বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের লুটপাট

সংসদ ভবন থেকে উধাও ১৩৪৩ কপার বার! দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা দায়ী বলছে তদন্ত কমিটি

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৬:১৫ পিএম
সংসদ ভবন থেকে উধাও ১৩৪৩ কপার বার! দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা দায়ী বলছে তদন্ত কমিটি

ফাইল ফটো

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • রাষ্ট্রের সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থাপনাগুলোর একটি জাতীয় সংসদ ভবন।
  • সেই সংসদ ভবনের স্টোররুম থেকেই উধাও ১ হাজার ৩৪৩টি কপার বাসবার।
  • সরকারি হিসাবে যার মূল্য ২ থেকে আড়াই কোটি টাকা।

রাষ্ট্রের সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থাপনাগুলোর একটি জাতীয় সংসদ ভবন। সেই সংসদ ভবনের স্টোররুম থেকেই উধাও ১ হাজার ৩৪৩টি কপার বাসবার। সরকারি হিসাবে যার মূল্য ২ থেকে আড়াই কোটি টাকা। কিন্তু এ বিপুল পরিমাণ ভারী ধাতব সরঞ্জাম কীভাবে গায়েব হলো, তা জানেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও। কেউ বলছেন স্টোরে ছিল, কেউ বলছেন বুঝে পাননি, আবার কেউ দায় চাপাচ্ছেন অধস্তন কর্মকর্তার ওপর। অথচ কাগজে-কলমে সব ঠিকঠাক।

৭১ কোটি টাকার সাব-স্টেশন উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন সরঞ্জাম ব্যবহারের কথা থাকলেও পরে দেখা যায় পুরোনো কিছু কপার বারই আবার ব্যবহার করা হয়েছে। কাজ শেষে অবশিষ্ট মালপত্র স্টোরে জমা করার কথা বলা হলেও বাস্তবে মিলছে না সেসবের অস্তিত্ব। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো—একই কাজের জন্য দুইবার সার্ভে রিপোর্ট তৈরি হয়েছে; কিন্তু দুই রিপোর্টেই অসংগতি লক্ষণীয়। কোথাও স্বাক্ষর নেই, কোথাও তারিখ নেই, আবার কোথাও সরঞ্জামের পরিমাণ ও মূল্য গেছে পাল্টে। প্রতিটি নথিই যেন আরেকটি নথিকে আড়াল করার জন্য তৈরি।

অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ না করেই বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। আর সেই অনিয়ম ঢাকতেই পুরোনো মালপত্র বিক্রি কিংবা গায়েবের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তদন্তের আগেই দায় চাপানো হয়েছে এমন এক উপসহকারী প্রকৌশলীর ওপর, যিনি মাত্র পাঁচ মাস দায়িত্বে ছিলেন; কিন্তু তার দাবি, তাকে কখনোই স্টোর বা প্রকল্পের প্রকৃত অবস্থা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো জাতীয় সংসদ ভবনের মতো কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থান থেকে এত বিপুল পরিমাণ কপার বার কীভাবে উধাও হলো? এটি কি শুধুই চুরি, নাকি এর আড়ালে আছে আরও বড় কোনো প্রকল্পে দুর্নীতি, যেখানে কোটি কোটি টাকার হিসাব গায়েব হয়ে গেছে নথির আড়ালে?

সংসদ ভবন সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘আমব্রেলা প্রজেক্ট’-এর আওতায় প্রায় ৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে সংসদ ভবনের নবম তলায় এবিসিডি সাব-স্টেশনে এলটি ও ইএলটি প্যানেল কেবলের ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কাজ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এডেক্স করপোরেশন লিমিটেড। চারটি সাব-স্টেশনের মধ্যে শুধু-ডি এর কাজ শেষ হলে ৩৪২টি কপার বাসবার স্টোররুমে জমা করেন তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী। ৫ আগস্টের পর তাকে বদলি করা হলে দায়িত্বপান মো. আনোয়ার হোসেন; কিন্তু আনোয়র হোসেনের আমলে বাকিগুলো সম্পন্ন হয়েছে বলা হলে পুরোনো কপার পাওয়া যাচ্ছে না।

খোদ গণপূর্তের কর্মকর্তারা সংশয় প্রকাশ করে বলছেন, যেসব কাজ হওয়ার কথা, তা সম্পন্ন হয়েছে নাকি জুলাই আন্দোলনের পর পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে সময়ক্ষেপণে বলা হচ্ছে সম্পূর্ণ কাজ হয়েছে এবং বিল উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে। সামান্য কিছু কাজ হয়েছে; কিন্তু নতুন মালপত্র ব্যবহারের প্রয়োজন হয়নি। তাই পুরোনো মালপত্র স্টোরে জমা হয়নি। এত কপারবার চুরি হয় কীভাবে। সম্পূর্ণ কাজ হলে এতদিন এসব সরঞ্জামের খবর ছিল না কেন? জমা দেওয়ার সময় সার্ভে রিপোর্ট হলো না কেন? ৫ আগস্টের পর নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে আসা মো. আনোয়ার হোসেন কাজের টেন্ডার আগে হওয়ায় এবং কিছু হওয়ার পর আর কাজের প্রয়োজন মনে করেননি। বা কিছু কাজের প্রয়োজন হলে পুরোনো ৬৬টি বার ব্যবহার করে সমাধান করা হয়েছে। এখন এসব বিষয়ে সামনে আসায় ১ হাজার ৩৪৩টি কপার বাসবার নিয়ে কথা হচ্ছে।

জানা গেছে, কপার বার হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়ার বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলী কেউই এর দায় নিতে নারাজ। নির্বাহী প্রকৌশলী ও এসডি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ এনে উপসহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে। এমনকি উপসহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিনকে দায়ী করে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন ও এসডি আসিফ রহমান নাহিদ।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে হেলাল উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, এ কাজের দায়িত্বে মাত্র পাঁচ মাসের মতো ছিলাম। অন্যদিকে দীর্ঘ তিন বছর সংসদ ভবনের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন আসিফ। তিনিই সব কাজ করে থাকেন। কোথায় কী কাজ হয়েছে ও কাজ চলমান আছে—এসব বিষয়ে কিছুই আমাকে জানানো হয়নি। বারবার বলার পর আমাকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এমনকি এ কাজের সাইটে কোনোদিন যাওয়ার সুযোগ দেয়নি। যে পরিমাণ পুরোনো কপার বার স্টোরে সংরক্ষিত ছিল বলা হচ্ছে, তার আমি কিছুই জানি না। এবং আমাকে কখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

এরপর গত ২৫ মার্চ চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। এ তদন্ত কমিটি সংসদ ভবন থেকে কপার বার উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের দায়ী করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

প্রকল্পের তথ্য বলছে, আমব্রেলা প্রজেক্টের আওতায় জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল, নিরাপত্তা ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়। এর মধ্যে ছিল সংসদ ভবনের নবম তলায় বিদ্যমান চারটি বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনের জন্য এলটি সুইচগিয়ার, বাসবার ট্রাঙ্কিং এবং নতুন জিআইএস প্যানেল সরবরাহ ও স্থাপন কাজ। টেন্ডার নং: ০৫৪(১৩) E/M-৭/, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই কাজ দেখানো হয়। দুটি ছিল ২০২০-২১ অর্থবছরের, যার আইডি নং ৫২৬২৩২ ও ৫৩৫৫৩৩। এ ছাড়া আরেকটি কাজের অর্থবছর উল্লেখ করা হয় ২০২২-২৩, যার আইডি নং ৭৮৩৪৬৬। এসব কাজ করেছে এডেক্স করপোরেশন লিমিটেড। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কাজগুলো চলমান বলে উল্লেখ করা হয়। এসব কাজ শেষে পুরোনো ১ হাজার ৩৪৩টি কপার বার স্টোরে সংরক্ষণ করা আছে বলে দাবি করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা।

জানা গেছে, সংসদ ভবনের সাব-স্টেশন চারটির কাজ পায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এডেক্স করপোরেশন লিমিটেড। কিছু কাজ কম হওয়ায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে মোটা অঙ্কের কমিশন চান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন; কিন্তু সেই কমিশন না দেওয়ায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বিল কম দেওয়া হয়। নির্বাহী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সঙ্গে এ নিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।

নথির তথ্যমতে, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি স্টোররুম পরিদর্শন করেন সংসদ ভবনের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন। এরপর একটি চিঠি তৈরি করা হয়। তাতে বলা হয়, এডেক্স করপোরেশন সম্পাদিত লেভেল ১০৮-এ নবম তলার বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র এ, বি, সি, ডি-এর কাজ শেষে পুরোনো এলটি, এইচটি প্যানেল থেকে ১৪০৯টি কপার বার পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৬টি কপার বার টাই বাসবারে ব্যবহারের পর ১ হাজার ৩৪৩টি কপার বার উপসহকারী প্রকৌশলী, শাখা-২-এর তত্ত্বাবধানে থাকা এমএমপি রুমের স্টোরে সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু গত ২১ জানুয়ারি উপসহকারী প্রকৌশলী শাখা-২ এবং ইলেকট্রিশিয়ানসহ সার্ভে রিপোর্ট প্রস্তুতের জন্য স্টোরগুলো পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন ১ হাজার ৩৪৩টি কপার বারের মধ্যে স্বল্পসংখ্যক কপার বার জমা রয়েছে। কিন্তু স্টোররুম পরিদর্শন করলে নির্বাহী প্রকৌশলী নিজে স্বাক্ষর না করে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফ রহমান নাহিদ দিয়ে স্বাক্ষর করান, এবং চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি চিঠি ইস্যু করান। আবার একই তারিখে দ্বিতীয়বার সার্ভে রিপোর্ট দেখানো হয়।

প্রকৌশলীদের দেওয়া তথ্য বলছে, এডেক্স করপোরেশনের কাজ শেষে অকেজো মালপত্র স্টোররুমে জমা দেখিয়ে প্রথমে একটি সার্ভে রিপোর্ট করা হয় দুই বছর পর (গত বছর ১৮ ডিসেম্বর)। এ সার্ভে রিপোর্ট সংসদ ভবনের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফ রহমান নাহিদ রিসিভ করেন। কিন্তু তিনি স্বাক্ষর করেননি। আগের রিপোর্টের সঙ্গে কোনো মিল নেই। দুটি সার্ভে রিপোর্ট দেখানো হলেও প্রথমটিতে কোনো তারিখ ও স্বাক্ষর নেই। এমনকি প্রথমবারের সার্ভে রিপোর্ট কম্পিউটারে টাইপ করা হলেও তাতে কিছু মালপত্রের তথ্য হাতেও লেখা আছে। দ্বিতীয়বার সার্ভে রিপোর্ট করা হয় চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি। তাতে দেখা যায়, প্রথমবারের সার্ভে রিপোর্টে যেসব মালপত্রের কথা উল্লেখ করা হয়, তার সঙ্গে মিল নেই। কারণ, কাজ একই হলেও দ্বিতীয় সার্ভে রিপোর্টে মালপত্রের কথা বেশি উল্লেখ এবং অধিক মূল্য ধরা হয়েছে। এ ছাড়া প্রথমবারের সার্ভে রিপোর্টে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনের স্বাক্ষর না থাকলেও দ্বিতীয় সার্ভে রিপোর্টে তার স্বাক্ষর রয়েছে। মূলত এ চিঠি তৈরি করা হয় নিজের দায়ভার এড়াতে।

এর আগে গত বছর জুন মাসে স্টোররুমে কপার বারের সংখ্যা উল্লেখ করে একটি চিঠিতে বলা হয়, এডেক্স করপোরেশন লিমিটেড কাজ করে সংসদ ভবনের ১০৮-এ নবম তলার সাব-স্টেশনের কাজ শেষে অবশিষ্ট মারপত্র ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর সাব-ষ্টেশন-বি-এর কাজ শেষে অবশিষ্ট মালপত্র, ৩১ অক্টোবর সাব স্টেশন-সি-এর কাজ শেষে অবশিষ্ট মালপত্র, ১১, ১২ ও ১৩ জুলাই ও ২৬ অক্টোবর এ, বি, সি, ডি-এর কাজ শেষে অবশিষ্ট মালপত্র ২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর ফেরত প্রদান করা হয়। মালপত্র এমএমপি স্টোরে সংরক্ষিত রয়েছে। দুই বছর আগে কাজ শেষ হলেও দুই বছর পর সার্ভে রিপোর্ট করা হয়, এবং হেলালের আগে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের কেন এ সংরক্ষিত মালপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গার স্টোররুম কেন সিসিটিভি নষ্ট। এমন নানা প্রশ্ন তুলেছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী নেতারা। মূলত গত বছরের চিঠি দেখানো হলেও সম্প্রতি এ চিঠি তৈরি করে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী নেতারা।

উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফ রহমান নাহিদ কালবেলাকে বলেন, কিছু বিষয় আছে সেগুলো বলা যায় না। কয়েকজন কর্মচারী ঠিকাদারের সঙ্গে মিলে স্টোরে কপার বারগুলো বিক্রির জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কপার বিষয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী হেলাল এমন কিছু কথা বলেন, যা সন্দেহজনক।

পুরোনো কপার বাসবার ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুরোনো কিছু মালপত্র ব্যবহারের কথা ছিল। ঠিকাদার কোম্পানিকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা কম দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আনোয়ার স্যার করেছেন। তার সঙ্গে কী ঝামেলা হয়েছে তিনি জানেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এডেক্স করপোরেশন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্রকৌশলী নুরুন নবী সুজন কালবেলাকে বলেন, প্রায় সব কাজ শেষ, কিন্তু একটি স্টেশনের লাইন দেওয়া হয়নি। নির্বাহী প্রকৌশলী আমাদের ১ কোটি ৮০ লাখ কম দিয়েছেন। এখনো কিছু বিল বাকি আছে। আমাদের কোম্পানি সম্পূর্ণ কাজ করার পরও টাকা কম দিয়েছে, এ বিষয়ে মামলা করব। কপার বারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব বিষয় জানি না। শুনেছি কপার চুরি হয়েছে।

সংসদ ভবন থেকে কপার বার হারিয়ে বা চুরি হয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালিকুজ্জামান চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা বলতে পারবেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কি না, যদি দেওয়া হয় তাহলে সংসদ থেকে কপার বার হারিয়ে বা চুরি হয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রমাণ মিলেছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি বলেন, এটা আমি জানি না।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০২ পিএম
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব

গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

দৈনিক আজকের কথা
সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
— এ বি এম আতিকুর রহমান বাশার
সভাপতি, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।

সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।

২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা

মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।

কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।

নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।

কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৮ পিএম
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল

কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।

কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”

২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

দৈনিক আজকের কথা
যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
— কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া
যুগ্ম আহবায়ক- মুরাদনগর উপজেলা বিএনপি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।

এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।

তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

×
ENG