রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

নগদ ছিনতাই: যশোরে চালকই রূপ নিল ডাকাতের, গ্রেপ্তার ৭

রোমানা আক্তার প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫, ৮:০২ পিএম
নগদ ছিনতাই: যশোরে চালকই রূপ নিল ডাকাতের, গ্রেপ্তার ৭

“নগদ ছিনতাই” ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়! নগদ লেনদেন সংস্থার অর্থ বহনকারী একটি প্রাইভেটকার থামিয়ে ৩৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে বেরিয়ে এসেছেন গাড়িচালক নিজেই। ‘নগদ ছিনতাই’ ইস্যুতে পুলিশ নাটকীয় অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চালক ইউসুফ আলী সাজুসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৩২ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা, একটি মোটরসাইকেল, চাপাতি ও ধারালো অস্ত্র।

বুধবার (১৮ জুন) দুপুরে যশোর জেলা পুলিশ লাইনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) নূর-ই-আলম সিদ্দিকি। তিনি জানান, আটক ব্যক্তিরা হলেন— ইউসুফ আলী সাজু (চালক, পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর), রনি গাজী, সুজন ইসলাম, নাসিম গাজী, ইমাদুল গাজী (বাকড়া দিকদানা, ঝিকরগাছা), সোহেল রানা ও সাগর হোসেন (খোষালনগর)।

ঘটনাস্থলে প্রথমে ৫৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের দাবি করা হলেও তদন্তে বেরিয়ে আসে প্রকৃত অর্থ ছিল ৩৫ লাখ টাকা। ঘটনার পর মনিরামপুর থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেল যৌথভাবে তদন্তে নামে। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে সাগর হোসেনকে আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তিতে মূল হোতা হিসেবে চালক সাজুর নাম উঠে আসে।

নগদ ছিনতাই
নগদ ছিনতাইয়ের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়! নগদ লেনদেন সংস্থার অর্থ বহনকারী একটি প্রাইভেটকার থামিয়ে ৩৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে বেরিয়ে এসেছেন গাড়িচালক নিজেই।

তদন্তে আরও জানা যায়, ইমাদুল গাজীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং সুজন ইসলামের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অন্যদের কাছ থেকেও জব্দ করা হয় ঘটনাসংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম বলেন, “নগদ কর্তৃপক্ষের কোনো উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা অর্থ ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলামের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে যশোরে নগদের বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো দুর্বলতা আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার, মণিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এমদাদুল হক, ডিবির ওসি মঞ্জুরুল হক ভূঁইয়া।

এই ‘নগদ ছিনতাই’ মামলার দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও টাকার একটি বড় অংশ উদ্ধারে মনিরামপুর থানার ওসি মো. বাবলুর রহমান খান নেতৃত্ব দেন। অভিযানে অংশ নেন ডিবির এসআই রাজেশ কুমার, কামাল হোসেন, মাইদুল ইসলাম রাজীব ও বিপ্লব সরকার।

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

ফেনীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪০ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি ও ওষুধ জব্দ

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১:১৬ পিএম
ফেনীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪০ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি ও ওষুধ জব্দ

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে প্রায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি ও ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। এ সময় চোরাকারবারিদের ফেলে যাওয়া একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

শনিবার (১১ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ফুলগাজী থানা পুলিশের পরিচালিত বিশেষ অভিযানে উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নের হাসানপুর চৌধুরী বাড়ি জামে মসজিদ সংলগ্ন পাকা সড়কে এ অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা একটি সাদা রঙের পিকআপ ভ্যান ফেলে পালিয়ে যায়। পরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা পিকআপ ভ্যানটি তল্লাশি করে ২২টি চটের বস্তা উদ্ধার করা হয়।

জব্দ করা মালামালের মধ্যে ২১টি বস্তায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৯৬০টি ভারতীয় শাড়ি এবং একটি বস্তায় Lidocaine Topical Aerosol BP-এর ৪২০টি স্প্রে পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে নেত্রকোনা-ন ১১-০০৭৪ নম্বরের একটি সাদা পিকআপ ভ্যান এবং ফেনী-ল ১২-৬২৩২ নম্বরের একটি সুজুকি জিক্সার এসএফ মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা মালামাল ও যানবাহন থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জামানতের টাকা জমা, দালালকে ৫ হাজার, ১৯ বার অফিসে ঘুরেও মেলেনি বিদ্যুতের মিটার!

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:২২ পিএম
জামানতের টাকা জমা, দালালকে ৫ হাজার, ১৯ বার অফিসে ঘুরেও মেলেনি বিদ্যুতের মিটার!

কুমিল্লার মুরাদনগরে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য সরকারি ফি ও জামানতের টাকা জমা দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে মিটার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, দ্রুত সংযোগ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে পল্লী বিদ্যুতের এক কথিত দালালকে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। তিন বছর ধরে দফায় দফায় অফিসে ঘুরেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

জামানতের টাকা জমার আড়াই বছরেও বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, ১৯ বার অফিসে ঘুরেও মিলেনি সমাধান

ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. আবুল কালাম আজাদ, পিতা- মৃত রোশন আলী। তার বাড়ি গ্রাম ও ডাকঘর: কাজিয়াতল, উপজেলা: মুরাদনগর, জেলা: কুমিল্লা।

প্রাপ্ত নথিপত্রে দেখা যায়, কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতায় নতুন আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করেন আবুল কালাম আজাদ। আবেদন অনুমোদনের পর ৩১ মার্চ ২০২৪ তারিখে ১ হাজার ৯২০ টাকা কনজ্যুমার ডিপোজিট (জামানত) জমা দেন। রসিদে অ্যাকাউন্ট নম্বর 22510 এবং সিরিয়াল নম্বর 11042003220 উল্লেখ রয়েছে।

কিন্তু অভিযোগ, সরকারি নিয়মে জামানতের টাকা পরিশোধের পরও আজ পর্যন্ত বিদ্যুতের মিটার বা সংযোগ পাননি তিনি।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “মিটার পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে পল্লী বিদ্যুতের দালাল সালামের কাছে প্রায় তিন বছর আগে ৫ হাজার টাকা দিয়েছি। এরপরও কোনো কাজ হয়নি। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯ বার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়েছি। প্রতিবারই আজ-কাল বলে ঘুরানো হয়েছে। কিন্তু আজও মিটার পেলাম না।”

তার দাবি, বারবার অফিসে গিয়ে সময়, শ্রম ও যাতায়াত খরচ নষ্ট হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো সন্তোষজনক জবাব মেলেনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রাহকদের কাছ থেকে সরকারি টাকা গ্রহণের পর বছরের পর বছর সংযোগ না দেওয়া এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য পল্লী বিদ্যুতের সেবার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর মুরাদনগর সাব-জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. আনিসুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং গ্রাহকের সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) প্রকৌশলী মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। গ্রাহক যাতে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে।”

ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দালালচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, জমা দেওয়া অর্থের যথাযথ মূল্যায়ন এবং অবিলম্বে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষকের ওপর হামলার অভিযোগ

কালিগঞ্জে কৃষককে পিটিয়ে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ, হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৩:২২ পিএম
কালিগঞ্জে কৃষককে পিটিয়ে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ, হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নে এক কৃষককে পিটিয়ে ও বেধড়ক মারধরের পর মৃত ভেবে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার দেবাড়িয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত কৃষক শফিকুল ইসলাম দেবাড়িয়া গ্রামের রশিদ গাজীর ছেলে। তার পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের মেহেদী হাসান, মাসুদ, ইমরান হোসেন, কাদের, মাহাবুবসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, এর আগে একই পক্ষ শফিকুল ইসলামের প্রায় আড়াই বিঘা মাছের ঘের দখল করে নেয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং বিভিন্ন সময় তাকে প্রাণনাশসহ নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭ (গ) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে তারা মুচলেকা দিয়ে জামিন লাভ করেন। এরপর থেকেই তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং কয়েক দিন আগে এক দফা মারধরের পর শনিবার আবারও হামলা চালানো হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

শফিকুল ইসলামের স্বজনদের দাবি, হামলাকারীরা তাকে বেধড়ক মারধর করে মৃত ভেবে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনও নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, খবর পেয়ে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় শফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরিবারের আরও অভিযোগ, হামলার সময় শফিকুলকে রক্ষা করতে গেলে তার বাবা রশিদ গাজী, মা ফাতেমা বেগম এবং চাচা মজিদকেও মারধর করা হয়।

এদিকে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মদদে হামলাকারীরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযুক্তদের একজন মাহাবুব মারধরের ঘটনার বিষয়ে বলেন, “একটু হাতাহাতি হয়েছে।”

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
CLOSE X