মোবাইল চুরির মিথ্যা অভিযোগে ৩ খুন: ইউপি চেয়ারম্যান ও বাছির অধরা

মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাহ ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও এখনও গ্রেফতার হয়নি। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ি গ্রামে ‘মব’ সৃষ্টির মাধ্যমে এক পরিবারের ৩ সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ইতোমধ্যে ইউপি মেম্বার বাচ্চু মিয়াকে গ্রেফতার করলেও পলাতক রয়েছেন চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাহ ও স্থানীয় ব্যবসায়ী বাছির মিয়া।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার আগের রাতে পরিকল্পনার বৈঠক হয় বাছির মিয়ার নেতৃত্বে। পরদিন সকালে বাড়ির সামনে শিমুল বিল্লাহ ও বাচ্চু মিয়া একত্র হয়ে হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। এরপর সকাল ৭টার দিকে তারা এলাকাবাসীকে উসকে দিয়ে রোকসানা আক্তার রুবির বাড়িতে হামলা চালান।

ঘটনার চার দিন পর পর্যন্তও প্রধান দুই আসামি শিমুল বিল্লাহ ও বাছির মিয়া অধরা থাকায় এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যদিও র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। র্যাবের তালিকাভুক্ত ছয় আসামির মধ্যে তিনজন এজহারভুক্ত এবং বাকিরাও ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
এদিকে মামলার বাদী নিহত রোকসানা আক্তারের বড় মেয়ে রিক্তা আক্তার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাহ, মেম্বার বাচ্চু ও বাছির মিয়া আমাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে প্রথমে মা রোকসানাকে, এরপর বোন জোনাকীকে এবং পরে ভাই রাসেলকে কুপিয়ে হত্যা করে। সবশেষে আমার ছোট বোন রুমাকেও মাথায় কোপানো হয়।”
শুক্রবার মামলার আগেই পুলিশ প্রথম দফায় দুইজনকে গ্রেফতার করে এবং শনিবার সকালে রাজধানীর বনশ্রী এলাকা থেকে বাকি ছয়জনকে গ্রেফতার করে র্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে তারা মোবাইল চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে।
আলোচিত মুরাদনগরের ট্রিপল মার্ডার মামলায় আদালতে হাজির করা গ্রেফতারদের মধ্যে বাচ্চু মিয়া স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে মূল পরিকল্পনাকারী ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাহ এখনও পলাতক। র্যাব জানিয়েছে, তাকে ও বাছির মিয়াকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।
মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার-এর ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মোবাইল চুরির মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের নেতৃত্বে তিনজনকে হত্যা, একটি পরিবারের ধ্বংস আর গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার এ ঘটনা দ্রুত বিচার দাবি করছে সাধারণ মানুষ।
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শ্রমিকদের ওপর বাস
বগুড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসের চাপায় ৭ শ্রমিক নিহত, আহত ১৫

বগুড়ার সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের ওপর উঠে গেলে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন—গাইবান্ধার আমিরুল, নূর আলম ও বেলাল এবং জয়পুরহাটের তাজমুল। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘাস কাটতে গিয়ে নিখোঁজ
কিশোরগঞ্জে মৎস্য খামার থেকে সাবেক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ বেরুয়াইল গ্রামে একটি মৎস্য খামার থেকে অনিক মিয়া (৩৫) নামে পুলিশের সাবেক এক সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত অনিক মিয়া ওই গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে পুলিশ বাহিনীর চাকরি ছেড়ে নিজ গ্রামে ফিরে মাছ চাষ শুরু করেন অনিক মিয়া। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি নিজের মৎস্য খামারের পাশে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান। কিন্তু সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খামারে গিয়ে গরুর জন্য কাটা ঘাস এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় খামারের পানিতে অনুসন্ধান চালানো হয়। একপর্যায়ে পানির নিচে ডুবে থাকা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
তাড়াইলে ব্যতিক্রমী চিত্র
তাড়াইলে দুই এইচএসসি কেন্দ্রে মাত্র ২ পরীক্ষার্থী, দায়িত্বে ৩৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় দুই এইচএসসি কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) অনুষ্ঠিত ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মাত্র দুইজন পরীক্ষার্থী। তবে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে ১৭ জন করে মোট ৩৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এতে দুটি কেন্দ্রেই দেখা যায় ব্যতিক্রমী চিত্র।
তাড়াইল মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০৫ জন। কিন্তু এদিন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন কেবল একজন পরীক্ষার্থী। তিনি হাজী মোমতাজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নীলগঞ্জের শিক্ষার্থী রাকিব মিয়া। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের মহিনন্দ এলাকায়।
এই কেন্দ্রে হল সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আনেয়ার হোসেন। এছাড়া ছিলেন দুইজন সহকারী হল সুপার, দুইজন কক্ষ পরিদর্শক, পাঁচজন সহায়ক কর্মচারী, তিনজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা আখতার এবং ট্যাগ অফিসার হিসেবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
অন্যদিকে তাড়াইল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও একই বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন মাত্র একজন পরীক্ষার্থী। তিনি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার দামসুর এলাকার বাসিন্দা প্রিয় রঞ্জন বর্মন। এ কেন্দ্রেও একজন পরীক্ষার্থীর জন্য ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।
পরীক্ষা চলাকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিসান আলী দুটি কেন্দ্র পরিদর্শন করে পরীক্ষা কার্যক্রম ও সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পরীক্ষার্থী সংখ্যা কম হলেও শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। নির্ধারিত বিধি অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।



















