মহাসড়কে জনতার ঢল
নিরাপত্তার বলয় ভেঙে কায়কোবাদের হাত ধরলেন তারেক, কুমিল্লার মহাসড়কে জনতার ঢল

কায়কোবাদের দেখেই গাড়ি থামালেন তারেক, আবেগে ভাসল ইলিয়টগঞ্জ
তারেক রহমানকে একনজর দেখতে কুমিল্লার মহাসড়কে নামে লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থক। জনতার ভালোবাসা আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেও গাড়িবহর থামিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের সঙ্গে করমর্দন ও কৌশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৬ মে) সকাল ১১টার দিকে দাউদকান্দি টোল প্লাজা অতিক্রম করে কুমিল্লায় প্রবেশ করেন তিনি। চাঁদপুরে খাল খনন ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানান।
সরেজমিনে দেখা যায়, মুরাদনগরের ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে কায়কোবাদের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এসময় যুবদল নেতা কামাল উদ্দিন পিন্টু, বিএনপি নেতা সৈয়দ আতিকুল্লাহ প্রিয়া, ছানু মিয়া মেম্বার, আবদুল করিম, শফিকুল ইসলাম মুন্সী, হানিফ মুন্সী, আরাফাত সামি ও অ্যাডভোকেট ইউসুফসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
হাজারো নেতাকর্মীর উচ্ছ্বাসে আপ্লুত হয়ে নিজের নিরাপত্তা প্রটোকল ভেঙে গাড়ি থামান তারেক রহমান। পরে গাড়ি থেকে নেমে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান এবং কায়কোবাদের সঙ্গে কৌশল বিনিময় করেন। মুহূর্তেই পুরো মহাসড়কজুড়ে শুরু হয় স্লোগান ও উচ্ছ্বাস।
এসময় তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখতে নেতাকর্মীরা তার বহনকারী বাস ঘিরে ফেলেন। মুরাদনগর থেকে ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি স্থানে নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে তাকে স্বাগত জানান।
পরে চান্দিনা, নিমসার ও আলেখারচর এলাকাতেও হাজার হাজার মানুষ মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। জনতার ভিড়ে কয়েক দফা ধীরগতিতে চলতে হয় গাড়িবহরকে।
দলীয় সূত্র জানায়, কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর মাঠে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।
কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে এবং শুভেচ্ছা জানাতে কুমিল্লার মহাসড়কে লাখো মানুষ অবস্থান নেয়। এমন জনসমাগম কুমিল্লায় বহুদিন দেখা যায়নি।”
এসময় জনতার পক্ষ থেকে “কুমিল্লা বিভাগ চাই” দাবি তোলা হলে হাসিমুখে সাড়া দেন তারেক রহমান। তার সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে উপস্থিত নেতাকর্মীরা। তারেক রহমানকে ঘিরে কুমিল্লাজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
থানায় অভিযোগ, আলোচনায় ফুটবল
বিশ্বকাপ ম্যাচ নিয়ে ক্ষোভ, ফিফা সভাপতি-রেফারির বিরুদ্ধে থানায় নোয়াখালীর তরুণ

বিশ্বকাপ ম্যাচ নিয়ে ক্ষোভ, অতপর: বিশ্বকাপ ফুটবলের একটি ম্যাচে রেফারিংয়ে পক্ষপাত ও ফলাফল প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নোয়াখালীর এক তরুণ। একই সঙ্গে তিনি পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।এক নজরে গুরুত্বপূর্ণতথ্য
অভিযোগকারী মো. রাকিব (২২) নোয়াখালী সদর উপজেলার মান্দারতলী গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার রাতে তিনি সুধারাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে উপস্থিত হন। তবে পুলিশ জানায়, আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার কর্মকর্তা বা বিদেশে সংঘটিত এমন ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় থানার কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই।
অভিযোগপত্রে রাকিব দাবি করেন, মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় করমুল্যা বাজারে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখার সময় তিনি রেফারিংয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত লক্ষ্য করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যাচে একটি দলকে ইচ্ছাকৃতভাবে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তাঁর সমর্থিত দল মিসর পরাজিত হয়েছে।
তিনি অভিযোগে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, ম্যাচ রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরসহ ১৫ থেকে ২০ জনকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। অভিযোগে বলা হয়, অন্যায্য পেনাল্টি প্রদান, বৈধ গোল বাতিল এবং একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ম্যাচের ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে। এর ফলে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর আবেগের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে এবং সমর্থকেরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
রাকিব অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ফিফার কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান, অভিযোগকারী থানায় এসেছিলেন। তবে বিষয়টি স্থানীয় পুলিশের এখতিয়ারের বাইরে হওয়ায় অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। তাঁকে প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মো. রাকিব বলেন, ম্যাচের পর থেকে তিনি ও তাঁর মতো অনেক সমর্থক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। থানায় মামলা না নেওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে মানববন্ধনসহ অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবেন বলেও জানান।
দুই পরিবারের করুণ মৃত্যু
লামায় পাহাড়ধসে শিশুসহ ৫ জন নিহত, টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে দুর্যোগের শঙ্কা

বান্দরবানের লামায় উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে লামায় পাহাড়ধসে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের পৃথক দুটি স্থানে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন।
এক নজরে লামায় পাহাড় ধসে যা ঘটেছে
- লামায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসে ৫ জন নিহত।
- নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ৩ সদস্য রয়েছেন।
- টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
- জেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
নিহতরা হলেন— আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়ার বাসিন্দা মো. ইউনুস (২৮), তার স্ত্রী রানু আক্তার (২২), তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান (৪), একই এলাকার মো. জুয়েল (৩৪) এবং তার স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫)।
স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়ায় বিভিন্ন স্থানে ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ভোরে আজিজনগর ইউনিয়নের পাগলাছড়া এলাকায় পাহাড় ধসে একটি বসতঘর মাটিচাপা পড়ে। এতে একই পরিবারের তিনজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
একই সময়ে কাছাকাছি আরেকটি স্থানে পাহাড়ধসে একটি বসতঘর বিধ্বস্ত হলে স্বামী-স্ত্রী নিহত হন। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, লামার আজিজনগর এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে টানা বর্ষণের কারণে লামাসহ বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে অনেক পরিবার আশ্রয় নিলেও, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকার অনেক বাসিন্দা এখনও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনীহা দেখাচ্ছেন।
অন্যদিকে, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং মোবাইল নেটওয়ার্কও বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনকে বাড়তি সতর্ক অবস্থানে থাকতে হচ্ছে।
গেজেট প্রকাশ, কার্যক্রম শুরু
মুরাদনগর ভেঙে নতুন ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা, সদর দপ্তর খামারগ্রামে

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা গঠন করেছে সরকার। খামারগ্রামে সদর দপ্তর, অনুমোদন পেয়েছে ২৪টি সরকারি দপ্তর ও ২৩৮ জন জনবল।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গরা’ নামে নতুন একটি উপজেলা গঠন করেছে সরকার। নতুন উপজেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর নির্ধারণ করা হয়েছে বাঙ্গরা (পূর্ব) ইউনিয়নের খামারগ্রাম মৌজায়। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ গেজেটের বিশেষ অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস–সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভার সিদ্ধান্তের আলোকে নতুন উপজেলাটি গঠন করা হয়েছে।
১০ ইউনিয়ন নিয়ে বাঙ্গরা উপজেলা
নতুন বাঙ্গরা উপজেলা গঠিত হচ্ছে মুরাদনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে। ইউনিয়নগুলো হলো— শ্রীকাইল, আকুবপুর, আন্দিকোট, পূর্বধইর (পূর্ব), পূর্বধইর (পশ্চিম), বাঙ্গরা (পূর্ব), বাঙ্গরা (পশ্চিম), চাপিতলা, রামচন্দ্রপুর (উত্তর) এবং টনকী।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাঙ্গরা (পূর্ব) ইউনিয়নের খামারগ্রাম মৌজায় উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপন করা হবে। ফলে স্থানীয় জনগণ প্রশাসনিক সেবা আরও দ্রুত ও সহজভাবে পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
২৪ সরকারি দপ্তরের অনুমোদন
নতুন উপজেলায় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মোট ২৪টি সরকারি দপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা ভূমি অফিস, থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস, কৃষি অফিস, উপজেলা প্রকৌশল অফিস, শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২৩৮ জন জনবল নিয়োগ
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪০ জন কর্মকর্তা ও ১৯৮ জন কর্মচারীসহ মোট ২৩৮ জন জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয়) মোহাম্মদ খালেদ হাসান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে দ্রুত অফিস স্থাপন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং অনুমোদিত জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন বাঙ্গরা উপজেলা গঠনের মাধ্যমে মুরাদনগরের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের প্রশাসনিক সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



















