বঙ্গবন্ধুকে ‘সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে নতুন সংজ্ঞা: প্রশ্নের মুখে দখলদার ইউনূস বাহিনী

🟨নতুন আবিস্কার “সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞা” নিয়ে সংবাদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু হাইলাইটসঃ
✅ জাতীয় গেজেটে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে “সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা” হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
✅ মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারসহ পাঁচটি শ্রেণিকে বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবর্তে সু কৌশলে “সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞা” হিসেবে আখ্যা দিয়ে অসম্মানিত করেছে।
✅ গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিকদের হুমকি দিলেন কথিত উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
✅ সমালোচকরা বলছেন, কথিত এ “সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞা” আবিস্কার করে জাতির পিতা ও জাতীয় চার নেতার অবদান খাটো করার কৌশল।
✅ দখলদার ইউনূস বাহিনী অতীতের প্রতিবেদন নিয়ে চুপ থাকলেও এবার হুমকি দিয়ে মাঠে নেমেছে।
✅ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।
✅ প্রকাশিত গেজেটে পরিষ্কারভাবে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধার পাঁচটি শ্রেণি উল্লেখ রয়েছে, যেখানে বঙ্গবন্ধুও যুক্ত।

আরো পড়ুন>>>
মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবসহ ৪০০ নেতাকে ‘সহযোগী’ ঘোষণা
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) সম্প্রতি গভীর রাতে একটি গেজেট প্রকাশ করেছে, যেখানে কথিত “সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞা” দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতাকে ‘সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নতুন সংজ্ঞাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা। প্রশ্ন উঠেছে—এতে কি বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল হলো না?
এই বিষয়ে সাংবাদিকদের রিপোর্টকে “ভুল সংবাদ” আখ্যা দিয়ে কথিত উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার প্রকাশ্যে গণমাধ্যমকে হুমকি দেন। তিনি বলেন, “ভুল সংবাদে বিভ্রান্ত করলে সরকার আইনি ব্যবস্থা নেবে।”
❝ ভুল সংবাদ কোথায়? ❞
আর ‘মুক্তিযোদ্ধা’ নন শেখ মুজিব! বাংলাদেশে বাতিল চারশোর বেশি নেতার স্বীকৃতি
কিন্তু আসল প্রশ্ন হল—এখানে ভুল সংবাদ কোথায় প্রকাশ হয়েছে?
গেজেটে স্পষ্টভাবে চারটি শ্রেণিতে ‘সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে:
- বিদেশে জনমত গঠনে কাজ করা পেশাজীবীরা,
- মুজিবনগর সরকারের অধীন কর্মকর্তা ও সহকারী,
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, প্রবাসী সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী,
- স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল।
এছাড়া,“সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞা” (গ) ধারায় বলা হয়েছে—প্রবাসী সরকারের এমএনএ ও এমপিএ-রাও সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা।
❝ বঙ্গবন্ধুকে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা বলা মানে কি অবমাননা নয়? ❞
১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব লালবাগ, কেরাণীগঞ্জ ও কোতোয়ালি থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই সূত্রে তিনি এমএনএ হিসেবে গণ্য হন। সুতরাং নতুন সংজ্ঞায় বঙ্গবন্ধুও সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
❝ ইউনূস বাহিনীর পেছনের উদ্দেশ্য কি? ❞
প্রতিবেদনে অভিযোগ ওঠে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার অবদানকে খাটো করার চেষ্টা চালাচ্ছেন মেটিকুলাস ডিজাইনার দখলদার ইউনূস বাহিনী।
২১ মার্চ বাংলাদেশের প্রায় সব জাতিয় পত্রিকায় “মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি থাকছে না শেখ মুজিবসহ চার শতাধিক নেতার” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরই এ নিয়ে তিনি এ হুমকি দিলেন। এ বিষয়ে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শরিফুল আলম চৌধুরী বলেন, যুদ্ধের সময় যারা পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন এবং দেশ স্বাধীনের পর তারা আটকে গেছেন এ দেশে মূলত তারাই প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে বঙ্গবন্ধুকে এখন রেখেছেন “সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞা” মানে তিনি মুক্তিযোদ্ধা নন।
কৃষকের ওপর হামলার অভিযোগ
কালিগঞ্জে কৃষককে পিটিয়ে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ, হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নে এক কৃষককে পিটিয়ে ও বেধড়ক মারধরের পর মৃত ভেবে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার দেবাড়িয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত কৃষক শফিকুল ইসলাম দেবাড়িয়া গ্রামের রশিদ গাজীর ছেলে। তার পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের মেহেদী হাসান, মাসুদ, ইমরান হোসেন, কাদের, মাহাবুবসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, এর আগে একই পক্ষ শফিকুল ইসলামের প্রায় আড়াই বিঘা মাছের ঘের দখল করে নেয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং বিভিন্ন সময় তাকে প্রাণনাশসহ নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭ (গ) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে তারা মুচলেকা দিয়ে জামিন লাভ করেন। এরপর থেকেই তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং কয়েক দিন আগে এক দফা মারধরের পর শনিবার আবারও হামলা চালানো হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
শফিকুল ইসলামের স্বজনদের দাবি, হামলাকারীরা তাকে বেধড়ক মারধর করে মৃত ভেবে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনও নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, খবর পেয়ে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় শফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের আরও অভিযোগ, হামলার সময় শফিকুলকে রক্ষা করতে গেলে তার বাবা রশিদ গাজী, মা ফাতেমা বেগম এবং চাচা মজিদকেও মারধর করা হয়।
এদিকে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মদদে হামলাকারীরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্তদের একজন মাহাবুব মারধরের ঘটনার বিষয়ে বলেন, “একটু হাতাহাতি হয়েছে।”
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা
সেতু সচিবের পরিদর্শন, সুগন্ধা নদীতে সেতু নির্মাণে নতুন আশার আলো

সুগন্ধা নদীতে সেতু নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে সচিবের পরিদর্শন
সেতু সচিবের পরিদর্শন ঘিরে আশার আলো দেখছে ঝালকাঠিবাসী। দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর ওপর সম্ভাব্য সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেছেন সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সচিব মো. আবদুর রউফ।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে ঝালকাঠি কলেজ খেয়াঘাট থেকে স্পিডবোটে নদীপথে পরিদর্শনে বের হন সচিব ও তাঁর সফরসঙ্গী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে তারা নলছিটি উপজেলার ষাইটপাকিয়া, সুতালড়ী এবং ঝালকাঠি পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন সুগন্ধা নদীর তিনটি সম্ভাব্য স্থান ঘুরে দেখেন।
এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সেতুর অবস্থান, নদীর প্রবাহ, সংযোগ সড়ক, ভূমি পরিস্থিতি এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয়ে সচিবকে অবহিত করেন। সচিবও বিভিন্ন দিক নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুগন্ধা নদীর ওপর সেতু নির্মিত হলে ঝালকাঠি, নলছিটিসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং নদীর দুই তীরের জনপদে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত সুগন্ধা সেতু বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে।
স্থানীয়দের তৎপরতায় প্রাণরক্ষা
ঝালকাঠিতে শিশুকে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ মায়ের, স্থানীয়দের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচল দুজন

ঝালকাঠির নলছিটিতে পাঁচ বছর বয়সী কন্যা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দেন এক নারী। তবে স্থানীয়দের দ্রুত তৎপরতায় মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা দুজনই নিরাপদ রয়েছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নলছিটি ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া নারীর নাম লাকি আক্তার। তিনি নলছিটি শহরের বাসিন্দা আদম আলীর ছেলে সাইদুল ইসলামের সাবেক স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাকি আক্তার তার পাঁচ বছর বয়সী কন্যাকে নিয়ে হঠাৎ সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত নদীতে নেমে উদ্ধার অভিযান চালান। পরে মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
লাকি আক্তারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে তার দাম্পত্য কলহ চলছিল। কিছুদিন আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর সাবেক স্বামীর পক্ষ থেকে মেয়েকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
এ কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং আবেগপ্রবণ হয়ে এমন পদক্ষেপ নেন বলে জানান।
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মা ও শিশু বর্তমানে নিরাপদ রয়েছেন। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা সাইদুল ইসলামের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

























