বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

চোখের সামনে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার আইসিইউ: কুমিল্লার দুই হাসপাতালে মুমূর্ষু স্বাস্থ্যসেবা

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ জুন, ২০২৫, ২:১২ পিএম
চোখের সামনে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার আইসিইউ: কুমিল্লার দুই হাসপাতালে মুমূর্ষু স্বাস্থ্যসেবা
google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার আইসিইউ সংকট এখন চরমে। দুইটি বড় সরকারি হাসপাতালের ৬০টি আইসিইউ বেডের মধ্যে ৪৮টি অচল হয়ে পড়ে আছে। কোটি টাকার সরঞ্জাম ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে শুধুমাত্র জনবল ও প্রকল্পের অভাবে। করোনা বা অন্য যে কোনো জরুরি অবস্থায় এই পরিস্থিতি ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলতে পারে জেলার সাধারণ মানুষকে।

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে সতর্কতা বাড়লেও কুমিল্লায় নেই কোনো প্রস্তুতি। করোনা পরীক্ষার কিট নেই, বন্ধ রয়েছে টিকাদান কর্মসূচিও। এরমধ্যেই ইমারজেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড পেনডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস (ইআরপিপি) প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় অচল হয়ে পড়েছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ও জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ও আইসোলেশন ইউনিটগুলো।

২০২০ সালের জুন মাসে ইআরপিপি প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লার দুই হাসপাতালে দুটি বিশেষ আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করা হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এসব ইউনিটে আর্থিক ও জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের ৩০টি আইসিইউ বেডের মধ্যে মাত্র দুইটিতে চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। বাকি ২৮টি বেড অচল হয়ে পড়ে আছে। একই অবস্থা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও, যেখানে ৩০টির মধ্যে মাত্র ১০টি বেড সচল আছে।

কুমিল্লার আইসিউ সংকট
আইসিইউ ইউনিট নিজেই আইসিইউতে। কুমিল্লা জেনারেল (সদর) হাসপাতালের করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটের আইসিইউতে ছাদ থেকেই পড়ছে পানি। এদিকে লোকবল সঙ্কটে বেহাল দশায় ইউনিটটি। ছবি – দৈনিক আজকের কথা।

চিকিৎসক ও নার্সদের দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না মেলায় চিকিৎসা কার্যক্রমে স্থবিরতা এসেছে। গত কয়েক মাস ধরে এই বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন শুধুমাত্র দায়িত্ববোধ থেকে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইজিও বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট মাইন উদ্দিন মিয়াজী বলেন, “সরকারি সিদ্ধান্ত না এলে এই সেবা চালু রাখা সম্ভব নয়। আমরা চাই, প্রকল্পের মেয়াদ আবারো বাড়িয়ে জনবল ফিরিয়ে আনা হোক।”

জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবদুল মুকতাদির জানান, “মাত্র একজন চিকিৎসক ও চারজন নার্স দিয়ে একটি ইউনিট চালানো হচ্ছে, যা প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার জন্য খুবই অপ্রতুল।” তিনি জানান, “করোনার সময় আমরা যেভাবে জীবন বাজি রেখে কাজ করেছি, সেটা যেন অন্তত স্বীকৃতি পায়।”

করোনার সময় কুমিল্লায় প্রায় সাড়ে চার হাজার রোগী আইসিইউতে ভর্তি হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে এক হাজার ৮০০ জন প্রাণ হারান। কিন্তু এখন যখন রোগীর সংখ্যা কমলেও আইসিইউ সেবার প্রয়োজনীয়তা কমেনি, তখন এই অব্যবস্থাপনা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।

একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ বেডে প্রতিদিনের খরচ মাত্র সাড়ে ৬০০ টাকা, যেখানে বেসরকারি হাসপাতালে এর জন্য ৪০ থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। সেজন্য সরকার ও কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ থাকবে, এই ইউনিটগুলো নষ্ট না করে জনগণের সেবায় ব্যবহার করা হোক।”

কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর বশির জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। আইসিইউ ইউনিট সচল করতে অন্তত ১৫ জন জনবল প্রয়োজন বলে জানান তিনি। করোনা পরীক্ষার কিটের জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং নতুন করে গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের জন্য টিকা সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জনবল সংকট ও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় কুমিল্লার আইসিইউ সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, দায়িত্ববোধ থেকে সীমিত ক্ষমতায় সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর পদক্ষেপ নিলে দ্রুত এই জরুরি ইউনিটগুলো পুনরায় সচল করা সম্ভব। সচেতন মহল মনে করেন, কোটি টাকার স্থাপনা নষ্ট না করে জনসেবায় ব্যবহার করাই এখন সময়ের দাবি।

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

কৃষিজমি রক্ষায় কঠোর অভিযান

দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযানে ২টি ড্রেজার ধ্বংস, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম
দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযানে ২টি ড্রেজার ধ্বংস, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

কৃষিজমি, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় কুমিল্লার দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে দুটি অবৈধ ড্রেজার মেশিন ও প্রায় ২ হাজার ৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিনের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রথমে উপজেলার তুলাগাঁও গ্রামে অভিযান চালিয়ে একটি অবৈধ ড্রেজার এবং প্রায় এক হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়। পরে রামের দিঘিরপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনার দায়ে মো. আব্দুস ছামাদকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর ব্যবহৃত আরও একটি ড্রেজার এবং প্রায় এক হাজার ৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে কৃষিজমির মাটি কাটার কারণে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়ছিল। নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হলে অবৈধ ড্রেজার ব্যবহার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, কৃষিজমি ধ্বংস, খাল-বিল ও জলাশয়ের ক্ষতি এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এমন কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। জনস্বার্থে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

গোরস্তানে প্রতিবাদে হামলা

দেবীদ্বারে কবর খুঁড়তে গিয়ে হামলার শিকার বৃদ্ধ, কিশোর গ্যাং সদস্যের বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৬ পিএম
দেবীদ্বারে কবর খুঁড়তে গিয়ে হামলার শিকার বৃদ্ধ, কিশোর গ্যাং সদস্যের বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে কবর খুঁড়তে গিয়ে গোরস্তানে এক কিশোরী ও দুই কিশোরকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে প্রতিবাদ করার জেরে এক বৃদ্ধকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ভূষণা গ্রামের মজিব কমিশনার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে কর্মরত শহিদুর রহমান (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। সেই উদ্দেশ্যে স্বজন সফিকুল ইসলাম (৭০) কবর খুঁড়তে গিয়ে কবরস্থানের এক পাশে এক কিশোরী ও দুই কিশোরকে দেখতে পান। তিনি তাদের সেখান থেকে সরে যেতে বললে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় দেবীদ্বারের কথিত ‘রেড ৯৯৯’ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে পরিচিত রামিম (১৭) সফিকুল ইসলামের ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে তাঁর বাম হাতে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে আহত সফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক তাঁর হাতে ছয়টি সেলাই দিয়েছেন।

আহত সফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি কবর খুঁড়তে গিয়ে কয়েকজনকে কবরস্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থায় দেখে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পর এক কিশোর তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে থাকা কিশোরীকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেয়।

দেবীদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তানভির জানান, অভিযুক্ত রামিমকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানেও তাঁর এক সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আহত ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ বা মামলা করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

উপকূলে বাড়ছে জনদুর্ভোগ

টানা বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারে হাতিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত, দুর্ভোগে লাখো মানুষ

নোয়াখালী প্রতিনিধি : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৩ পিএম
টানা বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারে হাতিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত, দুর্ভোগে লাখো মানুষ

টানা বৃষ্টি কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারের প্রভাবে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বসতঘর, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ ও দিনমজুর পরিবারগুলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে হাতিয়ার সাতটি ইউনিয়নের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তমরদ্দি, সুখচর, জাহাজমারা ও নলচিরা ইউনিয়নে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ। এসব এলাকার অসংখ্য বসতঘর, রান্নাঘর, আঙিনা, গ্রামীণ সড়ক এবং মাছের ঘের পানির নিচে চলে গেছে।

শুধু মূল ভূখণ্ড নয়, নিঝুম দ্বীপসহ দমারচর, ঢালচর, চরগাসিয়া, নলের চর, বয়ার চর, চর আতাউর ও মৌলভীর চরেও জোয়ারের পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অনেক কৃষক ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন আলো বলেন, একদিকে অস্বাভাবিক জোয়ার, অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে পুরো এলাকা পানির নিচে চলে গেছে। নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক পরিবারের রান্নাঘরে পানি ওঠায় গত দুই দিন ধরে চুলা জ্বলেনি। এখন পর্যন্ত তাঁরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি বলেও দাবি করেন।

জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীতে ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা জলাবদ্ধতা ও প্লাবন পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করেছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের ১১টি দল মাঠে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

×
CLOSE X