তারকাদের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক
শাকিব-বুবলি-অপু প্রসঙ্গে অনসূয়া যূথিকার মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা
ফেসবুক পোস্টে শাকিব খান, অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মন্তব্য করেছেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট অনসূয়া যূথিকা। ছবি : আজকের কথা
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিব খান, অভিনেত্রী শবনম বুবলি ও অপু বিশ্বাসকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সামাজিক সচেতনতা বিষয়ক লেখক অনসূয়া যূথিকা।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি তারকাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিয়ে, বিচ্ছেদ ও পারিবারিক জীবন নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। পোস্টটিতে বিশেষভাবে শাকিব খান, শবনম বুবলি এবং অপু বিশ্বাসের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নিজের মতামত প্রকাশ করেন তিনি।
সম্পর্ক, বিয়ে ও তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সমালোচনামূলক পোস্ট ভাইরাল
পোস্টে অনসূয়া যূথিকা দাবি করেন, বাংলাদেশের বিনোদন জগতে তারকাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারিবারিক বিষয়গুলো প্রায়ই জনআলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। তিনি শবনম বুবলির মাতৃত্ব, অপু বিশ্বাসের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং শাকিব খানের একাধিক সম্পর্কের বিষয় নিয়ে সমালোচনামূলক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
একই সঙ্গে তিনি শাকিব খানের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্কের বিষয়ে নিজের মূল্যায়নও প্রকাশ করেন। তার ভাষ্যে, অভিনেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো বারবার আলোচনায় আসার পেছনে তারকা খ্যাতি ও জনপ্রিয়তারও ভূমিকা রয়েছে।
পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ অনসূয়া যূথিকার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন, আবার অনেকে এটিকে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেছেন।
অনসূয়া যূথিকার হুবহু ফেসবুক পোস্টটি হলো-
বিখাউজ টাইপের কিছু নারী আছে যাদের বিয়াইত্তা ব্যাডাই ভাল্লাগে৷ বাচ্চার বাপ হলে আরো ভালো, তারেই যেকোনো ভাবে বশ করতেই হবে৷ গ্রাম দেশে কাঁচা বাংলায় বলে কিছু মেয়ের *দার *লে ছেমা পালে, মানে হলো পিউবিক হেয়ারে তাদের উকুন থাকে। আরেক নারীর স্বামী সংসার তার দখলে নিতে হবেই। পারলে ওই নারীর বিয়ের শাড়ি গহনা পরেই তিনি বিয়ের পিঁড়িতে বসে যাবেন৷
আমাদের নাইকা বুবুলিকে আমার সেরকম লাগে। তার অভিনয় ক্ষমতার জোর সারাটা বছর জুড়ে মিডিয়ার কল্যাণে সবারই জানতে হয়। স্ত্রী হিসেবে সামাজিক স্বীকৃতির তোয়াক্কা না করেই দুইটা বাচ্চার জন্ম তিনি দিয়ে ফেলেছেন৷ তো তার স্বামী নামক পুরুষটি প্রকাশ্যেই বলছেন বুবলি তার প্রাক্তন, বর্তমান নন,হাহহহহ!!
আর আমাদের অপু রানী, তিনিও কিছু কম না মশকরা করার ক্ষেত্রে। সিনেমার পর্দার তার অভিনয় ক্ষমতার দাপট তো দেখা গেলো না এবার তিনি নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য শাকিব খানের বাহুলগ্না হলেন। যেকোনো প্রকারে গোপনে হলেও বিয়ে সারলেন!! যে পুরুষ কোনো নারীকে গোপনে বিয়ে করে তার মানসিকতা না বোঝার মতো বোকা অপু বিশ্বাস নন মোটেই। আবার তিনি নিজেই বলেছেন, একাধিক ভ্রুণ তিনি নস্ট করেছেন তার প্রাক্তন স্বামীর কথা মেনে!!
শরীর আপনার কিন্তু ভ্রুণ হত্যায় দায় হলো আরেকজনের??? অপু, বহু ছলেবলে নিজের পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তো সেটা তো তিনি আগেও করতে পারতেন! তার তো আসল উদ্দেশ্য ছিলো শাকিব খানের সন্তান জগতে আনতে পারলে তার জীবনের একটা গতি হয়, এর জন্য পিতৃপুরুষের ধর্ম ত্যাগ করতেও তার আটকায় নাই। অপু বিশ্বাস অভিনয়ে পারদর্শী বটে তবে সেটা সিনেমার পর্দায় না, বাস্তবে৷ যে সম্পর্কই নাই সেটাই দেখানোর আর প্রমাণের চেষ্টায় অভিনয় করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।
আমাদের শাকিব্বাই অভিনয় না পারুক, কথা বলার সময় বাংলা ভাষা নিয়ে ক্যারিকেচার করুক তবুও এদেশের একশ্রেণীর মানুষ তার প্রচন্ড ভক্ত৷ এরা সিনেমার কিচ্ছু বোঝে না, কিন্তু শাকিব্বাইয়ের ক্রেজ বোঝে। তার স্টারডম এদেশে এমনই যে একের পর এক নারীর সাথে অবলীলায় তিনি প্রেম করেন৷
আমার বিশ্বাস, শাকিব খান নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারে ভোগেন। সঙ্গে তার কমিটমেন্ট ফোবিয়াও আছেন৷ বারবার তিনি প্রেমে পড়েন, কিন্তু কোথাও তিনি স্হির হন না৷ এই যে এখন আবার বলেছেন, তার বাসা থেকে পাত্রী দেখা হচ্ছে। মানে হলো তিনি আরো একবার বিয়ে করতেও রাজী। তিন বাচ্চার বাপ, দুই নারীর প্রাক্তন স্বামী এই শাকিব্বাইকে বিয়ে করার জন্য বহু মেয়ে মুখিয়ে আছে৷ এই মেয়েগুলারও ব্যপক চুলকানি, বিয়াইত্তা ব্যাডারেই স্বামী বানাতে চায়। ব্যাডার এমনই স্টারডম, বিয়ে করবে আর ভাঙবে তবু তার প্রেমে পড়ার জন্য মেয়ের অভাব হবে না কখনোই।
বিনোদন বিশ্লেষকদের মতে, দেশের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জনমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগ্রহ নতুন নয়। তবে এ ধরনের আলোচনায় ব্যক্তিগত মর্যাদা ও গোপনীয়তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, শাকিব খান, অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলির সম্পর্ক, বিয়ে, সন্তান ও বিচ্ছেদ সংক্রান্ত বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ইস্যু হিসেবে রয়েছে।
কৃষি উন্নয়নে অংশীদারত্বের আহ্বান
বাজিতপুরে কৃষি ও গ্রামীণ রূপান্তর বিষয়ক পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে কৃষি ও গ্রামীণ রূপান্তরের মাধ্যমে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে আয়োজিত এ কংগ্রেসে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অংশীজন অংশগ্রহণ করেন।
বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাজিতপুর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জালাল উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ী, কিশোরগঞ্জের উপ-পরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. সাদিকুর রহমান বলেন, দেশের কৃষি খাতকে আধুনিক, লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, কৃষিকে টেকসই উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নিতে মাঠপর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন এবং বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাজিতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম। সভা পরিচালনা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শফিউল ইসলাম।
এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তন্ময় বিশ্বাস, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাসির উদ্দিন মুন্সী, উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।
আলোচনা সভায় কৃষির আধুনিকায়ন, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ, যুব উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রকল্পের সম্ভাবনা ও কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, কৃষি উন্নয়নকে আরও বেগবান করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বিত অংশীদারত্ব গড়ে তোলা সময়ের দাবি। কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও পুষ্টি সংবেদনশীল কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং টেকসই গ্রামীণ উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
কংগ্রেসে অংশগ্রহণকারী বক্তারা প্রকল্পের কার্যক্রম সফল বাস্তবায়নে সকল অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে কৃষি উন্নয়ন ও গ্রামীণ রূপান্তর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানানো হয়।
উন্নয়ন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা
সদরপুরে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা, উন্নয়ন ও জনসেবায় গুরুত্বারোপ
ফরিদপুরের নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার উন্নয়ন, জনসেবার মানোন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৪টায় সদরপুর উপজেলা পরিষদের দরবার হলে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া, সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন শাহ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাজী শামীম আহমেদসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, আলেম-ওলামা, ইমাম, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এর আগে দিনব্যাপী সফরে জেলা প্রশাসক উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি কুমার নদের ভাঙনপ্রবণ এলাকা ও নদী পুনর্খনন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
পরে তিনি উপজেলা ভূমি অফিস, নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ এবং নারিকেলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয় এবং শিক্ষা কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন তিনি।
সফরের অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য অনুদানের চেক প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে স্মার্ট নাগরিক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক।
এছাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সেবামূলক কার্যক্রমের প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন তিনি। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সুধীজন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সভায় বক্তারা উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন চাহিদার বিষয়গুলো জেলা প্রশাসকের সামনে তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক মনোযোগ সহকারে সবার বক্তব্য শোনেন এবং জনসেবাকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি সেবা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
মতবিনিময় সভা শেষে জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
৩ জেলার যোগাযোগ বন্ধ
পিরোজপুরে বেইলি ব্রিজ ভেঙে খালে পড়ল আলুভর্তি ট্রাক, ৩ জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
পিরোজপুরে বেইলি ব্রিজ ভেঙে খালে আলুভর্তি ট্রাক পড়ে যাওয়ার ঘটনায় পিরোজপুর, মঠবাড়িয়া ও বরগুনার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বুধবার (১০ জুন) ভোররাতে পিরোজপুর-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা-বরগুনা মহাসড়কের দেবীপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং হাজারো যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়ার তুষখালী এলাকার ব্যবসায়ী জাকির হোসেনের একটি আলুভর্তি ট্রাক ভোররাতে দেবীপুর বেইলি ব্রিজ অতিক্রম করার সময় হঠাৎ ব্রিজটি ধসে পড়ে। এতে ট্রাকটি সরাসরি খালে পড়ে যায়। তবে চালক ও হেলপারের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। অতিরিক্ত ওজনের পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে ব্রিজটির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে বেইলি ব্রিজটি ভেঙে পড়ে।
এই দুর্ঘটনার পর পিরোজপুর-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা-বরগুনা সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। জরুরি কাজে যাতায়াতকারী যাত্রীদের অনেককে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কপথ দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বেইলি ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় শুধু পিরোজপুর নয়, মঠবাড়িয়া ও বরগুনার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। খালে পড়ে থাকা ট্রাক উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পিরোজপুর সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল বলেন, “বেইলি ব্রিজ ভেঙে পড়ার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ট্রাক উদ্ধার ও ব্রিজ সংস্কারের কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।”
তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি।
এদিকে বেইলি ব্রিজ ধসের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।


















