বাগেরহাটের দিঘি থেকে কক্সবাজারের সাফারি পার্কে, অনশন ভেঙে নতুন ঠিকানায় ধলাপাহাড়

বাগেরহাটের দিঘি থেকে কক্সবাজারের সাফারি পার্কে, অনশন ভেঙে নতুন ঠিকানায় ধলাপাহাড়। ছবি : আজকের কথা
বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে দীর্ঘদিনের আলোচিত কুমির ধলাপাহাড় এখন কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে। মাজারের দিঘি থেকে উদ্ধারের পর দীর্ঘ দুই মাস নয় দিন কোনো খাবার না খেয়ে থাকা কুমিরটি নতুন পরিবেশে গিয়ে অবশেষে খাবার গ্রহণ করেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে বন বিভাগের কর্মকর্তা ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।
গত ১২ আগস্ট বন অধিদপ্তরের বিশেষ অনুমোদনে ধলাপাহাড়কে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে স্থানান্তর করা হয়।

নতুন পরিবেশে খাবার গ্রহণ করায় ধলাপাহাড়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি ও স্বাভাবিক আচরণে ফেরার ইতিবাচক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী ধলাপাহাড়ের দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৭ থেকে ৮ ফুট এবং ওজন ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি। গত ৩ জুন বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘি থেকে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল।
উদ্ধারের পর থেকেই ধলাপাহাড়কে ঘিরে তৈরি হয় নতুন উদ্বেগ। দীর্ঘ সময় পার হলেও কুমিরটি কোনো খাবার গ্রহণ করছিল না। প্রায় দুই মাস নয় দিন খাবার না খাওয়ায় তার স্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। তবে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কুমির শীতল রক্তের প্রাণী হওয়ায় দীর্ঘ সময় খাবার ছাড়াই শরীরে সঞ্চিত শক্তি ব্যবহার করে বেঁচে থাকতে পারে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল জানান, দীর্ঘ সময় খাবার না খেলেও ধলাপাহাড়ের শারীরিক অবস্থার বড় ধরনের অবনতি হয়নি। পরিচিত পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং বন্দিদশার মানসিক চাপের কারণে কুমিরটি স্বাভাবিক আচরণ থেকে বিরত ছিল বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
জননিরাপত্তার প্রশ্নেই দিঘি ছাড়তে হয় ধলাপাহাড়কে
ধলাপাহাড়ের নতুন ঠিকানায় যাওয়ার পেছনে শুধু তার নিরাপদ আবাসনের বিষয় নয়, জড়িয়ে আছে মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নও।
গত ১ জুন খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে গোসল করতে নামা আট বছর বয়সী এক শিশুকে আক্রমণ করে হত্যা করে কুমিরটি। এর আগে একটি কুকুরকেও আক্রমণ করে মেরে ফেলার ঘটনা ঘটে। পরপর এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মাজারের দিঘিটি ধর্মীয় ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হওয়ায় সেখানে প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল রয়েছে। ফলে এমন একটি আক্রমণাত্মক কুমিরের উপস্থিতি স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে কুমিরটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জোরালো হওয়ার পর বন বিভাগ জননিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধলাপাহাড়কে উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়।
দীর্ঘ অনশনেও ভেঙে পড়েনি শারীরিক সক্ষমতা
খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকার সময় ধলাপাহাড়ের শারীরিক পরীক্ষা করেন চিকিৎসক ডা. জুলকারনাইন। পরীক্ষায় তার শারীরিক অবস্থায় উদ্বেগজনক কোনো অবনতি পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কুমিরের বিপাকক্রিয়া তুলনামূলক ধীর। ফলে শরীরে জমা চর্বি ও শক্তি ব্যবহার করে তারা দীর্ঘ সময় খাবার ছাড়াই টিকে থাকতে পারে। তবে দীর্ঘদিন খাবার না খাওয়ার পর নতুন পরিবেশে স্থানান্তরের ফলে প্রাণীটির আচরণ ও শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন ছিল।
নতুন ঠিকানায় গিয়েই খাবার খেল ধলাপাহাড়
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে পৌঁছানোর পর ধলাপাহাড়ের আচরণে দেখা দিয়েছে ইতিবাচক পরিবর্তন। পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল আলম জানান, নতুন পরিবেশে পৌঁছানোর পরদিনই কুমিরটি একটি জীবিত মুরগি খেয়েছে।
দীর্ঘ ২ মাস ৯ দিন খাবার না খাওয়ার পর ধলাপাহাড়ের এভাবে খাবার গ্রহণকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন পরিবেশের সঙ্গে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিতে শুরু করেছে কুমিরটি।
সাফারি পার্কের নিয়ম অনুযায়ী, কুমিরকে সপ্তাহে একদিন খাবার সরবরাহ করা হয়। নতুন পরিবেশে ধলাপাহাড়ের খাদ্যাভ্যাস ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী তার পরিচর্যা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
২০০৫ সালে ভারত থেকে আসা কুমিরদের শেষ জীবিত সদস্য
ধলাপাহাড়কে ঘিরে আরও একটি বিশেষ তথ্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালে ভারত থেকে আনা কুমিরগুলোর মধ্যে বর্তমানে ধলাপাহাড়ই একমাত্র জীবিত সদস্য।
এ কারণে সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ কুমিরটির প্রতি বিশেষ নজর রাখছে। তার বয়স, আকার এবং দীর্ঘদিনের ইতিহাস বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্য ও আচরণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে।
ধলাপাহাড়ের স্থানান্তর শুধু একটি বন্যপ্রাণীকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়ার ঘটনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান এবং সংঘাত নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
জনবসতি থেকে বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসনে
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক আবাসস্থল থেকে বিচ্যুত হয়ে কোনো বন্যপ্রাণী যখন জনবসতিতে চলে আসে, তখন একই সঙ্গে প্রাণী এবং মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়। ধলাপাহাড়ের ঘটনাও তার একটি বড় উদাহরণ।
একদিকে মাজারের দিঘিতে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি ছিল, অন্যদিকে কুমিরটির জীবনও রক্ষা করা প্রয়োজন ছিল। হত্যা বা নিধনের পরিবর্তে নিরাপদ পরিবেশে স্থানান্তরের মাধ্যমে উভয় দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে ধলাপাহাড় খাবার গ্রহণ করছে এবং নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তার এই পরিবর্তন বন বিভাগের উদ্যোগকে আশাব্যঞ্জক করে তুলেছে।
বাগেরহাটের একটি জনবহুল দিঘি থেকে শুরু করে কক্সবাজারের সাফারি পার্ক—ধলাপাহাড়ের এই দীর্ঘ যাত্রা এখন শুধু একটি কুমিরের গল্প নয়; এটি মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমিয়ে নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করারও একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।
নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।
কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”
২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।































