সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

৩৫ বছরের বিএনপি নেতার ‘হাইজ্যাকড’ পরিচয়! এনসিপির কমিটিতে নাম, রহিম বললেন ‘চক্রান্ত’

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫, ৬:৪৯ পিএম
৩৫ বছরের বিএনপি নেতার ‘হাইজ্যাকড’ পরিচয়! এনসিপির কমিটিতে নাম, রহিম বললেন ‘চক্রান্ত’
google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

বিতর্কিত নিয়োগ নিয়ে উত্তাল কুমিল্লা রাজনৈতিক অঙ্গন। ৩৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতি করা আবদুর রহিম ওরফে জুয়েলের নাম হঠাৎ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুমিল্লা জেলা সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে প্রকাশ করা হলে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে এনসিপির ফেসবুক পেজে ৩১ সদস্যের কমিটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে প্রশ্ন— বিএনপি নেতা কীভাবে এনসিপির নেতৃত্বে এলেন?

রাতে এ বিতর্কে ঘি ঢালেন জুয়েল নিজেই। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমি ৩৫ বছর ধরে বিএনপি করি, এই গুজবের কোনো ভিত্তি নেই। আমাকে বিতর্কিত করতেই এনসিপির নাম ব্যবহার করা হয়েছে।” এ নিয়ে কুমিল্লার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংগঠনের যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন (সিফাত) এনসিপির ফেসবুক পেজে এই কমিটি প্রকাশ করেন। এতে আখতার হোসেন ও হাসনাত আবদুল্লাহ স্বাক্ষর করেন। কমিটিতে আবদুর রহিমকে প্রধান সমন্বয়কারী করা হয় এবং ৫ জন যুগ্ম সমন্বয়কারীসহ মোট ৩১ জনকে রাখা হয়। তবে বিতর্ক শুরু হলে ওই রাতেই কমিটি ফেসবুক পেজ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।

বিতর্কিত নিয়োগ
বিতর্কিত নিয়োগ নিয়ে সমালোচনার মুখে ৩৫ বছরের বিএনপির রাজনীতিতে থাকা রহিম।

কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারীরা হলেন সৈয়দ আহসান (টিটু), শরীফুজ্জামান, মাজহারুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম সরকার ও ইব্রাহিম খালিদ হাসান। বাকি ২৫ জন সাধারণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান।

প্রাক্তন ছাত্রদল নেতা, যুবদল নেতা এবং বর্তমানে নাঙ্গলকোটে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় আবদুর রহিম বলেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টি একটি কিশোর-তরুণনির্ভর সংগঠন। আমার সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই তাঁরা কমিটিতে আমার নাম বসিয়েছে। আমি এ দলের কেউ নই। আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এ কৌশল নেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে জানতে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তবে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাফসা জাহান বলেন, “আবদুর রহিমের সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। তাঁর মতামতের ভিত্তিতেই তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এখন উল্টো কথা বলছেন।”

হাফসা আরও জানান, “তিনি (রহিম) মঙ্গলবার রাতেও আমাদের বলেছেন যে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। তাই কমিটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, রহিমের নাম ব্যবহার করে তাঁর ভবিষ্যৎ বিএনপি পদপ্রাপ্তির পথে কৌশলগত বাধা তৈরির চেষ্টা করা হতে পারে।

বিতর্কিত নিয়োগ নিয়ে সমালোচনার মুখে ৩৫ বছরের বিএনপির রাজনীতিতে থাকা রহিম শেষ পর্যন্ত সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমি আজীবন বিএনপিতেই থাকব, এনসিপির সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।”

প্রিয় নবী মন্তব্যে বিতর্ক

মন্ত্রীকে ‘প্রিয় নবী’ বলেই ভাইরাল বিএনপি নেতা খালেক

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:৪০ পিএম
মন্ত্রীকে ‘প্রিয় নবী’ বলেই ভাইরাল বিএনপি নেতা খালেক

‘প্রিয় নবী’ মন্তব্যে তোলপাড়, মন্ত্রীকে নিয়ে বক্তব্যে ভাইরাল ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক

ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক এম এ খালেকের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির এক অনুষ্ঠানে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে ‘প্রিয় নবী’ বলে উল্লেখ করার পর তার বক্তব্যটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাইরাল হয়।

শনিবার (৩১ মে) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে এম এ খালেক এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু আমার, আপনার, সবার প্রিয় নবী, প্রিয় মানুষ।”

তার এই বক্তব্যের পরপরই উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ফিসফাস ও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পরে বক্তব্যটির ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।

বক্তব্যটি নিয়ে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে আপত্তি জানিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলেছেন। কেউ কেউ এটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দায়িত্বহীন মন্তব্য বলে অভিহিত করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আলেম বলেন, “ইসলামে নবী-রাসুলদের মর্যাদা স্বতন্ত্র ও অনন্য। কোনো সাধারণ মানুষকে নবীর সঙ্গে তুলনা করা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের বক্তব্য পরিহার করা উচিত।”

এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির একাধিক নেতা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত বক্তব্যের দায় দল নেবে না। তারা মনে করেন, জনসম্মুখে দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক এম এ খালেক এর আগেও বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় এসেছেন। গত ১৬ এপ্রিল একটি বিদ্যালয়ের ক্রীড়া অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ভিআইপি প্রটোকল গ্রহণের ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এছাড়া অতীতেও তার কিছু বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

সর্বশেষ ‘প্রিয় নবী’ মন্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এম এ খালেকের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযানে উদ্ধার ইয়াবা ট্যাবলেট

দেবীদ্বারে ইয়াবাসহ আটক মাদক কারবারি, আদালতে প্রেরণ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার : প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ পিএম
দেবীদ্বারে ইয়াবাসহ আটক মাদক কারবারি, আদালতে প্রেরণ

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় ইয়াবা বিক্রির সময় এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৩১ মে) ভোর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবীদ্বার থানার এসআই বাধন দাসের নেতৃত্বে একটি দল উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের বরকামতা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ওই গ্রামের মনোরঞ্জন সিংহের ছেলে দিপক সিংহ (৩৯)কে আটক করা হয়।

অভিযানকালে তার কাছ থেকে ১৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আটক দিপক সিংহ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে রোববার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দিপক সিংহকে ইয়াবা ও মাদক বিক্রির টাকা সহ আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।”

সুযোগ বুঝে হাতিয়ে নিল ৪ লাখ টাকার মালামাল

দেবীদ্বারে ভাড়াটিয়া সেজে চুরির অভিযোগ, আদালতে পাঠানো হলো অভিযুক্তকে

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার : প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৪:৪৩ পিএম
দেবীদ্বারে ভাড়াটিয়া সেজে চুরির অভিযোগ, আদালতে পাঠানো হলো অভিযুক্তকে

ভাড়া নিয়ে বসবাস, সুযোগ বুঝে হাতিয়ে নিল ৪ লাখ টাকার মালামাল

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বেগমাবাদ গ্রামে ভাড়াটিয়া পরিচয়ে বাড়িতে অবস্থান করে মালিকের অনুপস্থিতির সুযোগে কয়েক প্রজন্মের ব্যবহৃত কাঁসা, পিতল ও অ্যালুমিনিয়ামের মূল্যবান তৈজসপত্র চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

আটক ব্যক্তি হলেন উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের ছংছাইল গ্রামের গৌরাঙ্গ সূত্রধরের ছেলে দিলিপ সূত্রধর (৩৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুর্গাপূজা উপলক্ষে দিলিপ সূত্রধরের সঙ্গে বেগমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা রতন সাহার পরিচয় হয়। রতন সাহা মূলত কুমিল্লা শহরে বসবাস করলেও তার গ্রামের বাড়িটি অধিকাংশ সময় তালাবদ্ধ থাকে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া তিনি সেখানে খুব কমই আসেন।

পরিচয়ের সূত্র ধরে দিলিপ সূত্রধর রতন সাহার কাছে নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া চান। তিনি জানান, জাফরগঞ্জ বাজারে কাঠের ব্যবসা পরিচালনার সুবিধার্থে ওই এলাকায় থাকার প্রয়োজন রয়েছে। বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং ভাড়াও পাওয়া যাবে—এমন চিন্তা থেকে রতন সাহা তাকে একটি কক্ষ ভাড়া দেন।

কিন্তু সম্প্রতি ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে এসে রতন সাহা দেখতে পান, তার ঘরে সংরক্ষিত কয়েক প্রজন্মের ব্যবহৃত পিতল, কাঁসা, অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী উধাও। তার দাবি, চুরি যাওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য চার লাখ টাকারও বেশি।

ঘটনার পর রতন সাহা বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় দিলিপ সূত্রধরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ শনিবার (৩০ মে) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে।

রোববার (৩১ মে) দুপুরে তাকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, “ভাড়াটিয়া পরিচয়ে বসবাস করে বাড়ির মালিকের অনুপস্থিতির সুযোগে পুরনো ঐতিহ্যবাহী কাঁসা ও পিতলের তৈজসপত্র চুরির অভিযোগে দিলিপ সূত্রধরকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

×