ভাইরাল মহিষ গেল চিড়িয়াখানায়
কসাইখানা থেকে চিড়িয়াখানায় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’, শেষ পর্যন্ত হয়নি কোরবানি

বিরল প্রজাতির মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ © সংগৃহীত
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে ৭০০ কেজি ওজনের বিরল অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই মহিষটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক কৌতূহল, বিতর্ক ও উন্মাদনা। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের বিশেষ হস্তক্ষেপে কোরবানির পশুর হাট থেকে সরিয়ে নিয়ে মহিষটিকে ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। ফলে বহুল আলোচিত এই মহিষটির কোরবানি আর হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনায় বিরল প্রজাতির এই অ্যালবিনো মহিষটিকে বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় নেওয়া হয়। পরে যিনি মহিষটি কিনেছিলেন, তাকে পুরো অর্থ ফেরত দিয়ে প্রাণীটিকে সরকারি তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়।
ভাইরাল হওয়ার পরই বদলে যায় পরিস্থিতি
ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে বড় বড় গরু ও মহিষ নিয়ে আলোচনা থাকলেও সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে এই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। মূলত এর গায়ের অস্বাভাবিক সাদা-গোলাপি রঙ, সোনালি আভাযুক্ত লোম এবং মাথার সামনের অংশের বিশেষ চুলের স্টাইল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়ে পড়ে।
ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবে মহিষটির ভিডিও লাখ লাখ মানুষ দেখেন। কেউ একে “বাংলাদেশের ট্রাম্প মহিষ” বলছেন, আবার কেউ মজা করে লিখেছেন “হোয়াইট হাউসের আত্মীয়”। অনেকেই কৌতূহল নিয়ে মহিষটিকে দেখতে ভিড় করতে শুরু করেন।
প্রশাসনের আশঙ্কা ছিল, ঈদের দিন কোরবানির সময় মহিষটিকে ঘিরে অতিরিক্ত জনসমাগম ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। এছাড়া নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এসব বিবেচনায় কোরবানি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কেন নাম রাখা হয়েছিল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’?
জানা গেছে, মহিষটি নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার ‘রাবেয়া এগ্রো ফার্মে’ লালন-পালন করা হয়েছিল। খামারটির মালিক জানান, মহিষটির চেহারা ও মাথার সামনের অংশের সোনালি-সাদা চুলের স্টাইল অনেকটা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুলের স্টাইলের সঙ্গে মিল রয়েছে।
এই মিল থেকেই মজার ছলে প্রাণীটির নাম রাখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। পরে সেই নামই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। একপর্যায়ে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এই মহিষ।
বিরল অ্যালবিনো প্রজাতি
প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালবিনো প্রাণী খুবই বিরল। জেনেটিক কারণে শরীরে স্বাভাবিক রঞ্জক পদার্থের ঘাটতি থাকায় এ ধরনের প্রাণীর গায়ের রঙ সাদা বা গোলাপি আভাযুক্ত হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে অ্যালবিনো মহিষ খুব কম দেখা যায়। তাই প্রাণীটি শুধু কোরবানির পশু নয়, গবেষণা ও সংরক্ষণের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি সূত্র বলছে, মহিষটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা, খাদ্যাভ্যাস ও জেনেটিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণার পরিকল্পনা রয়েছে। এর বংশবৃদ্ধি সম্ভব হলে ভবিষ্যতে বিরল এই প্রজাতি সংরক্ষণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
চিড়িয়াখানায় এখন মূল আকর্ষণ
বর্তমানে মহিষটিকে ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানার বিশেষ শেডে রাখা হয়েছে। সেখানে নেওয়ার পর থেকেই দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এটি। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের মধ্যে মহিষটিকে নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল দেখা গেছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাণীটির জন্য বিশেষ খাদ্য ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পশু চিকিৎসকরা নিয়মিত এর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করছেন।
চিড়িয়াখানার এক কর্মকর্তা জানান, “এটি সাধারণ মহিষ নয়। এর জেনেটিক বৈশিষ্ট্য এবং অস্বাভাবিক রঙের কারণে আমরা বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছি।”
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোচনায়
বাংলাদেশের এই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ গণমাধ্যম বিষয়টিকে ব্যতিক্রমী ও রসাত্মক সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করেছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা Reuters তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ভাইরাল জনপ্রিয়তার কারণে বাংলাদেশে একটি মহিষ কোরবানি থেকে রক্ষা পেয়েছে। তারা মহিষটির শান্ত স্বভাব ও সোনালি লোমের বিষয়টিও তুলে ধরে।
The Guardian তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, “সোনালি চুলের বাংলাদেশি মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ কোরবানি থেকে রক্ষা পেয়েছে।” পত্রিকাটি উল্লেখ করে, বিরল এই মহিষটির নামই শেষ পর্যন্ত তার জীবন বাঁচিয়ে দিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম NBC News জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর প্রাণীটি নতুন জীবন পেয়েছে। তারা আরও উল্লেখ করেছে, অতীতেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ট্রাম্পের মতো দেখতে প্রাণী নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera তাদের ভিডিও প্রতিবেদনে মহিষটির চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরের পুরো বিষয়টি তুলে ধরে।
বিদেশি নেটিজেনদের রসিকতা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিদেশি ব্যবহারকারীরা বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের রসিক মন্তব্য করেছেন। কেউ লিখেছেন, “হোয়াইট হাউস থেকে কি বিশেষ অনুরোধ এসেছিল?” আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, “ট্রাম্প এখন চিড়িয়াখানায় নিরাপদে আছেন!”
অনেকে বিষয়টিকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঈদুল আজহার কোরবানির ঐতিহ্য এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক হাস্যরসের এক ব্যতিক্রমী সংমিশ্রণ হিসেবে দেখছেন।
খামারিদের মাঝেও আলোচনা
দেশের খামারিদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন পশুর বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
খামারিরা বলছেন, আগে বড় গরু বা মহিষ শুধু ওজন ও দামের কারণে আলোচনায় আসত। এখন ব্যতিক্রমী চেহারা, নাম কিংবা ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কারণেও একটি পশু জাতীয় আলোচনায় উঠে আসতে পারে।
কোরবানির পশু থেকে ‘তারকা প্রাণী’
একটি সাধারণ খামারের মহিষ থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসা ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন যেন এক ধরনের ‘তারকা প্রাণী’। কোরবানির পশু হিসেবে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি পরিণত হয়েছে সংরক্ষিত বিরল প্রাণীতে।
ঈদুল আজহার আগে এমন ঘটনা বাংলাদেশে খুব কমই দেখা গেছে। তাই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই ব্যতিক্রমী ঘটনাটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
সব ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিতের অঙ্গীকার
জন্মাষ্টমীর আয়োজনে কায়কোবাদ, ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তায় ঐক্যের ডাক

রাজধানীতে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সব সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা নিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।” তিনি দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সবার সমঅধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা তুলে ধরেন।

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।
ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্বকে সামনে আনেন। তাঁর উপস্থিতিতে জন্মাষ্টমীর এ আয়োজন বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। ধর্মীয় উৎসবগুলো যেন নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দুই স্বাস্থ্যকর্মীর হাতে সাড়ে ১০ হাজারের বেশি স্বাভাবিক প্রসব

নিরাপদ মাতৃত্বে আস্থার প্রতীক নাজমা-শিরিনা
কখনো গভীর রাতে, কখনো ভোরের আগে—প্রসববেদনায় কাতর মায়ের পাশে ছুটে যেতে হয়েছে তাঁদের। দীর্ঘদিনের দক্ষতা, আন্তরিকতা ও সেবার মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসবের ক্ষেত্রে তাঁরা হয়ে উঠেছেন আস্থা ও ভরসার নাম। তাঁদের তত্ত্বাবধানে পৃথিবীর আলো দেখেছে সাড়ে ১০ হাজারের বেশি শিশু।
এই দুই স্বাস্থ্যকর্মী হলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা নাজমা আক্তার এবং বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা শিরিনা চৌধুরী।
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নাজমা আক্তার গত ১২ বছরে প্রায় ৩ হাজার এবং শিরিনা চৌধুরী ৩৪ বছরে ৭ হাজার ৫৭৩টি স্বাভাবিক প্রসব করিয়েছেন।
নাজমার সুনাম ছড়িয়েছে আশপাশেও
নাজমা আক্তার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছয়ফুল্লাহকান্দি ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর চাকরিতে যোগ দেন তিনি। ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় মাসের মিডওয়াইফারি প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তাঁর দক্ষতা ও সুনাম আরও বাড়ে।
বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর ছাড়াও পাশের নবীনগর, নরসিংদী এবং কুমিল্লার হোমনা থেকেও প্রসূতিরা তাঁর কাছে আসেন।

স্বাস্থ্যকর্মী শিরিনা চৌধুরী ও নাজমা আক্তার স্বাভাবিক প্রসবে জেলায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁরা অসাধারণ কাজ করে যাচ্ছেন।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় ও দরিয়াদৌলত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত নাজমার তত্ত্বাবধানে ২ হাজার ৪৪১টি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই তিনি ২৮০টি প্রসবে সহায়তা করেছেন।
২০২২ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে টানা শ্রেষ্ঠ পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা হয়েছেন নাজমা। ২০২৪, ২০২৫ ও চলতি বছরেও তিনি জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন।
গত ১৬ জুন দরিয়াদৌলত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নাজমার কক্ষে রোগীর ভিড়। প্রসববেদনা নিয়ে পাশের কক্ষে অপেক্ষা করছিলেন এক প্রসূতি। আগের দিন বিকেল থেকে পরবর্তী ১৭ ঘণ্টায় পাঁচটি স্বাভাবিক প্রসবে সহায়তা করেন তিনি। এক দিনে সর্বোচ্চ ছয়টি প্রসব করানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। তাঁর তত্ত্বাবধানে এ পর্যন্ত ১৫ জোড়া যমজ শিশুর জন্ম হয়েছে।
নাজমা আক্তার বলেন, দীর্ঘ সময় কাজ করে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও সুস্থ নবজাতকের জন্মের পর সেই ক্লান্তি থাকে না। বর্তমানে তিনি প্রতি মাসে গড়ে ৪০ থেকে ৪৫টি স্বাভাবিক প্রসবে সহায়তা করেন। ২০১৯ সালের মিডওয়াইফারি প্রশিক্ষণের পর তাঁর দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি মানুষের আস্থাও বেড়েছে।
দরিয়াদৌলত গ্রামের আনসার আলী জানান, তাঁর এক নাতির জন্মও এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হয়েছে। নাজমার সুনাম এখন শুধু ইউনিয়ন নয়, পুরো উপজেলা ও আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
৩৪ বছরে শিরিনার ৭ হাজার ৫৭৩ প্রসব
বিজয়নগরের পাহাড়পুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে শিরিনা চৌধুরী ১৯৯২ সালের জুনে পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা হিসেবে যোগ দেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মাসে গড়ে ৮ থেকে ৯টি এবং ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ২৫ থেকে ৩০টি স্বাভাবিক প্রসব করিয়েছেন তিনি।
হিসাব অনুযায়ী, ৩৪ বছরে তাঁর তত্ত্বাবধানে ৭ হাজার ৫৭৩টি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এক মাসেই ৪৭টি প্রসব করিয়ে রেকর্ড গড়েন তিনি।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ২০১৯ সাল থেকে অনলাইনে প্রসবের তথ্য সংরক্ষণ করছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বিজয়নগরের ১০টি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে মোট ৫ হাজার ৫৫২টি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। এর মধ্যে শিরিনা একাই করিয়েছেন ২ হাজার ৪৩৯টি।
বর্তমানে উপজেলার চারটি কেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসব কার্যক্রম চালু রয়েছে। বাকি ছয়টি কেন্দ্রে প্রসব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
শিরিনা চৌধুরী বলেন, চাকরির শুরুর দিকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রসব করাতে হতো। পরে মানুষকে সচেতন করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রমুখী করা হয়। সেবার সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রসূতিদের আস্থাও বেড়েছে। দূরদূরান্ত থেকেও এখন অনেকে এখানে আসেন। অসংখ্য নির্ঘুম রাত পার হলেও সুস্থ নবজাতকের জন্মের মুহূর্তে সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
স্বাস্থ্যসেবায় অবদানের জন্য শিরিনা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একাধিকবার পুরস্কৃত হয়েছেন। ২০১০ সাল থেকে তিনি উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা এবং পাহাড়পুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রও শ্রেষ্ঠ হয়ে আসছে। ২০১৫ সালে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা এবং ২০১৮ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা পুরস্কার পান তিনি।
দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দুই স্বাস্থ্যকর্মী
জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্যকর্মী শিরিনা চৌধুরী ও নাজমা আক্তার স্বাভাবিক প্রসবে জেলায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁরা অসাধারণ কাজ করে যাচ্ছেন।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠন অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সাবেক সভাপতি রওশন আরা বেগম তাঁদের প্রশংসা করে বলেন, এই দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে সাধুবাদ ও স্যালুট জানানো উচিত। সারা দেশে স্বাভাবিক প্রসবের যে ধারা রয়েছে, তা অব্যাহত রাখার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
নাজমা আক্তার ও শিরিনা চৌধুরী জানান, কোনো প্রসূতির শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন মনে হলে তাঁরা দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত স্থানান্তরের সুবিধার্থে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখার পরামর্শও দেন তাঁরা।
দাউদকান্দির ইউএনওকে বদলি, এআই কণ্ঠে ‘নিউজ সরানোর’ দাবি—অখ্যাত পেজে অডিও, গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

বদলির পর ছড়ানো অডিও ঘিরে নতুন বিতর্ক
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরীন আক্তারকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে এ বদলি করা হলেও আদেশ জারির এক সপ্তাহ পরও তিনি দাউদকান্দি থেকে বিদায় নেননি।
গত ২৩ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. বর্মন হোসেন স্বাক্ষরিত আদেশে নাছরীন আক্তারকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়। আদেশে তাঁকে নিজ অধিক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারার অধীনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে জারিকৃত আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়।
তবে আদেশ জারির প্রায় এক সপ্তাহ পরও নাছরীন আক্তার দাউদকান্দিতে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে তাঁর সরকারি মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে বদলি ও এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন আলোচনার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (সাধারণ) সাইফুল ইসলাম বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ডিসি স্যার তাঁকে এ আদেশের বিষয়ে জানিয়েছেন। সরকারি চাকরিতে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া; মন্ত্রণালয় চাইলে যেকোনো কর্মকর্তাকে বদলি করতে পারে।
এদিকে ইউএনও নাছরীন আক্তারকে ঘিরে নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি অখ্যাত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ফেসবুক পেজে তাঁর কণ্ঠসদৃশ একটি অডিও ছড়িয়ে দিয়ে বিভিন্ন নিউজ সরিয়ে নেওয়ার দাবি করা হচ্ছে। তবে অডিওটি সত্যিই নাছরীন আক্তারের কণ্ঠ কি না, কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে কণ্ঠটি তৈরি বা পরিবর্তন করা হয়েছে কি না—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সরকারি চাকরিতে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মন্ত্রণালয় চাইলে যে কাউকেই বদলি করতে পারে।
অডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের কেউ কেউ এটিকে ইউএনও নাছরীন আক্তারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও গভীর ষড়যন্ত্র বলেও মন্তব্য করেছেন। বিশেষ করে বদলির খবর প্রকাশের পর এ ধরনের অডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এর আগে গত ২৩ জুলাই দাউদকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন ভেঙে মালামাল নিলামে না দিয়ে বিক্রি করার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। তবে ওই অভিযোগের সঙ্গে নাছরীন আক্তারের বর্তমান বদলির সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন তথ্য সরকারি আদেশে উল্লেখ নেই।
সরকারি কর্মকর্তার কণ্ঠসদৃশ কোনো অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটির সত্যতা যাচাই না করে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। ফলে অডিওটির উৎস, সত্যতা এবং এটি এআই-নির্মিত কি না—তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।































