1. nagorikit@gmail.com : Mohammad Shariful Alam Chowdhury :
  2. sharifulchowdhury81@gmail.com : administrator :
  3. : Temp User : Temp User
শসার রাজ্য: গোমতী চরের শসা চাষে দেবীদ্বারের কৃষিতে সবুজ বিপ্লব  
বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৬ অপরাহ্ন
  •                      
ব্রেকিং নিউজ:
নিষিদ্ধের দিনেই উল্টো স্রোত,ফেসবুকে বিক্ষোভের ঝড়, আ’লীগে যোগ দিয়ে শক্ত বার্তা হারুন আল রশিদের! কুমিল্লা মেডিকেলে শিশুদের ‘গাদাগাদি’—দেড় বছর ধরে তালাবদ্ধ পড়ে ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল! নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনা: মুরাদনগরের বাবা-ছেলেসহ তিনজনের মৃত্যু ভুয়া ওয়ারেন্টে সাংবাদিক আটক—১৮ ঘণ্টা পর আদালতে মুক্তি, দেবীদ্বারে তোলপাড়! ৪৫ হাজার টাকার চাকরি, ৫৯ কোটির সাম্রাজ্য—পাসপোর্ট কর্মকর্তার সম্পদে চাঞ্চল্য! ৩ মাসে ২৫০ আগুন: কুমিল্লায় ফায়ার স্টেশন সংকটে বাড়ছে কোটি টাকার ক্ষতি ইউনূস ও আসিফ নজরুল ইস্যুতে তোলপাড়—নাঈম নিজামের পোস্টে উত্তপ্ত সোশ্যাল মিডিয়া ১০ বছরেও বিচারহীন তনু হত্যা—অবশেষে ৩ সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ আদালতের সুদখোর ড. ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলো ইতালির উপকূলে ভয়াবহ নৌকাডুবি, ১০৫ আরোহীর মধ্যে নিখোঁজ অন্তত ৭১

গোমতী চরের ‘শসা রাজ্য’: দেবীদ্বারের কৃষিতে ফিরেছে সবুজ হাসি

মো. নেসার উদ্দিন
  • আপডেট করা হয়েছে শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫

শসার রাজ্য: গোমতী চরের শসা চাষে দেবীদ্বারের কৃষিতে সবুজ বিপ্লব

শসার রাজ্য—কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার গোমতী নদীর বিশাল চরে এখন জেগে উঠেছে এক অনন্য কৃষির বিস্ময়। শীতের শুরুতেই পলিমাটির উর্বর শক্তিতে ভর করে গড়ে ওঠে সবুজ শসার খেত। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বাজারেও এই চরের শসা পাঠানো হয়। দুই যুগের ঐতিহ্য আর অভিজ্ঞতায় গড়ে উঠেছে এই ‘শসা রাজ্য’, যা কৃষকদের মুখে এনেছে নতুন স্বপ্ন এবং হাসি।

চরের গ্রামগুলোতে শসা মৌসুম মানেই উৎসবের আবহ। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে মাঠে নামেন কৃষকেরা, আর নদীর সবুজ পাড়জুড়ে যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে তাদের শসাখেত। সূর্যের আলো পড়তেই ঝলমল করে ওঠে পাতার শিশির। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য যেন নতুন দিনের শুভেচ্ছা জানায় চরবাসীকে।

শসার রাজ্য

গোমতী চরের শসা চাষে দেবীদ্বারের কৃষিতে সবুজ বিপ্লব—ছবি : রাসেল সরকার

শুধু কৃষি নয়, শসা মৌসুমে আশপাশের মানুষদের জীবনেও সোনালি ছোঁয়া লাগে। পরিবহন শ্রমিক, বাজারের পাইকার, ক্ষেতের দিনমজুর—সবাই ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ফেরে নতুন প্রাণ।

দেবীদ্বারের বারেরাচর, খলিলপুর, হামলাবাড়ি, বালিবাড়ি ও আশানপুর—এই পাঁচটি গ্রাম গোমতী তীরবর্তী সবচেয়ে বিখ্যাত শসা উৎপাদন কেন্দ্র। একসময়ের পাট ও মিষ্টি আলুর জমিতে এখন শুধু শসার সবুজ সমারোহ। পুরোনো দিনের সেই গল্প আজ রূপ নিয়েছে নতুন প্রজন্মের স্থায়ী জীবিকা ও কৃষি ঐতিহ্যে।

চরে গেলে চোখে পড়ে সারি সারি শসার খেত। কেউ শসা তুলছেন, কেউ পরিচর্যা করছেন লতাগুল্ম, আবার কেউ ওজন করে পিকআপ ভ্যানে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নারী-পুরুষ সবাই সমানভাবে কাজ করেন। শসা মৌসুমে প্রতিটি পরিবারই যেন ছোট একটি কৃষি প্রতিষ্ঠান।

এই চরের শসার বৈশিষ্ট্য হলো বড় মাপ, টাটকা স্বাদ এবং উন্নতমান। এখানে সাধারণ শসার পাশাপাশি পাওয়া যায় বড় বীজ শসা; যেগুলোর ওজন অনেক সময় ৪–৫ কেজি পর্যন্ত হয়। চলতি মৌসুমে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০–৬০ টাকায়—যা কৃষকদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে।

বালিবাড়ির কৃষক গিয়াস উদ্দিন বলেন,
“আমাদের নদীর চরের শসা খুবই সুস্বাদু। তাই সারা দেশেই এখানকার শসার আলাদা চাহিদা রয়েছে।”

বারেরাচরের কৃষক আবুল হোসেন জানান,
“বাপ-দাদারা পাট আর আলু চাষ করতেন, লাভ কম হতো। এখন শসাই আমাদের জীবিকার প্রধান ভরসা।”

দেবীদ্বার উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এ টি এম রাশেদুজ্জামান সরকার বলেন,
“চরের পলিমাটি ও স্বাভাবিক উর্বরতা শসার গুণগত মান শতভাগ নিশ্চিত করে। তাই বাজারে এখানকার শসার বিশেষ কদর আছে।”

শসার রাজ্য আজ শুধু দেবীদ্বারের কৃষি সম্ভাবনার গল্প নয়; এটি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের সবুজ কৃষি ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক। নদীর চরকেন্দ্রিক এই শসা চাষ আগামী দিনগুলোতেও হাজারো কৃষকের জীবনে আলো ছড়াবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

শেয়ার করুন
আরো সংবাদ পড়ুন
 

কপিরাইট © [২০২৫] দৈনিক আজকের কথা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের সকল লেখা, ছবি ও অন্যান্য কনটেন্ট কপিরাইট আইনের আওতাভুক্ত। প্রকাশকের ছাড়া কোনো অংশ পুনঃপ্রকাশ, বিতরণ বা সংরক্ষণ করা আইনত দণ্ডনীয়।

যোগাযোগ   আমাদের সম্পর্কে   শর্তাবলি ও নীতিমালা