রূপপুর প্রকল্প নিয়ে তারেক রহমানকে চ্যালেঞ্জ
রূপপুর প্রকল্প নিয়ে তারেক রহমানের বক্তব্যের জবাব দিলেন মোহাম্মদ আলী আরাফাত

“রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ” — আরাফাত
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ ও সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
নিজের ফেসবুক পোস্টে মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, তারেক রহমান দাবি করেছেন যে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঋণ নিয়ে এবং চার গুণ বেশি ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো তথ্য বা ব্যাখ্যা তিনি দেননি বলেও মন্তব্য করেন আরাফাত।
তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ব্যয় নিয়ে প্রকাশিত একটি তুলনামূলক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রূপপুর প্রকল্প প্রতিযোগিতামূলক খরচেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগকে তিনি “অপপ্রচার” বলে অভিহিত করেন।
ফেসবুক পোস্টে আরাফাত আরও লেখেন, “চার ভাগের এক ভাগ দামে এমন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে দেখান, তারপর এসব কথা বলবেন।”
ঋণের বোঝা নিয়ে তারেক রহমানের বক্তব্যের জবাবে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের অর্থায়নেই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং জনগণই এর সুফল ভোগ করবে। একই সঙ্গে জনগণের টাকাতেই ঋণ পরিশোধ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মোহাম্মদ আলী আরাফাত দাবি করেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী প্রায় ৬০ বছর দেশের প্রায় ২ কোটি মানুষ স্বল্পমূল্যে বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে। দীর্ঘমেয়াদে এই প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ইউনিট খরচ অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় কম হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি বহুমুখীকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় প্রকল্প।
পোস্টের শেষাংশে তিনি মন্তব্য করেন, “এটি বোঝার জন্য ন্যূনতম জ্ঞান, সততা ও সক্ষমতা প্রয়োজন।”
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
৮ শিক্ষকের ‘নজরকাড়া’ অবদান: ৫ পরীক্ষার্থীর একজনও পাস করেনি, পাসের হার শূন্য!

শিক্ষক আছেন ৮ জন, অথচ মোট এসএসসি পরীক্ষার্থী মাত্র ৫ জন! অঙ্কের হিসাবে প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য গড়ে দেড়জনেরও বেশি শিক্ষক। এত অঢেল শিক্ষকমণ্ডলী থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর পাওয়া গেল শুধুই বিশাল এক ‘গোল্লা’। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটেছে এমনই এক নজিরবিহীন ও চরম লজ্জাজনক ঘটনা।
চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে যে পাঁচজন ছাত্রী অংশ নিয়েছিলেন, তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। ফলে বিদ্যালয়টির সার্বিক ফলাফল দাঁড়িয়েছে শতভাগ ফেল—পাসের হার একদম শূন্য।
শিক্ষক ৮, পাস ০: ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকা পাঁচজন শিক্ষার্থীকে পাস করানোর জন্য যেখানে আটজন শিক্ষক নিয়োজিত, সেখানে এমন অমানবিক ফল বিপর্যয়ে চরম ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকেরা। এটি নিছক কোনো রেজাল্ট নয়, বরং বিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের চরম গাফিলতি ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার নগ্ন ছবি উন্মোচন করেছে। স্থানীয়দের স্পষ্ট অভিযোগ—শ্রেণিকক্ষে সঠিক তদারকি ও দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি ন্যূনতম মনোযোগ না দেওয়ার কারণেই এই চরম বিপর্যয়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাকির পাঠদানের অনুমতির কথা নিশ্চিত করলেও ফল বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
প্রশাসনের কড়া চাবুক: শোকজের সিদ্ধান্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এমন চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন। পাকুন্দিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূঁইয়া এই নজিরবিহীন ফলকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়েছেন।
দেবীদ্বারে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সাদাত জুটের শ্রমিকদের বিক্ষোভ-মানববন্ধন

দুই শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে ছড়ানো তথ্যের তদন্ত দাবি
কুমিল্লার দেবীদ্বারে সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের দুই শ্রমিক নেতাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভিডিও প্রচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দেবীদ্বার উপজেলার জাফরপুর এলাকায় সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক-কর্মচারী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধন থেকে সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ওয়ার্কার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ এবং ক্রীড়া সম্পাদক সোহেল রানা শুভর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়।
শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, ভুয়া বা ফেক ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে মামুনুর রশিদ ও সোহেল রানা শুভর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাদক সেবনসংক্রান্ত কথিত ভিডিও তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার না চালিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করা উচিত। অভিযোগের সত্যতা থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
তারা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে শুধু ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে না, এতে প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মানববন্ধনে শ্রমিক নেতা ফয়সাল, জরিনা বেগম, আমেনা আক্তার, জুবায়ের আহমেদ, শিউলি আক্তারসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।
বক্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর সঙ্গে জড়িত হিসেবে ইন্দ্রজিৎ ভৌমিক ও তার সহযোগী মোস্তফা, সোহেল মিয়া, আবু মিয়া, আবদুল হাকিমসহ সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ইন্দ্রজিৎ ভৌমিক বলেন, তিনি কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি প্রচারের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং তাঁর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও কোনো পোস্ট করা হয়নি। তবে তিনি বলেন, “ঘটনাটি সত্য না হলে কি আর মানুষ প্রচার করে?”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও ও তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্তে আসা উচিত নয়। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তারা।
দেবীদ্বারে অভিভাবক সমাবেশ: শিক্ষার্থীর সংখ্যা নয়, মেধার গুণগত মান বাড়াতে হবে

শিক্ষার্থীর সংখ্যা বা পাসের হার বাড়ানোর চেয়ে তাদের মেধা ও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. লেফটেন্যান্ট মো. সফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষার গুণগত মানের পরিবর্তে সংখ্যার হিসাব ও পাসের হারের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার চেয়ে শুধু সনদ অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ছোটনা মডেল হাই স্কুলের শিক্ষার মানোন্নয়নে আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে আমরা শিক্ষার গুণগত মানের চেয়ে সংখ্যার বা পাসের হারের দিকে বেশি নজর দিচ্ছি। কারিগরি শিক্ষার চেয়ে সনদের গুরুত্ব দিচ্ছি বেশি। এই দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের বদলাতে হবে। শিক্ষার্থীদের সংখ্যার চেয়ে মেধার গুণগত মান উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদান নয়, তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রমে যুক্ত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করতে হবে। সব ধরনের হানাহানি ও বিদ্বেষ ভুলে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে হবে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. সানাউল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সফিউল্লাহর সঞ্চালনায় অভিভাবক সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক সৈয়দ আহমেদ খান।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, অভিভাবকদের দায়িত্ব, পড়াশোনার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় অংশ নেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খালিদ হোসেন, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, কাজী মো. ফরহাদ হোসেন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. মোজাম্মেল হক, মো. নবী নেওয়াজ, সাফায়েত হোসেন, আনিসুর রহমান, সফিউল আলম ভূঁইয়া, সার্জেন্ট মেজর নজরুল ইসলাম, সুমি রানী পাল, বিল্লাল হোসেন, এনামুল হক প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনে বিদ্যালয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নয়, একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ, সৃজনশীল, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
সমাবেশে অভিভাবকদেরও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের মানসিক বিকাশ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা শেষে বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ করা হয়।





























