বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

দেবীদ্বারে ভোররাতে বাস থামিয়ে ডাকাতি

ডিবি পরিচয়ে জিরা লুট, ৫২০ কেজি মালামাল উদ্ধারসহ আটক ৩

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৫:৩৪ পিএম
ডিবি পরিচয়ে জিরা লুট, ৫২০ কেজি মালামাল উদ্ধারসহ আটক ৩

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • জিরা লুট করে পালানোর সময় কুমিল্লার দেবীদ্বারে ডিবি পুলিশ পরিচয়ধারী সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
  • তাদের দেওয়া তথ্যে অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া ৫২০ কেজি জিরার সম্পূর্ণ চালান উদ্ধার করা হয়েছে।
  • শনিবার (৯ মে) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশ তিন ডাকাতকে আটক করে।

জিরা লুট করে পালানোর সময় কুমিল্লার দেবীদ্বারে ডিবি পুলিশ পরিচয়ধারী সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যে অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া ৫২০ কেজি জিরার সম্পূর্ণ চালান উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (৯ মে) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশ তিন ডাকাতকে আটক করে। আটকরা হলেন দেবীদ্বার পৌর এলাকার দক্ষিণ ভিংলাবাড়ি গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে মো. নাজমুল হাসান (২৮), রুহুল আমীনের ছেলে মো. মাসুক ওরফে মনা (২৬) এবং খলিলপুর গ্রামের মৃত আবুল হাশেমের ছেলে মো. জুয়েল (৩০)।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৮ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার পৌর এলাকার পানুয়ারপুল বাসস্ট্যান্ডে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সিলেট থেকে নোয়াখালীগামী “লাল সবুজ” পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস সেখানে পৌঁছালে ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল বাসটির গতিরোধ করে।

সাদা পোশাকে থাকা চক্রের সদস্যরা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দেয়। তারা ভুয়া আইডি কার্ড দেখিয়ে বাসে মাদক রয়েছে দাবি করে তল্লাশির নামে যাত্রীদের আতঙ্কিত করে। পরে বাসে থাকা ৩০ কেজি ওজনের ১৪টি জিরার বস্তা জব্দের কথা বলে নিয়ে যায়। এ সময় বাধা দিলে বাসের স্টাফ ও কয়েকজন যাত্রীকে মারধরের অভিযোগও ওঠে।

লুট হওয়া মালামালের মালিক নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলার মুছাপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. মাহমুদুল হাসান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ অভিযান শুরু করে। পরে আটক তিনজনের দেওয়া তথ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ভোলাচং বাজারে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন দোকান থেকে উদ্ধার করা হয় ১৪ বস্তা জিরা।

ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের জিরার চালান ডাকাতি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় আটক তিনজনসহ অজ্ঞাত ১২ থেকে ১৩ জনকে আসামি করে দেবীদ্বার থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সিলেট আম্বরখানা এলাকার “সিলেট বাজার” এর মালিক মো. জাকির হোসেন বলেন, পরিবহনের মাধ্যমে পাঠানো ১৪ বস্তা জিরার মোট ওজন ছিল ৫২০ কেজি। পুরো চালান উদ্ধার হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. ঈমাম হোসেন জানান, আটক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে ডাকাতদের গ্রেফতার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

জিরা লুট ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেবীদ্বার সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মো. শাহীন।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

স্বামীর দাফনের ছয় ঘণ্টা পর স্ত্রীর মৃত্যু

অগ্নিকাণ্ডে দেবীদ্বারের স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, পাশাপাশি দাফন

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৫ পিএম
অগ্নিকাণ্ডে দেবীদ্বারের স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু, পাশাপাশি দাফন

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ভাড়া বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে দেবীদ্বারের স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। স্বামী খোকন সরকার (৫৪) মারা যাওয়ার ছয় ঘণ্টার মধ্যে তাঁর স্ত্রী ফজিলত বেগমের (৪০)ও মৃত্যু হয়েছে। পরে স্বামীর কবরের পাশেই স্ত্রীকে দাফন করা হয়।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফজিলত বেগম মারা যান। এর আগে একই দিন সকালে গ্রামের বাড়িতে স্বামী খোকন সরকারের মরদেহ দাফন করা হয়।

নিহত খোকন সরকার কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ১০ নম্বর গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের উজানীকান্দি গ্রামের প্রয়াত আব্দুল গয়ফুরের দ্বিতীয় ছেলে। তাঁর স্ত্রী ফজিলত বেগম পাশের উজানীজোড়া গ্রামের নানু মিয়া খন্দকারের মেয়ে।

খোকন ও ফজিলত দম্পতি নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকার জাহীন গার্মেন্টসে পোশাকশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তাঁদের দুই সন্তান—ইউসুফ সরকার (২০) ও খাদিজা আক্তার (১৮)। অগ্নিকাণ্ডের সময় সন্তানরা গ্রামের বাড়িতে ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডে দেবীদ্বারের দুই পোশাকশ্রমিকের মৃত্যুর খবরটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এই কঠিন সময়ে অসহায় পরিবারটির পাশে উপজেলা প্রশাসন থাকবে। তাঁদের সরকারি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অশোক বিক্রম চাকমা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), দেবীদ্বার, কুমিল্লা

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার মুরাদপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে খোকন ও ফজিলত গুরুতর দগ্ধ হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের আইসিইউতে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মারা যান খোকন সরকার। বুধবার সকালে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ি উজানীকান্দিতে আনা হয়। বাদ জোহর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

স্বামীর দাফন শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিবারের কাছে আসে আরও একটি শোকের সংবাদ। বুধবার বিকেল ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফজিলত বেগম। স্বামীকে দাফনের পরপরই স্ত্রীর মৃত্যুর খবরে স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।

মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর এমন করুণ মৃত্যুতে উজানীকান্দি ও উজানীজোড়া গ্রামে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় ফজিলত বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্বামী খোকন সরকারের কবরের পাশেই তাঁকে দাফন করা হয়েছে।

দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে দেবীদ্বারের দুই পোশাকশ্রমিকের মৃত্যুর খবরটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এই কঠিন সময়ে অসহায় পরিবারটির পাশে উপজেলা প্রশাসন থাকবে। তাঁদের সরকারি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অস্ত্রের মুখে এক লাখ টাকা দাবি

নোয়াখালীতে অটোরিকশা চালককে তুলে নিয়ে গুলি, টাকা-মোবাইল ছিনতাই

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
নোয়াখালীতে অটোরিকশা চালককে তুলে নিয়ে গুলি, টাকা-মোবাইল ছিনতাই

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আহত হয়েছেন রাব্বি হোসেন রাকিব (২২)।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বর্দি গ্রামের চুল্লার বাড়ির পেছনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত রাকিব আলাইয়াপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট সোনাইমুড়ী গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে।

ভুক্তভোগী রাকিবের অভিযোগ, রাতে চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজার থেকে বাজার করে স্থানীয় হায়দার বাড়ির দরজায় ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন তিনি। পথে আলাইয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংলগ্ন এলাকায় একদল অস্ত্রধারী তার অটোরিকশার গতিরোধ করে।

পরে অস্ত্রের মুখে তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের পাশে চুল্লার বাড়ির পেছনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আলমগীর (৩০), রাজন (২৮), রিপন (২১) ও আলম (২৮) নামে চারজন তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন রাকিব।

তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার কাছ থেকে নগদ ১ হাজার ৫০০ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তার ডান পায়ের হাঁটুর পাশে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে পাশের একটি ডোবায় লাফ দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান রাকিব। পরে তিনি চিকিৎসা নেন বলে জানা গেছে।

এক ব্যক্তির শরীরে ২.২ বোরের ছোট একটি গুলি লাগার খবর পেয়েছি। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো. হাবীবুর রহমান
পরিদর্শক (তদন্ত), বেগমগঞ্জ থানা, নোয়াখালী

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, এক ব্যক্তির শরীরে ২.২ বোরের ছোট একটি গুলি লাগার খবর তারা পেয়েছেন। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার

দেবীদ্বারে ফরিদা হত্যা: ৩ দিনের রিমান্ড শেষে লাইলী কারাগারে

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম
দেবীদ্বারে ফরিদা হত্যা: ৩ দিনের রিমান্ড শেষে লাইলী কারাগারে

কুমিল্লার দেবীদ্বারে চাঞ্চল্যকর ফরিদা ইয়াসমিন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার লাইলী আক্তারকে (৩৭) তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন তিনি। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ জানায়, গত কয়েকদিন ধরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং লাইলী আক্তারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরে ফরিদা ইয়াসমিনের বাসা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, হত্যার পর মরদেহটি ৫০টিরও বেশি খণ্ডে বিভক্ত করে ১৪টি পলিথিনের ব্যাগে ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। মাথা ও পা-সহ মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ছাড়া গত সোমবার ও মঙ্গলবার (১০ ও ১১ আগস্ট) পৃথক অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা, মরদেহ কাটার কাজে ব্যবহৃত কাঠের গুঁড়ি, নিহতের ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে লাইলী আক্তার একাধিক ব্যক্তির নাম বলেছিলেন। তবে তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে একজন প্রবাসে রয়েছেন, আরেকজন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, নিজের দায় কমানোর কৌশল হিসেবেই লাইলী অন্যদের নাম বলে থাকতে পারেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় একাই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন লাইলী। ফরিদা ইয়াসমিন ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বাথরুমে নিয়ে দা ও কাঠের গুঁড়ি ব্যবহার করে খণ্ডিত করা হয়। এরপর খণ্ডিত অংশগুলো পলিথিনের ব্যাগে ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

সিসিটিভি ফুটেজে হত্যাকাণ্ডের পর সকালে লাইলীকে স্বাভাবিকভাবে একটি ব্যাগ হাতে বাসা থেকে বের হতে দেখা যায়। পরে ওই ব্যাগে থাকা মরদেহের একটি অংশ বাসার অদূরে ফেলে যাওয়ার তথ্যও পেয়েছে পুলিশ।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, স্বর্ণালংকার ও অর্থ লুটের উদ্দেশ্যেই লাইলী হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তিনি বলেন, অন্য কেউ জড়িত থাকলে আলমারিতে থাকা প্রায় ৭ লাখ টাকা ও ১০ ভরির বেশি স্বর্ণ ফেলে যাওয়ার কথা নয়। একইভাবে মরদেহের খণ্ডিত অংশ সরাতেও সহযোগিতার প্রয়োজন হতো। তবে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া আলামত ও লাইলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একাই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে।

স্বর্ণালংকার ও অর্থ লুটের লোভেই লাইলী এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। অন্য কেউ জড়িত থাকলে আলমারিতে থাকা ৭ লাখ টাকা ও ১০ ভরিরও বেশি সোনা ফেলে যেত না। এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া আলামত ও তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একাই পুরো ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।
মো. মনিরুজ্জামান
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), দেবীদ্বার থানা, কুমিল্লা

তদন্তে আরও জানা গেছে, লাইলী আক্তার চাপানগর গ্রামের ট্রাক্টরচালক আবুল কালামের স্ত্রী। পারিবারিক বিরোধের কারণে তিনি ফরিদা ইয়াসমিনের বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২১ সালে পরকীয়া-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি শিশু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান লাইলী। ওই মামলার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট রাতে দেবীদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরদিন ৮ আগস্ট বিকেলে ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকার মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার বাসা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধারের পর ঘটনাটি সামনে আসে। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং একপর্যায়ে লাইলী আক্তারকে গ্রেপ্তার করে।

×
ENG