বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

কিশোর গ্যাং দমনে রাতের অভিযানে ডিবি পুলিশের বড় সাফল্য— উদ্ধার দেশীয় অস্ত্রের ভাণ্ডার

রহমান শাহিন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৬ পিএম
কিশোর গ্যাং দমনে রাতের অভিযানে ডিবি পুলিশের বড় সাফল্য— উদ্ধার দেশীয় অস্ত্রের ভাণ্ডার

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান, পালিয়ে যায় গ্যাং সদস্যরা—অভিযান অব্যাহত

কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে হবিগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মোহনপুর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথভাবে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে একটি ঝোপের ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের নির্দেশনায় ডিবি ও সদর থানা পুলিশের একটি যৌথ টিম কিশোর গ্যাং সদস্যদের গ্রেফতার এবং তাদের ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করে।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে—২টি দেশীয় কুড়াল, ২টি লোহার হাতলযুক্ত লম্বা কিরিচ, ৩টি কাঠের হাতলযুক্ত রামদা, ১টি এসএস পাইপের হাতলযুক্ত কিরিচ, ১টি হাতলবিহীন রামদা, ৩টি লোহার পাইপ এবং ৩টি নীল রঙের লম্বা অ্যালুমিনিয়ামের পাইপ।

পুলিশের ধারণা, কিশোর গ্যাং সদস্যরা এসব অস্ত্র বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুদ করে রেখেছিল। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায় এবং অস্ত্রগুলো ফেলে রেখে যায়।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, পুলিশের এমন অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

এলাকার খবর

বিশ্ব বাঘ দিবস আজ: সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৪৪ এএম
বিশ্ব বাঘ দিবস আজ: সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার

আজ বিশ্ব বাঘ দিবস। একসময় চোরা শিকারি, বনদস্যু ও মানুষের হামলায় সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়েছিল। তবে কঠোর আইন প্রয়োগ, স্মার্ট পেট্রোলিং, ক্যামেরা ট্র্যাপ, ড্রোন নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে পরিস্থিতি এখন অনেকটাই বদলেছে। বাঘ হত্যা ও মানুষ-বাঘের সংঘাত কমলেও জলবায়ু পরিবর্তন, চোরা শিকার, পাচার এবং আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার মতো চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে।

আজ (২৯ জুলাই) বিশ্ব বাঘ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ শুধু একটি বিপন্ন প্রাণীকে রক্ষা নয়, বরং বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, জীববৈচিত্র্য এবং উপকূলীয় পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লড়াই।

বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে বাঘ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়। পরে ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে বাঘ হত্যা, পাচার ও অবৈধ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত হয়। এরপর থেকেই প্রযুক্তিনির্ভর সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করে বন বিভাগ।

বন বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শুমারিতে সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫টি। ২০১৪ সালে যেখানে ছিল ১০৬টি, ২০১৮ সালে ছিল ১১৪টি। ধারাবাহিক এই বৃদ্ধি সংরক্ষণ কার্যক্রমের ইতিবাচক ফল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে গত প্রায় আড়াই দশকে পূর্ব সুন্দরবনে অন্তত ৯১টি বাঘের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে চোরা শিকারিদের হাতে ২৬টি, বনদস্যুদের হাতে ১৮টি, গ্রামবাসীর পিটুনিতে ১৪টি, বার্ধক্যে ২১টি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিনটি বাঘ মারা গেছে। একই সময়ে বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪২৫ জন বনজীবী।

বন বিভাগের দাবি, স্মার্ট পেট্রোলিং, নিয়মিত টহল, ক্যামেরা ট্র্যাপ, ড্রোন নজরদারি ও বন অপরাধ দমনের ফলে ২০২৪ সালের পর থেকে সুন্দরবনে কোনো বাঘ হত্যা বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘিনী। প্রায় ছয় মাস চিকিৎসার পর গত ১২ জুলাই সেটিকে আবার সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়। বাঘিনীর চলাচল পর্যবেক্ষণে বনাঞ্চলের প্রায় আট কিলোমিটার এলাকায় ২০টি স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

বিশ্ব বাঘ দিবসের আগেই পূর্ব সুন্দরবনে তিন দিনের ব্যবধানে দুই দফা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেখা মেলে। চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র এবং শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী টাইগার পয়েন্ট এলাকায় বাঘের চলাচলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, নদী-খাল পেরিয়ে সাঁতার কেটে চলাচল করা বাঘের স্বাভাবিক আচরণের অংশ। তবে এত কাছ থেকে এমন দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সরকার সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। স্মার্ট পেট্রোলিং, ক্যামেরা ট্র্যাপ, বন অপরাধ দমন ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের ফলে বাঘ-মানুষের সংঘাত কমেছে। সম্প্রতি ক্যামেরা ট্র্যাপে নতুন তিনটি বাঘের ছবিও ধরা পড়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকায় বন অনেকটাই মানব কোলাহলমুক্ত। ফলে বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী স্বাভাবিক পরিবেশে বিচরণ করছে এবং বন অপরাধও কমেছে।

পরিবেশ সংগঠন ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’-এর প্রধান সমন্বয়কারী ড. নূর আলম শেখ বলেন, বন বিভাগ, স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশবাদী সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে। কারণ বাঘ বাঁচলে সুন্দরবন বাঁচবে, আর সুন্দরবন বাঁচলে উপকূলও নিরাপদ থাকবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. এ. আজিজ বলেন, শুধু আইন করলেই হবে না, বাঘ রক্ষায় হরিণসহ পুরো খাদ্যশৃঙ্খল সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ মানে শুধু একটি প্রাণী রক্ষা নয়; বরং বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, তার জীববৈচিত্র্য এবং উপকূলীয় পরিবেশকে টিকিয়ে রাখার লড়াই। তাই বিশ্ব বাঘ দিবসে তাদের আহ্বান—চোরা শিকার ও পাচার বন্ধ, বন ধ্বংস রোধ, খাদ্যশৃঙ্খল রক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।

কুমিল্লায় প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৬ পিএম
কুমিল্লায় প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি

কুমিল্লায় সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন সময়ে জব্দ করা প্রায় ৫২ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়িতে অবস্থিত বিজিবি ১০ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে এ মাদক ধ্বংস কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সরাইল রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।

বিজিবি সূত্র জানায়, কুমিল্লা ১০ বিজিবি এবং সুলতানপুর ৬০ বিজিবি গত তিন থেকে চার বছরে সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করে। জব্দকৃত এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫ টাকা।

অনুষ্ঠানে বিজিবির কর্মকর্তারা জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বাংলাদেশে মাদক পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সীমান্তজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবহার বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং নিয়মিত টহল কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হবে বলেও জানান তারা।

মাদক ধ্বংস কার্যক্রমে কুমিল্লা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রাকিবুল হাসান, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ, র‌্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলমসহ বিজিবি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মরা খালের আর্তনাদ: কুমিল্লার মুরাদনগরে হারিয়ে যাচ্ছে কাজিয়াতলের মাছ শিকারের শতবর্ষের ঐতিহ্য

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:১২ এএম
মরা খালের আর্তনাদ: কুমিল্লার মুরাদনগরে হারিয়ে যাচ্ছে কাজিয়াতলের মাছ শিকারের শতবর্ষের ঐতিহ্য

খালের বুকে আর নামে না জাল, শোনা যায় না মাছ ধরার উল্লাস—হারিয়ে যাচ্ছে কাজিয়াতলের শতবর্ষের ঐতিহ্য

একসময় যেই খালের ঢেউয়ের শব্দে মুখরিত থাকত পুরো গ্রাম। এখন সেই খালেরই কান্নার আর্তনাদ চোখে পড়ার মতো। বর্ষা এলেই শত শত মানুষ খড়া জাল, বেড় জাল, খাঁটি আর পলো হাতে নেমে পড়তেন মাছ ধরার উৎসবে। শিশুদের হাসি, জেলেদের ব্যস্ততা আর গ্রামবাসীর মিলনমেলায় প্রাণ ফিরে পেত কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৯ নম্বর দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল গ্রাম। অথচ আজ সেই খাল নীরব। পানির জায়গা দখল করেছে ঘাস-ঝোপ, আর মাছের রাজত্ব পরিণত হয়েছে শুকনো স্মৃতিতে।

গ্রামের পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্যবাহী খালটি একসময় ছিল এলাকার প্রাণ। বছরের প্রায় সব সময়ই এতে থাকত পর্যাপ্ত পানি। বর্ষাকালে খালটি ধারণ করত ভয়াল অথচ মনোমুগ্ধকর রূপ। স্রোতের বেগে পানির গর্জন শোনা যেত দূর থেকে। শুধু মাছের আধারই নয়, এই খাল ছিল স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা, সংস্কৃতি, বিনোদন ও সামাজিক সম্প্রীতির অন্যতম কেন্দ্র।

প্রবীণদের ভাষ্যমতে, মাছ ধরা ছিল শুধু একটি কাজ নয়—এটি ছিল গ্রামীণ উৎসব। খালের দুই পাড়ে জড়ো হতো শত শত মানুষ। কেউ জাল ফেলতেন, কেউ পলো চালাতেন, কেউ আবার ধরা মাছ ভাগাভাগি করে বাড়ি ফিরতেন। শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস, নারীদের আনন্দ আর প্রবীণদের গল্পে মুখর থাকত পুরো এলাকা। সেই দৃশ্য আজ আর কোথাও দেখা যায় না।

সময়ের পরিবর্তন, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব, অপরিকল্পিত ভরাট, দখল এবং দীর্ঘদিনের অবহেলায় খালটি আজ মৃতপ্রায়। আগের মতো পানি জমে না, নেই মাছের প্রাকৃতিক আবাস। ফলে বিলুপ্তির পথে শুধু জলজ সম্পদ নয়, হারিয়ে যাচ্ছে একটি জনপদের শতবর্ষের লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিও।

গ্রামের প্রবীণ জেলে শ্রী শম্ভু নাথ চন্দ্র দাস চোখে-মুখে আক্ষেপের ছাপ নিয়ে বলেন, “একসময় এই খালে এত মাছ ছিল যে জাল ফেললেই উঠে আসত। এখন খালেই পানি থাকে না, মাছও নেই। আগের মতো গ্রামের মানুষ একসঙ্গে মাছ ধরার আনন্দও আর উপভোগ করতে পারে না। সবকিছুই যেন স্মৃতি হয়ে গেছে।”

খালের পাড়ের বাসিন্দা হোসনেয়ারা বেগম, জাহানারা বেগমমনোয়ারা বেগম বলেন, “এই খালের সঙ্গে আমাদের শৈশব জড়িয়ে আছে। ছোটবেলায় সবাই মিলে মাছ ধরতাম, কত আনন্দ করেছি! এখন সেই খালে আর পানি নেই। সেখানে ঘাস জন্মেছে। সেই ঘাস গরু-ছাগলের জন্য কেটে নিয়ে যাই। খালের পাড় থেকে বিভিন্ন দেশীয় শাক-লতাপাতাও সংগ্রহ করি। কিন্তু খালের সেই প্রাণ আর নেই।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, খালটি রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরেই কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নিয়মিত খনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে খালটি আবারও প্রাণ ফিরে পেতে পারে বলে মনে করছেন তারা। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং পানি উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পরিবেশবিদদের মতে, একটি খাল শুকিয়ে যাওয়া মানে শুধু একটি জলাধার হারিয়ে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে বিলীন হয় জীববৈচিত্র্য, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, স্থানীয় অর্থনীতি এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। তাই এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে কাজিয়াতলের এই ঐতিহ্যবাহী খাল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কেবল ইতিহাসের পাতায় কিংবা প্রবীণদের স্মৃতিচারণেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

মরা খালটি আজ যেন নীরবে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে—উন্নয়নের নামে আমরা কি আমাদের শেকড়, প্রকৃতি ও ঐতিহ্যকে ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছি?

×
CLOSE X