

মুরাদনগরে সোনালি ধান ঘরে তোলা শুরু হয়েছে। চারপাশে পাকা আউশ ধানের মিষ্টি গন্ধ, মাঠে কৃষকের ব্যস্ততা, আর বাড়িতে নতুন ধান ওঠার আনন্দ—সব মিলিয়ে এখন এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

মুরাদনগরের মাঠে সোনার ফসল, ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষকেরা। ছবি : আজকের কথা।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বিভিন্ন খেতে খেতে কৃষকরা দিনভর ধান কাটছেন, কেউবা ধান মাড়াইয়ে ব্যস্ত, আবার অনেকে দল বেঁধে সেই ধান ঘরে তুলছেন। এ দৃশ্য এখন উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে দেখা যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর মুরাদনগরে আউশ ধানের চাষ হয়েছে ১১,৪৩৮ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫১,৪৫০ মেট্রিক টন। চাষ করা ধান জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রিধান ৪৮, ব্রি ধান ৮২, ৮৫, ৯৮, ব্রিধান ১০৬ এবং বিনা ধান ১৯। আউশ ধান মূলত বৃষ্টিনির্ভর ফসল। এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।
আকবপুর ইউনিয়নের কৃষক রুবেল বলেন, “আমি ১ বিঘা জমিতে ব্রি ধান ৯৮ চাষ করেছি। এবার পেয়েছি ১৮ মণ ধান—গতবারের চেয়ে অনেক বেশি। ফলন দেখে মনে হচ্ছে এবার সোনালী ধান সত্যিই সোনার মতোই দামি হবে।”
কৃষিবিদদের মতে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ, সময়মতো বৃষ্টিপাত, ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার এ বছর আউশে ভালো ফলনের মূল কারণ। এছাড়া সচেতন কৃষকরা সময়মতো পরিচর্যা করায় ক্ষেতের রোগবালাইও তুলনামূলক কম হয়েছে।
মুরাদনগরে সোনালি ধান ঘরে তোলা শুধু কৃষকের ঘর নয়, তাদের মনেও আশার আলো জাগাচ্ছে। বাম্পার ফলনে খরচ উঠিয়ে বাড়তি লাভের মুখ দেখবে বলেই প্রত্যাশা করছেন তারা।