যে শেখ হাসিনার ফাঁসি চেয়েছিল, তাকেই করা হলো শেখ হাসিনার আইনজীবী!
আইনজীবি আমিনুল গনি টিটুর অতীত ঘৃণা আর বর্তমান রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব যেন এক ভয়াবহ তামাশার প্রতিচ্ছবি। যিনি এক সময় খোলাখুলি লিখেছিলেন “শেখ হাসিনার ফাঁসি চাই”, তাকেই এবার শেখ হাসিনার রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল! এর মাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা, আইনের শাসন এবং সুস্থ বিচার প্রক্রিয়ার উপর।
আইনজীবি আমিনুল গনি টিটু, যিনি বিগত বছর ফেসবুকে লিখেছিলেন “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংসকারী, খুনী, মিথ্যেবাদী শেখ হাসিনার ফাঁসি চাই”—আজ তাকেই রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ নিতে। এই নিযুক্তি এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর আদেশে, যেখানে বিচারপতি মো. গোলাম মূর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বে একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) এই নির্দেশ দিয়েছেন।
টিটু শুধু শেখ হাসিনার নয়, ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত শাকিল আলম বুলবুলের পক্ষেও নিযুক্ত হয়েছেন। অথচ তার রাজনৈতিক অবস্থান এবং অতীত বক্তব্য তাকে এই দায়িত্বের জন্য সম্পূর্ণভাবে অনুপযুক্ত বলে বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন।

আদালতের পত্রিকায় দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল—আদালত অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে এবং তাদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ করা হবে। সেই মোতাবেক ‘অ্যামিকাস কিউরি’ হিসেবে এই নিযুক্তি করা হয়।
এই ট্রাইব্যুনালেই আলোচিত একটি অডিও—যেখানে বলা হয় “আমার বিরুদ্ধে ২২৭টি মামলা হয়েছে, তাই ২২৭ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি”—এই বক্তব্যের ফরেনসিক বিশ্লেষণে সিআইডি নিশ্চিত করে এটি শেখ হাসিনার কণ্ঠ। এ নিয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে শুনানি আহ্বান করা হয়। বারবার তলবের পরও অভিযুক্তরা হাজির না হওয়ায় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়, কিন্তু কেউ আসেননি।
এমন পরিস্থিতিতে একজন শেখ হাসিনাবিদ্বেষী আইনজীবীকে তার পক্ষের রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী নিযুক্ত করা ন্যূনতম নৈতিকতা ও পেশাগত গ্রহণযোগ্যতার পরিপন্থী।
আইনজীবি আমিনুল গনি টিটুর নিযুক্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। অনেকে বলছেন, “এটাই কি বিচার বিভাগীয় স্বচ্ছতা? যে মানুষ শেখ হাসিনার ফাঁসি চায়, তাকেই দিয়ে তার পক্ষে সাফাই গাইতে হবে?”—এ যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলায় বিচার নয়, রীতিমতো প্রহসন।
এটি একটি ভয়াবহ রাজনৈতিক তামাশা, যেখানে রাষ্ট্র নিজেই বিচার ব্যবস্থাকে জনগণের কাছে অবিশ্বস্ত করে তুলছে। ঘৃণাকারীকে পক্ষভুক্ত করায় বিচার নয়, প্রহসনের ছাপ স্পষ্ট।
মহাসড়কে হঠাৎ শক্তি প্রদর্শন
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আওয়ামী লীগের বিশাল শোডাউন, চাঙ্গা তৃণমূল
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, পুলিশের উপস্থিতিতেই ছত্রভঙ্গ নেতাকর্মীরা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার এলাকায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের আকস্মিক মিছিল ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (৩১ মে) সকাল ৭টার দিকে অনুষ্ঠিত এ মিছিলে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর থেকেই আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে সকাল ৭টার দিকে নিমসার ও কোরপাই এলাকায় মিছিল বের করেন তারা। মিছিল চলাকালে বিভিন্ন স্লোগানও দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
আয়োজকদের দাবি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এহেতাসামুল হাসান রুমির পৃষ্ঠপোষকতায় বুড়িচং উপজেলা যুবলীগ নেতা জালাল উদ্দিন মিছিলের আয়োজন করেন।
যুবলীগ নেতা জালাল উদ্দিন বলেন, “প্রায় এক হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিমসার বাজারের পশ্চিম পাশে শান্তিপূর্ণ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।”
এদিকে মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাসের মুন্সী বলেন, “আওয়ামী লীগ গোপনে মিছিল করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমাদের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন এবং উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রশাসন কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, সেটিও জানতে চাওয়া হবে।”
তবে পুলিশের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুর রহমান বলেন, “কোরপাই এলাকায় কিছু লোকজন জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা দ্রুত ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
মিছিলকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই গাছ উপড়ে মহাসড়কে, কুমিল্লা-সিলেট সড়কে ৩ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ
কোনো ধরনের ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই হঠাৎ একটি বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছ উপড়ে পড়ে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঈদ-পরবর্তী সময়ে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
রবিবার (৩১ মে) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে দেবীদ্বার থানার পশ্চিম পাশে মহাসড়কের ওপর গাছটি পড়ে গেলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবীদ্বার থানা মসজিদের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে থাকা একটি বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছ আকস্মিকভাবে সড়কের ওপর ভেঙে পড়ে। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চট্টগ্রামগামী একটি পণ্যবাহী লরির ওপর গাছের একটি অংশ পড়ে। তবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি এবং লরির চালক ও সহকারীরা অক্ষত থাকেন।
গাছটি পড়ে যাওয়ার ফলে দেবীদ্বার থানার পশ্চিম পাশের দেয়ালের একটি অংশ ধসে পড়ে। এছাড়া একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই মহাসড়কের দুই পাশে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, পিকআপসহ শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। বিশেষ করে কাঁচামাল পরিবহনকারী যানবাহন, নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
খবর পেয়ে মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল, দেবীদ্বার থানা পুলিশ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বেলা ১টার দিকে গাছটি কেটে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “কৃষ্ণচূড়া গাছটি আগের কয়েকটি ঝড়ের কারণে কিছুটা হেলে ছিল। রবিবার সকালে সেটি উপড়ে মহাসড়কের ওপর পড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতায় দ্রুত গাছটি অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। লরিটি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।”
স্থানীয়রা মহাসড়কের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ ও হেলে পড়া গাছগুলো দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ও জনভোগান্তি এড়ানো যায়।
হামলা মামলায় দুই ভাই আটক
মুরাদনগরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা মামলায় দুই সহোদর আটক
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল গ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের দফায় দফায় হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া অভিযোগের পর অভিযান চালিয়ে একই পরিবারের দুই সহোদরকে আটক করেছে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন, কাজিয়াতল গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে মো. জহির (২৮) ও তার আপন ছোট ভাই মো. সায়মন (২০)। তারা পূর্বে দায়ের করা দুইটি পৃথক অভিযোগের এজাহারভুক্ত আসামি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ও ২৯ মে কাজিয়াতল গ্রামে পূর্ব বিরোধ ও মোটরসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে সংঘটিত দফায় দফায় হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একই আসামিদের বিরুদ্ধে মুরাদনগর থানায় পৃথক দুইটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে লোহার রড, লাঠি, বাঁশ ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে বাড়িঘরে ভাঙচুর এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরদিনও একই পরিবারের সদস্যদের ওপর পুনরায় হামলার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করলে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার রাতে দুই সহোদর জহির ও সায়মনকে আটক করা হয়েছে।
মুরাদনগর থানার একটি সূত্র জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্যও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে অভিযুক্তদের আটকের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করলেও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা হামলার ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।















