চরফ্যাশন দুই ভাই হত্যা মামলার রায়: তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, দুইজন পলাতক

চরফ্যাশন দুই ভাই হত্যা
চরফ্যাশন দুই ভাই হত্যা, ২০২১ সালের নির্মম হত্যাকাণ্ডের রায়ে ন্যায়বিচার পেল পরিবার, বেলাল ও সালাউদ্দিন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে
চরফ্যাশন দুই ভাই হত্যা মামলার রায়ে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে ভোলার চরফ্যাশন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শওকত হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন– চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের মো. বেল্লাল, চরমানিকা ইউনিয়নের মো. সালাউদ্দিন এবং মো. শরীফুল ইসলাম।

চরফ্যাশন আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট হযরত আলী হিরন রায়টি নিশ্চিত করে জানান, দুই ভাই খুনের বিচারের রায়ে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। তবে তিন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মধ্যে মো. শরীফুল ইসলাম ছাড়া বেলাল ও সালাউদ্দিন এখনো পলাতক।
তিনি আরও জানান, ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল রাতে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত দুই ভাই– তপন চন্দ্র শীল ও দুলাল চন্দ্র শীল – ভারত থেকে দেশে ফিরেছিলেন তাদের জমির বাকি টাকা আদায়ের জন্য। তারা চরফ্যাশন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত পৈতৃক ৫৬ শতাংশ জমি ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছিলেন বেলাল ও তার শ্বশুর আবু মাঝির কাছে। কিন্তু দলিল হয়েছিল মাত্র ৩ লাখ টাকা দিয়ে।
Triple Murder in Muradnagar: Victim Families Forced to Flee Due to Asif Mahmud’s Father’s Influence
বাকি টাকা ফেরত চাওয়ায় প্রতিশোধপরায়ণ বেলাল একটি ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করেন। ৮ এপ্রিল রাতে দুই ভাইকে ডেকে নিয়ে আসলামপুরের একটি নির্জন বাগানে গলাকেটে হত্যা করা হয় এবং পরে মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
চরফ্যাশন জমি নিয়ে হত্যাকাণ্ডের মামলার রায়ে আদালতের এ রায় স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ও ন্যায়বিচারের আশ্বাস জাগিয়েছে। তবে দুই আসামি এখনও পলাতক থাকায় সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর দায়িত্ব আরও বেড়েছে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
ডোবায় ভাসল যুবদল নেতার লাশ
কবিরহাটে যুবদল নেতা আজাদকে হত্যা, লাশ গুমের চেষ্টা

ডোবায় ভাসল মরদেহ, গলায় দড়ি-চোখে আঘাতের চিহ্ন
নোয়াখালীর কবিরহাটে যুবদল নেতা আজাদ হোসেন (৩৪)কে গভীর রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার পর মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের বোন লাভলী বেগম বাদী হয়ে কবিরহাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) দায়ের করা মামলাটির নম্বর-৪। এতে দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা), ২০১ (আলামত বিনষ্ট ও লাশ গুমের চেষ্টা) এবং ৩৪ (পরস্পর যোগসাজশ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় দুজনকে এজাহারভুক্ত এবং আরও ৩ থেকে ৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে কবিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ঘোষবাগ গ্রামের নিজ বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে আজাদের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের গলায় দড়ি প্যাঁচানো এবং চোখের ওপর গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এসব আলামত থেকে প্রাথমিকভাবে তাঁকে শ্বাসরোধ ও নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
নিহত আজাদ হোসেন দক্ষিণ ঘোষবাগ গ্রামের মৃত ফজল হকের ছেলে। তিনি কবিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লাবঘর এলাকায় ব্যবসা করতেন।
রাতে ডেকে নেওয়ার পর নিখোঁজ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে একদল লোক আজাদকে তাঁর বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। সারারাত ও পরদিন সকাল পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাঁর সন্ধান পাননি।
পরে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশের ডোবায় আজাদের মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আজাদের চাচাতো ভাই ফারুক (৪০) ও নিজাম (৩৬) তাঁকে রাতে ডেকে নিয়ে যান। পূর্বশত্রুতা কিংবা স্থানীয় কোনো বিরোধের জেরে তাঁরা আজাদকে হত্যা করে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ডোবায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ স্বজনদের।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দুই ভাই এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের বা তাঁদের পরিবারের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাদকবিরোধিতা নাকি রাজনৈতিক বিরোধ?
তদন্তসংশ্লিষ্টরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, মাদক সেবনে বাধা দেওয়া কিংবা স্থানীয় কোনো আড্ডাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরেও হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে। তবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষয়টিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য গোলাম মোমিত ফয়সাল বলেন,
“আজাদ শুধু একজন ব্যবসায়ী ছিলেন না, তিনি যুবদলের একজন সক্রিয় ও ত্যাগী নেতা ছিলেন। রাজনৈতিক কারণে অতীতেও একাধিকবার তাঁর ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছিল। আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী ও ঘাতকদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
পুলিশের অভিযান
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কবিরহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মরদেহের গলায় দড়ি প্যাঁচানো এবং চোখে আঘাতের আলামত পাওয়া গেছে। নিহতের বোনের দায়ের করা হত্যা মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে। দ্রুতই আসামিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বর্ষীয়ান মুক্তিযোদ্ধার প্রয়াণে শোক
কোটালীপাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী লুৎফর রহমানের মৃত্যু

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সফল কমান্ডার এবং কোটালীপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী লুৎফর রহমান শেখ আর নেই।
শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে (২টা ৩০ মিনিট) কোটালীপাড়া পৌরসভায় অবস্থিত নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, চার মেয়ে, আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে হাজী লুৎফর রহমান শেখ সাহসিকতার সঙ্গে সম্মুখসমরে অংশ নেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।
দীর্ঘদিন তিনি কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি কোটালীপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও মানুষের পাশে থাকার কারণে স্থানীয়ভাবে তিনি ছিলেন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তি।
তাঁর মৃত্যুতে কোটালীপাড়াজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় শিক্ষক সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শোকবার্তায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে হাজী লুৎফর রহমান শেখের অবদান এবং স্বাধীনতার পর সমাজ গঠনে তাঁর ভূমিকা কোটালীপাড়ার মানুষ দীর্ঘদিন স্মরণ করবে। তাঁর মতো একজন বর্ষীয়ান মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজহিতৈষী ব্যক্তির শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।
“১০ বছরেও মিলেনি তনুর বিচার”
তনু হত্যা মামলায় ফের গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর

আদালতের নির্দেশ অমান্য, কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে আটক
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে ফের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
শনিবার (৮ আগস্ট) পিবিআইয়ের এক বার্তায় জানানো হয়, ঢাকার কেরানীগঞ্জে তাঁর নিজ বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করায় এবং একই আদেশে তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ থাকায় পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থাটি। তাঁকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ হাফিজুর রহমানকে জামিন দেন। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের ওই জামিনাদেশে রাষ্ট্রপক্ষ সংক্ষুব্ধ হয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে। বৃহস্পতিবার আপিল আদালত হাফিজুর রহমানের জামিন বাতিল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় আদালতের নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হলেও হাফিজুর রহমান আত্মসমর্পণ করেননি। এর কয়েক ঘণ্টা পরই পিবিআই তাঁকে ফের গ্রেপ্তার করে।
এপ্রিলেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন হাফিজুর
তনু হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জে হাফিজুর রহমানের বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর মামলাটিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন তাঁকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পিবিআই। শুনানি শেষে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারের পর হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষা শেষে ডিএনএ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
যেভাবে তনু হত্যাকাণ্ড
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের একটি ঝোপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় পরদিন ২১ মার্চ তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচার নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।




















