মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

শাজাহানপুরে নেতাকর্মীদের সতর্কবার্তা

যুবদলে মাদকসেবী-কারবারিদের ঠাঁই নেই, কঠোর বার্তা জেলা সভাপতি জাহাঙ্গীরের

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৭:৫৫ পিএম
যুবদলে মাদকসেবীদের স্থান নেই

শাজাহানপুরে উপজেলা যুবদলের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন বগুড়া জেলা যুবদলের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • মাদকসেবন, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত কোনো ব্যক্তিকে যুবদলের কোনো পর্যায়ের কমিটিতে স্থান দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বগুড়া জেলা যুবদলের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম।
  • শুক্রবার (১৯ জুন) বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিঁড়া উচ্চ বিদ্যালয় হলরুমে উপজেলা যুবদলের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
  • জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “যুবদল একটি আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন।

মাদকসেবন, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত কোনো ব্যক্তিকে যুবদলের কোনো পর্যায়ের কমিটিতে স্থান দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বগুড়া জেলা যুবদলের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম।

শুক্রবার (১৯ জুন) বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিঁড়া উচ্চ বিদ্যালয় হলরুমে উপজেলা যুবদলের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “যুবদল একটি আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন। মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের জন্য যুবদলে কোনো জায়গা নেই। দলের ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে যুবদলকে আরও শক্তিশালী ও জনমুখী সংগঠনে পরিণত করতে হবে। পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে যুবদলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান। তিনি নবনির্বাচিত নেতাদের উদ্দেশে বলেন, সাংগঠনিক ঐক্য, ত্যাগ ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে যুবদলকে আরও গতিশীল করতে হবে।

উপজেলা যুবদলের নবনির্বাচিত সভাপতি বেলাল হোসেন বাবুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ সুজন, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল হক পান্না, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক আনিসুল হক, সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম তুহিন, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আল আমিন শানু, কামাল হোসেন, মাহমুদুল হাসান জিতু, শাকিল আহম্মেদ ও আসাদুল ইসলাম আসাদ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শ্রী অতুল চন্দ্র, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম ও রাশেদুর রহমান, গাবতলী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাব্বত হোসেন ও মশিউর রহমান সুমনসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

সভায় নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে মতামত তুলে ধরেন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সভা শেষে নবনির্বাচিত কমিটির নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং সংগঠনকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

দেবীদ্বারে এসএসসিতে তাক লাগানো সাফল্য জাকিয়ার, ১২৫০ নম্বরে পেয়েছে ১২১৭

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫১ এএম
দেবীদ্বারে এসএসসিতে তাক লাগানো সাফল্য জাকিয়ার, ১২৫০ নম্বরে পেয়েছে ১২১৭

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পাওয়া জাকিয়া সুলতানা ইভার প্রাপ্ত নম্বরের ফর্দের সংগৃহীত ছবি।
দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পাওয়া জাকিয়া সুলতানা ইভার প্রাপ্ত নম্বরের ফর্দের সংগৃহীত ছবি।

কুমিল্লার দেবীদ্বারে এবারের এসএসসিতে পরীক্ষার ফলাফলে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছে মফিজ উদ্দিন আহমেদ মডেল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা ইভা। ১২৫০ নম্বরের পরীক্ষায় সে পেয়েছে ১২১৭ নম্বর। তার এই অসাধারণ ফলাফলে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভাসছে দেবীদ্বার। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে আনন্দের পরিবেশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর জাকিয়া সুলতানা ইভার এই সাফল্যের বিষয়টি সামনে আসে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মফিজ উদ্দিন আহমেদ মডেল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়টির মোট পাসের হার ৯৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।

তবে বিদ্যালয়ের এবারের ফলাফলের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা ইভার ১২১৭ নম্বর অর্জন। ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পেয়ে সে বিদ্যালয়ের ফলাফলে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পাওয়া জাকিয়া সুলতানা ইভা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমানের সঙ্গে। পাশে তার প্রাপ্ত নম্বরের ফর্দের সংগৃহীত ছবি।
দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পাওয়া জাকিয়া সুলতানা ইভা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমানের সঙ্গে। পাশে তার প্রাপ্ত নম্বরের ফর্দের সংগৃহীত ছবি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জাকিয়া সুলতানা ইভা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্তের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

জাকিয়া সুলতানা ইভার এমন ফলাফল শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি পুরো বিদ্যালয়ের জন্যও অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। তার এই সাফল্যে বিদ্যালয় পরিবারের সবাই আনন্দিত ও গর্বিত।
মো. মজিবুর রহমান
প্রধান শিক্ষক- দেবীদ্বার মফিজ উদ্দিন আহমেদ মডেল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

তিনি বলেন, “জাকিয়ার মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের এই স্বীকৃতি তার ভবিষ্যৎ পথচলায় আরও বড় সাফল্যের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক। তার এই অর্জন আমাদের বিদ্যালয়ের জন্যও অনন্য গৌরবের বিষয়।”

জাকিয়া সুলতানা ইভাকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান আরও বলেন, “তোমার সাফল্যে আমরা গর্বিত।”

বিদ্যালয়ের এমন সাফল্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ১২৫০ নম্বরের পরীক্ষায় ১২১৭ নম্বর পাওয়ার বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জাকিয়া সুলতানা ইভার এই ফলাফল তার দীর্ঘদিনের মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের প্রতিফলন। একই সঙ্গে ৬১ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন এবং ৯৪ দশমিক ৯২ শতাংশ পাসের হার বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে।

জাকিয়ার এমন সাফল্যে দেবীদ্বারের শিক্ষাঙ্গনেও আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও জাকিয়া তার মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।

দেবীদ্বারে ফরিদা হত্যাকাণ্ড: দা, সোনা ও টাকা উদ্ধার; হাত-পা এখনো নিখোঁজ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২০ এএম
দেবীদ্বারে ফরিদা হত্যাকাণ্ড: দা, সোনা ও টাকা উদ্ধার; হাত-পা এখনো নিখোঁজ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে চাঞ্চল্যকর ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর পুলিশ হত্যার কাজে ব্যবহৃত দা, স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকা উদ্ধার করেছে। তবে এখনও মরদেহের হাত ও পায়ের অংশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সোমবার সন্ধ্যায় দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় ফরিদা ইয়াসমিনের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ এসব গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করে।

​হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক লাইলী আক্তারকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। লাইলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ফরিদা ইয়াসমিনের বাসার পাকের ঘরে তল্লাশি চালায়। সেখানে পরিত্যক্ত একটি ড্রামের আড়ালে লুকানো কানের এক জোড়া দুল, একটি গলার চেইন, একটি আংটি এবং নগদ ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে লাইলীর তথ্যানুযায়ী, টয়লেটের কমোট থেকে আলমারির চাবি এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়।

​নিহত ফরিদা ইয়াসমিন (৫৫) দেবীদ্বার পৌর এলাকার ফতেহাবাদ ভূঁইয়া বাড়ির মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী। তারা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ঐ বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। অন্যদিকে ঘাতক লাইলী আক্তার পারিবারিক কলহের কারণে ঐ বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতেন। লাইলী ইতিপূর্বে একটি শিশু হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাড়ে ৪ বছর জেল খেটেছিলেন।

​হত্যাকাণ্ডের পর প্রমাণ লোকাতে ঘাতকরা মরদেহ টুকরো টুকরো করে পলিথিনে প্যাকেট করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে রাখে। কিছু অংশ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সোমবার রাতে দেবীদ্বার থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, মামলার তদন্ত চলছে। লাইলী আক্তার প্রাথমিকভাবে একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং পরে ঠান্ডা মাথায় মরদেহের অংশগুলি বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেয়। CC ক্যামেরার ফুটেজে তার কর্মকাণ্ড স্পষ্ট দেখা গেছে। মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।

প্রেমঘটিত টানাপোড়েনে মর্মান্তিক মৃত্যু

দেবীদ্বারে প্রবাসী ভাইয়ের ফোন, ঘরে মিলল কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
দেবীদ্বারে প্রবাসী ভাইয়ের ফোন, ঘরে মিলল কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে প্রবাসী ছোট ভাইয়ের ফোন পেয়ে বাসায় ফিরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আফরিন আক্তার (১৭) নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছেন তার মা। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে দেবীদ্বার সদর এলাকার মোল্লাবাড়ী মসজিদ সংলগ্ন ‘খান মঞ্জিল’-এর চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আফরিন আক্তার দেবীদ্বার পৌর এলাকার বিনাইপাড় গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়ালের মেয়ে। সে পারুয়ারা আব্দুল মতিন খসরু কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে আফরিনের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তার মা তাকে নিয়ে দেবীদ্বার সদরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত দুই বছর ধরে তারা ‘খান মঞ্জিল’-এর ওই বাসায় থাকছিলেন।

পরিবারের দাবি, প্রতিবেশী অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য জামসেদ মিয়ার ছেলে ও পেশায় ক্যামেরাম্যান সাখাওয়াত হোসেন সানি (২৬)-এর সঙ্গে আফরিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে এ সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি আফরিনের মা ও তার প্রবাসী দুই ভাই।

সানি প্রায় ছয় মাস ধরে তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে রোববার বাড়ির মালিক শাহ আলম খান ও তার ভাইয়ের উপস্থিতিতে সানিকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে রাগ করে মেয়েকে বাসায় একা রেখে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান।
মরিয়ম বেগম
নিহত আফরিনের মা

মরিয়ম বেগমের ভাষ্য, সোমবার দুপুরে সৌদি প্রবাসী ছোট ছেলে আজাদ ফোন করে তাকে দ্রুত বাসায় ফিরতে বলেন। আজাদ জানান, সানি তাকে মেসেজ করে জানিয়েছেন যে তিনি আফরিনকে বিয়ে করবেন না এবং আফরিন আত্মহত্যা করতে পারেন।

পরে বাসায় ফিরে দরজা বন্ধ দেখতে পান মরিয়ম বেগম। স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তিনি। এ ঘটনায় সানিকে দায়ী করে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন নিহতের মা।

বাড়ির মালিক শাহ আলম খান বলেন, ছেলে-মেয়ে উভয়ের সম্মতি থাকায় সোমবার দুই পরিবারের অভিভাবকদের নিয়ে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসার কথা ছিল।

পুলিশের বক্তব্য

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত টানাপোড়েন ও পারিবারিক মনোমালিন্যের বিষয়টি সামনে রেখে ঘটনাটি তদন্ত করছে।

×
CLOSE X
ENG