

ব্রি ধান-১০৩ কুমিল্লার আমনের মাঠ মাতিয়ে তুলেছে। তুলনামূলকভাবে বেশি ফলন, সুস্বাদু ও ঝরঝরে ভাত এবং লম্বা খড়—এই তিনটি বৈশিষ্ট্যের কারণে কৃষকদের মধ্যে এই ধানের প্রতি আগ্রহ বেড়েই চলেছে। গত বছর পুরো জেলায় যেখানে মাত্র ১১১ হেক্টর জমিতে এই ধান চাষ হয়েছিল, চলতি বছর তা হাজার হেক্টর ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। শুধু দেবীদ্বার উপজেলাতেই চাষ হচ্ছে প্রায় ৬০০ হেক্টরে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, যেখানে অন্যান্য জাতের ধানে হেক্টরপ্রতি ফলন হয় ৬ টন, সেখানে এ আমনের ফলন দিচ্ছে ৮ টনেরও বেশি। চাল চিকন, ঝরঝরে ভাত এবং খড়ের পরিমাণ বেশি হওয়ায় এই জাতটি কৃষকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে।
দেবীদ্বারের বাগমারা গ্রামের কৃষক আবদুল কাদের ৬০ শতক জমিতে এই জাতের ধান চাষ করে সফল হয়েছেন। এখন স্থানীয় কৃষকরা বীজের জন্য তার বাড়িতে ভিড় করছেন। পর্যাপ্ত বীজ না থাকায় ১০ কেজির স্থলে তিনি ৫ কেজি করে বিতরণ করছেন।
অন্যদিকে, কাবিলপুর গ্রামের রফিক আহমেদ বলেন, তিনি এক একর জমিতে চাষ করে পেয়েছেন দুই টনের বেশি ধান। মাত্র ১২৫ থেকে ১৩০ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তুলতে পারায় তিনি ধান কাটার পর অন্য ফসলও চাষ করছেন।

দেবীদ্বারে ৬০০ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে উচ্চফলনশীল ব্রি ধান-১০৩, কৃষকরা বলছেন—“ভাত ঝরঝরে, খড়ও বেশি”
দেবীদ্বার উপজেলা কৃষি অফিসার বানিন রায় জানান, ২ বছর আগে মাত্র ১০ কেজি বীজ নিয়ে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু হয়েছিল। এখন তা রূপ নিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং আঞ্চলিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট যৌথভাবে কৃষকদের মাঝে এই জাতটি ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করছে।
কুমিল্লা আঞ্চলিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান ড. মোহাম্মদ এখলাছুর রহমান বলেন, “কৃষকরা এখন আর শুধু ফলন নয়, চালের গুণমান, খড়ের পরিমাণ এবং চাষকাল বিবেচনায় নিচ্ছেন। এই বিবেচনায় তারা ব্রি জাতের এ আমন ধানকে বেছে নিচ্ছেন।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক আইউব মাহমুদ বলেন, “ধানের ভালো ফলনের পাশাপাশি খড়ের চাহিদাও রয়েছে কৃষকদের মধ্যে। এ শস্য সব দিক থেকেই লাভজনক হওয়ায় কৃষকেরা এটিকে গ্রহণ করছেন।”
ব্রি ধান-১০৩ এখন কুমিল্লার কৃষকদের স্বপ্নের ফসলে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে কুমিল্লার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।