পঞ্চগড়ে ৫০ নদীর ইতিহাস খুঁজতে লেখক কর্মশালা
পঞ্চগড়ে ৫০ নদ-নদী নিয়ে গবেষণার মহাযজ্ঞ, লেখকদের দিনব্যাপী কর্মশালা
পঞ্চগড় জেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলা ৫০টি নদ-নদী নিয়ে গবেষণাধর্মী গ্রন্থ প্রকাশের লক্ষ্যে দিনব্যাপী লেখক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার নজরুল পাঠাগারের ভাষা ও বিতর্ক ক্লাবের সেমিনার কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রাণ-প্রকৃতি, পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন বিষয়ক সংগঠন ‘কারিগর’ এ গবেষণা ও গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদ এ উদ্যোগে সহযোগিতা করছে।
কর্মশালার উদ্বোধন করেন পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুমন চন্দ্র দাস। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন নদী ও ইতিহাস গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম, জেলা শিশু কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম খায়ের, লেখক ও গবেষক শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কারিগরের নির্বাহী পরিচালক সরকার হায়দার।
আয়োজকরা জানান, কর্মশালার মূল লক্ষ্য পঞ্চগড়ের নদ-নদীগুলোকে সচল ও জীবন্ত রাখতে গবেষণাভিত্তিক একটি সুসংহত উদ্যোগ গড়ে তোলা। এ গবেষণার মাধ্যমে নদ-নদীর অবস্থান সরেজমিনে চিহ্নিত করা, তাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য, মিথ, কৃষি ও অর্থনীতিতে অবদান, সভ্যতার বিকাশে প্রভাব, পরিবর্তনের ধারা ও কারণ অনুসন্ধান করা হবে।
এছাড়া নদীগুলো সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে করণীয় নির্ধারণ করে একটি কার্যকর রূপরেখা ও প্রস্তাবনা প্রণয়ন করা হবে। জেলার লেখক, গবেষক ও সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে নদ-নদী সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।
কর্মশালায় কবি, লেখক, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, আসামি ৮৮ জন
ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর লালমনিরহাটজুড়ে পুলিশের বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ১২
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের প্রকাশ্য ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে লালমনিরহাট জেলাজুড়ে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও কৃষক লীগের ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, প্রকাশ্যে মিছিল করার ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৪৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে জেলার পাঁচটি থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কালীগঞ্জ থানা এলাকা থেকে ভোটমারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি মোহাম্মদ আশরাফুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আজিজার রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. এরশাদুল হক, মো. আনোয়ার ও রিপন চন্দ্র রায় রয়েছেন।
পাটগ্রাম থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ছাত্রলীগ কর্মী শাহরিয়ার শামীম ও বুড়িমারী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি তুহিনুজ্জামান বাবুকে। হাতীবান্ধা থানা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ফকিরপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আদনান শুভকে। আদিতমারী থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে নজরুল ইসলামকে।
অন্যদিকে সদর থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে লতিফুর রহমান, সিফাত এবং সাবেক সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাপটিবাড়ী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. মোতালেব খন্দকারকে আটক করা হয়েছে।
লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন সুমা বলেন, “জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ছাত্রলীগের প্রকাশ্য মিছিলের ঘটনার পর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আহ্বান
সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার রোধে সচেতনতামূলক সভা
সুন্দরবনের নদী ও খালে বি প্রয়োগ করে মাছ ধরার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে সাতক্ষীরায় এক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বন বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় জেলেরা অংশগ্রহণ করেন।
শনিবার (৬ জুন) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ইরফান আলী।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আইয়ুব আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোছা. মাহমুদা খানম, ইউপি সদস্য মোছা. ফাতেমা খাতুন, বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম হাফেজ মো. রেজাউল করিম এবং সাবেক ইউপি সদস্য জিএম আব্দুল জলিল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আব্দুর রশিদ।
সভাপতির বক্তব্যে সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ইরফান আলী বলেন, “সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা শুধু আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ নয়, এটি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্যও মারাত্মক হুমকি। বিষের কারণে মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণীও মারা যায়, যা পুরো খাদ্যশৃঙ্খলকে বিপর্যস্ত করে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আইয়ুব আলী বলেন, “সুন্দরবন আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে জেলেদের বিষমুক্ত উপায়ে মাছ আহরণে উৎসাহিত করতে হবে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।”
সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মাহমুদা খানম বলেন, “সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকা টিকিয়ে রাখতে বন ও নদীর পরিবেশ রক্ষা অত্যন্ত জরুরি। বিষ দিয়ে মাছ ধরার প্রবণতা বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”
উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, “গণমাধ্যম সমাজকে সচেতন করার শক্তিশালী মাধ্যম। পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রচারণা ও সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে জনমত গড়ে তোলা সম্ভব।”
ইউপি সদস্য ফাতেমা খাতুন বলেন, “দ্রুত লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যক্তি বিষ দিয়ে মাছ ধরার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ প্রবণতা রোধে প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
খতিব ও ইমাম হাফেজ মো. রেজাউল করিম বলেন, “প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংস করা ইসলামের দৃষ্টিতেও অনুচিত। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।”
সাবেক ইউপি সদস্য জিএম আব্দুল জলিল বলেন, “বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করতে হলে নিয়মিত নজরদারি, আইন প্রয়োগ এবং বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।”
সভায় বক্তারা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, নদী ও জলজ সম্পদ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার বন্ধে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চৌদ্দগ্রামে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা
কুমিল্লায় দাঁড়িয়ে থাকা বাসে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, প্রাণ গেল দুই যুবকের
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসের পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় দুই যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ছুফুয়া এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, দ্রুতগতিতে চলা একটি মোটরসাইকেল মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মদিনা পরিবহনের একটি বাসের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসের পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় দুই যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে ছুফুয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মিয়াবাজার হাইওয়ে ক্রসিং থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও বাসটি জব্দ করা হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই বাসের চালক ও হেলপার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
মিয়াবাজার হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, নিহত দুই যুবকের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, মহাসড়কে অনিরাপদভাবে যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।















