মোবাইলে উত্তর খোঁজার অভিযোগ
পরীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার, শিবির-সমর্থিত ডাকসু নেতা বহিষ্কার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের শিবির-সমর্থিত প্যানেলের নেতা মো. ফেরদাউস। ছবি : আজকের কথা
পরীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে উত্তর খোঁজার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী মো. ফেরদাউস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য এবং শিবির-সমর্থিত প্যানেলের নেতা বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. ফেরদাউস ১০৭ নম্বর কোর্সের রিটেক পরীক্ষায় অংশ নেন। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া পরীক্ষার একপর্যায়ে তিনি ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে হল থেকে বের হন। পরে বিভাগের করিডরে একই বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সোহরাবের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন নেন বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই মোবাইল ফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহার করে পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় দায়িত্বরত শিক্ষকরা তাকে আটক করেন। পরে মোবাইল ফোনের সার্চ হিস্ট্রি পরীক্ষা করে দেখা যায়, পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো হুবহু অনুসন্ধান করা হয়েছে।
নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করেন। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী মো. ফেরদাউস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচনে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদে শিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হন। হলের ভেতরেও তিনি প্রভাবশালী ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই একজন নির্বাচিত ছাত্রনেতার এমন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে সহায়তার অভিযোগে অন্য শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন অনেকে।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মো. ফেরদাউসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কঠোর অবস্থান শিক্ষাঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
ইউএনও বদলির খবরে মুরাদনগরে আনন্দ, স্বস্তির বাতাস

মাত্র পাঁচ মাসেই বদলি, ‘হাফ ছেড়ে বাঁচলেন’ অনেকে; নতুন ইউএনওকে ঘিরে প্রত্যাশা
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.বি.এম. সারওয়ার রাব্বীর বদলির খবরে স্থানীয়দের একটি অংশের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও আনন্দ। মাত্র প্রায় পাঁচ মাস দায়িত্ব পালনের পর তাঁর বদলির খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। অনেকেই বলছেন, “অবশেষে বদলি হলো”—এমন প্রতিক্রিয়াও শোনা যাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সম্প্রতি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে মুরাদনগরের ইউএনও এ.বি.এম. সারওয়ার রাব্বীকে বদলি করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ প্রকাশ্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ নতুন ইউএনওর কাছে নতুন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।

বদলির খবর শুনে সত্যিই ভালো লেগেছে। মনে হচ্ছে মুরাদনগরের মানুষ একটু স্বস্তি পাবে। এখন এমন একজন ইউএনও চাই, যিনি কোনো পক্ষের হয়ে নয়—সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করবেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্ব পালনকালে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে অবৈধ ড্রেজার, ইটভাটা ও বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ইউএনওর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের কেউ কেউ আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে সবসময় প্রত্যাশিত স্বচ্ছতা ও সমন্বয় দেখা যায়নি। ফলে বদলির খবরকে তারা প্রশাসনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন।
এদিকে ইউএনওর বদলির খবরে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ প্রকাশের খবরও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া গেছে। তবে এর সঙ্গে কারা কী উদ্দেশ্যে যুক্ত ছিলেন, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন ইউএনও দায়িত্ব গ্রহণের পর মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও জোরদার হবে। অবৈধ ড্রেজার, ইটভাটা, সরকারি রাস্তা দখল কিংবা অন্য যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।
তাদের ভাষ্য, কোনো কর্মকর্তা কতদিন দায়িত্ব পালন করলেন সেটিই বড় বিষয় নয়; বরং সাধারণ মানুষ তাঁর কাছ থেকে কতটা ন্যায়সংগত ও নিরপেক্ষ সেবা পেলেন—সেটিই হওয়া উচিত প্রশাসনের সাফল্যের মাপকাঠি।
মুরাদনগরবাসীর এখন অপেক্ষা—নতুন ইউএনও কে আসছেন এবং তাঁর হাত ধরে উপজেলা প্রশাসনে সত্যিই কি পরিবর্তনের নতুন বার্তা আসে।
দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারবিরোধী অভিযান: ৫ ড্রেজার ও ১,৩০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট

কুমিল্লার দেবীদ্বারে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি ড্রেজার ও ১ হাজার ৩০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট করেছে উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে দেবীদ্বার থানা পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

অবৈধ ড্রেজারবিরোধী অভিযানে ৫টি ড্রেজার ও ১ হাজার ৩০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট করা হয়েছে। কৃষিজমি, পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় অবৈধভাবে মাটি কাটা এবং ড্রেজার ব্যবহারের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফসলি জমি নষ্ট করে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে সুলতানপুর ইউনিয়নের বক্রিকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি ড্রেজার ও ৫০০ ফুট পাইপ, রামের দিঘির পাড় এলাকায় দুটি ড্রেজার ও ৩০০ ফুট পাইপ এবং কুরছাপ এলাকায় একটি ড্রেজার ও ৫০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট করা হয়।
অভিযানে মোট পাঁচটি ড্রেজার ও ১ হাজার ৩০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষিজমি রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রবণতা বন্ধে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
দেবীদ্বারে ইয়াবাসহ যুবক আটক, পুলিশের কাছে সোপর্দ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে মো. শিপন মিয়া (৪৯) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ তার কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করেছে।
শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সাবেরপুকুরপাড় গ্রামের আবুল হাসেমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আটক শিপন মিয়া ওই গ্রামের মৃত আবুল হাসেমের ছেলে।

স্থানীয়রা মো. শিপন মিয়াকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার দেহ তল্লাশি করে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ তাকে আটক করে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করে শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে শিপন মিয়া ইয়াবা বিক্রি করছেন—এমন খবর পেয়ে কয়েকজন স্থানীয় তাকে আটক করেন। এ সময় তাকে মারধর করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে রাত্রিকালীন টহলে থাকা দেবীদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বাঁধন চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
পুলিশ জানায়, পরে শিপন মিয়ার দেহ তল্লাশি করে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
























