প্রথম লড়াই, প্রথম জয়: কুমিল্লার ৬ নতুন মুখ যাচ্ছে সংসদে

গেজেট প্রকাশের পর নিশ্চিত হলো ছয় নবাগত প্রার্থীর বিজয়, বদলে গেল কুমিল্লার রাজনৈতিক সমীকরণ
কুমিল্লার ছয়টি সংসদীয় আসনে এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েই বিজয় অর্জন করেছেন ছয়জন প্রার্থী। প্রকাশিত গেজেট ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির চারজন, একজন স্বতন্ত্র এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের একজন প্রার্থী। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মুখ হিসেবে তাদের এই সাফল্য স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া ৭৭ হাজার ৩৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন খান পান ৬৩ হাজার ৪৫ ভোট।
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সমর্থিত প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিন পান ৪৯ হাজার ৮৮৫ ভোট। এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় শেষ মুহূর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র বদলে যায়।
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. মোবারক হোসেন পান ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৪৭ ভোট।
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়ে জয় পান। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় নির্বাচনের আগে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক মন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদ পান ৪৮ হাজার ৫০৯ ভোট।
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কালাম ১ লাখ ৭০ হাজার ৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সৈয়দ সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকী পান ১ লাখ ১৮ হাজার ৯৬১ ভোট। দলীয় সমঝোতার কারণে এখানে ভোটের ব্যবধান উল্লেখযোগ্য হয়।
কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইয়াসিন আরাফাত পান ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৩৩ ভোট। প্রাথমিকভাবে অন্য এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই জয় পাওয়া এই ছয়জনের প্রতি ভোটাররা নতুন আস্থা প্রকাশ করেছেন। আগামী পাঁচ বছরে তাদের কার্যক্রম ও পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে এই আস্থার প্রতিফলন কতটা সফল হয়।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
নতুন টেন্ডারে কাজের আশ্বাস
পিরোজপুরে অর্ধনির্মিত মাদ্রাসা-কাম-সাইক্লোন শেল্টার পরিদর্শনে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের এমডি

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার রঘুনাথপুর এবতেদায়ী মাদ্রাসা-কাম-সাইক্লোন শেল্টারের দীর্ঘদিন ধরে অর্ধনির্মিত অবস্থায় পড়ে থাকা ভবন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (গ্রেড-২) কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে তিনি প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা ও কাজ বন্ধ থাকার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ভবনটি অর্ধনির্মিত অবস্থায় পড়ে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের মার্চ মাসে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের মার্চে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অর্ধেক কাজ সম্পন্ন করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিল উত্তোলন করা হলেও কাজের অগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি হয়নি। ফলে গত তিন বছর ধরে ভবনটি অর্ধনির্মিত ও ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তফা রায়হান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সহকারী আব্দুস ছালাম হাওলাদার, কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম আহসান কবির এবং সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দীন মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রুপালি কনস্ট্রাকশন-এর প্রতিনিধি অমল দাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বুক ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন
পিরোজপুরের কঁচা নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

পিরোজপুরের কঁচা নদীর হুলারহাট বন্দর এলাকা থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পিরোজপুর সদর থানায় খবর দেন। পরে খবর পেয়ে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ ও কাউখালী নৌ পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হুলারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, সকালে এক শিক্ষার্থী এসে তাকে জানায়, খাল দিয়ে একটি মরদেহ ভেসে যাচ্ছে। খবর পেয়ে তিনি ট্রলারঘাটে গিয়ে দেখেন, একটি মরদেহ উপুড় হয়ে নদীতে ভাসছে। প্রথমে সেটি নারী না পুরুষ—তা বোঝা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করলে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি একজন পুরুষের।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল মাতুব্বর জানান, মরদেহটি হুলারহাটের দামোদর খালের দিক থেকে ভেসে আসে। উদ্ধার করার পর দেখা যায়, মৃত ব্যক্তির বুক ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি রহস্যজনক হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ এবং কাউখালী নৌ পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি উদ্ধার করেন। নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
গাছ লাগানোর আহ্বান
পিরোজপুরে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উদ্বোধন

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে পিরোজপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ, বাগেরহাটের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪৯-এর সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন এবং পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী।
স্বাগত বক্তব্য দেন সামাজিক বন বিভাগ, বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শাহীন কবির।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব এস এম ছাইদুল ইসলাম কিসমত এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা শেখ আব্দুর রাজ্জাক।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের সদস্য, সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। পরে পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের দক্ষিণ প্রান্তে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।



















