শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আসামিরা কি জাদু জানে?

কাতার-সৌদিতে থেকেও দেবীদ্বারের মিছিলে! ‘গায়েবী’ ভিডিও ফুটেজে প্রবাসীদের নামে পুলিশের সন্ত্রাস বিরোধী মামলা

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৮ পিএম
কাতার-সৌদিতে থেকেও দেবীদ্বারে মিছিলে! 'গায়েবী' ভিডিও ফুটেজে প্রবাসীদের নাম সন্ত্রাস বিরোধী মামলায়

কাতার-সৌদিতে থেকেও দেবীদ্বারে মিছিলে! 'গায়েবী' ভিডিও ফুটেজে প্রবাসীদের নাম সন্ত্রাস বিরোধী মামলায়। ছবির গ্রাফিতি : দৈনিক আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • দেবীদ্বারে প্রবাসীদের জড়িয়ে পুলিশের ‘অদ্ভুত’ মামলা কাতার-সৌদিতে অবস্থানরত প্রবাসী এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিও কি কোনো অলৌকিক ক্ষমতাবলে দেশে এসে মিছিলে অংশ নিতে পারেন?
  • পুলিশি অনুসন্ধানের দাবির মুখে এমন প্রশ্নই এখন সর্বমহলে মুখরোচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
  • কুমিল্লার দেবীদ্বারে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ও চিকিৎসাধীন রোগীদের নাম জড়িয়ে পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি ‘অদ্ভুত ও অলৌকিক’ মামলা দায়ের করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ব্যানারের চেয়ে আসামি বেশি! দেবীদ্বারে প্রবাসীদের জড়িয়ে পুলিশের ‘অদ্ভুত’ মামলা

কাতার-সৌদিতে অবস্থানরত প্রবাসী এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিও কি কোনো অলৌকিক ক্ষমতাবলে দেশে এসে মিছিলে অংশ নিতে পারেন? পুলিশি অনুসন্ধানের দাবির মুখে এমন প্রশ্নই এখন সর্বমহলে মুখরোচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কুমিল্লার দেবীদ্বারে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ও চিকিৎসাধীন রোগীদের নাম জড়িয়ে পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি ‘অদ্ভুত ও অলৌকিক’ মামলা দায়ের করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রাপ্ত নথিপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ আগস্ট ২০২৬ ইং সকালে দেবীদ্বার থানার ইউছুফপুর এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও সরকারবিরোধী মিছিলের অভিযোগে দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অণুপ বড়ুয়া বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৪, তারিখ: ০২/০৮/২০২৬)। মামলায় ২০০৯ সালের সন্ত্রাস বিরোধী আইনের বিভিন্ন ধারায় ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়।

পুলিশের দাবি বনাম বাস্তবতা:

পুলিশের এজাহারে দাবি করা হয়, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ দেখে তারা ২৬ জন আসামিকে শনাক্ত করেছেন। অথচ মামলার এজাহার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে—

১. প্রবাসে থেকেই মিছিলে উপস্থিত! মামলার ৬ নম্বর আসামি ইকবাল হোসেন রুবেল দীর্ঘদিন ধরে কাতার অবস্থান করছেন। ৭ নম্বর আসামি সাইদুল ইসলাম এবং ৯ নম্বর আসামি শাওন বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই তারা দেশে ফেরেননি। অথচ পুলিশের দাবি, তারা ভিডিও ফুটেজ দেখে এই প্রবাসীদের দেবীদ্বারের ইউছুফপুরে সশরীরে মিছিলে অংশ নিতে দেখেছেন! স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রবাসীরা কি কোন অলৌকিক বা অত্যাধুনিক বাহনে মুহূর্তের মধ্যে দেশে এসে মিছিল করে আবার ফিরে গেলেন?

২. হাসপাতালের শয্যা থেকে রাজপথে? কেবল প্রবাসীরাই নন, ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে শয্যাশায়ী চিকিৎসাধীন রোগীও ছাড় পাননি এই অলৌকিক ডিজিটাল অনুসন্ধানের হাত থেকে। তাঁকেও বানানো হয়েছে এজাহারনামীয় আসামি।

৩. মিছিলকারীর চেয়ে আসামির সংখ্যা বেশি! স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ব্যানার হাতে মিছিলে যে কয়জন লোক দেখা গিয়েছিল, পুলিশ মামলায় তার চেয়েও বেশি সংখ্যক মানুষকে আসামি করেছে।

গ্রেফতার ও বর্তমান অবস্থা:

মামলা দায়েরের পর গত ২ আগস্ট পুলিশ উপজেলার ৩টি ইউপির আওয়ামী লীগের ৩ সহ-সভাপতি—ফরিদুল ইসলাম (৩৬), শাহিন সরকার (৪৫) এবং আবু তাহের সরকার (৫৮)-কে গ্রেফতার করে কুমিল্লা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই পাভেল মল্লিক এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান নথিপত্রে স্বাক্ষর করে আসামিদের জেলহাজতে রাখার আবেদন জানিয়েছেন।

জনমনে আতঙ্ক ও প্রশ্ন:

বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করে মিছিলে উপস্থিত দেখানোর ঘটনাকে সুশীল সমাজ ও আইন বিশেষজ্ঞরা ‘ভৌতিক বা গায়েবী মামলা’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। সামনে ৫ আগস্ট, ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট কেন্দ্র করে হয়রানি করতেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এই এজাহার তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রবাসে অবস্থানরতদের স্বজনদের দাবি, “পুলিশ না দেখে, না নিশ্চিত হয়ে কীভাবে প্রবাসী ও হাসপাতালে থাকা ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজে পাওয়ার কথা বলে মামলা দিল? এটি পরিষ্কারভাবে হয়রানি এবং আইনি ব্যবস্থার অপব্যবহার।”

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আইনি পদক্ষেপ এখন পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

রাতেই সড়কে মেয়র, অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের কার্পেটিং কাজের তদারকি

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৭ পিএম
রাতেই সড়কে মেয়র, অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের কার্পেটিং কাজের তদারকি

অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের কাজ পরিদর্শন করে সময়মতো শেষ ও মান নিশ্চিতের নির্দেশ

চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর উন্নয়নকাজে গতি আনতে রাতেও সরেজমিনে তদারকি চালিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরের অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের চলমান কার্পেটিং কাজ পরিদর্শন করেন তিনি।

এ সময় মেয়র সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং চলমান কার্পেটিং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে খোঁজ নেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজের গুণগতমান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করাই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিন সংস্কারবঞ্চিত সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের আওতায় আনা হচ্ছে। কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি প্রকল্পের গুণগতমান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে মাঠপর্যায়ে থেকে কাজের অগ্রগতি তদারকি করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন সংস্কারের অপেক্ষায় থাকা অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের উন্নয়নকাজ এগিয়ে যাওয়ায় এ পথে চলাচলকারী নগরবাসীর দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। কার্পেটিং কাজ শেষ হলে সড়কটিতে চলাচল আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

ময়নামতিতে কোকোপিটে চারা, বাড়ছে খরচ কমছে কৃষকের লাভ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
ময়নামতিতে কোকোপিটে চারা, বাড়ছে খরচ কমছে কৃষকের লাভ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ঐতিহাসিক ময়নামতির সমেষপুর গ্রাম দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে চারা উৎপাদনের জন্য পরিচিত। একসময় শুধু শীতকালীন আগাম শাক-সবজির চারা উৎপাদন হলেও বর্তমানে সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের সবজির চারা উৎপাদন করছেন এখানকার কৃষকরা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি একসময় ভারতের ত্রিপুরাতেও এ গ্রামের চারা বিক্রি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রচলিত জমিতে চারা উৎপাদনের পাশাপাশি গ্রিনহাউসের আদলে পলিনেট শেড তৈরি করে প্লাস্টিকের ট্রেতে কোকোপিট ব্যবহার করে চারা উৎপাদনের নতুন পদ্ধতি চালু হয়েছে। এতে আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমলেও উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় প্রত্যাশিত লাভ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সমেষপুর ও আশপাশের এলাকায় ৪০ একরের বেশি জমিতে কপি জাতীয় সবজির চারা উৎপাদন হচ্ছে। একটি ১২ ফুট লম্বা ও ৪ ফুট প্রশস্ত বেডে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার চারা উৎপাদন করা যায়। এ ধরনের কয়েক হাজার বেড রয়েছে এলাকায়। এক ব্যাচের চারা বিক্রি শেষ হওয়ার পরপরই নতুন করে বীজ বপনের কাজ শুরু করেন কৃষকরা।

বর্তমানে সমেষপুর এলাকার শতাধিক পরিবার চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় কৃষকদের হিসাবে, প্রতি মৌসুমে এখান থেকে প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি চারা বিক্রি হয়। তবে জমিতে চারা উৎপাদনে অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বিভিন্ন রোগবালাইয়ের কারণে মাঝেমধ্যে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় কৃষকদের।

এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি কমাতে প্রবাসফেরত যুবক হোসাইন রাব্বি পলিনেট পদ্ধতিতে প্লাস্টিকের ট্রেতে কোকোপিট ব্যবহার করে চারা উৎপাদন শুরু করেন। নতুন পদ্ধতিতে তিনি সফলতার মুখ দেখছেন বলে জানান।

মাঠে কথা হয় হাসান মুন্সী ও তাঁর বাবা হায়দর আলীর সঙ্গে। তারা জানান, ঝড়, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে জমিতে উৎপাদিত চারা অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি রোগবালাই দেখা দিলে কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু পলিনেট শেডের ভেতরে কোকোপিট ব্যবহার করে চারা উৎপাদন করায় এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমে এসেছে।

প্রবীন কৃষক হায়দর আলী (৯৪) জানান, শুরুতে অভিজ্ঞতা না থাকায় তারা থাইল্যান্ড থেকে অনলাইনে কোকোপিট আমদানি করতেন। এখন স্থানীয়ভাবেই কোকোপিট সংগ্রহ করছেন। এ পদ্ধতির কারণে বছরের প্রায় সব সময় একইভাবে চারা উৎপাদন ও বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে।

তবে উৎপাদন ব্যয় নিয়ে তাদের আক্ষেপ রয়েছে। আনোয়ার হোসেন বলেন, কোকোপিটে চারা উৎপাদনের পদ্ধতি দেখতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা মাঠে আসেন এবং সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন। কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবে তেমন প্রতিফলিত হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।

হাসান ও হায়দর আলী জানান, পলিনেট শেড নির্মাণে বাঁশ, পলিথিন ও কাঠসহ বিভিন্ন উপকরণ প্রয়োজন হয়। প্রতিটি শেড তৈরিতে কমপক্ষে ১৪ হাজার টাকা খরচ পড়ে। একটি ট্রেতে ১২৮ থেকে ১৩০টি চারা উৎপাদন করা যায়।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সমেষপুর ও সিন্দুরিয়াপাড়া এলাকায় পলিনেট পদ্ধতিতে কোকোপিট ব্যবহার করে চারা উৎপাদনের প্রায় ৬০টি শেড রয়েছে। চলতি বছর এসব শেড থেকে অন্তত ১২ লাখ চারা বিক্রির প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষকরা জানান, মাটিতে উৎপাদিত চারার তুলনায় কোকোপিটে উৎপাদিত কিছু চারার বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে জাতভেদে প্রতিটি ফুলকপির চারা দেড় থেকে ৩ টাকা, বাঁধাকপির চারা দেড় থেকে ২ টাকা, মরিচের চারা আড়াই থেকে ৩ টাকা, টমেটোর চারা আড়াই থেকে ৩ টাকা, লাউয়ের চারা ১৫ টাকা এবং বেগুনের চারা আড়াই থেকে ৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কোকোপিট ব্যবহার করে চারা উৎপাদনে সরকারি সহায়তা বা সহযোগিতার বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) মিজানুর রহমান বলেন, কৃষকদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া ছাড়া আপাতত অন্য কোনো সহযোগিতার সুযোগ নেই।

সমেষপুরের কৃষকরা বলছেন, আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদনের ঝুঁকি কমলেও বাড়তি অবকাঠামো ও উপকরণ ব্যয়ের কারণে লাভের পরিমাণ আশানুরূপ হচ্ছে না। সরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া গেলে কোকোপিটভিত্তিক এই আধুনিক চারা উৎপাদন পদ্ধতি আরও সম্প্রসারিত হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

চান্দিনায় ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল জামায়াতের প্রবীণ নেতার

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৭ এএম
চান্দিনায় ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল জামায়াতের প্রবীণ নেতার

৯০ বছর বয়সী হাজী মনিরুল ইসলাম ডেঙ্গুর পাশাপাশি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান

কুমিল্লার চান্দিনায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ নেতা হাজী মনিরুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এ চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ২টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। একাধিক প্রতিবেদনে তাঁর মৃত্যু ও রাজনৈতিক পরিচয়ের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে হাজী মনিরুল ইসলাম জ্বর ও শারীরিক দুর্বলতায় আক্রান্ত হন। পরীক্ষায় তাঁর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি হৃদরোগেও আক্রান্ত হন। প্রথমে চান্দিনায় চিকিৎসা নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার সিএমএইচে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দৈনিক আজকের কথা
করোনাভাইরাস হলো আল্লাহর তৈরি একটি 'ডিজিটাল সৈনিক'। এটি এক প্রবাসীর স্বপ্নে এসে বলেছে যে, সে কোনো মুসলমানকে আক্রমণ করবে না। জিনেরা আমাকে করোনার ওষুধ আবিষ্কারের ফর্মুলা দিয়েছে।
— মুফতি কাজী ইব্রাহীম
ঢাকার লালমাটিয়া জামে মসজিদের সাবেক খতিব এবং ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একজন আলোচিত ধর্মীয় বক্তা।

হাজী মনিরুল ইসলাম চান্দিনা পৌর এলাকার বিশ্বাস গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০২ সালে তিনি চান্দিনা পৌরসভা জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি চান্দিনা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পেশাগত জীবনে হাজী মনিরুল ইসলাম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি চার ছেলে, দুই মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর চান্দিনায় পৌঁছালে পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী ও স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় চান্দিনার বিশ্বাস কেন্দ্রীয় শাহী ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা জেলা উত্তর, চান্দিনা উপজেলা ও পৌরসভা শাখার নেতারা শোক প্রকাশ করেন।

দৈনিক আজকের কথা
আল্লাহর কসম, একজন সত্যিকারের মুমিন ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি ব্যক্তির শরীরে করোনা হতে পারে না। যারা নিয়মিত ওজু করে, তাদের এই ভাইরাস ছুঁতেও পারবে না।
— মাওলানা তারিক মনোয়ার
বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত ওয়াজিন (ধর্মীয় বক্তা)।

হাজী মনিরুল ইসলামের মৃত্যু আবারও কুমিল্লায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে প্রবীণ ও হৃদরোগসহ অন্যান্য জটিলতায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি দ্রুত গুরুতর হয়ে উঠতে পারে—চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এমন রোগীদের দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

×
ENG