ভাইরাল মহিষ গেল চিড়িয়াখানায়
কসাইখানা থেকে চিড়িয়াখানায় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’, শেষ পর্যন্ত হয়নি কোরবানি

বিরল প্রজাতির মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ © সংগৃহীত
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে ৭০০ কেজি ওজনের বিরল অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই মহিষটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক কৌতূহল, বিতর্ক ও উন্মাদনা। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের বিশেষ হস্তক্ষেপে কোরবানির পশুর হাট থেকে সরিয়ে নিয়ে মহিষটিকে ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। ফলে বহুল আলোচিত এই মহিষটির কোরবানি আর হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনায় বিরল প্রজাতির এই অ্যালবিনো মহিষটিকে বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় নেওয়া হয়। পরে যিনি মহিষটি কিনেছিলেন, তাকে পুরো অর্থ ফেরত দিয়ে প্রাণীটিকে সরকারি তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়।
ভাইরাল হওয়ার পরই বদলে যায় পরিস্থিতি
ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে বড় বড় গরু ও মহিষ নিয়ে আলোচনা থাকলেও সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে এই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। মূলত এর গায়ের অস্বাভাবিক সাদা-গোলাপি রঙ, সোনালি আভাযুক্ত লোম এবং মাথার সামনের অংশের বিশেষ চুলের স্টাইল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়ে পড়ে।
ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবে মহিষটির ভিডিও লাখ লাখ মানুষ দেখেন। কেউ একে “বাংলাদেশের ট্রাম্প মহিষ” বলছেন, আবার কেউ মজা করে লিখেছেন “হোয়াইট হাউসের আত্মীয়”। অনেকেই কৌতূহল নিয়ে মহিষটিকে দেখতে ভিড় করতে শুরু করেন।
প্রশাসনের আশঙ্কা ছিল, ঈদের দিন কোরবানির সময় মহিষটিকে ঘিরে অতিরিক্ত জনসমাগম ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। এছাড়া নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এসব বিবেচনায় কোরবানি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কেন নাম রাখা হয়েছিল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’?
জানা গেছে, মহিষটি নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার ‘রাবেয়া এগ্রো ফার্মে’ লালন-পালন করা হয়েছিল। খামারটির মালিক জানান, মহিষটির চেহারা ও মাথার সামনের অংশের সোনালি-সাদা চুলের স্টাইল অনেকটা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুলের স্টাইলের সঙ্গে মিল রয়েছে।
এই মিল থেকেই মজার ছলে প্রাণীটির নাম রাখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। পরে সেই নামই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। একপর্যায়ে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এই মহিষ।
বিরল অ্যালবিনো প্রজাতি
প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালবিনো প্রাণী খুবই বিরল। জেনেটিক কারণে শরীরে স্বাভাবিক রঞ্জক পদার্থের ঘাটতি থাকায় এ ধরনের প্রাণীর গায়ের রঙ সাদা বা গোলাপি আভাযুক্ত হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে অ্যালবিনো মহিষ খুব কম দেখা যায়। তাই প্রাণীটি শুধু কোরবানির পশু নয়, গবেষণা ও সংরক্ষণের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি সূত্র বলছে, মহিষটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা, খাদ্যাভ্যাস ও জেনেটিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণার পরিকল্পনা রয়েছে। এর বংশবৃদ্ধি সম্ভব হলে ভবিষ্যতে বিরল এই প্রজাতি সংরক্ষণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
চিড়িয়াখানায় এখন মূল আকর্ষণ
বর্তমানে মহিষটিকে ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানার বিশেষ শেডে রাখা হয়েছে। সেখানে নেওয়ার পর থেকেই দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এটি। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের মধ্যে মহিষটিকে নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল দেখা গেছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাণীটির জন্য বিশেষ খাদ্য ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পশু চিকিৎসকরা নিয়মিত এর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করছেন।
চিড়িয়াখানার এক কর্মকর্তা জানান, “এটি সাধারণ মহিষ নয়। এর জেনেটিক বৈশিষ্ট্য এবং অস্বাভাবিক রঙের কারণে আমরা বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছি।”
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোচনায়
বাংলাদেশের এই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ গণমাধ্যম বিষয়টিকে ব্যতিক্রমী ও রসাত্মক সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করেছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা Reuters তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ভাইরাল জনপ্রিয়তার কারণে বাংলাদেশে একটি মহিষ কোরবানি থেকে রক্ষা পেয়েছে। তারা মহিষটির শান্ত স্বভাব ও সোনালি লোমের বিষয়টিও তুলে ধরে।
The Guardian তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, “সোনালি চুলের বাংলাদেশি মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ কোরবানি থেকে রক্ষা পেয়েছে।” পত্রিকাটি উল্লেখ করে, বিরল এই মহিষটির নামই শেষ পর্যন্ত তার জীবন বাঁচিয়ে দিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম NBC News জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর প্রাণীটি নতুন জীবন পেয়েছে। তারা আরও উল্লেখ করেছে, অতীতেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ট্রাম্পের মতো দেখতে প্রাণী নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera তাদের ভিডিও প্রতিবেদনে মহিষটির চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরের পুরো বিষয়টি তুলে ধরে।
বিদেশি নেটিজেনদের রসিকতা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিদেশি ব্যবহারকারীরা বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের রসিক মন্তব্য করেছেন। কেউ লিখেছেন, “হোয়াইট হাউস থেকে কি বিশেষ অনুরোধ এসেছিল?” আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, “ট্রাম্প এখন চিড়িয়াখানায় নিরাপদে আছেন!”
অনেকে বিষয়টিকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঈদুল আজহার কোরবানির ঐতিহ্য এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক হাস্যরসের এক ব্যতিক্রমী সংমিশ্রণ হিসেবে দেখছেন।
খামারিদের মাঝেও আলোচনা
দেশের খামারিদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন পশুর বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
খামারিরা বলছেন, আগে বড় গরু বা মহিষ শুধু ওজন ও দামের কারণে আলোচনায় আসত। এখন ব্যতিক্রমী চেহারা, নাম কিংবা ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কারণেও একটি পশু জাতীয় আলোচনায় উঠে আসতে পারে।
কোরবানির পশু থেকে ‘তারকা প্রাণী’
একটি সাধারণ খামারের মহিষ থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসা ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন যেন এক ধরনের ‘তারকা প্রাণী’। কোরবানির পশু হিসেবে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি পরিণত হয়েছে সংরক্ষিত বিরল প্রাণীতে।
ঈদুল আজহার আগে এমন ঘটনা বাংলাদেশে খুব কমই দেখা গেছে। তাই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই ব্যতিক্রমী ঘটনাটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।
নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।
কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”
২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।



































