ভিসা নিষেধাজ্ঞায় সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে জনগণকে দায়ী: কতটা নির্লজ্জ এই কৌশল?

🔍 সংক্ষেপে হাইলাইটস:
- ভিসা বন্ধের জন্য জনগণ ও ব্যবসায়ীকে দায়ী করলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন
- মার্কিন স্টুডেন্ট ভিসা নিষেধাজ্ঞায় ‘সরকারের কিছু করার নেই’— অস্বীকারমূলক মনোভাব
- ভারত ট্রান্সশিপমেন্ট বন্ধ করায় ‘শাপেবর’ মন্তব্য— বাস্তবতা থেকে কতটা দূরে?
- নির্বাচনের সময়সূচি বিষয়ে অস্পষ্টতা এবং বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর প্রশ্নে কূটনৈতিক কৌশলের অভাব
🧭 সরকার ব্যর্থ, দায় চাপায় জনগণের ওপর
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, “বিভিন্ন দেশের ভিসা নিষেধাজ্ঞার জন্য দেশের মানুষ ও ব্যবসায়ীরাই দায়ী।” এই মন্তব্যে গোটা জাতিকে অবাক করে দিয়েছেন তিনি। যেখানে সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা, নীতির অসংগতি ও দুর্নীতি আন্তর্জাতিক আস্থার সংকটে পরিণত হয়েছে, সেখানে সাধারণ মানুষকে দায়ী করাটা কতটা যৌক্তিক?
বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরকারের একটি চিরাচরিত কৌশল—নিজেদের গাফিলতি আড়াল করে জনগণকেই অপরাধী বানানো। এভাবে কি রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব?
বাংলাদেশসহ ১৩ দেশের ওপর সাময়িক ভিসা নিষেধাজ্ঞা সৌদির
🎓 স্টুডেন্ট ভিসা নিষেধাজ্ঞায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুতে তৌহিদ হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে সরকারের কিছু করার নেই।” অথচ প্রতিবেশী দেশ ভারতের শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে ভিসা পাচ্ছে। কূটনৈতিক তৎপরতার অভাবে আজ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে। তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখার অধিকার কি বাংলাদেশের তরুণদের নেই?
🚢 ট্রান্সশিপমেন্ট বন্ধ: ‘শাপেবর’ না ‘শাপে বিপদ’?
ভারত ট্রান্সশিপমেন্ট বন্ধ করায় তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমরা বিকল্প তৈরি করেছি, এটা আমাদের জন্য শাপেবর।” কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, পণ্য পরিবহনে খরচ বেড়েছে দ্বিগুণ, সময়ও লাগছে বেশি।
সুতরাং, সরকারের মুখে যতই ‘শাপেবর’ বলা হোক, বাস্তবতা হলো—ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা, এবং অর্থনীতিতে চাপ।
🗳 নির্বাচন নিয়ে বিদেশি উদ্বেগ: সরকারের জবাব এড়িয়ে যাওয়া
নির্বাচন নিয়ে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, “সরকারের সিদ্ধান্তই বিদেশিদের জানানো হয়।” অথচ আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা ফেরাতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে—এই অস্পষ্ট বার্তা আরও সন্দেহ বাড়িয়েছে। একবিংশ শতাব্দীতে এমন অনির্দিষ্টতা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত।
সরকারের চরম ব্যর্থতা পড়তে নিচের লিঙ্কসে ক্লিক করুন
রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষায় অনিশ্চয়তা, ইউনিসেফের কার্যক্রমে বড় কাটছাঁট
⚠️ বিশ্লেষণ: দায় এড়ানোর কৌশলেই চলছে রাজনীতি
সরকারি বক্তব্যে বারবার একটি চিত্রই পরিষ্কার— সরকার দায় নিচ্ছে না, বরং জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে সব ব্যর্থতা।
যদি সরকারই কূটনৈতিক ব্যর্থতা, দুর্নীতি, ও অব্যবস্থাপনাকে স্বীকার না করে, তাহলে জনগণের ভিসা পাওয়া বা আন্তর্জাতিক আস্থা ফেরানো কোন যুক্তিতে সম্ভব?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার নিজের ঘরে আগুন লাগিয়ে এখন ধোঁয়ার জন্য জনসাধারণকে দায়ী করছে। অথচ এই সংকট থেকে উত্তরণে দরকার নৈতিক জবাবদিহিতা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলা, এবং জনগণের প্রতি সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি।
📌 শেষ কথা:
জনগণ যদি সব কিছুর জন্য দায়ী হয়, তাহলে শাসকের দায়িত্ব কি শুধুই বাহানা দেওয়া? পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য এক ভয়াবহ বাস্তবতা তুলে ধরছে—এখানে জনগণ শুধু শাসিত, সম্মানিত নয়।
কৃষকের ওপর হামলার অভিযোগ
কালিগঞ্জে কৃষককে পিটিয়ে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ, হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নে এক কৃষককে পিটিয়ে ও বেধড়ক মারধরের পর মৃত ভেবে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার দেবাড়িয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত কৃষক শফিকুল ইসলাম দেবাড়িয়া গ্রামের রশিদ গাজীর ছেলে। তার পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের মেহেদী হাসান, মাসুদ, ইমরান হোসেন, কাদের, মাহাবুবসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, এর আগে একই পক্ষ শফিকুল ইসলামের প্রায় আড়াই বিঘা মাছের ঘের দখল করে নেয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং বিভিন্ন সময় তাকে প্রাণনাশসহ নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭ (গ) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে তারা মুচলেকা দিয়ে জামিন লাভ করেন। এরপর থেকেই তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং কয়েক দিন আগে এক দফা মারধরের পর শনিবার আবারও হামলা চালানো হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
শফিকুল ইসলামের স্বজনদের দাবি, হামলাকারীরা তাকে বেধড়ক মারধর করে মৃত ভেবে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনও নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, খবর পেয়ে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় শফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের আরও অভিযোগ, হামলার সময় শফিকুলকে রক্ষা করতে গেলে তার বাবা রশিদ গাজী, মা ফাতেমা বেগম এবং চাচা মজিদকেও মারধর করা হয়।
এদিকে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মদদে হামলাকারীরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্তদের একজন মাহাবুব মারধরের ঘটনার বিষয়ে বলেন, “একটু হাতাহাতি হয়েছে।”
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা
সেতু সচিবের পরিদর্শন, সুগন্ধা নদীতে সেতু নির্মাণে নতুন আশার আলো

সুগন্ধা নদীতে সেতু নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে সচিবের পরিদর্শন
সেতু সচিবের পরিদর্শন ঘিরে আশার আলো দেখছে ঝালকাঠিবাসী। দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর ওপর সম্ভাব্য সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেছেন সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সচিব মো. আবদুর রউফ।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে ঝালকাঠি কলেজ খেয়াঘাট থেকে স্পিডবোটে নদীপথে পরিদর্শনে বের হন সচিব ও তাঁর সফরসঙ্গী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে তারা নলছিটি উপজেলার ষাইটপাকিয়া, সুতালড়ী এবং ঝালকাঠি পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন সুগন্ধা নদীর তিনটি সম্ভাব্য স্থান ঘুরে দেখেন।
এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সেতুর অবস্থান, নদীর প্রবাহ, সংযোগ সড়ক, ভূমি পরিস্থিতি এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয়ে সচিবকে অবহিত করেন। সচিবও বিভিন্ন দিক নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুগন্ধা নদীর ওপর সেতু নির্মিত হলে ঝালকাঠি, নলছিটিসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং নদীর দুই তীরের জনপদে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত সুগন্ধা সেতু বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে।
স্থানীয়দের তৎপরতায় প্রাণরক্ষা
ঝালকাঠিতে শিশুকে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ মায়ের, স্থানীয়দের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচল দুজন

ঝালকাঠির নলছিটিতে পাঁচ বছর বয়সী কন্যা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দেন এক নারী। তবে স্থানীয়দের দ্রুত তৎপরতায় মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা দুজনই নিরাপদ রয়েছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নলছিটি ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া নারীর নাম লাকি আক্তার। তিনি নলছিটি শহরের বাসিন্দা আদম আলীর ছেলে সাইদুল ইসলামের সাবেক স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাকি আক্তার তার পাঁচ বছর বয়সী কন্যাকে নিয়ে হঠাৎ সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত নদীতে নেমে উদ্ধার অভিযান চালান। পরে মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
লাকি আক্তারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে তার দাম্পত্য কলহ চলছিল। কিছুদিন আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর সাবেক স্বামীর পক্ষ থেকে মেয়েকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
এ কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং আবেগপ্রবণ হয়ে এমন পদক্ষেপ নেন বলে জানান।
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মা ও শিশু বর্তমানে নিরাপদ রয়েছেন। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা সাইদুল ইসলামের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
























