কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজকে দুইটি বাস দেওয়ার ঘোষণা মন্ত্রী সুমনের

কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের জন্য দুইটি বাস দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন।
শুক্রবার (১৫ মে) সকাল ১১টায় কলেজের জিয়া অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান-২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী বলেন, “কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের জন্য সরকারিভাবে দুইটি বাস দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তা সম্ভব না হলে মরহুম আবু তাহের ফাউন্ডেশন থেকে বাস দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “গত ১৫ বছরে যে উন্নয়ন হয়নি, আমাদের সরকারের সময়ে ইনশাআল্লাহ সর্বোচ্চ উন্নয়ন করা হবে।” একইসঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে দক্ষ, যোগ্য ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. শাহ আলম, উদবাতুল বারী আবু, আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম এবং আমিরুজ্জামান আমিরসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর মো. আব্দুল বারী ভূঞা।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতে প্রতিবছরের মতো এবারও এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
প্রশ্নপত্র অদলবদলে বিশৃঙ্খলা
ভুল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা, ফুলছড়ি কেন্দ্রে তীব্র ক্ষোভ; তদন্তের আশ্বাস


ভুল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা, গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র অদলবদলের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের অনিয়মিতদের এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের নিয়মিতদের প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়।
- নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র অদলবদল করে এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা নেওয়া হয়।
- পরীক্ষার সময় অভিযোগ জানালেও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বলা হয় বলে অভিযোগ।
- ঘটনা জানাজানি হলে কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
- শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের ক্ষতি হবে না বলে জানিয়েছে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।
- ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে শিক্ষা বিভাগ।
পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় কেন্দ্রের ১০৭ ও ১০৯ নম্বর কক্ষে এ অনিয়ম ঘটে। পরীক্ষা চলাকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিষয়টি জানালেও তাদের পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বলা হয়। পরীক্ষা শেষে অন্য কক্ষের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার পর প্রশ্নপত্র অদলবদলের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
১০৭ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দেওয়া একাধিক নিয়মিত শিক্ষার্থী জানান, প্রায় ৬০ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী ২০২৫ সালের সিলেবাসভিত্তিক অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। অন্যদিকে ১০৯ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দেওয়া অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের হাতে ২০২৬ সালের বৃহত্তর সিলেবাস অনুযায়ী নিয়মিতদের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। ফলে অনেকেই নির্ধারিত সিলেবাসের বাইরে প্রশ্নের উত্তর লিখতে বাধ্য হয়েছেন।
নিয়মিত পরীক্ষার্থী মারুফা আক্তার বলেন, পরীক্ষার সময়ই তারা বিষয়টি শিক্ষকদের জানালেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। পরে অন্যদের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেই ভুলটি নিশ্চিত হওয়া যায়। একই অভিযোগ করেন ওই কক্ষের পরীক্ষার্থী শিমু আক্তার, হিরা আক্তারসহ আরও অনেকে।
অনিয়মিত পরীক্ষার্থী আব্দুল আহাদ ও আদহাম বুলখী বলেন, ভুল প্রশ্নপত্র পাওয়ায় তাদের পরীক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ফলাফল নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন, দায়িত্বহীনতার কারণে তাদের সন্তানদের একটি শিক্ষাবর্ষ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা দাবি করেন।
ঘটনার বিষয়ে কেন্দ্র সচিব ও ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এস. এম. আসাদুল ইসলাম বলেন, যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্নপত্র অনুযায়ীই মূল্যায়ন করা হবে। শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে।
বোর্ড জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে কতজন পরীক্ষার্থী এ সমস্যায় পড়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জানাতে পারেননি।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পর কেন্দ্র সচিবকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো পরীক্ষার্থীর যেন ক্ষতি না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
ঘটনা জানাজানি হলে কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফুলছড়ি ফাঁড়ি পুলিশের সদস্যরা সেখানে অবস্থান নেন।
ফুলছড়ি ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ মশিউর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুলিশ প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করছে।
গাইবান্ধা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পৃথক কক্ষে বসানো এবং প্রশ্নপত্র বিতরণের আগে যথাযথভাবে যাচাই করা কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সেই নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে মোট ২৯৬ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর মামলা
প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণের অভিযোগে নন্দীগ্রামে মাদ্রাসা সুপার গ্রেপ্তার

বগুড়ার নন্দীগ্রামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে গছাইল হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট বাকি বিল্লাহ (৫১)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর চাচাতো দুলাভাই হওয়ায় ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
- বগুড়ার নন্দীগ্রামে শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট গ্রেপ্তার।
- অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর চাচাতো দুলাভাই হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
- চিকিৎসা পরীক্ষায় ভুক্তভোগী প্রায় ১৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়।
- আদালতের নির্দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করে পুলিশ অভিযান চালায়।
- গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের গছাইল গ্রামের বাসিন্দা বাকি বিল্লাহ স্থানীয় গছাইল হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট হিসেবে কর্মরত। কর্মস্থল ভুক্তভোগীর বাড়ির পাশেই হওয়ায় তিনি নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়িতে একা থাকা ২৬ বছর বয়সী শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে নিজ কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তিনি।
ঘটনার পর বিষয়টি গোপন থাকলেও পরে তরুণীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়।
গত ৬ জুন একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে চিকিৎসক জানান, ওই তরুণী প্রায় ১৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।
এরপর ভুক্তভোগীর বাবা বগুড়ার আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে নন্দীগ্রাম থানায় মামলাটি রুজু করা হয়।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাকি বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ।
ঘটনার পর একজন মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
মুরাদনগরে ১ হাজার কোটি টাকার মামলায় সাংবাদিক আরিফ গ্রেপ্তার: ২৪ ঘণ্টাতেও আদালতে না তোলায় বিতর্ক

কুমিল্লার মুরাদনগরে ১ হাজার কোটি টাকার মামলায় সাংবাদিক আরিফের গ্রেপ্তার নিয়ে চলছে নাটকিয়তা।বিএনপি নেতার দায়ের করা এক মানহানির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিক মাহবুব আলম আরিফকে গ্রেপ্তারের প্রায় ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও আদালতে উপস্থাপন না করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, তাকে অযথা থানায় আটকে রেখে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদের হাইলাইট
- গ্রেপ্তারের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও সাংবাদিক মাহবুব আলম আরিফকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ।
- ধর্ষণ মামলার সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতার দায়ের করা ১ হাজার কোটি টাকার মানহানি মামলায় গ্রেপ্তার হন তিনি।
- আদালতে পাঠাতে বিলম্বের কারণ জানতে সাংবাদিকদের একাধিক ফোনকলের জবাব দেননি বলে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ।
- ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে উদ্বেগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা।
- স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি উঠেছে।
জানা গেছে, বুধবার বিকেলে উপজেলার গাইঢুলি এলাকা থেকে মুরাদনগর থানা পুলিশ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে মাহবুব আলম আরিফকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ জুন প্রকাশিত একটি সংবাদে ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি ফজর আলীকে বিএনপি নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ সংবাদকে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর দাবি করে মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া সাংবাদিক মাহবুব আলম আরিফের বিরুদ্ধে এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেন। আদালত সমন জারি করার পর পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
মামলায় বাদীর দাবি, ধর্ষণ মামলার আসামি ফজর আলী বিএনপির কেউ নন; তিনি আওয়ামী লীগের কর্মী। সংবাদে তাকে বিএনপি নেতা হিসেবে উল্লেখ করায় দল এবং তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে গ্রেপ্তারের পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে উপস্থাপন না করায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিলম্বের মাধ্যমে সাংবাদিককে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হয়রানির মুখে ফেলা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারি কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
গ্রেপ্তারের পর মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আদালতের পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি যে একজন সাংবাদিক, সেটি আগে তাদের জানা ছিল না। তবে পরদিন আদালতে পাঠাতে বিলম্বের কারণ জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ওসি ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার উচিত গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া। এ বিষয়ে নীরবতা জনমনে বিভ্রান্তি ও সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে বলে তাদের দাবি।
অন্যদিকে, একজন উপজেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতার পক্ষ থেকে এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়েরের ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অনেকেই এত বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণের দাবির যৌক্তিকতা ও আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।


















