পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
দেবীদ্বারে পুলিশ-স্থানীয়দের সংঘর্ষ, ভাঙচুরের অভিযোগে উত্তেজনা

দেবীদ্বারের শিবপুর গ্রামে পুলিশের অভিযানের পর ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও আহত এক নারী। ছবি : আজকের কথা
কুমিল্লার দেবীদ্বারে অভিযোগের তদন্তে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় এক এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। অন্যদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ অন্তত পাঁচটি বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং নারীসহ কয়েকজনকে মারধর করেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার ইউছুফপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে।
শুক্রবার (২২ মে) সরেজমিনে গিয়ে কয়েকটি বাড়ির দরজা-জানালা, আসবাবপত্র, রান্নাঘর ও মাটির চুলা ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা যায়। রান্না করা খাবার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিবেশী আকলিমা আক্তারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে এসে রাসেল ও আইয়ুব নামে দুজনকে আটক করতে গেলে স্থানীয় সফিকুল ইসলাম সঠিক তদন্তের আহ্বান জানান। এ সময় পুলিশ তাকে লাঠিপেটা করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সফিকুল ইসলামের স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।
এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে দেবীদ্বার থানার এসআই আবু তাহেরসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরে বিকেলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য এলাকায় গিয়ে অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা চালায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের না পেয়ে পুলিশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এ সময় রান্নাঘর, দরজা-জানালা, আসবাবপত্র ও রান্না করা খাবার নষ্ট করা হয়।
স্থানীয় আব্দুল আলীম অভিযোগ করেন, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। তিনি দাবি করেন, বেড়াতে আসা তিন নারী অতিথিসহ কয়েকজনকে মারধর করে থানায় নেওয়া হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে এসআই আবু তাহের বলেন, প্রতিবেশীর চলাচলের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ তদন্তে গিয়ে তারা স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়েছেন। তবে বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযোগ তদন্তে গেলে স্থানীয়দের হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। তিনি আরও বলেন, আসামি ধরতে গিয়ে দরজা খোলার জন্য লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল, তবে পরিকল্পিত ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি।
ওসি জানান, ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে থানায় আনা হলেও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিন নারী অতিথিসহ কয়েকজনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বন্যপ্রাণী সেবার উদ্ধার অভিযান
চা পাতা তুলতে গিয়ে অজগর, শ্রীমঙ্গলের চা বাগানে আতঙ্ক

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার একটি চা বাগানে চা পাতা সংগ্রহের সময় একটি অজগর সাপ দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শ্রমিকরা। নিরাপত্তার স্বার্থে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরে বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটি উদ্ধার করেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন ভুরভুরিয়া চা বাগানের সেক্টর-৯ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রমিকরা নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে চা পাতা সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় ঝোপের মধ্যে একটি বড় আকৃতির অজগর সাপ দেখতে পেয়ে তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা দ্রুত কাজ বন্ধ করে বাগান কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে চা বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমান বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপদে অজগর সাপটি উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকৃত অজগরটি পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা জানান, বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
কৃষিজমি রক্ষায় কঠোর অভিযান
দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযানে ২টি ড্রেজার ধ্বংস, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

কৃষিজমি, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় কুমিল্লার দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে দুটি অবৈধ ড্রেজার মেশিন ও প্রায় ২ হাজার ৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিনের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রথমে উপজেলার তুলাগাঁও গ্রামে অভিযান চালিয়ে একটি অবৈধ ড্রেজার এবং প্রায় এক হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়। পরে রামের দিঘিরপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনার দায়ে মো. আব্দুস ছামাদকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর ব্যবহৃত আরও একটি ড্রেজার এবং প্রায় এক হাজার ৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে কৃষিজমির মাটি কাটার কারণে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়ছিল। নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হলে অবৈধ ড্রেজার ব্যবহার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, কৃষিজমি ধ্বংস, খাল-বিল ও জলাশয়ের ক্ষতি এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এমন কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। জনস্বার্থে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
গোরস্তানে প্রতিবাদে হামলা
দেবীদ্বারে কবর খুঁড়তে গিয়ে হামলার শিকার বৃদ্ধ, কিশোর গ্যাং সদস্যের বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে কবর খুঁড়তে গিয়ে গোরস্তানে এক কিশোরী ও দুই কিশোরকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে প্রতিবাদ করার জেরে এক বৃদ্ধকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ভূষণা গ্রামের মজিব কমিশনার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে কর্মরত শহিদুর রহমান (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। সেই উদ্দেশ্যে স্বজন সফিকুল ইসলাম (৭০) কবর খুঁড়তে গিয়ে কবরস্থানের এক পাশে এক কিশোরী ও দুই কিশোরকে দেখতে পান। তিনি তাদের সেখান থেকে সরে যেতে বললে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় দেবীদ্বারের কথিত ‘রেড ৯৯৯’ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে পরিচিত রামিম (১৭) সফিকুল ইসলামের ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে তাঁর বাম হাতে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে আহত সফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক তাঁর হাতে ছয়টি সেলাই দিয়েছেন।
আহত সফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি কবর খুঁড়তে গিয়ে কয়েকজনকে কবরস্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থায় দেখে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পর এক কিশোর তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে থাকা কিশোরীকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেয়।
দেবীদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তানভির জানান, অভিযুক্ত রামিমকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানেও তাঁর এক সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আহত ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ বা মামলা করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।





















