ইমো কলে বন্দিদশার বর্ননা
লক্ষ্মীপুরে দুই মাস ধরে নিখোঁজ কলেজছাত্রী নিশি, মেয়েকে ফিরে পেতে মায়ের আকুতি

দুই মাস ধরে নিখোঁজ লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মুর্শিদা আক্তার নিশি। পরিবারের দাবি, ইমো কলে তিনি বন্দিদশায় থাকার কথা জানিয়েছেন। ছবি : আজকের কথা
লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজের নিখোঁজ কলেজছাত্রী এখনো উদ্ধার হয়নি। সে ওই কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মুর্শিদা আক্তার নিশি গত দুই মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তার সন্ধানে পুলিশ কাজ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ মেলেনি। এ অবস্থায় মেয়েকে সুস্থভাবে ফিরে পেতে আকুতি জানিয়েছেন তার মা ছকিনা বেগম।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী মুর্শিদা আক্তার নিশি ২২ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ।
- ২৫ এপ্রিল তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
- গত ৩ জুন ইমো কলে নিশি মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে বন্দিদশায় থাকার দাবি করে।
- নিশির ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছে এবং একজন মহিলা খাবার দেন।
- পুলিশ বলছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে; এখনো তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
- পরিবার দ্রুত নিশিকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিশি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেকের মেয়ে। গত ২২ এপ্রিল সকালে কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে। এরপর আর তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজের তিন দিন পর, ২৫ এপ্রিল নিশির বাবা লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিশির মা ছকিনা বেগম জানান, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক মাস পর গত ৩ জুন একটি ইমো আইডি থেকে নিশি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। কথোপকথনের সময় নিশি দাবি করে, তাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছে। ঘরের বাইরে যেতে না পারায় সে কোথায় রয়েছে, সেটিও বলতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন কলেজে যাওয়ার পথে নিশি প্রথমে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় ওঠে। পথে অটোরিকশাটি বিকল হয়ে গেলে ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের সূতারগোপ্টা এলাকায় তাকে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে অন্য একটি অটোরিকশায় ওঠার পর সেখান থেকে কেউ তার মুখে স্প্রে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় বলে নিশি তাকে জানিয়েছে।
আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি শুধু আমার মেয়েকে ফিরে চাই। দুই মাস হয়ে গেল, এখনো তার কোনো খোঁজ পেলাম না।”
নিশির চাচা আবুল বাশার বলেন, “নিশি ইমো কলে জানিয়েছে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে। একজন মহিলা নিয়মিত তাকে খাবার দিয়ে যায়। ওই মহিলার মোবাইল ফোন থেকেই নিশি তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। এতদিন পেরিয়ে গেলেও মেয়েটির অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তাকে দ্রুত উদ্ধার করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবীর বলেন, “২২ এপ্রিল কলেজছাত্রী নিশি নিখোঁজ হওয়ার পর ২৫ এপ্রিল তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। মেয়েটি মাঝে মধ্যে ইমোর মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তবে ইমো কলের মাধ্যমে তার অবস্থান নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি অপহরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাও হতে পারে। তবে সবদিক বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেল পর্যন্ত কোথাও নিশির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা এখনও তার নিরাপদ ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিতর্ক
এবার সাংবাদিকদের দিয়ে টয়লেট পরিষ্কার করাতে চান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোর টয়লেট পরিষ্কার ও বাথরুমসহ অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতার সকল কিছু পরিস্কার করার দায়িত্ব সাংবাদিকদের ওপর অর্পণের প্রস্তাব দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার উপপরিচালক ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফী।
এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফী ফেসবুক পোস্টে সাংবাদিকদের হাসপাতাল পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
- তিনি বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রায় ৬০০ হাসপাতালের টয়লেট ও বাথরুম পরিষ্কারের দায়িত্ব এক অর্থবছরের জন্য দেওয়া যেতে পারে।
- দায়িত্ব সফলভাবে পালন করলে তা স্থায়ীভাবেও দেওয়া যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
- স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর সব দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ওই কর্মকর্তা।
- বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, সরকারি দায়িত্বে থেকে এমন মন্তব্যের সুযোগ নেই।
- অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া তার একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য খাত ও সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে ডা. শাফী লেখেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা করে তথ্য মন্ত্রণালয় এবং তাদের অধীন সাংবাদিকদের দেশের প্রায় ৬০০ জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের বাথরুম, টয়লেটসহ হাসপাতাল ভবনের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব অন্তত এক অর্থবছরের জন্য দেওয়া যেতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি সাংবাদিকরা সফলভাবে এ দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তাহলে স্থায়ীভাবেও তাদের ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করা যেতে পারে। রাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণে যে পক্ষ ভালো কাজ করতে পারবে, দায়িত্ব তাদের হাতেই তুলে দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডা. শাফী বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ যেহেতু হাসপাতালগুলোর পরিচ্ছন্নতা সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করতে পারছে না, তাই বিকল্প কোনো আলোচনার সুযোগ রয়েছে কি না, সে ভাবনা থেকেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, “হাসপাতালের বাথরুমগুলোর এমন অবস্থার পেছনের বাস্তব কারণগুলো কোথাও সঠিকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না। সব দায় শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, অথচ সমস্যার পেছনে আরও নানা কারণ রয়েছে।”
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার দায় সাংবাদিকদের ওপর বর্তায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অনেক হাসপাতালের ভবন সম্প্রসারণ হয় না, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু জনমনে এমন ধারণা তৈরি করা হচ্ছে যেন সবকিছুর জন্য কেবল ডাক্তার ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনাই দায়ী।”
এ বিষয়ে কথা বলার একপর্যায়ে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অন্যদিকে সরকারি দায়িত্বে থেকে এ ধরনের মন্তব্য কতটা শোভন—সেই প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, সরকারি পদে থেকে এ ধরনের মন্তব্য করার সুযোগ নেই। বিষয়টির সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডা. শাফীর এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার এমন বক্তব্যকে অপ্রাসঙ্গিক ও বিতর্কিত বলে মন্তব্য করেছেন।
পার্শ্ববর্তী দেশের পানি বৈষম্যের কারণে আমাদের নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে: দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী

মানিকগঞ্জে খাল খনন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে শিবালয় উপজেলার কাসাদহ খালের কার্যক্রম পরিদর্শন এবং বৃক্ষরোপণ করেন এই দুই মন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, পার্শ্ববর্তী একটি দেশের পানি বৈষম্যের কারণে আমাদের নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। আমরা ঠিকমতো পানি পাচ্ছি না। তিস্তা এখন মরুভূমি হয়ে গেছে। এর জন্য তিস্তা মহা পরিকল্পনা এবং পদ্মা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করেছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীগুলো অবহেলায় অযত্নে অবজ্ঞার কারণে নদীগুলো খালে পরিণত হয়েছে। সেগুলাকে পুনঃক্ষণনের মহা পরিকল্পনা রয়েছে।
আগাম বৃষ্টির কারণে খাল খননের কাজ কিছুটা বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। আগামী শুকনো মৌসুমে অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে। খাল খননে দুর্নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
আগামী ছয় মাসের মধ্যে কাঁচপুরে টার্মিনালের কাজ শেষ হবে : সড়ক পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ

সড়ক পরিবহন সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ বলেছেন,আগামী ছয় মাসের মধ্যেই ঢাকা যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনালের সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবো এবং নাগরিক সুবিধা দিতে পারবো, শেষ হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকাকে যানজট মুক্ত করার জন্য সমন্বিত বিভিন্ন ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।এরই অংশ হিসেবে ঢাকা যাত্রাবাড়ী সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের কিছু অংশ কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের কাচঁপুরে স্থানান্তর করার কাজ চলমান রয়েছে।
বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুরে বাস টার্মিনাল কাজের পরিদর্শনে এসে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক,প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ ময়নুল হাসান,নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ আজহারুল ইসলাম মান্নান, জেলা প্রশাসক রায়হান কবির ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত।
এসময় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন,বিগত সরকারের আমলে চারটি বাস টার্মিনালকে ডিপো হিসেবে ব্যবহার করেছিলো। সেহেতু সাধারণ মানুষ যানজটে ভোগান্তির শিকার হয়েছিলো।
বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষকে যানযট মুক্ত করার লক্ষ্যে যে সকল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সেগুলো বাস্তবায়ন করার জন্যই আমরা বাস টার্মিনাল গুলো পরিদর্শন করছি।এছাড়াও ঢাকা সিলেট হাইওয়ের উন্নয়ন কাজ ৪৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। দেশের সকল সড়ক মহাসড়কের কাজ দ্রুত সময়ে সম্পন্ন করা হবে।
ঢাকার সব সিগনাল পয়েন্টে পর্যায়ক্রমে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে।




















