উপদেষ্টা রিজওয়ানার বাসার সামনে ককটেল: নাশকতা, নাকি সাজানো নাটক—বিতর্ক ছড়াচ্ছে

ককটেল বিস্ফোরণ: উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের বাসার সামনে রহস্যজনক ঘটনা
রাজধানীর সেন্ট্রাল রোডে ঘটে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণ এখন উত্তপ্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বাসার সামনে রবিবার (১৬ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। বিস্ফোরণে কেউ হতাহত না হলেও ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান গণমাধ্যমকে বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান—অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা দ্রুত এসে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর কারওয়ানবাজার সার্ক ফোয়ারা মোড়ে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়—সেখানেও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
রায় ঘোষণার আগমুহূর্তে বিস্ফোরণের ধারা বাড়ছে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার রায় ঘোষিত হবে আগামীকাল সোমবার।
এই রায়কে ঘিরে রাজধানীতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন সময় হঠাৎ করে কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
নাশকতা নাকি নাটক—দুই ধরনের মতই ঘুরছে
গত সপ্তাহে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দেওয়া ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বাসে-ট্রেনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এসব ঘটনার দায় নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ উভয়ই একে অন্যকে অভিযুক্ত করলেও এখনো নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি।
সেন্ট্রাল রোডের ককটেল হামলাকে ঘিরেও উঠছে তিন ধরনের প্রশ্ন—
এটি কি বাস্তব নাশকতা?
নাকি কাউকে দায়ী করার জন্য সাজানো নাটক?
নাকি রায় ঘোষণার আগে অস্থিরতা তৈরি করার কৌশল?
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মত দেয়নি। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি বাড়ছে
এক রাতেই দুই স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন প্রশ্ন তুলেছে। নাগরিক ও বিশ্লেষকদের ধারণা—রায় ঘোষণার আগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে, তাই নিরাপত্তা বাহিনীকে বাড়তি সতর্ক হতে হবে।
আবদুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়
দেবীদ্বারে এসএসসি খাতা মূল্যায়নে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ব্যবহার, ভিডিও ভাইরাল

কুমিল্লার দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার বোর্ড খাতা মূল্যায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার (২৩ জুন) দিনভর এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- দেবীদ্বারের আবদুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি খাতা মূল্যায়নে শিক্ষার্থী ব্যবহারের অভিযোগ
- দশম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানকে দিয়ে খাতা মার্কিং করানোর অভিযোগ
- সহকারী প্রধান শিক্ষক বাচ্চু মিয়ার তত্ত্বাবধানে ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি
- ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক সমালোচনা
- স্থানীয়দের পক্ষ থেকে ইউএনও ও শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ
- উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিস তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে
ভিডিওতে দেখা যায়, কুমিল্লার দেবীদ্বার আবদুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানকে দিয়ে এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিষয়ের খাতা মার্কিং করানো হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও খাতা মূল্যায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বাচ্চু মিয়ার তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ এবং কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক উপস্থিত নেই।
তবে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা হলেও তারা কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি। আল আমিন নামে এক যুবক জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে মেহেদী হাসানকে খাতা মার্কিং করতে দেখা যায়। ওই সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে তার এক বন্ধু তাকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করে। ভিডিওতে শোনা যায়, “বাচ্চু স্যার তোকে দিয়ে বোর্ড খাতা মার্কিং করায়, ভালো করে দেখ।” জবাবে মেহেদী বলেন, “এটা একটা ছেলের লাইফ। আমি যে নম্বর দেই, সেটা বাচ্চু স্যার দিত না হলে।”
স্থানীয়দের দাবি, ভিডিওটি প্রায় এক সপ্তাহ আগের হলেও বিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় শরিফুল ইসলাম ও আলী আহাম্মদ স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় রোকনুজ্জামান খান বলেন, “বোর্ড পরীক্ষার খাতার মতো স্পর্শকাতর কাজে কোনো শিক্ষার্থীকে যুক্ত করা মোটেও উচিত নয়। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
এদিকে অভিযোগের অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, জেলা শিক্ষা অফিস, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, “বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ইউএনও’র সঙ্গে কথা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডও তদন্ত করবে। আমি নিজেও তদন্ত করব, তবে তদন্ত ছাড়া মন্তব্য করা ঠিক হবে না।”
দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, “স্থানীয়রা বিষয়টি তদন্তের জন্য আবেদন করেছেন। শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।”
রিমান্ড শেষে ফের কারাগারে
ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে শিবির নেতা দাউদকান্দির জিসান মিয়া

দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কুমিল্লার আদালতে হাজির করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাকে পুনরায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে কুমিল্লার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক তৈয়র উদ্দিন আহমেদ এ আদেশ দেন। এর আগে গত রোববার একই আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জিসান মিয়ার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জিসান মিয়াকে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ আরো তথ্য
- ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি জিসান মিয়া প্রধান।
- জিসান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি ছাত্রশিবিরের কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।
- আদালত সাত দিনের আবেদনের বিপরীতে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
- রিমান্ড শেষে তাকে পুনরায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
- মামলায় জিসানসহ মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
- ঘটনা প্রকাশের পর সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জিসান মিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের পরিবর্তে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই দিন বিকেলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
জিসান মিয়ার পক্ষে আইনজীবী মনির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তা এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শামসুল আলম শাহ তাকে আদালতে হাজির করেন। আদালত তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং সবকিছু স্বাভাবিক থাকায় তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়েছে। আদালত তাকে পুনরায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, এদিন ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে কিংবা আসামিপক্ষ থেকে নতুন কোনো আবেদন করা হয়নি। তবে গত রোববার আসামিপক্ষের করা জামিন আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেছিলেন।
মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলা ডিবি পুলিশের ওসি শামসুল আলম শাহ বলেন, আদালতের দেওয়া সময় অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় জিসান কী ধরনের তথ্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।
এর আগে গত ১৬ জুন একই আদালতের বিচারক জিসান মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি চার দিন ধরে পুলিশি পাহারায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে সুস্থ ঘোষণা করলে ১৬ জুন দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জিসান মিয়া প্রধান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে মামলার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার এক বিধবা নারী জিসান মিয়া প্রধানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিসানসহ মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে। অপর তিন আসামিও ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে জিসান মিয়ার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস ও প্রলোভন দেখিয়ে জিসান একাধিকবার ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এর ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানার পর জিসান মিয়া ওই নারীকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেন। একপর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে তার ভ্রূণ নষ্ট করা হয়। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান মিয়া বিষয়টি এড়িয়ে যেতে শুরু করেন এবং একসময় আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে শুরু থেকেই জিসান মিয়ার পরিবার দাবি করে আসছিল, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন। এ বিষয়ে তার স্বজনরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। পরিবারের দাবি ছিল, জিসান নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।
অন্যদিকে পুলিশ বলছে, তদন্তে অপহরণের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং বিয়ের চাপ এড়ানোর উদ্দেশ্যে জিসান নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে তাদের কাছে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন দাবি করে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডির পর জেলা পুলিশের একাধিক টিম তাকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এরপর ভ্রূণ নষ্ট করার বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, পরবর্তীতে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়ের আশ্বাস দেন। কিন্তু বিয়ের নির্ধারিত সময়ের আগের রাতেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এতে ঘটনাটি ভিন্ন মোড় নেয় এবং তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
পরে পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে ১২ জুন রাতে কুমিল্লার লাকসাম এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধার করে। একই রাতে ভুক্তভোগী নারী ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ডিজিটাল তথ্য এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ব্যাংকিং সেবা পৌঁছাবে আরও কাছে
জুড়ীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল সিটি ব্যাংকের নতুন শাখা

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো সিটি ব্যাংকের নতুন শাখা। উপজেলার শিশু পার্ক সংলগ্ন শরিফ কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় স্থাপিত এ শাখার কার্যক্রম সোমবার (২২ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা নতুন শাখার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের আধুনিক ব্যাংকিং সেবা আরও সহজলভ্য হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিটি ব্যাংকের সিলেট বিভাগীয় প্রধান শাহ হাসান, সিলেট আম্বরখানা শাখার ম্যানেজার সারোয়ার আহমেদ ফেরদৌস, মৌলভীবাজার শাখার ম্যানেজার মামুন রহমান, কুলাউড়া শাখার ম্যানেজার মামুন আলী এবং বড়লেখা শাখার ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জুড়ী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি জুড়ী উপজেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ও হাকালুকি নিউজের সম্পাদক এম এম সামছুল ইসলাম, জুড়ী কামিনীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়িক কল্যাণ সমিতির সভাপতি নূরুল আম্বিয়া এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিশনের জুড়ী উপজেলা সদস্য কাজী আমজাদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ও উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সিটি ব্যাংক জুড়ী শাখার ম্যানেজার শুভ্র দাস শুভ। তিনি বলেন, গ্রাহকদের জন্য দ্রুত, নিরাপদ ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে জুড়ী শাখা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে।






















