শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

১৫০০ কোটিতে ‘নগদ’ কিনছে আবুল খায়ের

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৩:৫০ এএম
১৫০০ কোটিতে ‘নগদ’ কিনছে আবুল খায়ের

গ্রাফিকস : দৈনিক আজকের কথা ও জয় বাংলার জয়

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • ডাক বিভাগের ব্র্যান্ড ব্যবহার করে পরিচালিত হলেও মালিকানা, অনুমোদন ও আর্থিক কাঠামো নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্কে থাকা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ‘নগদ’ নতুনভাবে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
  • দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, মামলা, নিয়ন্ত্রক জটিলতা ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তায় থাকা প্রতিষ্ঠানটিতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও মালিকানা কাঠামোয় পরিবর্তন আসছে।
  • নগদ কিনে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আবুল খায়ের গ্রুপ।

ডাক বিভাগের ব্র্যান্ড ব্যবহার করে পরিচালিত হলেও মালিকানা, অনুমোদন ও আর্থিক কাঠামো নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্কে থাকা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ‘নগদ’ নতুনভাবে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, মামলা, নিয়ন্ত্রক জটিলতা ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তায় থাকা প্রতিষ্ঠানটিতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও মালিকানা কাঠামোয় পরিবর্তন আসছে। নগদ কিনে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আবুল খায়ের গ্রুপ।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নগদের প্রায় ৬০০ কোটি টাকার দায় রয়েছে, যা পরিশোধ করবে আবুল খায়ের গ্রুপ। হাতবদলের মূল্যসহ মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। দায় শোধের পর সরকার পাবে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সিআইডির করা মামলাগুলোর নিষ্পত্তি প্রয়োজন হবে। এর আগে সৌদি আরবভিত্তিক একটি শিল্পগোষ্ঠী প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকায় নগদ অধিগ্রহণে আগ্রহ দেখালেও তাতে শেষ পর্যন্ত সায় দেয়নি সরকার।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, কোটি কোটি গ্রাহকসম্পন্ন এই প্ল্যাটফর্মকে টিকিয়ে রাখতে বড় ধরনের মূলধনী সহায়তা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও শক্তিশালী করপোরেট ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। সে কারণেই বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আবুল খায়ের গ্রুপকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ১৯৫৩ সালে চট্টগ্রামে একটি ছোট বিড়ি কারখানা হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ইস্পাত, সিমেন্ট, সিরামিকস, খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য, তামাক এবং দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনে বড় পরিসরে ব্যবসা পরিচালনা করছে।

গত বৃহস্পতিবার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে নগদের দায়দেনা ও মামলার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে আবুল খায়ের গ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার অনিয়ম এবং অনুমোদিত কোনো অর্থ ছাড়াই ৬০০ কোটি টাকার ‘ফেইক’ বা অবৈধ ই-মানি তৈরি করে। নগদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই রিয়েল মানি সংরক্ষণ ছাড়া অতিরিক্ত অন্তত ৬০০ কোটি টাকা ই-মানি ইস্যু করে। অর্থাৎ ৬০০ কোটি টাকার ‘ফেইক’ বা অবৈধ ই-মানি বাজারে ছাড়ে। কোনো প্রকৃত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে সংরক্ষিত না রেখেই এই ডিজিটাল অর্থ তৈরি করে লোপাট করা হয়।

বিষয়টি সহজভাবে বলতে গেলে, কোনো গ্রাহকের নগদ অ্যাকাউন্টে ৫ হাজার টাকা দেখা গেলে সেটিই ই-মানি। দেশে ই-মানি বা ডিজিটাল অর্থের লেনদেন ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দিষ্ট কিছু তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে আন্তঃব্যাংক সেটেলমেন্ট পরিচালনা করে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, পেমেন্ট সার্ভিস, ডিজিটাল ওয়ালেট ও ই-মানি ইস্যুর ক্ষেত্রে গ্রাহকের প্রকৃত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু নগদ ৬০০ কোটি টাকার বিপরীতে কোনো অর্থ সংরক্ষণ না করেই সমপরিমাণ ই-মানি বাজারে ছাড়ে, যা এখন প্রতিষ্ঠানটির দায় হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট ও সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যাংক যুক্ত থাকলেও এমএফএস ও ডিজিটাল সেটেলমেন্টে সক্রিয়ভাবে ব্যবহৃত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সাধারণত রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি ও বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলিয়ে প্রায় ১৬টি ব্যাংক বিভিন্ন পর্যায়ে অংশ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ট্রাস্ট ব্যাংক।

জানা গেছে, এই বিশাল আর্থিক ঘাটতি মোকাবিলা ও তারল্য সংকট কাটাতে সরকারের পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী বিনিয়োগকারী খোঁজা হচ্ছিল। আবুল খায়ের গ্রুপ সেই উদ্যোগে এগিয়ে এসেছে। সরকারের ধারণা, শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতা নগদের মতো বড় পরিসরের ফিনটেক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহায়ক হবে।

আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও নগদের বিশাল গ্রাহকভিত্তি রয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় সাড়ে ৫ কোটি গ্রাহক রয়েছে এবং দৈনিক লেনদেন ৭০০ কোটি টাকার বেশি। এমএফএস বাজারে বিকাশের পরই নগদের অবস্থান। বড় এই বাজার ও নেটওয়ার্ক যেকোনো বিনিয়োগকারীর জন্য আকর্ষণীয় ব্যবসায়িক সুযোগ বলে মনে করছেন আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা। সরকার ও ডাক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ধারণা, আবুল খায়ের গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠিত শিল্পগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নগদের ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।

নগদ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নিজস্ব আয় দিয়েই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এখনো লাভজনক অবস্থায় যেতে পারেনি। মূলত ‘ব্রেক ইভেন’ অবস্থায় রয়েছে। চলতি মাস পর্যন্ত নগদে স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক মিলিয়ে প্রায় ৮০০ কর্মী রয়েছেন। এর মধ্যে নিয়মিত কর্মী ৬২৫ জন। প্রতিষ্ঠানটির মাসিক পরিচালন ব্যয় প্রায় ৮০ কোটি টাকা। ব্যয় কমাতে বিজ্ঞাপন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। লোকবলও কমানো হয়েছে। বড় অফিস ছেড়ে ছোট পরিসরে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নগদের মূল আয়ের বড় অংশ আসে ব্যাংকে সংরক্ষিত অর্থের সুদ থেকে। প্রতি মাসে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকা সুদ আয় হয়। তবে মোবাইল আর্থিক সেবার সবচেয়ে বড় খাত ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট থেকে কার্যত কোনো মুনাফা পায় না প্রতিষ্ঠানটি। কারণ এ খাতের প্রায় পুরো কমিশন চলে যায় এজেন্টদের কাছে। নগদ পেমেন্ট সেবায় গ্রাহকদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য চার্জও নেয় না। বরং প্রতি হাজার টাকায় ১ থেকে ১ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত কমিশন নেয়। অন্যদিকে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার রেমিট্যান্স আসে নগদের মাধ্যমে। এটিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, বড় গ্রাহকভিত্তি ও উচ্চ দৈনিক লেনদেনের কারণে এখনও নগদের বাজার সম্ভাবনা রয়েছে। সহজে হিসাব খোলার সুবিধা ও ব্যবসায়িক কৌশলের কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে সেবাটি। পাশাপাশি বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও পেয়েছে নগদ। ফলে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি গ্রাহক নিবন্ধন নিয়েছেন।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট নগদের পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে উচ্চ আদালত তা অবৈধ ঘোষণা করলে দায়িত্ব নেয় ডাক অধিদফতর। ডিজিটাল ফাইন্যান্স ও এমএফএস ব্যবসা পরিচালনায় সরকার সমর্থ নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ডাক বিভাগও এককভাবে এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা পরিচালনার সক্ষমতা রাখে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছিলেন, নগদকে ডাক অধিদফতরের হাত থেকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, নতুন বিনিয়োগকারী খোঁজা হচ্ছে, কারণ ডাক অধিদফতরের পক্ষে এটি পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি নগদ কেনার বিষয়ে ঢাকা-১৪ আসনের এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান ওই সময় গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং খাতে আগ্রহী।

২০১৯ সালের ২৬ মার্চ আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ‘নগদ’। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এটিকে ‘ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন’ হিসেবে প্রচার করে। সরকারি লোগো ও রাষ্ট্রীয় আস্থার সুযোগ নিয়ে কীভাবে একটি বেসরকারি গোষ্ঠী কয়েক হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছে এবং মালিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের প্রভাব বিস্তার হয়েছে।

এ সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। শুরু থেকেই ‘নগদ’কে সরকারি সেবা হিসেবে প্রচার করা হলেও নথিপত্রে এর কোনো অস্তিত্ব ছিল না। ‘থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডাক অধিদফতরের ব্র্যান্ড ব্যবহার করে এ ব্যবসা শুরু করে। চুক্তিতে মুনাফা ভাগাভাগির কথা থাকলেও ডাক অধিদফতরের কোনো মালিকানা বা শেয়ার ছিল না।

শুরুর দিকে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা তানভীর আহমেদের পাশাপাশি কাজী মনিরুল কবিরসহ কয়েকজন উদ্যোক্তা থাকলেও পরে এতে যুক্ত হন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা। ক্ষমতাসীন দলের সাবেক দুই সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক ও রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ‘ব্লু ওয়াটার হোল্ডিং’-এর মাধ্যমে নগদের মালিকানায় অংশীদার হন।

এ ছাড়া সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির প্রতিনিধিরাও পরিচালক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ পাচারের সন্দেহ প্রকাশ করে। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে কোনো চূড়ান্ত লাইসেন্স ছাড়াই নয়বার সাময়িক অনুমোদনের মেয়াদ বাড়িয়ে কার্যক্রম চালিয়েছে নগদ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে বলা হয়, ৪১টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতার অন্তত ১ হাজার ৭১১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে নগদের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুক ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এই অর্থ দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল।

২০২১ সালে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেনের অজুহাতে হাজার হাজার গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয় নগদ। অভিযোগ রয়েছে, এতে প্রায় ১৪৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্যান্ডেলস্টোন ইনভেস্টমেন্টস ও সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শেয়ার হস্তান্তরের সময় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা পাচারের সন্দেহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডভিত্তিক ‘মিরেস হোল্ডিংস লিমিটেড’-এর অনুকূলে শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়টিও অনুসন্ধানে রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাক বিভাগকে বিভ্রান্ত করতে ‘ম্যানিপুলেটেড রিপোর্টিং পোর্টাল’ তৈরি করেছিল নগদ। এ পোর্টাল থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে যে ই-মানি তথ্য দেওয়া হতো, তার সঙ্গে নগদের মূল ডাটাবেজের কোনো মিল ছিল না। মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজর এড়াতেই এই সমান্তরাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সময়ের আলোকে বলেন, ‘নগদ দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম। তাই গ্রাহকের স্বার্থ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেই সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। নগদকে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করপোরেট কাঠামোর আওতায় আনতে কাজ চলছে।’

প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) রেহান আসিফ আসাদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

নগদের হেড অব মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, ‘নগদে গ্রাহকের অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ। নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা সবসময় সতর্ক রয়েছি এবং প্রযুক্তিগত হালনাগাদের মাধ্যমে গ্রাহকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নগদ বর্তমানে নিজস্ব আয়ের ওপর নির্ভর করেই পরিচালিত হচ্ছে। প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি পরিচালন দক্ষতা বজায় রেখেই আমরা কার্যক্রম চালাচ্ছি। আপাতত কোনো ভর্তুকির প্রয়োজন নেই।’

নতুন কোনো বড় বিনিয়োগকারী বা শিল্পগোষ্ঠী যুক্ত হলে নগদ আবার শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নগদ এখনও দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে আমরা মনে করি। অন্য কোনো শিল্পগোষ্ঠীর যুক্ত হওয়া নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। এ বিষয়ে বর্তমান প্রশাসনের মন্তব্য করার সুযোগ নেই।’

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

ভালো থেকো, তোমার মতো করে

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
ভালো থেকো, তোমার মতো করে

ভালো থেকো

আলেয়া মান্নান

আমি চাই আমাকে যেনো কখনো মনে না পড়ে।
পৃথিবীর সকল সুখ যেনো তোমায় রাখে ঘিরে।
নিস্তব্ধতায় তুমি ছিলে, নিঃসঙ্গতায় পাশে রবে।
আমি যখন শূন্যতায় থাকবো ভবে।

উদাস মনে চলা তোমার, মন রয় না ঘরে।
আমি অতিষ্ঠ এই বিড়ম্বনার শিকারে,
চলে এলাম আমি কাখৈই পাড়ার চরে।
ভালো থেকো তুমি, পিছু নাহি ফিরে।
সুখ যেন বসত করে তোমার জীবন নীড়ে।

চাই আমি প্রতিটা মুহূর্তগুলো।
বিধাতা যেনো তোমায় রাখে ভালো।
পৃথিবীর সকল সুখে তুমি সুখী হও।
বলবো না আমার অন্ধকারে তুমি আলো জ্বালাও।
ভালো থেকো তোমার মতো করে।
ফিরব না আমি এই জীবনের তরে।

মনের আকাশে মেঘেদের ভিড় হলো।
মাঝেমাঝে বিজলির চমকায় আলো।
ঝরেপড়া বৃষ্টির ধারাগুলো।
মনের আকাশ ভীষণ কালো।

আমি চাই কখনো যেনো আমাকে মনে না পড়ে।
পৃথিবীর সকল সুখ যেনো তোমায় রাখে ঘিরে।

কবি পরিচিতি

আলেয়া মান্নান
পিতা: মরহুম ইমাম হোসাইন
মাতা: মোসা. জুবাইদা খাতুন
জন্মস্থান: নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলা।

কবি আলেয়া মান্নান ভ্রমণপ্রিয়। শৈশব কেটেছে দুরন্তপনায়। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। একজন মা, সংসারী, চাকরিজীবী ও জীবনসংগ্রামী হিসেবে নানা দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা করে চলেছেন।

তাঁর লেখা ৩০টিরও বেশি কবিতা জাতীয় দৈনিক ও বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। ‘ভালো থেকো’ কবিতাটি তাঁর একটি অপ্রকাশিত রচনা।

দেবীদ্বারে জন্মসনদ কাণ্ড

মুরাদনগরের দারোরা ইউনিয়নের সচিব নজরুল সাময়িক বরখাস্ত

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
মুরাদনগরের দারোরা ইউনিয়নের সচিব নজরুল সাময়িক বরখাস্ত

দেবীদ্বারে তিন রোহিঙ্গাকে জন্মসনদ: জেলা প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৯ নম্বর দারোড়া ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত সচিব মো. নজরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে দেবীদ্বার উপজেলার ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব থাকাকালে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তিন সদস্যের নামে আইনবহির্ভূতভাবে জন্মসনদ সৃজনসহ গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। জেলা প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের অফিস আদেশে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অফিস আদেশটির স্মারক নম্বর ০৫.২০.১৯০০.০০০.০০৯.৪০.০০০৮.২৬-৮৫১। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, ঢাকার ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখের পত্রের প্রেক্ষিতে প্রদত্ত নির্দেশনা মোতাবেক বিষয়টি তদন্ত করা হয়।

জেলা প্রশাসনের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা—বর্তমানে মুরাদনগর উপজেলার দারোড়া ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত—মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই না করে উপযুক্ত প্রমাণক ব্যতীত ফতেহাবাদ ইউনিয়নে জন্মগ্রহণকারী বা স্থায়ীভাবে বসবাসকারী নন এমন তিন ব্যক্তির অনুকূলে আইনবহির্ভূতভাবে জন্মসনদ সৃজনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

তদন্তে যে তিনজনের জন্মসনদের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন—মুবিনা খাতুন, সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ ও হাফিছা। অফিস আদেশে তাঁদের জন্মসনদ নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থার নিজস্ব ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড অন্য ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর, সচেতনতার অভাব এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অবহেলার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে কী বলা হয়েছে

কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১১-এর ৩৪(ক), (খ), (চ) উপবিধিতে বর্ণিত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বিধিমালার ৪০(১) অনুযায়ী মো. নজরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

আদেশের দ্বিতীয় দফায় বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন বিধিমোতাবেক খোরপোষভাতা প্রাপ্য হবেন তিনি। তৃতীয় দফায় এ আদেশ তাঁর চাকরি বহিতে লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরে আদেশ

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কোনো সাধারণ অভিযোগপত্র নয়; কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। চিঠিতে জেলা প্রশাসকের নাম, পদবি, কুমিল্লা এবং সরকারি যোগাযোগের তথ্যও রয়েছে।

অফিস আদেশের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগ; কমিশনার, চট্টগ্রাম বিভাগ; রেজিস্ট্রার জেনারেল (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন); পরিচালক, স্থানীয় সরকার, চট্টগ্রাম বিভাগ; উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মুরাদনগর/দেবীদ্বার; সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ এবং মো. নজরুল ইসলামের কাছেও। অর্থাৎ বর্তমানে তিনি যে দারোড়া ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত, সেখানকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

রোহিঙ্গা জন্মসনদ কাণ্ডে তদন্তের পর প্রশাসনিক ব্যবস্থা

এর আগে অভিযোগ ওঠে, ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে মো. সালাউদ্দিন রুহুলের সময়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তিন সদস্যের নামে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন তৈরি করা হয়। অভিযোগটি নিয়ে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়।

প্রথমে বিষয়টি তিনজনের জন্মনিবন্ধনকে কেন্দ্র করে সামনে এলেও পরবর্তী অনুসন্ধানে ওই ইউনিয়নে আরও বেশ কিছু সন্দেহজনক জন্মনিবন্ধনের তথ্য পাওয়া যাওয়ার দাবি ওঠে। তবে জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক অফিস আদেশে তদন্তে প্রমাণিত হিসেবে যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি ওই তিন ব্যক্তির জন্মসনদ এবং সচিবের ইউজার আইডি-পাসওয়ার্ড অন্যের কাছে হস্তান্তরসহ দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ।

‘পাসওয়ার্ড অন্যকে দিয়েছিলেন’—সচিবের আগের বক্তব্য

এর আগে মো. নজরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, তিনি ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটিতে ছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ওই সময়ে তাঁর পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া রাজীব কাজ করেছিলেন এবং চেয়ারম্যান-মেম্বারের অনুরোধে তাঁকে পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়েছিল।

তবে জেলা প্রশাসনের অফিস আদেশে তাঁর বিরুদ্ধে নিজের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের বিষয়টিও তদন্তে প্রমাণিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ইউপি উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া রাজীব দাবি করেছিলেন, তিনি কখনো জন্মনিবন্ধনের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেননি। ফলে জন্মনিবন্ধনগুলো কার মাধ্যমে, কীভাবে এবং কার নির্দেশনায় তৈরি হয়েছিল—এ প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ফতেহাবাদ ইউনিয়নের বিতর্কিত জন্মনিবন্ধন ইস্যুতে তদন্ত শেষে যে সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তিনি বর্তমানে মুরাদনগরের ১৯ নম্বর দারোড়া ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক এই আদেশের পর দারোড়া ইউনিয়ন পরিষদে তাঁর দায়িত্ব পালন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটিও এখন দেখার বিষয়।

সব ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিতের অঙ্গীকার

জন্মাষ্টমীর আয়োজনে কায়কোবাদ, ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তায় ঐক্যের ডাক

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১০ পিএম
জন্মাষ্টমীর আয়োজনে কায়কোবাদ, ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তায় ঐক্যের ডাক

রাজধানীতে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সব সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা নিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।” তিনি দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সবার সমঅধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা তুলে ধরেন।

দৈনিক আজকের কথা
ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।
— তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্বকে সামনে আনেন। তাঁর উপস্থিতিতে জন্মাষ্টমীর এ আয়োজন বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। ধর্মীয় উৎসবগুলো যেন নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

×
ENG