“যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত থেকে ধর্মমন্ত্রী: কায়কোবাদের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন”
“আলোচিত মামলা থেকে ক্ষমতার শিখরে: কায়কোবাদের রূপান্তর”
দীর্ঘ আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন পেরিয়ে অবশেষে মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ছয়বারের সংসদ সদস্য কায়কোবাদকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার এ নিয়োগে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনসহ জেলাজুড়ে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে।
গ্রেনেড হামলা মামলা থেকে খালাস : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় অভিযুক্ত হয়ে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রায়ে কায়কোবাদসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর আগে ২০০৯ সালে নতুন চার্জশিটে মোট ৫২ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
রায়ের পর তিনি দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করেন। ২০১৪ সালে থাইল্যান্ড এবং ২০১৫ সালে দুবাইয়ে যান। তবে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের আপিল বিভাগ কায়কোবাদসহ সব আসামিকে খালাস দেন। এরপর ৫ আগস্টের পর তিনি দেশে ফেরেন এবং সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন।
নির্বাচনে বিপুল জয় : ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে ১,৫৮,০৯৩ ভোট পান কায়কোবাদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইউসুফ সোহেল (দাঁড়িপাল্লা) পান ১,০৪,৫৮০ ভোট। ৫৩,৫১৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ আসনে মোট ভোটার ছিল ৫ লাখ ৭২৬ জন।
মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “কায়কোবাদ মুরাদনগরের মাটি ও মানুষের নেতা। তার মন্ত্রী হওয়া আমাদের জন্য গর্বের।”
রাজনৈতিক জীবন : ১৯৫৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার মুরাদনগরে জন্মগ্রহণ করেন কায়কোবাদ। তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২ মে ১৯৯০ থেকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ পর্যন্ত তিনি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৯ সালে জাতীয় সংসদের হুইপ এবং ১৯৯০ সালে ধর্ম বিষয়ক ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
১৯৯৬ সালে কুমিল্লা-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনকে পরাজিত করে পুনরায় সংসদ সদস্য হন। পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ২০০১ ও ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে তাকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়।
ধর্মমন্ত্রী হিসেবে নতুন অধ্যায় : ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় তাকে ধর্মমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি থেকে খালাস, তারপর বিপুল ভোটে জয় এবং অবশেষে মন্ত্রিত্ব—কায়কোবাদের এই প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


























