বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

দেবীদ্বারে তিন রোহিঙ্গাকে জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত, ২০ দিনেও ব্যবস্থা নেই

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫১ পিএম
দেবীদ্বারে তিন রোহিঙ্গাকে জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত, ২০ দিনেও ব্যবস্থা নেই

দেবীদ্বারে তিন রোহিঙ্গাকে জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত, ২০ দিনেও ব্যবস্থা নেই। ছবি : দৈনিক আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে অর্থের বিনিময়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তিন সদস্যকে অবৈধভাবে বাংলাদেশি নাগরিকের জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগ জেলা প্রশাসনের তদন্তে সত্যতা পেয়েছে।
  • তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ২০ দিন পার হলেও অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের বিরুদ্ধে এখনো কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
  • স্থানীয় বাসিন্দা শফিউল আলম গত ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. সালাহ উদ্দিন রুহুল এবং সাবেক ইউপি সচিব মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্রার জেনারেল, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে অর্থের বিনিময়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তিন সদস্যকে অবৈধভাবে বাংলাদেশি নাগরিকের জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগ জেলা প্রশাসনের তদন্তে সত্যতা পেয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ২০ দিন পার হলেও অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের বিরুদ্ধে এখনো কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শফিউল আলম গত ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. সালাহ উদ্দিন রুহুল এবং সাবেক ইউপি সচিব মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্রার জেনারেল, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করে জেলা প্রশাসনের তদন্ত দল। পরে গত ৬ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান মাসুদের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ইউপি সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন রুহুল।

দায়িত্ব পাওয়ার পর ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্য সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ, মুবিনা খাতুন ও হাফিছা নামের তিন ব্যক্তিকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ভিজিএফের চাল আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।

এদিকে, গত ২৯ জুলাই কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার (বিশেষ নজরদারি উইং) তদন্তেও ফতেহাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন রুহুল ও ইউপি সচিব মো. নজরুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

ওই প্রতিবেদনে জন্মনিবন্ধন জালিয়াতির ঘটনাকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জাতীয় অখণ্ডতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে সরকারি চাল আত্মসাৎ, উন্নয়নমূলক কাজে অনিয়ম এবং এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে।

এদিকে, সম্প্রতি সরেজমিন অনুসন্ধানে তিন রোহিঙ্গার জন্মনিবন্ধনের বাইরে আরও অন্তত ২৫ জন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যকে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে গণমাধ্যমের অনুসন্ধান। প্রতিটি জন্মনিবন্ধনের জন্য ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন রুহুলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এর আগে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেছিলেন, অভিযোগে উল্লেখ করা জন্মনিবন্ধনগুলো তার সময়ে তৈরি হয়নি। অভিযোগ দায়েরের আগে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানতেন না এবং কারা কীভাবে এসব জন্মনিবন্ধন করেছে, তাও তার জানা নেই।

অভিযুক্ত ইউপি সচিব মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ফতেহাবাদ ইউনিয়নে রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধনের বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না। আমি ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটিতে ছিলাম। এ সময় আমার পাসওয়ার্ডে উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া রাজীব কাজ করেছিলেন। মেম্বার-চেয়ারম্যানের অনুরোধে তাকে পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়েছিল।”

তবে ইউপি উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, “তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সচিব নজরুল ইসলাম নিজেই বলেছেন, উল্লিখিত ব্যক্তিরা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্য নন। তাহলে এখন অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে কী লাভ? তাছাড়া আমি কখনো নিবন্ধনের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করিনি।”

দৈনিক আজকের কথা
তিনটি জন্মনিবন্ধনের বিষয়ে আমরা একটি তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়েছি। জেলা প্রশাসক সেটি রেজিস্ট্রার জেনারেল (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন) কার্যালয়ে পাঠাবেন। রেজিস্ট্রার জেনারেল অধিকতর তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। অন্যান্য জন্মনিবন্ধনের বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে বলে শুনেছি, তবে এ বিষয়ে আমাদের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
— অশোক বিক্রম চাকমা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), দেবীদ্বার, কুমিল্লা।

জেলা প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগের পরিধি আরও বিস্তৃত হলে ফতেহাবাদ ইউনিয়নে জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রকৃত চিত্রও সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০২ পিএম
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব

গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

দৈনিক আজকের কথা
সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
— এ বি এম আতিকুর রহমান বাশার
সভাপতি, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।

সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।

২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা

মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।

কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।

নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।

কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৮ পিএম
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল

কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।

কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”

২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

দৈনিক আজকের কথা
যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
— কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া
যুগ্ম আহবায়ক- মুরাদনগর উপজেলা বিএনপি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।

এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।

তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

×
ENG