চান্দিনায় চাঁদা না পেয়ে ‘আটক’, পরিকল্পিত নাটক? স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে আটকের চেষ্টা ব্যর্থ করে প্রশংসিত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা
কুমিল্লার চান্দিনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর নামে চাঁদাবাজি করতে যেয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে আটকের ঘটনা বড় বিতর্কে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় এক ‘সমন্বয়ক’ রনি নামে ওই নেতাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে চাইলেও, বাধা দিয়ে তাকে মুক্ত করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন কানন। এলাকাজুড়ে এ ঘটনায় প্রশংসায় ভাসছেন কানন।
চাঁদা না পেয়ে ‘আটক’, পরিকল্পিত নাটক?
জোয়াগ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আরমান হোসেন রনি মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচয়ে কয়েকজন তরুণের হাতে আটক হন। নেতৃত্ব দেন ইমরান হোসেন নামের এক যুবক, যিনি নিজেকে সমন্বয়ক দাবি করেন।
স্থানীয়রা বলছেন, এই গ্রুপটি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি করার চেষ্টা করে। রনিকে তারা হেলমেট পরে হামলার অভিযোগে আটক করার দাবি করলেও মূল ঘটনা ছিল চাঁদাবাজি না পাওয়ার প্রতিশোধ।
স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকে ‘ছিনিয়ে’ এনে প্রশংসিত হলেন কানন
ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতি পদপ্রার্থী গিয়াসউদ্দিন কানন। তিনি জানান, “রনির বিরুদ্ধে এলাকায় কোন অভিযোগ নেই। ইমরান নামে ছেলেটি তাকে আটকে চাঁদা দাবি করেছিল। তাই আমরা গিয়ে তাকে নিয়ে আসি।”

ঘটনার সময় কাননের সঙ্গে ছিলেন ইউনিয়ন যুবদল নেতা বাদলসহ কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী। স্থানীয়দের মতে, এভাবে একজন নিরপরাধকে জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা ঠেকিয়ে তিনি সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
পুলিশ জানে না, তবু বিচারকের ভুমিকায় চাঁদাবাজ সমন্বয়করা?
চান্দিনা থানার ওসি জাবেদ উল ইসলাম বলেন, “আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন— যদি পুলিশকে কিছুই জানানো না হয়, তবে কীভাবে সমন্বয়করা কাউকে আটক করে এবং পুলিশে দেয়ার নামে হুমকি দিতে পারে? কে দিল তাদের এই ক্ষমতা?
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া: “সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই”
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, ‘বৈষম্যবিরোধী’ নামের ব্যানারে কিছু ব্যক্তি এলাকায় গোষ্ঠীভিত্তিক চাঁদাবাজি ও দমনপীড়নের রাজনীতি করছেন। তারা বিচারবহির্ভূতভাবে লোকজনকে আটকে টাকা দাবি করছেন।
তারা বলেন, “গিয়াসউদ্দিন কানন সাহস করে কথিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর এসব অন্যায় চাঁদাবাজি প্রতিরোধ করেছেন। আমরা চাই প্রশাসন এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে যথায়থ ব্যবস্থা নিক।”
অভিযানে উদ্ধার ইয়াবা ট্যাবলেট
দেবীদ্বারে ইয়াবাসহ আটক মাদক কারবারি, আদালতে প্রেরণ
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় ইয়াবা বিক্রির সময় এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৩১ মে) ভোর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবীদ্বার থানার এসআই বাধন দাসের নেতৃত্বে একটি দল উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের বরকামতা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ওই গ্রামের মনোরঞ্জন সিংহের ছেলে দিপক সিংহ (৩৯)কে আটক করা হয়।
অভিযানকালে তার কাছ থেকে ১৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আটক দিপক সিংহ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে রোববার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দিপক সিংহকে ইয়াবা ও মাদক বিক্রির টাকা সহ আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।”
সুযোগ বুঝে হাতিয়ে নিল ৪ লাখ টাকার মালামাল
দেবীদ্বারে ভাড়াটিয়া সেজে চুরির অভিযোগ, আদালতে পাঠানো হলো অভিযুক্তকে
ভাড়া নিয়ে বসবাস, সুযোগ বুঝে হাতিয়ে নিল ৪ লাখ টাকার মালামাল
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বেগমাবাদ গ্রামে ভাড়াটিয়া পরিচয়ে বাড়িতে অবস্থান করে মালিকের অনুপস্থিতির সুযোগে কয়েক প্রজন্মের ব্যবহৃত কাঁসা, পিতল ও অ্যালুমিনিয়ামের মূল্যবান তৈজসপত্র চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তি হলেন উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের ছংছাইল গ্রামের গৌরাঙ্গ সূত্রধরের ছেলে দিলিপ সূত্রধর (৩৭)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুর্গাপূজা উপলক্ষে দিলিপ সূত্রধরের সঙ্গে বেগমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা রতন সাহার পরিচয় হয়। রতন সাহা মূলত কুমিল্লা শহরে বসবাস করলেও তার গ্রামের বাড়িটি অধিকাংশ সময় তালাবদ্ধ থাকে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া তিনি সেখানে খুব কমই আসেন।
পরিচয়ের সূত্র ধরে দিলিপ সূত্রধর রতন সাহার কাছে নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া চান। তিনি জানান, জাফরগঞ্জ বাজারে কাঠের ব্যবসা পরিচালনার সুবিধার্থে ওই এলাকায় থাকার প্রয়োজন রয়েছে। বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং ভাড়াও পাওয়া যাবে—এমন চিন্তা থেকে রতন সাহা তাকে একটি কক্ষ ভাড়া দেন।
কিন্তু সম্প্রতি ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে এসে রতন সাহা দেখতে পান, তার ঘরে সংরক্ষিত কয়েক প্রজন্মের ব্যবহৃত পিতল, কাঁসা, অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী উধাও। তার দাবি, চুরি যাওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য চার লাখ টাকারও বেশি।
ঘটনার পর রতন সাহা বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় দিলিপ সূত্রধরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ শনিবার (৩০ মে) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে।
রোববার (৩১ মে) দুপুরে তাকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, “ভাড়াটিয়া পরিচয়ে বসবাস করে বাড়ির মালিকের অনুপস্থিতির সুযোগে পুরনো ঐতিহ্যবাহী কাঁসা ও পিতলের তৈজসপত্র চুরির অভিযোগে দিলিপ সূত্রধরকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
মহাসড়কে হঠাৎ শক্তি প্রদর্শন
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আওয়ামী লীগের বিশাল শোডাউন, চাঙ্গা তৃণমূল
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, পুলিশের উপস্থিতিতেই ছত্রভঙ্গ নেতাকর্মীরা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার এলাকায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের আকস্মিক মিছিল ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (৩১ মে) সকাল ৭টার দিকে অনুষ্ঠিত এ মিছিলে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর থেকেই আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে সকাল ৭টার দিকে নিমসার ও কোরপাই এলাকায় মিছিল বের করেন তারা। মিছিল চলাকালে বিভিন্ন স্লোগানও দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
আয়োজকদের দাবি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এহেতাসামুল হাসান রুমির পৃষ্ঠপোষকতায় বুড়িচং উপজেলা যুবলীগ নেতা জালাল উদ্দিন মিছিলের আয়োজন করেন।
যুবলীগ নেতা জালাল উদ্দিন বলেন, “প্রায় এক হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিমসার বাজারের পশ্চিম পাশে শান্তিপূর্ণ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।”
এদিকে মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাসের মুন্সী বলেন, “আওয়ামী লীগ গোপনে মিছিল করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমাদের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন এবং উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রশাসন কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, সেটিও জানতে চাওয়া হবে।”
তবে পুলিশের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুর রহমান বলেন, “কোরপাই এলাকায় কিছু লোকজন জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা দ্রুত ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
মিছিলকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

















