তারকাদের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক
শাকিব-বুবলি-অপু প্রসঙ্গে অনসূয়া যূথিকার মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা

ফেসবুক পোস্টে শাকিব খান, অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মন্তব্য করেছেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট অনসূয়া যূথিকা। ছবি : আজকের কথা
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিব খান, অভিনেত্রী শবনম বুবলি ও অপু বিশ্বাসকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সামাজিক সচেতনতা বিষয়ক লেখক অনসূয়া যূথিকা।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি তারকাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিয়ে, বিচ্ছেদ ও পারিবারিক জীবন নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। পোস্টটিতে বিশেষভাবে শাকিব খান, শবনম বুবলি এবং অপু বিশ্বাসের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নিজের মতামত প্রকাশ করেন তিনি।
সম্পর্ক, বিয়ে ও তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সমালোচনামূলক পোস্ট ভাইরাল
পোস্টে অনসূয়া যূথিকা দাবি করেন, বাংলাদেশের বিনোদন জগতে তারকাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারিবারিক বিষয়গুলো প্রায়ই জনআলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। তিনি শবনম বুবলির মাতৃত্ব, অপু বিশ্বাসের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং শাকিব খানের একাধিক সম্পর্কের বিষয় নিয়ে সমালোচনামূলক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
একই সঙ্গে তিনি শাকিব খানের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্কের বিষয়ে নিজের মূল্যায়নও প্রকাশ করেন। তার ভাষ্যে, অভিনেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো বারবার আলোচনায় আসার পেছনে তারকা খ্যাতি ও জনপ্রিয়তারও ভূমিকা রয়েছে।
পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ অনসূয়া যূথিকার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন, আবার অনেকে এটিকে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেছেন।
অনসূয়া যূথিকার হুবহু ফেসবুক পোস্টটি হলো-
বিখাউজ টাইপের কিছু নারী আছে যাদের বিয়াইত্তা ব্যাডাই ভাল্লাগে৷ বাচ্চার বাপ হলে আরো ভালো, তারেই যেকোনো ভাবে বশ করতেই হবে৷ গ্রাম দেশে কাঁচা বাংলায় বলে কিছু মেয়ের *দার *লে ছেমা পালে, মানে হলো পিউবিক হেয়ারে তাদের উকুন থাকে। আরেক নারীর স্বামী সংসার তার দখলে নিতে হবেই। পারলে ওই নারীর বিয়ের শাড়ি গহনা পরেই তিনি বিয়ের পিঁড়িতে বসে যাবেন৷
আমাদের নাইকা বুবুলিকে আমার সেরকম লাগে। তার অভিনয় ক্ষমতার জোর সারাটা বছর জুড়ে মিডিয়ার কল্যাণে সবারই জানতে হয়। স্ত্রী হিসেবে সামাজিক স্বীকৃতির তোয়াক্কা না করেই দুইটা বাচ্চার জন্ম তিনি দিয়ে ফেলেছেন৷ তো তার স্বামী নামক পুরুষটি প্রকাশ্যেই বলছেন বুবলি তার প্রাক্তন, বর্তমান নন,হাহহহহ!!
আর আমাদের অপু রানী, তিনিও কিছু কম না মশকরা করার ক্ষেত্রে। সিনেমার পর্দার তার অভিনয় ক্ষমতার দাপট তো দেখা গেলো না এবার তিনি নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য শাকিব খানের বাহুলগ্না হলেন। যেকোনো প্রকারে গোপনে হলেও বিয়ে সারলেন!! যে পুরুষ কোনো নারীকে গোপনে বিয়ে করে তার মানসিকতা না বোঝার মতো বোকা অপু বিশ্বাস নন মোটেই। আবার তিনি নিজেই বলেছেন, একাধিক ভ্রুণ তিনি নস্ট করেছেন তার প্রাক্তন স্বামীর কথা মেনে!!
শরীর আপনার কিন্তু ভ্রুণ হত্যায় দায় হলো আরেকজনের??? অপু, বহু ছলেবলে নিজের পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তো সেটা তো তিনি আগেও করতে পারতেন! তার তো আসল উদ্দেশ্য ছিলো শাকিব খানের সন্তান জগতে আনতে পারলে তার জীবনের একটা গতি হয়, এর জন্য পিতৃপুরুষের ধর্ম ত্যাগ করতেও তার আটকায় নাই। অপু বিশ্বাস অভিনয়ে পারদর্শী বটে তবে সেটা সিনেমার পর্দায় না, বাস্তবে৷ যে সম্পর্কই নাই সেটাই দেখানোর আর প্রমাণের চেষ্টায় অভিনয় করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।
আমাদের শাকিব্বাই অভিনয় না পারুক, কথা বলার সময় বাংলা ভাষা নিয়ে ক্যারিকেচার করুক তবুও এদেশের একশ্রেণীর মানুষ তার প্রচন্ড ভক্ত৷ এরা সিনেমার কিচ্ছু বোঝে না, কিন্তু শাকিব্বাইয়ের ক্রেজ বোঝে। তার স্টারডম এদেশে এমনই যে একের পর এক নারীর সাথে অবলীলায় তিনি প্রেম করেন৷
আমার বিশ্বাস, শাকিব খান নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারে ভোগেন। সঙ্গে তার কমিটমেন্ট ফোবিয়াও আছেন৷ বারবার তিনি প্রেমে পড়েন, কিন্তু কোথাও তিনি স্হির হন না৷ এই যে এখন আবার বলেছেন, তার বাসা থেকে পাত্রী দেখা হচ্ছে। মানে হলো তিনি আরো একবার বিয়ে করতেও রাজী। তিন বাচ্চার বাপ, দুই নারীর প্রাক্তন স্বামী এই শাকিব্বাইকে বিয়ে করার জন্য বহু মেয়ে মুখিয়ে আছে৷ এই মেয়েগুলারও ব্যপক চুলকানি, বিয়াইত্তা ব্যাডারেই স্বামী বানাতে চায়। ব্যাডার এমনই স্টারডম, বিয়ে করবে আর ভাঙবে তবু তার প্রেমে পড়ার জন্য মেয়ের অভাব হবে না কখনোই।
বিনোদন বিশ্লেষকদের মতে, দেশের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জনমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগ্রহ নতুন নয়। তবে এ ধরনের আলোচনায় ব্যক্তিগত মর্যাদা ও গোপনীয়তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, শাকিব খান, অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলির সম্পর্ক, বিয়ে, সন্তান ও বিচ্ছেদ সংক্রান্ত বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ইস্যু হিসেবে রয়েছে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
রেলসেবা সংকটে দুর্ভোগে স্বল্প আয়ের মানুষ---
কুমিল্লা অঞ্চলে ১০ বছরে বন্ধ ১২ ট্রেন, সড়কে বাড়ছে যাত্রীচাপ

কখনো স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের অপেক্ষায় দীর্ঘ সারি, কখনো লোকাল ট্রেনে তিল ধারণের ঠাঁই নেই—কুমিল্লা অঞ্চলের রেলপথে একসময় এমন দৃশ্য ছিল নিত্যদিনের। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে লোকাল ও কমিউটার ট্রেন ছিল কম খরচে যাতায়াতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।
ইঞ্জিন ও কোচ সংকটের কারণে একের পর এক ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কুমিল্লা অঞ্চলের রেল যোগাযোগে তৈরি হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী সংকট। গত পাঁচ বছরে কুমিল্লা-চাঁদপুর, কুমিল্লা-নোয়াখালী ও কুমিল্লা-চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুটে একাধিক ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়েছে। আর গত ১০ বছরে কুমিল্লা ও লাকসাম অঞ্চলে প্রায় ১২টি ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট রেল কর্মকর্তা।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা আগে অল্প খরচে ট্রেনে কর্মস্থলে যাতায়াত করতেন, তাদের এখন বাধ্য হয়ে বাস, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন সড়ক পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে যেমন বেড়েছে যাতায়াত ব্যয়, তেমনি সড়কপথে বাড়ছে যাত্রীচাপ।
রেলওয়ের প্রকাশিত নথিতে কুমিল্লা-চাঁদপুর ও কুমিল্লা-নোয়াখালী রুটে কমিউটার ট্রেনের সেবা ও সময়সূচির তথ্য থাকলেও বাস্তবে এসব গুরুত্বপূর্ণ রুটে নিয়মিত ট্রেনসেবা না থাকায় যাত্রীদের ভরসা করতে হচ্ছে তুলনামূলক ব্যয়বহুল সড়ক পরিবহনের ওপর।
স্থানীয় যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেনের তালিকায় রয়েছে চাঁদপুর-কুমিল্লা রুটের চার জোড়া ডেমু ট্রেন, চাঁদপুর-ভৈরব লোকাল ১৬১/১৬২, নোয়াখালী-কুমিল্লা রুটের চার জোড়া ডেমু ট্রেন, নোয়াখালী-ঢাকা রুটের নোয়াখালী এক্সপ্রেস ১১/১২, সমতট এক্সপ্রেস ৪৫/৪৬, চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটের নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ৩৭/৩৮, চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের জালালাবাদ এক্সপ্রেস ১৩/১৪ এবং চট্টগ্রাম-কুমিল্লা রুটের দুই জোড়া ডেমু ট্রেন।
২০২৪ সালে কুমিল্লা অঞ্চলের রেল সংকট নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ট্রেন ও জনবল সংকটের কথা বলা হয়েছিল। নতুন ইঞ্জিন আসার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কথাও তখন উল্লেখ করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুটে নিয়মিত ট্রেনসেবা ফেরেনি।
প্রশ্ন উঠছে—ইঞ্জিন ও কোচের সংকট যদি দীর্ঘদিনের হয়, তাহলে স্বল্প দূরত্বের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য ট্রেনসেবা নিশ্চিত করতে রেলওয়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কোথায়?
একটি ট্রেনের ইঞ্জিন বা কোচ নষ্ট হলে তা মেরামত করা কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু দিনের পর দিন কোনো রুটের ট্রেন বন্ধ থাকলে বিষয়টি কেবল যান্ত্রিক সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তখন রেল ব্যবস্থাপনার তদারকি, রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং বিকল্প পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
লোকাল ট্রেন বন্ধের সবচেয়ে বড় অভিঘাত পড়ছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর। একজন শ্রমিক বা দিনমজুরের প্রতিদিনের কয়েক টাকা অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয়ও মাস শেষে বড় অঙ্কে পরিণত হয়। ট্রেনে কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ হারিয়ে এখন তাদের সড়কপথে বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যানজট, অতিরিক্ত ভিড় ও যাত্রার অনিশ্চয়তা। কুমিল্লা, লাকসাম, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কর্মজীবী মানুষ প্রতিদিন এক জেলা থেকে অন্য জেলা কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরমুখী হন। তাদের বড় একটি অংশের জন্য দ্রুত ও সাশ্রয়ী রেল যোগাযোগ কোনো বিলাসিতা নয়, বরং জীবনযাত্রার প্রয়োজন।

আগে ট্রেনে কম খরচে যাতায়াত করতে পারলেও এখন সড়কপথে বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যানজট ও অতিরিক্ত ভোগান্তিও রয়েছে।
লোকাল একটি ট্রেন বন্ধ হলে একসঙ্গে কয়েকশ বা কয়েক হাজার যাত্রীকে বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে রেল থেকে সড়কে যাত্রী স্থানান্তরের কারণে বাসসহ অন্যান্য সড়ক পরিবহনের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।

রেলের একটি ট্রেন বন্ধের প্রভাব শুধু রেলযাত্রীর ভোগান্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর চাপ গিয়ে পড়ে পুরো সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার ওপর। বিশেষ করে কুমিল্লা ও লাকসামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনকেন্দ্রে রেল ও সড়ক দুই মাধ্যমের সমন্বিত ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
তিনি আরও বলেন, রেলের সক্ষমতা কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই সড়কের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এতে যানজট, যাত্রার সময় ও মানুষের পরিবহন ব্যয় তিনটিই বাড়তে পারে।
কুমিল্লা জেলার লাকসাম জংশনের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুক ভূঁইয়া জানান, গত ১০ বছরে কুমিল্লা ও লাকসাম অঞ্চলে প্রায় ১২টি ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি ইঞ্জিন ও কোচ প্রস্তুত না থাকার কথা উল্লেখ করেন।
লাকসাম জংশন কুমিল্লার সিনিয়র স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুক ভূঁইয়া বলেন, “অতীতের তুলনায় রেলযাত্রী বাড়লেও রেলের সক্ষমতা বাড়েনি। অতীতে যখন ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ ছিল, তখনও ট্রেন চলেছে। এখন ঝুঁকিমুক্ত রেলপথ তৈরি হয়েছে, অথচ ট্রেন নেই। রেলপথের ব্যবহার না করেই এর সক্ষমতা হারাচ্ছে।”
রেল যোগাযোগের সক্ষমতা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের নির্ভরতা বাড়ছে সড়কপথে। এতে একদিকে যাত্রীদের ব্যয় ও ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে সড়ক পরিবহনের ওপর তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ।
কুমিল্লা অঞ্চলের দীর্ঘদিনের রেল সংকট নিরসনে বন্ধ ট্রেনগুলো পুনরায় চালু, পর্যাপ্ত ইঞ্জিন-কোচের ব্যবস্থা এবং জনবল সংকট দূর করার পাশাপাশি যাত্রী চাহিদার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনা
কুমিল্লায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে যাত্রীবাহী বাস, আহত ৮

কুমিল্লার চান্দিনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার দরিয়াপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী এভারগ্রীন পরিবহনের। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা এগিয়ে এসে বাসের যাত্রীদের উদ্ধার করেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত যাত্রীদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এ সময় বাসে থাকা আটজন যাত্রী আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ সুমন মিয়া বলেন, সকালে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে পানিতে একটি বাস পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে বাসের যাত্রীদের উদ্ধার করেন। তবে আহতদের কেউ গুরুতর অবস্থায় ছিলেন না বলে তিনি জানান।
বাসের যাত্রী কক্সবাজারের নাদিম আহমেদ বলেন, চালক দ্রুতগতিতে বাস চালাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে হঠাৎ বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায় এবং সেটি খাদে পড়ে যায়। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারে কাজ চলছে।
সুন্দরবনে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জনের আত্মসমর্পণ

অস্ত্র-গোলাবারুদ জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথে বনদস্যুরা
সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সক্রিয় সদস্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণের সময় তারা বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম কোস্ট গার্ডের কাছে জমা দেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় সব বনদস্যু নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২৯ বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার পর নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানায়, ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের কারণে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ফলে তারা আগের মতো দস্যুতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারছে না। এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ সক্রিয় ডাকাত সদস্য এর আগে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে ১টি এইট শুটার, ১টি সিক্স শুটার, ১টি ফোর শুটার, ১টি সাইড হেমার, ১টি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, ২টি এমথ্রি গ্যাস গান, ২টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ২টি ওয়ান শুটার, ২টি এয়ার গান, ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল বল, ৫ রাউন্ড ৮ মি.মি. তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগান গোলা, ৪টি পিস্তল ম্যাগাজিন, ২টি এয়ারগান ম্যাগাজিন এবং চার্জারসহ ৬টি ওয়াকিটকি জমা দেওয়া হয়।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬) খুলনা জেলার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া থানার বাসিন্দা।
অন্যদিকে শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজি (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা। এছাড়া আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা।
কোস্ট গার্ডের দাবি, আত্মসমর্পণকারী এসব সদস্য দীর্ঘদিন ধরে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থেকে সুন্দরবনে ডাকাতিসহ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
“জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন, মিডিয়া কর্মকর্তা, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
তিনি সুন্দরবনের সব সক্রিয় বনদস্যুকে অস্ত্র ও অপরাধের পথ ছেড়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান।
“আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন, মিডিয়া কর্মকর্তা, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
সুন্দরবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলে দীর্ঘদিনের দস্যুতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান ও আত্মসমর্পণের ঘটনায় জেলে, বাওয়ালি ও বনজীবীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



























