“আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা: বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসানোর ইতিহাস কি আবারও পুনরাবৃত্তির পথে?”
আগরতলা মামলা: বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসানোর পাকিস্তানি ষড়যন্ত্রের ইতিহাস
আগরতলা মামলা পাকিস্তানি সামরিক শাসক আইউব খানের সবচেয়ে কৌশলী এবং ভয়াবহ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রগুলোর একটি, যার লক্ষ্য ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যেকোনোভাবে ফাঁসিয়ে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করা। ১৯৬৮ সালে ঘোষিত এই মামলার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি এস এ রহমানকে চেয়ারম্যান করে। শুরুতেই ঘোষণা ছিল—এই ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিলের সুযোগ থাকবে না। এতে স্পষ্ট হয় যে পুরো বিচারই ছিল পূর্বনির্ধারিত।
বাঙালিরা দ্রুতই বুঝে যায়, আগরতলা মামলা ছিল স্বাধীনতার সংগ্রাম থামানোর বিশেষ ষড়যন্ত্র। ঢাকার বর্তমান পুষ্টিবিজ্ঞান ভবন ছিল বিচারপতি এস এ রহমানের বাসভবন। মামলায় অন্যায় ও ভয়ানক উদ্দেশ্য দেখে ক্ষুব্ধ জনতা একদিন সেই বাড়িতে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে বিচারপতি রহমান ঘরোয়া পোশাকেই পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে তৎকালীন তেজগাঁও বিমানবন্দরে চলে যান এবং পাকিস্তানে ফিরে যান। আদালতের মর্যাদা, বিচারপতির সম্মান—সবই তখন ভেঙে পড়ে। পরিণতিতে মামলাও বাতিল হয়, আর আইউব খানের একদা অটল ক্ষমতাও ভেঙে পড়তে শুরু করে।
এই ইতিহাস আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায়। অনেকে দেখছেন, আজও একই ধরনের সাজানো নাটক, দোষারোপ, আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার প্রচেষ্টা দৃশ্যমান। প্রশ্ন উঠছে—যে শক্তিগুলো বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল, তাদের উত্তরসূরীরা কি আজও সক্রিয়? ইতিহাস বলছে, বাঙালি জাতি কখনোই ষড়যন্ত্রের কাছে স্থায়ীভাবে হার মানেনি।
আগরতলা মামলা আজও আমাদের শেখায়—নকশা যত বড়ই হোক, জনগণের শক্তির কাছে কোনো ষড়যন্ত্র টেকেনি, ভবিষ্যতেও টিকবে না।


















