রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

দেবীদ্বারের গর্বিত নাম

যুদ্ধের ময়দান থেকে শিক্ষার আলোয়: ক্যাপ্টেন সুজাত আলীর অনুকরণীয় যাত্রা

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
ক্যাপ্টেন সুজাত আলী

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাবেক সংসদ সদস্য ও শিক্ষানুরাগী ক্যাপ্টেন (অব.) সুজাত আলী—দেবীদ্বারের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • যুদ্ধের ময়দান থেকে শিক্ষার আলোয়: ক্যাপ্টেন সুজাত আলীর অনুকরণীয় যাত্রা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক রাজনীতি এবং শিক্ষা বিস্তারের ইতিহাসে কিছু মানুষের নাম প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়।
  • তেমনই এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের গৌরসার গ্রামের কৃতি সন্তান ক্যাপ্টেন (অব.) সুজাত আলী।
  • তিনি ছিলেন একাধারে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাবেক সংসদ সদস্য, শিক্ষানুরাগী ও জননেতা।

যুদ্ধের ময়দান থেকে শিক্ষার আলোয়: ক্যাপ্টেন সুজাত আলীর অনুকরণীয় যাত্রা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক রাজনীতি এবং শিক্ষা বিস্তারের ইতিহাসে কিছু মানুষের নাম প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। তেমনই এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের গৌরসার গ্রামের কৃতি সন্তান ক্যাপ্টেন (অব.) সুজাত আলী। তিনি ছিলেন একাধারে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাবেক সংসদ সদস্য, শিক্ষানুরাগী ও জননেতা। কর্মময় জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি রেখে গেছেন দেশপ্রেম, নেতৃত্ব ও জনসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত।

১৯২৬ সালে দেবীদ্বারের ঐতিহ্যবাহী এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সুজাত আলী। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, সাহসী ও নেতৃত্বগুণে উজ্জ্বল। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন এবং সেখান থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনেই দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি তার মধ্যে বিকশিত হতে শুরু করে।

দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯৪৩ সালে তিনি রয়েল ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সে যোগ দেন। পরে রয়েল ইন্ডিয়ান আর্মি এবং দেশ বিভাগের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক জীবনে দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের জন্য তিনি বিভিন্ন সম্মাননা ও স্বীকৃতি লাভ করেন। তবে তার প্রকৃত পরিচয় গড়ে ওঠে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার মধ্য দিয়ে।

ষাটের দশকের শেষ দিকে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করেন। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে নবীন রাষ্ট্রের পুনর্গঠন ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসেও ক্যাপ্টেন সুজাত আলীর অবদান অত্যন্ত গৌরবময়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি সক্রিয়ভাবে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পালাতানা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধের কঠিন সময়ে তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তাদের মনোবল দৃঢ় রাখার ক্ষেত্রে তার অবদান ছিল অসামান্য।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি চান্দিনা অঞ্চলে সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন শরণার্থী শিবির ও যুব শিবিরে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে মুক্তিযুদ্ধকে আরও বেগবান করেন। স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের নেতৃত্বও দেন তিনি। তার সাহসিকতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দেশপ্রেম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে আছে।

রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তারেও ছিল তার অসামান্য অবদান। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার বিকল্প নেই। সেই চিন্তা থেকেই প্রতিষ্ঠা করেন দেবীদ্বার এস.এ. সরকারি কলেজ। তার দূরদর্শী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজ হাজারো শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে। দেবীদ্বারসহ আশপাশের অঞ্চলের অসংখ্য শিক্ষার্থী এই কলেজ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে দেশ-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।

জনসেবাকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করা এই মানুষটি ছিলেন অত্যন্ত সাদামাটা, মানবিক ও জনবান্ধব। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করার জন্য তিনি সর্বস্তরের মানুষের কাছে ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়।

দীর্ঘ কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে ২০০৭ সালের এপ্রিলে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরে ৮১ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। পরে তার মরদেহ দেশে এনে তারই প্রতিষ্ঠিত দেবীদ্বার এস.এ. সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুর পরও তিনি বেঁচে আছেন তার কর্ম, আদর্শ এবং অবদানের মধ্য দিয়ে।

ক্যাপ্টেন (অব.) সুজাত আলী ছিলেন এমন এক ব্যক্তিত্ব, যার জীবনগাথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জনসেবা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং শিক্ষা বিস্তারের এক অনন্য সমন্বয়। এলাহাবাদ ইউনিয়নের এই কৃতি সন্তান শুধু দেবিদ্বার বা কুমিল্লার গর্ব নন, তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসেরও এক উজ্জ্বল অধ্যায়। নতুন প্রজন্মের কাছে তার জীবন ও কর্ম দেশপ্রেম, সততা এবং জনকল্যাণে আত্মনিয়োগের এক অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

মুরাদনগরে ঘুস-চাঁদা চলবে না, চাইলে থানায় সোপর্দ: ধর্মমন্ত্রী

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৮ এএম
মুরাদনগরে ঘুস-চাঁদা চলবে না, চাইলে থানায় সোপর্দ: ধর্মমন্ত্রী

‘চাঁদাবিহীন, ঘুষবিহীন ও দুর্নীতিমুক্ত’ মুরাদনগর গড়ার ঘোষণা

মুরাদনগরে চাঁদাবাজি, ঘুস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, মুরাদনগরে কাউকে চাঁদা বা ঘুস দিতে হবে না। কেউ চাঁদা বা ঘুস দাবি করলে তাকে থানায় সোপর্দ করতে হবে, অথবা সরাসরি তাকে জানাতে হবে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর-বাঞ্ছারামপুর সড়কের মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর অংশের উন্নয়নকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির উন্নয়নকাজ করা হচ্ছে।

দৈনিক আজকের কথা
মুরাদনগরে কেউ চাঁদা বা ঘুস চাইলে তাকে থানায় সোপর্দ করবেন, না হয় আমাকে জানাবেন।
— কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ
ধর্মমন্ত্রী ও কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সংসদ সদস্য

ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘যে ভাই ঠিকাদারের কাজ পেয়েছেন, তাঁকে অনুরোধ করব, সড়কের কাজটা সঠিকভাবে করবেন। মুরাদনগরের কাউকে চাঁদা দিতে হবে না, কাউকে ঘুস দিতে হবে না। যদি কেউ চাঁদা চায়, ঘুস চায়, তাকে থানায় সোপর্দ করবেন। না হয় আমাকে জানাবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘মুরাদনগর হবে চাঁদাবিহীন, ঘুষবিহীন ও দুর্নীতিমুক্ত।’

সড়কের নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কায়কোবাদ বলেন, ঠিকাদারকে ভালোভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে। সড়কটি মানসম্মতভাবে নির্মাণ করা হলে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন। পাশাপাশি উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে কি না, সেদিকেও সবাইকে নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।

মুরাদনগরের বিভিন্ন সড়ক সংস্কার ও প্রশস্ত করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আমাদের তারেক রহমান সাহেব প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বলেই আজ এ সড়কটির সংস্কারকাজ হচ্ছে।’ গত কয়েক মাসে মুরাদনগরে বেশ কয়েকটি সড়ক সংস্কার ও প্রশস্ত করার সুযোগ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে কায়কোবাদ বলেন, ‘আপনারা আবার আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। আল্লাহ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারা আমাকে মাননীয় মন্ত্রী বলবেন না, আমি আপনাদের কামলা। ছয়বার আমাকে নির্বাচিত করেছেন আপনাদের কাজ করার জন্য। আমি আপনাদের কাজ করে যাচ্ছি, কাজ করে যাব যতদিন পর্যন্ত আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা।

উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য মোল্লা গোলাম মহিউদ্দিন, বিএনপি নেতা শরীফ আহমেদ মীর, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভুঁইয়া, সদস্য সচিব মোল্লা মজিবুল হক, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সৈয়দ হাসান আহমেদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বাদশা, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খায়রুল হাছান প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, সদস্য সোহেল আহমেদ বাবু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি চৌধুরী রকিবুল হক শিপন, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি নায়েব আলী, বিএনপি নেতা মো. মাহমুদ, মারফত আলী, ওমর ফারুক সোহাগ, মো. আলী, ইকবাল হোসেন, ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আমপাল গ্রামের সোনিয়া সরকার নিপা কুমিল্লার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১০ এএম
আমপাল গ্রামের সোনিয়া সরকার নিপা কুমিল্লার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬-এর জেলা পর্যায়ের বাছাইয়ে কুমিল্লার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন মুরাদনগর উপজেলার আমপাল গ্রামের সোনিয়া সরকার নিপা। তিনি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে সোনিয়া সরকার নিপাকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে মনোনীত করা হয়। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর তিনি আদর্শ সদর উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে উপজেলা পর্যায়ে মনোনীত করেন।

সোনিয়া সরকার নিপার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার আমপাল গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের বীর মুক্তিযুদ্ধা মরহুম দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। ২০১৩ সালে আমপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে ২০১৯ সালে স্বামীর ঠিকানার সূত্রে কুমিল্লা নগরের বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি সামাজিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সক্রিয় সোনিয়া সরকার নিপা। তিনি জেলা পর্যায়ে ওয়ারেন্ট গাইডার এবং বিভাগীয় পর্যায়ে হলদে পাখি গার্লস গাইডের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার অনুভূতি জানিয়ে সোনিয়া সরকার নিপা বলেন, “শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হতে পেরে মহান রবের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। যেকোনো কাজের স্বীকৃতি ও সম্মাননা কাজের গতি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমি আরও বেশি পেশাদারির সঙ্গে শিক্ষকতাকে উপভোগ করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হতে পেরে সত্যিই খুব সম্মানিত ও গর্বিত অনুভব করছি। আমার এ প্রতিযোগিতা বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত। এখন আমার লক্ষ্য কুমিল্লা জেলার প্রতিনিধিত্ব করা। জেলার একজন প্রতিযোগী হিসেবে জেলাকে সম্মানসূচক কিছু এনে দিতে পারি—এ জন্য সবার দোয়া চাই।”

নিজের এ অর্জনের পেছনে বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সোনিয়া সরকার নিপার ভাষ্য, তার প্রিয় কর্মস্থল ও শিক্ষার্থীরাই তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত করেছে।

এ অর্জনের জন্য বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সোনিয়া সরকার নিপা।

হোমনার একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার, মেঘনায় এখনো নিখোঁজ বাবা

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
হোমনার একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার, মেঘনায় এখনো নিখোঁজ বাবা

নারায়ণগঞ্জের মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের একই পরিবারের নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের বাবা হেলাল উদ্দিন।

ট্রলারডুবির দুই দিন পর শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে এবং শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল-মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন—হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজীব, শামীম এবং মেয়ে সামিয়া।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি মেঘনা নদীতে ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা পাঁচজন পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন।

দুর্ঘটনার পরপরই রায়েসা বেগম নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামের একই পরিবারের চারজনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

দুই দিন ধরে নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর শনিবার ভোরে মেঘনায় সামিয়ার মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে সোনারগাঁ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর সজীব ও শামীমের মরদেহও উদ্ধার করা হয়। পরিবারের একমাত্র নিখোঁজ সদস্য হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

×
ENG