সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

চোখের সামনে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার আইসিইউ: কুমিল্লার দুই হাসপাতালে মুমূর্ষু স্বাস্থ্যসেবা

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ জুন, ২০২৫, ২:১২ পিএম
চোখের সামনে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার আইসিইউ: কুমিল্লার দুই হাসপাতালে মুমূর্ষু স্বাস্থ্যসেবা
google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার আইসিইউ সংকট এখন চরমে। দুইটি বড় সরকারি হাসপাতালের ৬০টি আইসিইউ বেডের মধ্যে ৪৮টি অচল হয়ে পড়ে আছে। কোটি টাকার সরঞ্জাম ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে শুধুমাত্র জনবল ও প্রকল্পের অভাবে। করোনা বা অন্য যে কোনো জরুরি অবস্থায় এই পরিস্থিতি ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলতে পারে জেলার সাধারণ মানুষকে।

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে সতর্কতা বাড়লেও কুমিল্লায় নেই কোনো প্রস্তুতি। করোনা পরীক্ষার কিট নেই, বন্ধ রয়েছে টিকাদান কর্মসূচিও। এরমধ্যেই ইমারজেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড পেনডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস (ইআরপিপি) প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় অচল হয়ে পড়েছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ও জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ও আইসোলেশন ইউনিটগুলো।

২০২০ সালের জুন মাসে ইআরপিপি প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লার দুই হাসপাতালে দুটি বিশেষ আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করা হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এসব ইউনিটে আর্থিক ও জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের ৩০টি আইসিইউ বেডের মধ্যে মাত্র দুইটিতে চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। বাকি ২৮টি বেড অচল হয়ে পড়ে আছে। একই অবস্থা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও, যেখানে ৩০টির মধ্যে মাত্র ১০টি বেড সচল আছে।

কুমিল্লার আইসিউ সংকট
আইসিইউ ইউনিট নিজেই আইসিইউতে। কুমিল্লা জেনারেল (সদর) হাসপাতালের করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটের আইসিইউতে ছাদ থেকেই পড়ছে পানি। এদিকে লোকবল সঙ্কটে বেহাল দশায় ইউনিটটি। ছবি – দৈনিক আজকের কথা।

চিকিৎসক ও নার্সদের দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না মেলায় চিকিৎসা কার্যক্রমে স্থবিরতা এসেছে। গত কয়েক মাস ধরে এই বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন শুধুমাত্র দায়িত্ববোধ থেকে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইজিও বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট মাইন উদ্দিন মিয়াজী বলেন, “সরকারি সিদ্ধান্ত না এলে এই সেবা চালু রাখা সম্ভব নয়। আমরা চাই, প্রকল্পের মেয়াদ আবারো বাড়িয়ে জনবল ফিরিয়ে আনা হোক।”

জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবদুল মুকতাদির জানান, “মাত্র একজন চিকিৎসক ও চারজন নার্স দিয়ে একটি ইউনিট চালানো হচ্ছে, যা প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার জন্য খুবই অপ্রতুল।” তিনি জানান, “করোনার সময় আমরা যেভাবে জীবন বাজি রেখে কাজ করেছি, সেটা যেন অন্তত স্বীকৃতি পায়।”

করোনার সময় কুমিল্লায় প্রায় সাড়ে চার হাজার রোগী আইসিইউতে ভর্তি হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে এক হাজার ৮০০ জন প্রাণ হারান। কিন্তু এখন যখন রোগীর সংখ্যা কমলেও আইসিইউ সেবার প্রয়োজনীয়তা কমেনি, তখন এই অব্যবস্থাপনা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।

একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ বেডে প্রতিদিনের খরচ মাত্র সাড়ে ৬০০ টাকা, যেখানে বেসরকারি হাসপাতালে এর জন্য ৪০ থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। সেজন্য সরকার ও কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ থাকবে, এই ইউনিটগুলো নষ্ট না করে জনগণের সেবায় ব্যবহার করা হোক।”

কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর বশির জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। আইসিইউ ইউনিট সচল করতে অন্তত ১৫ জন জনবল প্রয়োজন বলে জানান তিনি। করোনা পরীক্ষার কিটের জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং নতুন করে গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের জন্য টিকা সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জনবল সংকট ও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় কুমিল্লার আইসিইউ সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, দায়িত্ববোধ থেকে সীমিত ক্ষমতায় সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর পদক্ষেপ নিলে দ্রুত এই জরুরি ইউনিটগুলো পুনরায় সচল করা সম্ভব। সচেতন মহল মনে করেন, কোটি টাকার স্থাপনা নষ্ট না করে জনসেবায় ব্যবহার করাই এখন সময়ের দাবি।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted

দুই দেখায় ৮ গোল, জয় নেই অস্ট্রিয়ার

৬ গোল, এক হ্যাটট্রিক, হার নেই; ৩৬ বছর পর আজ আবার আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১:২১ পিএম
৬ গোল, এক হ্যাটট্রিক, হার নেই; ৩৬ বছর পর আজ আবার আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া

ম্যারাডোনার হ্যাটট্রিকের সেই প্রতিপক্ষ আজ আবার সামনে, ইতিহাস কি বলছে আর্জেন্টিনা–অস্ট্রিয়া লড়াইয়ে?

দুই দেখায় ৮ গোল, জয় নেই অস্ট্রিয়ার; ম্যারাডোনার একমাত্র আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিকও এসেছিল এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে

ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আবারও অপেক্ষা আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া দ্বৈরথের। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে খুব বেশি দেখা না হলেও দুই দলের পূর্ববর্তী লড়াইগুলোতে রয়েছে বেশ কিছু স্মরণীয় অধ্যায়। বিশেষ করে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ডিয়েগো ম্যারাডোনার একমাত্র আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিক আজও ফুটবল ইতিহাসের আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি।

⚽ ম্যাচের আগে যা জানা জরুরি

🔹 ৩৬ বছর পর আবার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়া।

🔹 দুই দলের আনুষ্ঠানিক দেখার সংখ্যা মাত্র ২টি

🔹 আর্জেন্টিনা জিতেছে ১ ম্যাচ, অন্যটি হয়েছে ড্র।

🔹 দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার গোল , অস্ট্রিয়ার

🔹 ডিয়েগো ম্যারাডোনার একমাত্র আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিক এসেছিল অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেই।

🔹 ইতিহাস বলছে, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এখনো অপরাজিত আলবিসেলেস্তেরা।

আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মাত্র দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই দুই ম্যাচে মোট ৮টি গোল হয়েছে। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা করেছে ৬ গোল, আর অস্ট্রিয়া করেছে ২ গোল। জয়ের পাল্লাও স্পষ্টভাবে আর্জেন্টিনার দিকেই ঝুঁকে আছে।

দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল ১৯৮০ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায়। সে সময়ের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত এক প্রদর্শনীতে ৫-১ গোলের বড় জয় তুলে নেয়। ম্যাচটি ইতিহাসে স্থান করে নেয় মূলত ডিয়েগো ম্যারাডোনার কারণে।

ভিয়েনার সেই ম্যাচে ৬৭ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৩ মিনিটে সান্তিয়াগো সান্তামারিয়া গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ১০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লিওপোলদো লুকুয়ে।

এরপর ১৫ মিনিটে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পঞ্চম গোল করেন তরুণ ম্যারাডোনা। যদিও ২০ মিনিটে কুর্ট জারা একটি গোল শোধ করে অস্ট্রিয়াকে কিছুটা আশা দেখান। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আবারও জ্বলে ওঠেন ম্যারাডোনা। আরও দুটি গোল করে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, সেটিই ছিল ম্যারাডোনার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম এবং শেষ হ্যাটট্রিক। পরবর্তীতে জাতীয় দলের হয়ে একাধিকবার জোড়া গোল করলেও আর কখনো তিন গোল করতে পারেননি ফুটবলের এই কিংবদন্তি। ফলে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে করা সেই হ্যাটট্রিকই তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের একমাত্র হ্যাটট্রিক হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।

দুই দলের দ্বিতীয় ও সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক লড়াই অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালের ৩ মে। ভিয়েনাতেই অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শুরুতেই ধাক্কা খায়। ম্যাচের ৩ মিনিটে মানফ্রেড জাকের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক অস্ট্রিয়া।

তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে। ম্যাচের প্রায় আধঘণ্টা পার হওয়ার আগেই হোর্হে বুরুচাগার গোলে সমতা ফেরায় আলবিসেলেস্তেরা। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।

আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি রেকর্ডে এখন পর্যন্ত কোনো জয় নেই অস্ট্রিয়ার। দুই ম্যাচের একটিতে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা, অন্যটি ড্র হয়েছে।

মুখোমুখি পরিসংখ্যান

  • মোট ম্যাচ: ২
  • আর্জেন্টিনার জয়: ১
  • অস্ট্রিয়ার জয়: ০
  • ড্র: ১
  • আর্জেন্টিনার গোল: ৬
  • অস্ট্রিয়ার গোল: ২

তবে ইতিহাসে দুই দলের একটি অনানুষ্ঠানিক ম্যাচের তথ্যও পাওয়া যায়। ১৯৬৬ সালের ২৫ জুন অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল অস্ট্রিয়া। তবে ম্যাচটি ফিফার স্বীকৃত পূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হিসেবে গণ্য নয়।

সব মিলিয়ে আনুষ্ঠানিক রেকর্ডে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এখনো অপরাজিত আর্জেন্টিনা। দুই দলের সর্বশেষ দেখার পর কেটে গেছে ৩৬ বছরেরও বেশি সময়। তাই আজকের লড়াই শুধু নতুন একটি ম্যাচ নয়, বরং ইতিহাসের পুরোনো হিসাব-নিকাশেরও নতুন অধ্যায়। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন মাঠে—অস্ট্রিয়া কি প্রথম জয় পাবে, নাকি আর্জেন্টিনা ধরে রাখবে নিজেদের অপরাজিত আধিপত্য?

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আটক

মুরাদনগরে বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার, পরিবারের দাবি ‘গায়েবী মামলা’

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
মুরাদনগরে বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার, পরিবারের দাবি ‘গায়েবী মামলা’

কুমিল্লার মুরাদনগরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার পৃথক এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলা সদরের নিমাইকান্দি এলাকার মো. শফিকুল ইসলাম সরকারের ছেলে মোহাম্মদ শামীম সরকার (৪৪) এবং সদর ইউনিয়নের সোনাউল্লাহ (পূর্ব) গ্রামের মৃত জারু মিয়া বেপারীর ছেলে ইব্রাহিম সরকার (৪২)

⚡ আলোচনার কেন্দ্রে

মুরাদনগরে আওয়ামী লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
পুলিশের দাবি, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছে।
অন্যদিকে পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এটি একটি ‘গায়েবী মামলা’ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।
এদিকে দেশে সাম্প্রতিক সময়ে মব জাস্টিস, গণপিটুনি ও জনতার সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনাই এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

পুলিশ জানায়, গত ৬ জুন দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলার ভিত্তিতে শনিবার রাতে মুরাদনগর থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে তাদের নিজ নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে রোববার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তবে গ্রেপ্তার দুই নেতার স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, মামলাটি ‘গায়েবী’ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের দাবি, কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা ছাড়াই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তারা গ্রেপ্তারকৃত দুই নেতার মুক্তি এবং মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

পরিবারের সদস্যরা আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মামলায় আসামি করা হচ্ছে। এ কারণে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ‘মব জাস্টিস’ বা জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়া, গণপিটুনি এবং বিভিন্ন ধরনের গণসহিংসতার ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এসব ঘটনায় প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইনের শাসন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনগুলোর মতে, বিচারবহির্ভূত সামাজিক প্রতিক্রিয়া বা জনতার বিচারের সংস্কৃতি আইনের শাসনের জন্য হুমকি হতে পারে।

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, মামলার তদন্ত ও প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, “আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ শামীম সরকার ও ইব্রাহিম সরকারকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

মাঠে কাজ, প্রাণ গেল

সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

শফিকুল ইসলাম সুমন, মানিকগঞ্জ থেকে : প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১:৫৩ এএম
সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

মাঠে কাজ করার সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের কাঞ্চননগর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

⚡ এক নজরে ঘটনা

রোববার সন্ধ্যায় সিংগাইরের কাঞ্চননগর এলাকায় কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে
কবির হোসেন (৩০)শহিদুল ইসলাম (২৫) নামে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতরা হলেন কাঞ্চননগর গ্রামের নেওয়াজ উদ্দিনের ছেলে কবির হোসেন (৩০) এবং রফি মিস্ত্রির ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৫)। তারা দুজনই কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রোববার বিকেলে নিজ নিজ জমিতে কৃষিকাজ করছিলেন কবির ও শহিদুল। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির মধ্যেই মাঠে অবস্থানকালে আকস্মিক বজ্রপাতে তারা গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকার জামাল ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই বৈরী আবহাওয়ার সময় খোলা মাঠ, জলাশয় ও উঁচু স্থানে অবস্থান না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×
CLOSE X
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x