বিজয়নগরে র্যাবের অভিযানে উদ্ধার
গৃহ শিক্ষকের খপ্পর থেকে নবম শ্রেণির ছাত্রী উদ্ধার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত

র্যাবের অভিযানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উদ্ধার হওয়া অপহৃত স্কুলছাত্রী ও গ্রেপ্তার গৃহশিক্ষক। ছবি : আজকের কথা
Oplus_16908288
সিলেটের মোগলাবাজার এলাকা থেকে এক গৃহ শিক্ষকের খপ্পর থেকে অপহৃত নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯। এ ঘটনায় অভিযুক্ত গৃহশিক্ষক অন্তর খাঁনকে (২৫) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব-৯ সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া কিশোরী সিলেটের মোগলাবাজার থানার নবারুন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ২১ মে সকালে বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে পরে মোগলাবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, মেয়েটির গৃহশিক্ষক অন্তর খাঁন প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে স্থানীয় কলাবাগান বাজার এলাকা থেকে নিয়ে যান। পরে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মোগলাবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর র্যাব-৯ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। তদন্তের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে র্যাব-৯-এর সদর কোম্পানি, সিলেট এবং সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যৌথ দল বিজয়নগর উপজেলার চর ইসলামপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে মামলার একমাত্র আসামি অন্তর খাঁনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত অন্তর খাঁনের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার এড়ালিয়া পাড়া এলাকায়।
র্যাব জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ছাত্রী এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯ আরও জানায়, নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
মুরাদনগরে বিএনপির মিছিলের পর ছাত্রলীগের পাল্টা মিছিল, আটক ১৩

থানার সামনে গিয়ে ছত্রভঙ্গ, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
কুমিল্লার মুরাদনগরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলের প্রায় তিন ঘণ্টা পর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পাল্টা মিছিলের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মিছিলটি মুরাদনগর থানা গেটের সামনে পৌঁছালে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মুরাদনগর সদরে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আটক ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নোয়াকান্দি গ্রামের হাসান ভূঁইয়া (১৮), সাইফুল ইসলাম (১৮), তানজিদ (১৮), হানিফ ভূঁইয়া (১৯), মহিনুল ইসলাম (১৮), হৃদয় ভূঁইয়া (১৪), মাসুদ (১৪), ইয়াছিন (১৬), চৌধুরীকান্দি গ্রামের শাহেদ (১৮), আতিক (১৮), ভুবনঘর মধ্যপাড়ার আসিফ (১৮), মোচাগড়া গ্রামের মোবারক (১৯) ও মুরাদনগর কলেজপাড়ার তানভীর হোসেন (১৪)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নৈরাজ্য, নাশকতা ও অপতৎপরতার প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর মুরাদনগর সদরের ডি.আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। পরে সেখান থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মুরাদনগর থানা গেটের সামনে পৌঁছালে পুলিশ ধাওয়া দেয়। এতে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং বিভিন্ন স্থান থেকে ১৩ জনকে আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ সময় মিছিলে থাকা আরও প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন পালিয়ে যান। তবে মুরাদনগর থানা পুলিশের ভাষ্য, মিছিল করার উদ্দেশ্যে ডি.আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হওয়ার পরই তাদের আটক করা হয়।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বজ্রপাত ঠেকাতে কুমিল্লায় ৫ হাজার তালবীজ, মাঠে লাল সবুজের স্বেচ্ছাসেবীরা

শিক্ষার্থীদের হাতে তালবীজ, সড়কের পাশে রোপণ
বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কুমিল্লায় ৫ হাজার তালবীজ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের উদ্যোগে চলতি সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) লালমাই উপজেলার দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বজ্রপাত বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পরে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর হাতে তালবীজ তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় এসব বীজ রোপণ করবে।
এরপর পশ্চিম নোয়াগাঁও, দৌলতপুর ও পূর্ব নোয়াগাঁও আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এতে সংগঠনের অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন।

বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি কমাতে শুধু সচেতনতা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সারাদেশে তালবীজ রোপণ করা গেলে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহা. তফাজ্জল হোসেন মজুমদার ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. খালেদ সাইফুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সংগঠনের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মারুফ, কুমিল্লা মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম রিফাত, অর্থ সম্পাদক আকিব হাসান, প্রচার সম্পাদক সালমান সাজিলসহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, কর্মসূচির প্রথম দিনেই ১ হাজার তালবীজ সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ এবং বিভিন্ন সড়কের পাশে রোপণ করা হয়েছে। পুরো সেপ্টেম্বর মাসে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলার আঞ্চলিক সড়কের পাশে পর্যায়ক্রমে মোট ৫ হাজার তালবীজ রোপণ করা হবে।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বজ্রপাতের সময় করণীয়, নিরাপদে থাকার উপায় এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা হবে।
লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল বলেন, ২০১১ সাল থেকে তারা বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো ও পরিবেশ রক্ষায় তালবীজ রোপণ করে আসছেন। গত ১৫ বছরে সারাদেশে অন্তত ৭০ হাজার তালবীজ রোপণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এবার কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় আরও ৫ হাজার তালবীজ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই উদ্যোগ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন।
কাওসার আলম সোহেল আরও বলেন, বজ্রপাতে প্রাণ হারানো মানুষের বড় একটি অংশ সমাজের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর। তাই বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কতা এবং ধারাবাহিক প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ প্রয়োজন।
তার মতে, সরকারি উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তালবীজ রোপণ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করা গেলে অল্প সময়ের মধ্যে সারাদেশে ব্যাপকভাবে তালগাছের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব। এর মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হতে পারে।
অপ্রতিমের পর দেশজুড়ে আতঙ্ক
এবার দেবীদ্বারে নিখোঁজ স্কুলছাত্র, মিলছে না সন্ধান

স্কুলে যাওয়ার পথে উধাও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী, দেবীদ্বারে উৎকণ্ঠা
সারাদিন নিখোঁজ, রাতে থানায় জিডি
কুমিল্লার দেবীদ্বারে স্কুলে যাওয়ার পথে শাহরিয়ার নাফিজ (১৫) নামে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ি থেকে স্কুলের উদ্দেশে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে রাতে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
নিখোঁজ শাহরিয়ার নাফিজ দেবীদ্বার উপজেলার সুবিল ফতেহাবাদ ইউনিয়নের বুড়িপাড়া গ্রামের প্রবাসী মো. সুমন মিয়ার ছেলে। সে কুমিল্লার ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

সোমবার সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হওয়ার পর নাফিজ আর বাড়িতে ফেরেনি। আত্মীয়-স্বজনের বাসাসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেছি, কিন্তু তার সন্ধান পাইনি। রাত ১২টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। আমার ভাগিনা খুবই মেধাবী ছাত্র। তার সন্ধান পেলে আমাদের জানাবেন।
নাফিজের মামা মো. নজরুল ইসলাম বাপ্পি জানান, সোমবার সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় নাফিজ। এরপর সারাদিন পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
তিনি বলেন, পরে রাত ১২টার দিকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। নাফিজের সন্ধানে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাফিজ অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। তার সন্ধান পাওয়া গেলে ০১৬১১০০৬০৮০ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে নাফিজের সন্ধান চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন ব্যক্তি পোস্ট দিয়েছেন। কুমিল্লা আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া ও দেবীদ্বার উপজেলার ৪ নং সুবিল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারন সম্পাদক সোহেল নেয়ামতও নাফিজের সন্ধান চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন।
নাফিজের নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তাকে দ্রুত খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সবার সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার।


























