সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

লাইসেন্স নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ

জুড়ীতে পেট্রোল পাম্পের লাইসেন্স বিক্রিতে জালিয়াতির অভিযোগ, আর্থিক ক্ষতির দাবি ক্রেতার

জালালুর রহমান, মৌলভীবাজার : প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৬ পিএম
জুড়ীতে পেট্রোল পাম্পের লাইসেন্স জালিয়াতির অভিযোগের নথিপত্র

জুড়ীতে পেট্রোল পাম্পের লাইসেন্স বিক্রি সংক্রান্ত অভিযোগে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও প্যাক পয়েন্টের দৃশ্য। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের সমাই বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে পেট্রোল পাম্পের (প্যাক পয়েন্ট) লাইসেন্স বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
  • লাইসেন্সের প্রকৃত মালিকানা গোপন রেখে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকায় প্যাক পয়েন্ট বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইউনিক ট্রেডার্স প্যাক পয়েন্টের স্বত্বাধিকারী ফখরুল ইসলাম।
  • ফখরুল ইসলামের অভিযোগ, এফিডেভিটের মাধ্যমে লাইসেন্সটি নিজের নামে রয়েছে বলে দাবি করে মো. আব্দুল হক তার কাছে প্যাক পয়েন্টটি বিক্রি করেন।

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের সমাই বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে পেট্রোল পাম্পের (প্যাক পয়েন্ট) লাইসেন্স বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। লাইসেন্সের প্রকৃত মালিকানা গোপন রেখে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকায় প্যাক পয়েন্ট বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইউনিক ট্রেডার্স প্যাক পয়েন্টের স্বত্বাধিকারী ফখরুল ইসলাম।

ফখরুল ইসলামের অভিযোগ, এফিডেভিটের মাধ্যমে লাইসেন্সটি নিজের নামে রয়েছে বলে দাবি করে মো. আব্দুল হক তার কাছে প্যাক পয়েন্টটি বিক্রি করেন। কিন্তু লাইসেন্স নবায়নের সময় তিনি জানতে পারেন, লাইসেন্সটি আব্দুল হকের নামে নয়; বরং ‘মনোহর আলী ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী মনোহর আলীর নামে নিবন্ধিত।
তিনি বলেন, প্রকৃত মালিকানা গোপন রেখে প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছে লাইসেন্স বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, নিজের নামে নয় এমন একটি প্যাক পয়েন্টের লাইসেন্স ৮ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। পদ্মা অয়েল কোম্পানির কর্মকর্তার ভাষ্য, এ ধরনের লাইসেন্স বিক্রির কোনো আইনগত অনুমোদন নেই।

ফখরুল ইসলাম আরও জানান, গত ৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় তার প্রতিষ্ঠানে পেট্রোল ও ডিজেল সরবরাহ করা হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ করে চলে যান। সে সময় দোকানে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ লিটার জ্বালানি তেল মজুদ ছিল। তার দাবি, এত অল্প সময়ে ওই পরিমাণ জ্বালানি বিক্রি হওয়ার সুযোগ ছিল না।
তার অভিযোগ, ওই রাতেই তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দোকানের তালা ভেঙে জ্বালানি জব্দ করেন এবং দোকানের চাবি মো. আব্দুল হকের জিম্মায় দিয়ে যান। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তাকে ৩৬ দিন কারাভোগ করতে হয়। গত ৩ জুন জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর একাধিকবার দোকানের চাবি ফেরত চাইলেও তা পাননি। পরে আদালতের নির্দেশে গত ১৩ জুলাই দোকানের চাবি বুঝে পান।

দোকান খুলে তিনি দেখতে পান, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দামী মবিল, নগদ ৬২ হাজার টাকা, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, ক্রয়-বিক্রয়ের মেমো এবং পেট্রোল পাম্প পরিচালনার মূল লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র নেই। তার দাবি, প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামালের মধ্যে মাত্র আড়াই লাখ টাকার মালামাল অবশিষ্ট ছিল। চাবি আব্দুল হকের জিম্মায় থাকা অবস্থায় এসব মালামাল ও কাগজপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আব্দুল হক দোকান থেকে মালামাল ও কাগজপত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তিনি ফখরুল ইসলামের কাছে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকায় প্যাক পয়েন্ট বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দাবি, বাকি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।

এদিকে, লাইসেন্স বিক্রির সময় উপস্থিত সাক্ষী ও সমাই বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির বলেন, তার সামনেই আব্দুল হক ও ফখরুল ইসলামের মধ্যে অর্থ লেনদেন হয়েছে। সে সময় আরেক সাক্ষী আব্দুল মালিকও উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের সিলেট অঞ্চলের সিনিয়র মার্কেটিং কর্মকর্তা মো. আবু শাকিল বলেন, কোনো ব্যক্তি লাইসেন্স বিক্রি করতে পারেন না। এজেন্সি বা প্যাক পয়েন্টের লাইসেন্স সরাসরি বিক্রির কোনো বিধান বা অনুমোদন নেই।

এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে লাইসেন্সের প্রকৃত মালিকানা যাচাই, অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ফখরুল ইসলাম।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের নয়া চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৭ এএম
কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের নয়া চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ

সরকার কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে আশিকুর রহমান মাহমুদকে নিয়োগ দিয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা: আকতারুন নেছা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগ প্রদান করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, “পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬”-এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী তিন বছরের জন্য তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
আশিকুর রহমান মাহমুদ কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার মুন্সেফ বাড়ির বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম হাজী আব্দুর রহিম মাহমুদ এবং মায়ের নাম জাহানারা মাহমুদ। নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ২১টি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে আশিকুর রহমান মাহমুদ কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোনীত হওয়ায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কুমিল্লার বিশিষ্ট সমাজসেবক, ধর্ম মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের মামাতো ভাই এবং মুরাদনগর উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সৈয়দ আতিকুল্লাহ প্রিয়া।

এক অভিনন্দন বার্তায় সৈয়দ আতিকুল্লাহ প্রিয়া বলেন, “আশিকুর রহমান মাহমুদের মতো একজন দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিত্ব কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁর এই নেতৃত্বের মাধ্যমে কুমিল্লার সুপেয় পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নয়ন সাধিত হবে এবং নাগরিক সেবা পৌঁছাবে জনগণের দোড়গোড়ায়। আমি তাঁর জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করছি

ধর্ম, রাজনীতি ও নির্বাসনে বিস্তর ফারাক

‘শেখ হাসিনা আর আমাকে এক পাল্লায় তুলবেন না’: তসলিমা নাসরিন

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী : প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩০ পিএম
‘শেখ হাসিনা আর আমাকে এক পাল্লায় তুলবেন না’: তসলিমা নাসরিন

শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজের তুলনা টানার সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনা ও তাঁর মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাস, রাজনৈতিক অবস্থান, নির্বাসনের কারণ, আইনি অবস্থান এবং আদর্শের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

নিজের ফেসবুক পোস্টে তসলিমা নাসরিন বলেন, অনেকে শেখ হাসিনা ও তাঁকে একই পাল্লায় তুলছেন এবং দুজনকেই মুসলমান ও রাজনৈতিক শরণার্থী হিসেবে উল্লেখ করছেন। তাঁর ভাষ্য, এই দুই দাবিই সঠিক নয়।

তসলিমা নাসরিন নিজেকে ‘হার্ডকোর নাস্তিক’ উল্লেখ করে বলেন, তিনি কোনো ঈশ্বর, ধর্মগ্রন্থ বা ধর্মীয় বিধানে বিশ্বাস করেন না। অন্যদিকে শেখ হাসিনা ধর্ম পালনকারী মুসলমান—এমন দাবি করেন তিনি।

নিজের দেশ থেকে দূরে থাকা ছাড়া শেখ হাসিনা ও আমার মধ্যে বড় কোনো মিল নেই; পরিচয়, আদর্শ ও নির্বাসনের বাস্তবতায় আমাদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য।
তসলিমা নাসরিন
লেখিকা, ফেসবুক পোস্ট থেকে নেয়া

নিজের ভারতে অবস্থান প্রসঙ্গে তসলিমা বলেন, তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী নন। ভারত সরকার তাঁর থাকা-খাওয়া বা জীবনযাপনের ব্যয় বহন করে না। নিজের সব খরচ নিজেই বহন করেন এবং ভারত সরকার শুধু তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সুইডেনের নাগরিক এবং সেই পরিচয়েই ভারতে বসবাস করছেন।

তসলিমা নাসরিন আরও বলেন, ভারত কোনো বিদেশি শিল্পী, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী বা গবেষকের কাজ ও অবদান বিবেচনা করে তাঁকে বৈধভাবে দেশটিতে বসবাসের অনুমতি দিতে পারে। তাঁর মতে, এ ধরনের অনুমতি রাজনৈতিক আশ্রয়ের সমতুল্য নয়।

আদর্শগত পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেন তসলিমা

শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজের সবচেয়ে বড় পার্থক্যগুলোর একটি হিসেবে ধর্ম ও রাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন তসলিমা নাসরিন।

তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। বিপরীতে তিনি সব শিশুর জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে। তাঁর মতে, রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড থেকে ধর্মকে দূরে রাখা উচিত।

তসলিমা নাসরিন শেখ হাসিনা সরকারের ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পেরও সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, এসব মসজিদ একসময় শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কা তিনি প্রকল্পের শুরুতেই প্রকাশ করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতাশালী রাজনীতিক, আর তিনি ক্ষমতাহীন একজন লেখিকা। শেখ হাসিনার নির্বাসন দুই বছরের হলেও তাঁর নিজের নির্বাসন ৩২ বছরের বলে উল্লেখ করেন তসলিমা।

‘ফেরার দরজা বহুদিন ধরেই বন্ধ’

বাংলাদেশে নিজের ফেরার প্রসঙ্গে তসলিমা নাসরিন বলেন, বাংলাদেশের কোনো সরকারই তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্ট নবায়ন করেনি এবং তাঁর বিদেশি পাসপোর্টেও ভিসা দেয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে ফেরার পথ তাঁর জন্য বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা সরকারের ভূমিকাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশে ফেরার পথ বন্ধ রাখার দায় শেখ হাসিনা সরকারেরও রয়েছে।

তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজের অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তুলে ধরে তসলিমা বলেন, তিনি চান শেখ হাসিনা নিজ দেশে ফিরে নিরাপদে বসবাস করুন এবং রাজনীতি করুন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবিও তিনি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন বলে উল্লেখ করেন।

‘আমি শেখ হাসিনার দেশে ফেরা চাই’

তসলিমা নাসরিনের ভাষ্য, তিনি নিজের দেশে ফিরে নিরাপদে বসবাস করতে চান এবং শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও একই প্রত্যাশা রাখেন। তাঁর মতে, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হলেও তাঁর মতো একজন ধর্ম ও জিহাদবিরোধী লেখিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফিরতে পারলেও তাঁকে জিহাদিদের হামলার ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে। এ কারণে দেশে ফিরে নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন কি না, সেটি নিয়েও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বাক্‌স্বাধীনতা নিয়েও শেখ হাসিনার সমালোচনা

তসলিমা নাসরিন নিজেকে বাক্‌স্বাধীনতার প্রবল সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনার সঙ্গে এ ক্ষেত্রেও তাঁর পার্থক্যের কথা তুলে ধরেন।

তিনি দাবি করেন, ১৯৯৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার তাঁর পুরস্কারপ্রাপ্ত আত্মজীবনী ‘আমার মেয়েবেলা’ নিষিদ্ধ করেছিল এবং সেই নিষেধাজ্ঞা এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি।

সবশেষে তসলিমা নাসরিন বলেন, নিজের দেশ থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হওয়া ছাড়া তাঁর সঙ্গে শেখ হাসিনার বড় কোনো মিল নেই। শুধু এই একটি মিলের ভিত্তিতে দুজনের পরিচয়, অবস্থান, আদর্শ ও জীবনসংগ্রামকে একইভাবে দেখাকে তিনি ‘ভুল তথ্য’ ছড়ানো হিসেবে উল্লেখ করেন।

কুমিল্লায় একসঙ্গে ৫ সন্তানের জন্ম, ২৪ ঘণ্টায় ৪ নবজাতকের মৃত্যু

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০১ পিএম
কুমিল্লায় একসঙ্গে ৫ সন্তানের জন্ম, ২৪ ঘণ্টায় ৪ নবজাতকের মৃত্যু

ছয় মাসে জন্ম, সংকটে জীবিত শিশুর চিকিৎসা

কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলা এলাকার মক্কা হাসপাতালে একসঙ্গে ৫ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক মা। জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চার নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে একটি নবজাতক জীবিত রয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার সূচিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও সৌদি আরবপ্রবাসী তারেকুল ইসলাম তারেকের স্ত্রী কুমিল্লার মক্কা হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন। নবজাতকদের মধ্যে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে ছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, জন্মের পর থেকেই পাঁচ নবজাতকের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। চিকিৎসকেরা জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রায় ছয় মাসে জন্ম নেওয়ায় নবজাতকদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল।

একসঙ্গে পাঁচ নবজাতকের জন্ম নিঃসন্দেহে আনন্দের খবর হলেও, চারজনের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। জীবিত শিশুটির উন্নত চিকিৎসায় সহায়তার জন্য সমাজের বিত্তবান ও সরকারের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
— পরিবারের পক্ষ থেকে

তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার ব্যয় বহন করা পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এর মধ্যেই জন্মের পর একে একে চার নবজাতকের মৃত্যু হয়। বর্তমানে জীবিত একমাত্র শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুটির উন্নত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়েও তারা আর্থিক সংকটে রয়েছেন। নবজাতকটিকে বাঁচাতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের সহযোগিতা চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্মের ঘটনা কুমিল্লায় বিরল হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে পরিবারের একমাত্র আশা হয়ে বেঁচে থাকা নবজাতকটির সুস্থতার জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছে পরিবার।

×
CLOSE X
ENG