মো. ফারুক হোসেন (১৮) ও মো. নাজিম (১৮)। পুলিশের দাবি, আটক চারজনই আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৫ জুন জুমার নামাজের পর নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের উদ্যোগে প্রায় তিন হাজার নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। ওই কর্মসূচির পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে।

রোববার তাদের মধ্যে কয়েকজন জামিনে মুক্তি পেলে খবর পেয়ে একদল নেতাকর্মী ফুলের মালা নিয়ে কারাগারের সামনে জড়ো হন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক চারজন মুক্তিপ্রাপ্তদের আত্মীয় নন এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে ছবি তুলে শোডাউন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

পুলিশের চোখে ফুলের মালা, উদ্দেশ্য ‘শোডাউন’

স্বজনেরা ফুলের মালা নিয়ে আসতেই পারেন। কিন্তু আটক ব্যক্তিরা এক ব্যাগ ফুলের মালা নিয়ে এসেছিলেন এবং তারা জামিনে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজন নন। বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে ছবি তুলে শোডাউন করতে চেয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
মো. নজরুল ইসলাম
ওসি- সুধারাম থানা

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

বিশেষ বক্তব্য:
কারামুক্ত ব্যক্তিকে স্বজনদের ফুল দিয়ে বরণ করা স্বাভাবিক হলেও, দলীয় পরিচয়ে একাধিক ব্যক্তির সংগঠিতভাবে কারাফটকে অবস্থান ও শোডাউনের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ নতুন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে আটক ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের নয়া চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৭ এএম
কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের নয়া চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ

সরকার কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে আশিকুর রহমান মাহমুদকে নিয়োগ দিয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা: আকতারুন নেছা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগ প্রদান করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, “পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬”-এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী তিন বছরের জন্য তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
আশিকুর রহমান মাহমুদ কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার মুন্সেফ বাড়ির বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম হাজী আব্দুর রহিম মাহমুদ এবং মায়ের নাম জাহানারা মাহমুদ। নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ২১টি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে আশিকুর রহমান মাহমুদ কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোনীত হওয়ায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কুমিল্লার বিশিষ্ট সমাজসেবক, ধর্ম মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের মামাতো ভাই এবং মুরাদনগর উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সৈয়দ আতিকুল্লাহ প্রিয়া।

এক অভিনন্দন বার্তায় সৈয়দ আতিকুল্লাহ প্রিয়া বলেন, “আশিকুর রহমান মাহমুদের মতো একজন দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিত্ব কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁর এই নেতৃত্বের মাধ্যমে কুমিল্লার সুপেয় পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নয়ন সাধিত হবে এবং নাগরিক সেবা পৌঁছাবে জনগণের দোড়গোড়ায়। আমি তাঁর জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করছি

ধর্ম, রাজনীতি ও নির্বাসনে বিস্তর ফারাক

‘শেখ হাসিনা আর আমাকে এক পাল্লায় তুলবেন না’: তসলিমা নাসরিন

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী : প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩০ পিএম
‘শেখ হাসিনা আর আমাকে এক পাল্লায় তুলবেন না’: তসলিমা নাসরিন

শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজের তুলনা টানার সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনা ও তাঁর মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাস, রাজনৈতিক অবস্থান, নির্বাসনের কারণ, আইনি অবস্থান এবং আদর্শের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

নিজের ফেসবুক পোস্টে তসলিমা নাসরিন বলেন, অনেকে শেখ হাসিনা ও তাঁকে একই পাল্লায় তুলছেন এবং দুজনকেই মুসলমান ও রাজনৈতিক শরণার্থী হিসেবে উল্লেখ করছেন। তাঁর ভাষ্য, এই দুই দাবিই সঠিক নয়।

তসলিমা নাসরিন নিজেকে ‘হার্ডকোর নাস্তিক’ উল্লেখ করে বলেন, তিনি কোনো ঈশ্বর, ধর্মগ্রন্থ বা ধর্মীয় বিধানে বিশ্বাস করেন না। অন্যদিকে শেখ হাসিনা ধর্ম পালনকারী মুসলমান—এমন দাবি করেন তিনি।

নিজের দেশ থেকে দূরে থাকা ছাড়া শেখ হাসিনা ও আমার মধ্যে বড় কোনো মিল নেই; পরিচয়, আদর্শ ও নির্বাসনের বাস্তবতায় আমাদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য।
তসলিমা নাসরিন
লেখিকা, ফেসবুক পোস্ট থেকে নেয়া

নিজের ভারতে অবস্থান প্রসঙ্গে তসলিমা বলেন, তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী নন। ভারত সরকার তাঁর থাকা-খাওয়া বা জীবনযাপনের ব্যয় বহন করে না। নিজের সব খরচ নিজেই বহন করেন এবং ভারত সরকার শুধু তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সুইডেনের নাগরিক এবং সেই পরিচয়েই ভারতে বসবাস করছেন।

তসলিমা নাসরিন আরও বলেন, ভারত কোনো বিদেশি শিল্পী, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী বা গবেষকের কাজ ও অবদান বিবেচনা করে তাঁকে বৈধভাবে দেশটিতে বসবাসের অনুমতি দিতে পারে। তাঁর মতে, এ ধরনের অনুমতি রাজনৈতিক আশ্রয়ের সমতুল্য নয়।

আদর্শগত পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেন তসলিমা

শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজের সবচেয়ে বড় পার্থক্যগুলোর একটি হিসেবে ধর্ম ও রাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন তসলিমা নাসরিন।

তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। বিপরীতে তিনি সব শিশুর জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে। তাঁর মতে, রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড থেকে ধর্মকে দূরে রাখা উচিত।

তসলিমা নাসরিন শেখ হাসিনা সরকারের ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পেরও সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, এসব মসজিদ একসময় শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কা তিনি প্রকল্পের শুরুতেই প্রকাশ করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতাশালী রাজনীতিক, আর তিনি ক্ষমতাহীন একজন লেখিকা। শেখ হাসিনার নির্বাসন দুই বছরের হলেও তাঁর নিজের নির্বাসন ৩২ বছরের বলে উল্লেখ করেন তসলিমা।

‘ফেরার দরজা বহুদিন ধরেই বন্ধ’

বাংলাদেশে নিজের ফেরার প্রসঙ্গে তসলিমা নাসরিন বলেন, বাংলাদেশের কোনো সরকারই তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্ট নবায়ন করেনি এবং তাঁর বিদেশি পাসপোর্টেও ভিসা দেয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে ফেরার পথ তাঁর জন্য বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা সরকারের ভূমিকাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশে ফেরার পথ বন্ধ রাখার দায় শেখ হাসিনা সরকারেরও রয়েছে।

তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজের অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তুলে ধরে তসলিমা বলেন, তিনি চান শেখ হাসিনা নিজ দেশে ফিরে নিরাপদে বসবাস করুন এবং রাজনীতি করুন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবিও তিনি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন বলে উল্লেখ করেন।

‘আমি শেখ হাসিনার দেশে ফেরা চাই’

তসলিমা নাসরিনের ভাষ্য, তিনি নিজের দেশে ফিরে নিরাপদে বসবাস করতে চান এবং শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও একই প্রত্যাশা রাখেন। তাঁর মতে, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হলেও তাঁর মতো একজন ধর্ম ও জিহাদবিরোধী লেখিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফিরতে পারলেও তাঁকে জিহাদিদের হামলার ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে। এ কারণে দেশে ফিরে নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন কি না, সেটি নিয়েও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বাক্‌স্বাধীনতা নিয়েও শেখ হাসিনার সমালোচনা

তসলিমা নাসরিন নিজেকে বাক্‌স্বাধীনতার প্রবল সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনার সঙ্গে এ ক্ষেত্রেও তাঁর পার্থক্যের কথা তুলে ধরেন।

তিনি দাবি করেন, ১৯৯৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার তাঁর পুরস্কারপ্রাপ্ত আত্মজীবনী ‘আমার মেয়েবেলা’ নিষিদ্ধ করেছিল এবং সেই নিষেধাজ্ঞা এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি।

সবশেষে তসলিমা নাসরিন বলেন, নিজের দেশ থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হওয়া ছাড়া তাঁর সঙ্গে শেখ হাসিনার বড় কোনো মিল নেই। শুধু এই একটি মিলের ভিত্তিতে দুজনের পরিচয়, অবস্থান, আদর্শ ও জীবনসংগ্রামকে একইভাবে দেখাকে তিনি ‘ভুল তথ্য’ ছড়ানো হিসেবে উল্লেখ করেন।

×
CLOSE X
ENG