শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জামায়াতের পরিবারতন্ত্র নিয়ে বিশ্লেষণ

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:৩৮ এএম
জামায়াতের পরিবারতন্ত্র নিয়ে বিশ্লেষণ

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • জামায়াতের পরিবারতন্ত্র: সুসময়ের রাজনীতি, দুঃসময়ে নিখোঁজ—কারা চালায় দলটি?
  • জামায়াতের পরিবারতন্ত্র—এই শব্দটাই তাদের রাজনীতির বর্তমান পরিচয়।
  • বাইরে থেকে তারা যতই পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে বাণী ছড়াক না কেন, ভেতরে তারা তৈরি করেছে সম্পূর্ণ পারিবারিক গোডাউন-সিস্টেম।

জামায়াতের পরিবারতন্ত্র: সুসময়ের রাজনীতি, দুঃসময়ে নিখোঁজ—কারা চালায় দলটি?

জামায়াতের পরিবারতন্ত্র—এই শব্দটাই তাদের রাজনীতির বর্তমান পরিচয়। বাইরে থেকে তারা যতই পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে বাণী ছড়াক না কেন, ভেতরে তারা তৈরি করেছে সম্পূর্ণ পারিবারিক গোডাউন-সিস্টেম। এই দলটিতে নেতৃত্ব এখন আর যোগ্যতার হাত ধরে আসে না; বরং আসে ঘরের ভেতরের সূত্রে, স্বজনপ্রীতি আর ‘কৌটা-রাজনীতি’র মাধ্যমে।

জামায়াতের বর্তমান আমির জীবনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন ১২ হাজারের মতো। কিন্তু সেই সীমিত জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের স্ত্রী আমিনা শফিককে পারিবারিক কৌটায় বানিয়েছেন সংরক্ষিত আসনের এমপি এবং এখন তিনি কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য।
এটা কি জনগণের ভোটে রাজনীতি—নাকি সংসারভিত্তিক দল পরিচালনা?

একই চিত্র দেখা যায় আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের পরিবারের ক্ষেত্রেও। তার স্ত্রী হাবিবা আক্তার সুইট—যিনি কখনো রাজপথে দাঁড়াননি, কখনো কোনো মামলার মুখোমুখি হননি—তিনি আজ মহিলা জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য।
এ কি ত্যাগের পুরস্কার, নাকি পরিবারের প্রতি রাজনীতির উপহার?

টারজান মাসুদ নামে পরিচিত শফিকুল ইসলাম মাসুদের স্ত্রী জাকিয়া ফারহানাও হঠাৎ নেতৃত্বে। পটুয়াখালীতে এমন নেতা বা নেত্রীকে কেউ চিনতেও না—কিন্তু সময়টা সুসময়, তাই নেতৃত্বে নাম ওঠার জন্য এটাই যথেষ্ট।

নুরুল ইসলাম বুলবুল—তার স্ত্রী কোহিনূর আক্তার সীমাও এখন রাজনীতির মাঠে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে নির্বাচন পরিচালনায় ব্যস্ত। কিভাবে? কেন? জনগণের পরিচয় নয়—পরিবারের পরিচয়ই যথেষ্ট ছিল।

এর আগেও আমরা দেখেছি—
• আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের স্ত্রী সাদিয়া খাতুন
• কাদের মোল্লার স্ত্রী সানোয়ারা জাহান
—সবাই জামায়াতের রাজনীতিতে নেতৃত্বে ছিলেন।
জনগণের কারণে নয়, পারিবারিক লাইসেন্স থাকার কারণে।

এসব উদাহরণ কাকতালীয় নয়—এটাই জামায়াতের রাজনৈতিক কাঠামো।

বিএনপি বনাম জামায়াত: মাঠের রাজনীতি বনাম লুকিয়ে থাকা রাজনীতি

জামায়াতের পেইড এক্টিভিস্টরা যখন পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে বুলি ছোড়েন, তখন হাসি পায়। কারণ একই সময়ে বিএনপির সংরক্ষিত নারী সাংসদ সেলিমা রহমান, সৈয়দ আশরাফী পাপিয়া কিংবা রেহানা আক্তার রানুরা—
মামলা খেয়েছেন, জেলে গেছেন, রাজপথে রক্ত পার করেছেন।

অথচ জামায়াতের সংরক্ষিত সাংসদরা—
• সুলতানা রাজিয়া
• আমিনা শফিক
• আসমা খাতুন
—জীবনে কখনো রাজপথে দাঁড়াননি। মামলা তো দূরের কথা—রাজপথের বাতাসও এঁদের শরীরে লাগেনি।

হাসিনা আমলে জামালপুরের সুলতানা রাজিয়া যখন আন্ডারগ্রাউন্ডে লুকিয়ে ছিলেন, তখন একই জেলার বিএনপি নেত্রী নিলুফার চৌধুরী মনি জেলে গেছেন, মার খেয়েছেন, তবুও আপোষ করেননি।
এই ত্যাগই রাজনীতির পরিচয়।
আর জামায়াতের নেত্রীরা?
সুসময়ে নেতৃত্বে, দুঃসময়ে অধরা।

সুসময়ের মধু বনাম দুঃসময়ের গা ঢাকা

আজ যখন সামান্য রাজনৈতিক সুসময় এসেছে, তখনই জামায়াতের এসব সুসময়ের নেত্রীরা আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে বের হয়ে আসছেন। সেটা আন্দোলনের স্বার্থে নয়—
বরং সুসময়ের মধু খাওয়ার জন্য।

অন্যদের পরিবারতন্ত্রের সমালোচনা করে নিজেরাই পরিবারতন্ত্রের চ্যাম্পিয়ন হয়ে বসে থাকা—
এটাই জামায়াতের সবচেয়ে বড় দ্বিচারিতা।

 

জামায়াতের পরিবারতন্ত্র: ভোটের সামনে বীর জনতার করণীয়

জামায়াতের পরিবারতন্ত্র শুধু রাজনৈতিক সমস্যা নয়—এটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।
যোগ্যতা নয়, ত্যাগ নয়, আন্দোলন নয়—
শুধু পরিবারই নেতৃত্ব নির্ধারণ করে।

এ দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে
আগামী নির্বাচনে ব্যালট বক্সে গর্জে ওঠাই
বীর জনতার রাজনৈতিক দায়িত্ব।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
এলাকার খবর

অপ্রতিমের বাবা-মাকে ফোনে হয়রানি ও অপপ্রচারের অভিযোগ, থানায় জিডি

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০১ এএম
অপ্রতিমের বাবা-মাকে ফোনে হয়রানি ও অপপ্রচারের অভিযোগ, থানায় জিডি

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর এবার তার বাবা-মাকে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে হয়রানি ও অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রতিম ও তার পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করেছেন স্বজনরা।

এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে অপ্রতিমের মা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগম তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

দৈনিক আজকের কথা
ফেসবুকে বিভিন্ন নামে আইডি খুলে অপ্রতিম ও আমাদের পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নম্বর থেকে আমাদের দুজনের মোবাইলে ফোন করে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে। এসব কারণে আতঙ্কে অপ্রতিমের মা তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
— কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার
অপ্রতিমের বাবা

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এসব ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবং অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাইবার বুলিং এবং বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণের অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা থানায় জিডি করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে।

অপ্রতিমের বাবা শাহরিয়ার বলেন, ফেসবুকে বিভিন্ন নামে আইডি খুলে অপ্রতিম ও তাদের পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নম্বর থেকে তার ও তার স্ত্রীর মোবাইলে ফোন করে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে অপ্রতিমের মা তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। পরদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সম্প্রতি পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ মামলাটি তদন্ত করছেন।

অপ্রতিম হত্যা মামলায় বদল তদন্ত কর্মকর্তা, নতুন দায়িত্বে পরিদর্শক রাজিব

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৩ পিএম
অপ্রতিম হত্যা মামলায় বদল তদন্ত কর্মকর্তা, নতুন দায়িত্বে পরিদর্শক রাজিব

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ। এতদিন মামলাটি তদন্ত করছিলেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম।

শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ জানান, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের আদেশে তাকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করবেন। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, তদন্তের দায়িত্ব এখন পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদকে দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, এখন থেকে মামলাটির তদন্ত করবেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত)। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে তিনজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পাওয়া গেছে। তবে ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। সে বর্ডার গার্ড হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। ওই দিন বাসায় না ফেরায় তার বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সদর দক্ষিণ থানায় হত্যা মামলা করেন তার বাবা।

পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও অপ্রতিমের মুঠোফোনের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৬) এবং জড়িত থাকার সন্দেহে মো. সিয়ামকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে বাঁশ ও লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে তার মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তিনজন।

ওই দিন সিয়াম ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া অপর তিনজন কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আদালতের নির্দেশে ফাহাদ ও কামরুলকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামি বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে।

কুমিল্লার দুই গ্রামে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ২০

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৭ পিএম
কুমিল্লার দুই গ্রামে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ২০

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নাঙ্গলকোট-মনোহরগঞ্জ সীমান্তের জামাইর দোকান এলাকায় ঢাকা-নোয়াখালী মহাসড়কের পাশে কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সংঘর্ষের সময় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে দুই পক্ষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর নাথেরপেটুয়া বাজারে হাতিমারা গ্রামের এক নারীকে উদ্দেশ করে পুজকরা গ্রামের এক ব্যক্তির কথাবার্তাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সকাল থেকে সীমান্তবর্তী জামাইর দোকান এলাকায় কয়েক দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে। খবর পেয়ে নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ ও লাকসাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পুজকরা গ্রামের আল মামুন কনজুমার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানার ব্যবস্থাপক রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সকালে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল অস্ত্র নিয়ে এলাকায় এসে হামলা চালায়। এ সময় কারখানার আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। বিভিন্ন বাড়িঘর ও দোকানেও হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।

রাকিবুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, কারখানায় থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া এবং কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলায় বাধা দিতে গেলে কয়েকজনের ওপরও হামলা করা হয়। এতে পুজকরা গ্রামের ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অন্যদিকে, হাতিমারা গ্রামের জামাইর দোকান এলাকার ব্যবসায়ী রুবেল অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাতে নাথেরপেটুয়া বাজারে হাতিমারা গ্রামের এক নারীকে উদ্দেশ করে পুজকরা গ্রামের কয়েকজন আপত্তিকর কথা বলেন। এর প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে পুজকরা গ্রামের লোকজন মাইকিং করে হাতিমারা গ্রামের বাড়িঘর ও দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে তিনি দাবি করেন।

রুবেল বলেন, হামলায় বাধা দিতে গেলে হাতিমারা গ্রামের কয়েকজনের ওপরও হামলা করা হয়। এতে ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের লাকসামের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ করেছে। সংঘর্ষের পর সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।”

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর ইসলাম বলেন, “তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করছে। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রধারীদের পরবর্তীতে শনাক্ত করা হবে।”

সংঘর্ষের ঘটনায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ বা মামলা করেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

×
ENG