আপিলে পরাজয় জামায়াতের—কুমিল্লা-৩ আসনে বহাল কায়কোবাদের মনোনয়ন
দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপির অভিযোগ খারিজ, ইসির রায়ে স্বস্তিতে বিএনপি
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইউসুফ সোহেলের করা আপিল নামঞ্জুর করে সোমবার দুপুরে এ সিদ্ধান্ত দেয় কমিশন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিশনের শুনানিতে উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক ও নথিপত্র অধিকতর পর্যালোচনার পর এই রায় ঘোষণা করা হয়।
শুনানিতে আপিলকারী পক্ষ কায়কোবাদের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ, ব্যাংক ঋণ খেলাপি থাকা, হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন এবং নির্ভরশীলদের তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ তোলে। তারা দাবি করে, কায়কোবাদ তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলেও তা গোপন করেছেন।
অন্যদিকে কায়কোবাদের পক্ষে শুনানিতে আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন করে নির্বাচন কমিশনকে জানান, কায়কোবাদ ইতোমধ্যেই তুরস্কের নাগরিকত্ব বাতিল করেছেন এবং ব্যাংক রেকর্ড অনুযায়ী তিনি ঋণ খেলাপি নন। তিনি আরও জানান, নির্ভরশীলদের তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়; এটি ঐচ্ছিক বিষয়।
দীর্ঘ শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে আপিল খারিজ করে দেয় এবং কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।
রায় ঘোষণার পর ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, “সব নথিপত্র পর্যালোচনা ও যুক্তি-তর্ক শুনে নির্বাচন কমিশন ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত দিয়েছে। কায়কোবাদের মনোনয়ন সম্পূর্ণ বৈধ।”
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে কায়কোবাদ বলেন,
“মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল আজগুবি ও গায়েবি অভিযোগ খারিজ করে নির্বাচন কমিশন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “কুমিল্লা-৩ আসনের জনগণের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে মুরাদনগরের মানুষ সকল ষড়যন্ত্রের উপযুক্ত জবাব দেবে।”
২২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯০৫ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৮১৭ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৮ জন। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৫৯টি এবং ভোটকক্ষ ৯৩৩টি।
কায়কোবাদের মনোনয়ন বহাল থাকায় মুরাদনগরজুড়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উল্লাস ও আনন্দ বিরাজ করছে। অপরদিকে মনোনয়ন বাতিলের আশায় সক্রিয় থাকা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইউসুফ সোহেল ও সংশ্লিষ্ট শিবিরে হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কায়কোবাদের মনোনয়ন বাতিল হলে একটি পক্ষ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেত বলে আলোচনা ছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে সেই সমীকরণ বদলে গেছে। যদিও এ আসনে মোট নয়জন প্রার্থী থাকলেও ভোটের মাঠে কার্যত প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই কায়কোবাদকে দেখছেন স্থানীয়রা।






















