বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

অর্থপাচার নাকি বাণিজ্যিক লেনদেন?

সর্বোচ্চ টাকা পাচারের জন্য বিশ্ব বাটপার ড. ইউনূস ডাবল নোবেলের দাবিদার : গোলাম মাওলা রনি

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
সর্বোচ্চ টাকা পাচারের জন্য ড. ইউনূস ডাবল নোবেলের দাবিদার

সর্বোচ্চ টাকা পাচারের জন্য ড. ইউনূস ডাবল নোবেলের দাবিদার : গোলাম মাওলা রনি। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • বিশ্ব বাটপার ইউনূসের অর্থ ফেরতের বুলি, আড়ালে ১৩ হাজার কোটি টাকা পাচারের রেকর্ড!
  • : সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১ শতাংশ বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরে অর্থপাচার বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গোলাম মাওলা রনি।
  • তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, ওই আমানতের বড় অংশই অবৈধ বাণিজ্যিক লেনদেন সংশ্লিষ্ট এবং তা সরাসরি অর্থপাচারের সামিল, তারা মনে করেন বিশ্ব বাটপার ইউনুসের শাস্তি হওয়া দরকার।

বিশ্ব বাটপার ইউনূসের অর্থ ফেরতের বুলি, আড়ালে ১৩ হাজার কোটি টাকা পাচারের রেকর্ড! : সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১ শতাংশ বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরে অর্থপাচার বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গোলাম মাওলা রনি। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, ওই আমানতের বড় অংশই অবৈধ বাণিজ্যিক লেনদেন সংশ্লিষ্ট এবং তা সরাসরি অর্থপাচারের সামিল, তারা মনে করেন বিশ্ব বাটপার ইউনুসের শাস্তি হওয়া দরকার।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবৈদ প্রধান উপদেষ্টা বিশ্ব বাটপার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে দেশ থেকে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পাচার হচ্ছে এবং এর জন্য তিনি আরেকটি নোবেল বা ‘ডাবল নোবেল’ পাওয়ার দাবিদার—সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনির এমন একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ঝড় তুলেছে। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে দেওয়া তার এই ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্যটি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও ফ্যাক্ট-চেকাররা বলছেন, সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (সুইস ব্যাংক) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে এই বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

গোলাম মাওলা রনির বক্তব্যে যা বলা হয়েছে

টকশোতে গোলাম মাওলা রনি অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে বলেন, শেখ হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে দেশ থেকে প্রায় ১৬ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছিল। তবে সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্যের বরাতে তিনি দাবি করেন, বিশ্ব বাটপার ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছরেই সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ জমা রাখার পরিমাণ ৪১% বৃদ্ধি পেয়েছে।
শেখ হাসিনা সরকারের চেয়েও বর্তমান সরকারের আমলে অর্থপাচারের গতি বেশি উল্লেখ করে রনি রসাত্মকভাবে বলেন, “এই অভাবনীয় সাফল্যের জন্য ড. ইউনূসকে আরও একটি নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত।” তিনি আরও যোগ করেন, এই বিষয়ে দেশে একটি গণভোট হওয়া দরকার, যেখানে ১৮ কোটি মানুষ নোবেল কমিটিকে ভোট দিয়ে ড. ইউনূসকে আরেকটি নোবেল দেওয়ার সুপারিশ করবে।

প্রকৃত সত্য: সুইস ব্যাংকের টাকা মানেই কি পাচার?

গোলাম মাওলা রনির এই দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক খাতের বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের যে অর্থ জমা থাকে, তার বড় অংশই ব্যক্তিগত অর্থপাচার নয়, বরং বৈধ বাণিজ্যিক লেনদেনের অংশ।
  • বাণিজ্যিক আমানত: সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (SNB) বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের মোট জমার সিংহভাগই থাকে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের নামে (যা প্রধানত এলসি বা আমদানির বিপরীতে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে গ্যারান্টি বা আমানত হিসেবে রাখা হয়)।
  • ব্যক্তিগত আমানতের চিত্র ভিন্ন: গত কয়েক বছরের ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত বা গোপন অ্যাকাউন্টের আমানত সুইস ব্যাংকে ক্রমাগত কমছে।
  • ভুল পরিসংখ্যানের ব্যবহার: বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উত্থান-পতনের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বা বাণিজ্যিক ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ডলারের পরিমাণ বাড়তে বা কমতে পারে, যা কোনোভাবেই ব্যক্তিগত অর্থপাচারের প্রমাণ নয়।

সরকারের প্রতিক্রিয়া

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিগত সরকারের আমলে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সুইস ব্যাংকের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিসংখ্যানকে “অর্থপাচার” হিসেবে প্রচার করাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভ্রান্তিকর বলে মনে করছে সরকার।
এই খবরের গভীর বিশ্লেষণ এবং গোলাম মাওলা রনির পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পড়তে পারেন বাংলাদেশ টাইমস এবং কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

মাদক সেবনের দায়ে দেবীদ্বারে যুবদল নেতা আব্দুল হাই কায়সার বহিষ্কার

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৫ এএম
মাদক সেবনের দায়ে দেবীদ্বারে যুবদল নেতা আব্দুল হাই কায়সার বহিষ্কার

কুমিল্লার দেবীদ্বারে মাদক সেবনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুল হাই কায়সারকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে কুমিল্লা উত্তর জেলার আওতাধীন দেবীদ্বার উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুল হাই কায়সারকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”

এতে আরও বলা হয়, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। একই সঙ্গে যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেবীদ্বার উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের একটি মুরগির খামারে মাদক সেবনের সময় আব্দুল হাই কায়সারসহ তিন যুবককে আটক করে পুলিশ। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়।

আদালত আব্দুল হাই কায়সারকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা ও সাত দিনের কারাদণ্ড দেন। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় বিধি অনুযায়ী আরও ১৪ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ফলে মোট ২১ দিনের কারাদণ্ড দিয়ে তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

আব্দুল হাই কায়সার (৫০) দেবীদ্বার উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের বজলুর রহমান মাস্টারের ছেলে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতাদের নজরে আসে। পরে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা বলেন, দলের দায়িত্বশীল কোনো নেতা মাদক সেবন বা বিক্রির সঙ্গে জড়িত হলে তা দলের ভাবমূর্তির পাশাপাশি সমাজের জন্যও ক্ষতিকর। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

দেবীদ্বার উপজেলা যুবদলের সভাপতি নুরুজ্জামান বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “দলের যে কাউকে শৃঙ্খলাবিরোধী বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে দল ও সংগঠন থেকে বহিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দেবীদ্বারে মুরগির ফার্মে মাদক সেবন, যুবদল নেতাসহ ৩ জনের ২১ দিনের কারাদণ্ড

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৮ এএম
দেবীদ্বারে মুরগির ফার্মে মাদক সেবন, যুবদল নেতাসহ ৩ জনের ২১ দিনের কারাদণ্ড

কুমিল্লার দেবীদ্বারে মুরগির একটি ফার্মে মাদক সেবনের সময় উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতিসহ তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে সাত দিনের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় প্রত্যেকের কারাদণ্ডের মেয়াদ বেড়ে দাঁড়ায় ২১ দিনে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের একটি মুরগির খামারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—শ্রীপুর গ্রামের বজলুর রহমান মাস্টারের ছেলে ও দেবীদ্বার উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুল হাই কায়সার (৫০), একই গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে আব্দুল আজিজ (৩৬) এবং ধলিপুস্কুরনী গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে সোহেল (৩২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর গ্রামের একটি মুরগির ফার্মের নির্জন স্থানে ওই তিনজন মাদক সেবন করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমার নেতৃত্বে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

পরে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। আদালত আব্দুল হাই কায়সারকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা ও সাত দিনের কারাদণ্ড এবং আব্দুল আজিজ ও সোহেলকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা করে জরিমানা ও সাত দিনের কারাদণ্ড দেন। তিনজনের মোট জরিমানা হয় ২০ হাজার টাকা।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, জরিমানার টাকা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ১৪ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তারা জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় মোট ২১ দিনের কারাদণ্ড দিয়ে তাদের কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলের দায়িত্বশীল নেতারা মাদক সেবন বা বিক্রির সঙ্গে জড়ালে সমাজ থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ক্ষতিকর।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তিনজনকে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত প্রত্যেককে সাত দিনের কারাদণ্ড এবং একজনকে ৭ হাজার টাকা ও অপর দুজনকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা করে জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় প্রত্যেকের মোট ২১ দিনের কারাদণ্ড হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীপুর এলাকায় একটি মুরগির ফার্মে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে সাত দিনের কারাদণ্ড ও মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ১৪ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার
০১৭৬১৭৪০২২৭
২৯/০৯/২০২৬

ছবির ক্যাপশন: দেবীদ্বারে মাদক সেবনের দায়ে যুবদল নেতাসহ তিনজনকে আটকের পর থানায় নেওয়া হয়। ছবি: পুলিশ

প্রেস ক্লাবের কমিটিও এমপির! লাকসামে সাংবাদিক সংগঠনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩২ পিএম
প্রেস ক্লাবের কমিটিও এমপির! লাকসামে সাংবাদিক সংগঠনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন

‘স্বাধীন সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপ’ নিয়ে ক্ষোভ, এমপি বললেন—‘আমার এলাকা হিসেবে কমিটি দিয়েছি’

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সাংবাদিক মহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আবুল কালামের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করে তালিকা প্রকাশের পর এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার প্রকাশিত ওই কমিটিতে মুজিবুর রহমান দুলালকে সভাপতি, মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক, তমিজ উদ্দিন আহম্মদ চুন্নুকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সেলিম চৌধুরী হীরাকে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং এম. এ জলিলকে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটি গঠনের কারণ হিসেবে প্রকাশিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, লাকসামে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠন থাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ঐক্যের ঘাটতি রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং প্রকৃত গণমাধ্যমকর্মীদের মান-মর্যাদা রক্ষার লক্ষ্যে এমপি আবুল কালামের নির্দেশে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়।
দৈনিক আজকের কথা
দলের উপরমহলের সঙ্গে কথা বলে যদি একজন এমপি প্রেস ক্লাবের কমিটি দেন, তাহলে স্পষ্ট প্রশ্ন হলো—রাজনৈতিক দল বা জনপ্রতিনিধির কি সাংবাদিকদের সংগঠনের কমিটি গঠনে হস্তক্ষেপ করার অধিকার আছে? আর সেই কমিটি যদি এমপির নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে তাঁর বা তাঁর দলের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা কীভাবে স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ করবেন?
— মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী
কন্ট্রিবিউটিং রিপোর্টার, বাংলাদেশ International Federation of Journalists (IFJ)
তবে একজন সংসদ সদস্যের নির্দেশে প্রেস ক্লাবের কমিটি গঠনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক নেতারা। তারা বলছেন, প্রেস ক্লাব কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়; ফলে এর সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে।
কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাসুক আলতাফ চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি মারাত্মক। কুমিল্লার সাবেক এমপি বাহার সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপ করতেন। আজকে দেখলাম লাকসাম প্রেস ক্লাবেও একই চিত্র। কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।’
কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু বলেন, ‘একজন এমপি উপজেলা প্রেস ক্লাবের কমিটি দিয়েছেন—এটা লজ্জাজনক। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের ওপর হস্তক্ষেপ। যদি বিষয়টি সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
নবগঠিত লাকসাম উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান।
এদিকে কমিটি গঠনে নিজের নির্দেশনার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম বলেন, ‘আমি আংশিক কমিটি দিয়েছি। আমি প্রেস ক্লাবের প্যাডে কমিটি দিয়েছি।’
প্রেস ক্লাব কোনো দলীয় সংগঠন নয়—এ অবস্থায় একজন সংসদ সদস্য হিসেবে কমিটি দেওয়ার এখতিয়ার আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার এলাকা হিসেবে আমি কমিটি দিয়েছি। এ বিষয়ে আমি আমার উপরস্থ মহলের কথা বলেছি। আমার দলের সঙ্গে কথা বলে দিয়েছি। আমি তো আইনপ্রণেতা হিসেবে নতুন এসেছি।’
এ ঘটনায় লাকসাম প্রেস ক্লাবের কমিটি গঠন, এর প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
×
ENG